somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যোগ ব্যায়াম : কাজের পরিবেশেও হতে পারে মেডিটেশন

২৬ শে অক্টোবর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকের পর্বে আপনি শিখবেন অফিস বা কর্মস্থলে বসেও কিভাবে মেডিটেশন করা যায়। অফিসে মেডিটেশন চেষ্টা করার জন্য ১০ মিনিটের একটা বিরতি নিন আর আরাম করে আপনার চেয়ারে বসুন। আটশাট পোশাক পরা থাকলে যেমন গলার টাই বা কোমড়ের বেল্ট যতোটা পারেন ঢিলেঢালা করে নিন। নিজেকে এ ধারণা দিন যে, মেডিটেশন আনন্দদায়ক ও সরল। অবশ্য তার মানে এ নয় যে, খুবই সোজা। নিচে ছয়টি আইডিয়া দেয়া হলো, ইচ্ছামতো এগুলোর যে কোনোটি অনুসরণ করে দেখুন, অনন্য এক অভিজ্ঞতায় আলোকিত হবেন আপনি, আপনার সম্পূর্ণ অস্তিত্ব।

স্রেফ বসে থাকুন : নিজেকে কথা দিন, শান্ত হয়ে বসে থাকা ছাড়া আর কিছুই করবেন না। কি ঘটছে কেবল সেটাই খেয়াল করবেন। ফোন তোলা, ডোরবেলে সাড়া দেয়া কিংবা কাজের তালিকায় নতুন কোনো আইটেম যোগ করাÑ কিছুই করবেন না আপনি। কেবল বসে থাকুন আর খেয়াল করুন চিন্তাগুলো কিভাবে আসছে আর পার হয়ে যাচ্ছে মনের মধ্য দিয়ে। ধীরে ধীরে দম নিন আর ছাড়–ন। হয়তো অবাক হবেন, মাত্র ১০ মিনিট চুপচাপ বসে থাকা কতোটা কঠিন। কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় আপনি হয়তো এটাও শিখবেন, নিরন্তর বয়ে চলা মনের গতি আর চির পরিবর্তনশীল জীবনের গুরুত্ব কতোখানি।
শুনুন জীবনের পদধ্বনি : চোখ বন্ধ করে ফেলুন, আপনার ভেতরে ও চারপাশের শব্দের যে স্রোতধারা বয়ে চলেছে তাতে

মনোযোগ নিবদ্ধ করুন। আপনার কানকে খুলে দিন, গ্রহণমূলক আচরণ ধারণ করুন। প্রথমদিকে আপনি নিশ্চিতভাবেই এলোমেলো কোলাহল শুনতে পাবেন। কিন্তু মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে থাকলে এক সময় শব্দের নতুন এক মাত্রা আপনি আবিষ্কার করতে পারবেন যেমনটা আগে খেয়াল করেননি আপনি। প্রতিহত করা বা লেগে থাকার বদলে যা শুনছেন সেটাকে কেবল খেয়াল করার চ্যালেঞ্জ নিন। খেয়াল করুন আপনার বর্তমান সজাগ্র গভীরতায় পুরো বিশ্ব কতো জীবন্ত হয়ে ধরা দিচ্ছে আপনার মাঝে।

মনোযোগের অভ্যাস করুন : ঠিক বর্তমান মুহূর্তের নির্ভেজাল অনুভূতির আস্বাদ নিন। সময়ের উষ্ণতা কিংবা শীতলতা যাই হোক অনুভব করুন। আপনার দেহের কোন অংশগুলো বাহ্যিক পৃথিবী ছুয়ে আছে? প্রতি বার দম নেয়া ও ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেহের আকৃতি কিভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে? সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ অভিজ্ঞতারই বা কি পরিবর্তন আসছে? বর্তমান মুহূর্তের ওপর মনোযোগিতার চাষবাস আপনার প্রসন্নতা ও মনের একাগ্রতাকে আরো উতসাহিত করবে, আর এটা এখন - এ মুহূর্তেই সম্ভব।

দম লক্ষ্য করুন : আপনার মনকে দমের সঙ্গে সমন্বিত করলে তা আপনার মনোযোগকে দ্রুত কেন্দ্রীভূত হতে সাহায্য করে। দম নেয়া ও ছাড়ার সময় খেয়াল রাখুন এর ছন্দময়তা যাতে নষ্ট না হয়। মনের চোখে দেখুন, দম নিচ্ছেন ধীরে ধীরে, দম ছাড়ছেন ধীরে ধীরে। কোনো কারণে মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হলে তাড়াহুড়ো না করে শান্তভাবে আবার শ্বাস-প্রশ্বাস খেয়াল করুন। এভাবেই পার করুন দশ মিনিট।

অনুপ্রেরণাদায়ী বাক্য বা শব্দ ব্যবহার করুন : আপনার পছন্দের কোনো শব্দ, বাক্যাংশ, দোয়া অথবা মন্ত্র উচ্চারণ করতে থাকুন। এমনকি অনুপ্রেরণামূলক কোনো কবিতার ছন্দময় কোনো অংশও হতে পারে, ধীরে ধীরে নরম করে পড়তে থাকুন। এর ছন্দ আর অর্থকে আপনার শান্ত, সমাহিত মনের ভেতরে প্রবেশ করার সুযোগ দিন। যখন খেয়াল হবে মনে বিক্ষিপ্ত চিন্তার স্রোতধারা বইতে আরম্ভ করেছে তখন খুব স্বাভাবিক ভাবে ফিরে আসুন আপনার পছন্দের কষ্টিপাথরে পরখ করা শব্দগুলোর প্রতি। আবারো একাগ্রতা আনুন তাদের প্রতি।

নিজের মধ্যে দয়ার অভ্যাস গড়ুন : ধীরস্থিরভাবে বসে থাকার সময় আপনার ভেতরের একাগ্রতাকে আপনি নিবদ্ধ করতে পারেন এমন কারো প্রতি যার আরো কিছুটা দয়া বা যতেœর দরকার। সে মানুষটি আপনার জানা যে কেউই হতে পারে। আপনার মনের চোখে মানুষটির জন্য ভালোবাসা, সুখ আর সমৃদ্ধি পাঠিয়ে দিন। বাহ্যিক কাঠিন্যকে শিথিল করে হৃদয়ের দরজা খুলে দিন পুরোপুরি আর স্বাভাবিক শুভেচ্ছা বইতে দিন অঝোর ধারায়।

কর্ম ক্ষেত্রে কেন করবেন ধ্যান?
অনেকেই অভিযোগ করেন কেবল রাতে ঘুমানোর আগে দম প্র্যাকটিস করার কথা খেয়াল হয়। অথচ সুযোগ থাকলে অফিসে ১০ মিনিটের মেডিটেশনের সময় কিছুক্ষণ বেলি-ব্রিদ প্র্যাকটিস করতে পারেন আপনি স্বাচ্ছন্দ্যে। আর এভাবে প্র্যাকটিস করতে করতেই দেখবেন আপনার স্বাভাবিক দম নেয়ার স্টাইল এক সময় আপনা-আপনি পাল্টে গেছে। শারীরিক সুবিধার কথা বাদই দিলাম, কাজের পরিবেশে ধ্যান আপনার তাৎক্ষণিক স্ট্রেসকে কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। বাড়ায় আপনার কর্ম উদ্দীপনা। পাশাপাশি নিজের কাজে একাগ্রতার অভ্যাস গড়ে ওঠে। একাগ্রতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। খেয়াল করলে দেখবেন এ পর্বে আলোচিত সব টেকনিকে বিভিন্ন ভাবে নিরবচ্ছিন্ন মনোযোগের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। মনে রাখবেন, কেন্দ্রীভূত একাগ্র মনের ক্ষমতা বিচ্ছিন্ন মনের চাইতে অনেক বেশি। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×