ফেলুদার আর প্রফেসর শন্কুর স্রষ্টা সত্যজিৎ ...
ডাক নাম : মানিক
জন্ম : ২ মে, ১৯২১
মৃত্যু : ১৩ এপ্রিল, ১৯৯২
প্রথম ছবি : পথের পাঁচালি (১৯৫৫)
সর্বশেষ ছবি : আগুন্তক (১৯৯১)
কাছের মানুষরা তাকে ডাকতেন মানিক নামে। বড়দের কাছে তিনি বেশি পরিচিত বোদ্ধা সিনেমা নির্মাতা হিসেবে কিন্তু ছোটরা তার লেখার ভক্ত। তার সৃষ্ট চরিত্র ফেলুদা, প্রোফেসর শঙ্কু কিম্বা তারিণী খুড়োরা কেবল ছোটদের কাছেই প্রিয় নয়, বড়রাও এদের সঙ্গী হতে পিছপা হয়না। এতোক্ষণে নিশ্চয় বুঝে ফেলেছো কার কথা বলছি। হ্যা, তোমাদের প্রিয় সত্যজিৎ রায়। কেবল সিনেমা বা লেখালেখিতেই নয় ছবি আকাতেও সত্যজিৎ ছিলেন দারুন পটু। এসো জেনে নিই এই গুণী মানুষটির ছেলেবেলা থেকে বড় হবার গল্প। সেই সঙ্গে থাকছে ফেলুদা, প্রোফেসর শঙ্কু ও তারিণী খুড়োদের জানা-অজানা কথা।
সত্যজিতের জন্ম কলকাতায় উনিশশো একুশ সালের দুই মে। বাবা সুকুমার রায় আর মা সুপ্রভা রায়। জন্মের মাত্র তিন বছর বয়সে বাবা মারা গেলেন। তিনি ছিলেন এক মস্ত ছড়াকার। ছবি আকাতেও ছিল সুকুমারের দারুণ হাত। মা সুপ্রভা রায় গান গাইতেন। সত্যজিৎ বড় হয়েছেন মামা বাড়িতে। ছোটবেলায় তিনি তোমাদের মতোই অল্প-বিস্তর দুষ্ট ছিলেন। বাবা না থাকায় মাকে তাই বেশ নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যেই বড় করতে হয়েছে তাকে।
বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করে সত্যজিৎ অর্থনীতির মতো খটমটে বিষয় নিয়ে পড়তে যান। কিন্তু তার মন পড়ে থাকতো শিল্পকলার দিকে। সেটা উনিশশো চল্লিশ সালের কথা, বিএ পাশের পর মা তাকে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার জন্য পীড়াপীড়ি করতে লাগলেন। শান্তিনিকেতনে এই বিশ্ববিদ্যালয়র প্রতিষ্ঠাতা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ। কলকাতার জীবন ভালবাসলেও সত্যজিৎ কিন্তু শেষ অবধি মায়ের কথা রাখতে শান্তিনিকেতনেই চলে গেলেন।
সেখানে গিয়ে মুগ্ধ হলেন সত্যজিৎ। নন্দলাল কুন্ড, বিনোদ বিহারী মুখোপাধ্যায় এমনি অনেক বড় মানুষের সংষ্পর্শে এসে অনেক কিছুই শিখলেন তিনি। উনিশশো একচল্লিশ সালে রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর খবর শুনে শান্তি নিকেতন থেকে খালি পায়ে কলকাতা আসেন তিনি কবিগুরুকে শ্রদ্ধা জানাতে। নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বভারতীতে পাচ বছর পড়ার কথা থাকলেও বিয়াল্লিশ সালে সেখান থেকে সত্যজিৎ ফিরে এলেন কলকাতায়। নিজের বাড়িতে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রবল ধাক্কা তখনও মানুষ সামলে উঠতে পারেনি, বাংলার ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ মানুষকে কাপিয়ে দিয়ে গেছে। এই সময়ে উনিশশো তেতাল্লিশ সালে শান্তিনিকেতন থেকে ফিরে মাত্র আশি রূপি বেতনে যোগ দিলেন বৃটিশ বিজ্ঞাপন সংস্থা ডি. জে. কিমারে। পোস্ট জুনিয়র ভিজুয়ালাইজার। ওই সময় বিজ্ঞাপনে বিখ্যাত লোকজনদের ছবি ব্যাবহারের রেওয়াজ ছিলো। এ যুগে হলে হয়তো ফটো তুলে সেটা ব্যাবহার করা হতো কিন্তু সে সময়ে হাতে আকা ছবি দিয়ে এসব বিজ্ঞাপন তৈরী হতো। সেগুলো বেশ দক্ষতার সাথেই আকতেন তিনি।
এসময় দিলীপ কুমার গুপ্ত সিগনেট প্রেস চালু করেন। তিনি সত্যজিৎকে তার প্রকাশনা সংস্থার নতুন বইয়ের প্রচ্ছদ আকতে দেন। ‘আম আটির ভেঁপু’ নামের একটি বইয়ের প্রচ্ছদ আকেন সত্যজিৎ এই সময়। পরে এই গল্প অবলম্বনে তিনি তৈরী করেন তার প্রথম সিনেমা ‘পথের পাঁচালি’। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার পর তিনি মুভিটি বানাতে পেরেছিলেন। ‘পথের পাঁচালি’ মুক্তি পায় উনিশশো পঞ্চান্ন সালে এবং দেশে-বিদেশে তা যথেষ্ট সুনাম অর্জন করে। অনেক পুরষ্কার ও সম্মানও পেলেন সত্যজিৎ এই সিনেমাটির জন্য। সেই থেকে শুরু। সারাটা জীবনই চলচ্চিত্র ছিল সত্যজিতের ধ্যানে ও জ্ঞানে।
ছেলে সন্দীপ রায় অনুযোগ করতেন, বাবা কেবল বড়দের জন্যই গম্ভীর মেজাজের ছবি বানান। বরাবরই নতুনত্বের সন্ধানী সত্যজিৎ। ছেলের এই অনুযোগ তাকে নতুন কাজের অনুপ্রেরণা জোগালো। ১৯৬৯ সালে তিনি বানালেন তার সবচেয়ে ব্যাবসা সফল ছবি ‘গুপিগাইন বাঘা বাইন’। এর কাহিনী মূলত তার পিতামহ উপেন্দ্রকিশোরের ছোটদের জন্য লেখা সঙ্গীত ধর্মী রূপকথা। গল্পের মূল দুই চরিত্র গায়ক গুপী ও ঢোলবাদক বাঘা। ভুতের রাজার তিন বর পেয়ে বেরিয়ে পড়ে ভ্রমনে। পরে দুই প্রতিবেশী রাজ্যের মধ্যে যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে সেকি মজার কান্ড! সিনেমা বানাতেতো অনেক টাকা লাগে। অতো টাকা সত্যজিৎের ছিলোনা তাই পুরো ছবিটি সাদা কালোয় ধারণ করেন তিনি। পরে তিনি উনিশশো আশি সালে ছোটদের জন্য আরো একটি সিনেমা বানালেন নাম ‘হীরক রাজার দেশে’। ছন্দময় সংলাপে ভরপুর এই মুভিটি আগেরটির মতোই ছোটবড় সকলের মন জয় করে নিলো।
সিনেমার কাজ করার পাশাপাশি মননশীল সাহিত্যও লিখে গেছেন তিনি ছোট-বড় সবার জন্য। ১৯৪১ সালে লেখার জগতে সত্যজিতের পা পড়ে অ্যাবস্ট্রাকশান নামে একটি ইংরেজি গল্পের মধ্য দিয়ে। আর বাংলা সাহিত্যের জগতে বিচরণ আরম্ভ হয় ‘সন্দেশ’ পত্রিকার পুন:প্রকাশ উপলক্ষ্যে। সন্দেশ প্রথমে প্রকাশিত হতো তার দাদু উপেন্দ্রকিশোর রায়ের সম্পাদনায়। বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি চরিত্র গোয়েন্দা ফেলুদা এবং বিজ্ঞানী প্রফেসর শঙ্কুর স্রষ্টা তিনি। এছাড়া ছোটগল্পও লিখেছেন প্রচুর। কম-বেশি সব গল্পেই তার ধাধা ও শব্দ-কৌতুকের প্রতি আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। সত্যজিতের সমস্ত শিল্পকর্মের বর্ণনা দিতে গেলে এখানে জায়গায় কুলোবেনা। বড় হয়ে তোমরা নিশ্চয়ই তার সম্পর্কে আরো অনেক কিছু জানতে পারবে। তবে আজকের রচনায় তোমাদেরকে পরিচয় করিয়ে দেব তার লেখা গল্পের তিন বিখ্যাত চরিত্র ফেলুদা, শঙ্কু ও তারিণী খুড়োর সাঙ্গে।
উনিশশো বিরানব্বই সালের তেরো এপ্রিল হৃদরোগের আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কর্মবহুল জীবনের অধিকারী ছিলেন সত্যজিৎ। কর্মজীবনের সাফল্য তার ব্যাক্তি জীবনের উপর কোন প্রভাব ফেলেনি। সত্যজিতের নিজস্ব কোন বাড়ি ছিলনা; তিনি তার মা, মামা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে এক ভাড়া বাড়িতেই সারা জীবন কাটিয়ে দেন। স্ত্রী ও ছেলে দুজনেই তার কাজের সাথে জড়িয়ে ছিলেন। বেশিরভাগ চিত্রনাট্য তার স্ত্রী বিজয়াই প্রথম পড়তেন। সিনেমার গানের সুর তৈরী করতেও তিনি স্বামীকে সাহায্য করতেন। আয়ের পরিমাণ কম হলেও সত্যজিৎ নিজেকে ভাবতেন বিত্তশালী। কারণ পছন্দের কোন বই বা গানের অ্যালবাম কিনতে তার কখনো কষ্ট হয়নি।
শখের গোয়েন্দা ফেলুদা
ডাক নাম ফেলু। আসল নাম প্রদোষ চন্দ্র মিত্র। কেউ কেউ ডাকেন মিত্তির বলে। শখের বসে গোয়েন্দাগিরি করেন ফেলুদা। থাকেন কলকাতায়, বালিগঞ্জের রজনী সেন রোডে। ফেলুদার প্রথম আবির্ভাব ঘটে ১৯৬৫ সালে ছোটদের সন্দেশ পত্রিকায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রহস্যভেদী অভিযানের সঙ্গী তার খুড়তুতো ভাই তপেশ রঞ্জন মিত্র ওরফে তোপসে এবং লালমোহন গাঙ্গুলি। লালামোহন বাবু কেবল ফেলুদার সঙ্গীই নন তিনি জটায়ু ছদ্মনামে রহস্যরোমাঞ্চের গল্প লেখেন। আরো আছেন সিধু জ্যাঠা, শ্রীনাথ ও মাগনলাল মেঘরাজ।
শালর্ক হোমসের ড. ওয়াটসনের মতোই একটি চরিত্র তোপশে। সে খুব যতœ ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে প্রত্যেকটা অ্যাডভেঞ্চারের রেকর্ড রাখে। তরুণ এই কাজিনকে মাঝে মধ্যে টীজ করলেও ফেলুদা তাকে সত্যিই ভালবাসেন। তোপশেদের বাড়ি ২৭, রজনী সেন রোড, কোলকাতা-৭০০০১৯। তাদের সঙ্গেই থাকেন ফেলুদা। ভাবছো, সত্যিই কি এই নম্বরের বাড়ি আছে? কোলকাতায় রজনী সেন রোড আছে বটে, তবে বাড়ির নম্বর ২৬ পর্যন্ত এসেই আটকে গেছে।
আরেক মজার মানুষ লালমোহন গাঙ্গুলী। লালমোহন বাবু ফেলুদার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। অবশ্যি তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো ‘জটায়ু’ ছদ্মনামে রহস্যপোন্যাস লিখেন তিনি। লেখাগুলো অনেক ভুলভ্রান্ত্রিতে ভরা থাকলেও বিক্রি হয় দারুণ। আর তার ইংরেজী উচ্চারণ শুনলেতো হাসি আটকে রাখা একেবারেই সম্ভব নয়।
সত্যজিত রায়ের ফেলুদা সিরিজের মোট পয়ত্রিশটি গল্প লেখেন যার প্রত্যেকটি খুব জনপ্রিয়। এর মধ্যে দুটি কাহিনী নিয়ে আবার সিনেমাও বানিয়েছেন তিনি। ফেলুদার গল্প নিয়ে বানানো সিনেমা দুটোর নাম হলো : সোনার কেল্লা (১৯৭৪) এবং জয় বাবা ফেলুনাথ (১৯৭৮)।
ফেলুদার গোয়েন্দা কাহিনীর নামগুলোর উপর এসো চোখ বুলিয়ে নেয়া যাক, কোনগুলো পড়া হয়েছে দেখে নাও:
ড় বাদশাহী আংটি
ড় গ্যাংটকে গন্ডগোল
ড় সোনার কেল্লা
ড় বাক্স রহস্য
ড় কৈলাশে কেলেঙ্কারি
ড় রয়েল বেঙ্গল রহস্য
ড় জয় বাবা ফেলুনাথ
ড় ফটিক চাঁদ
ড় ফেলুদা অ্যান্ড কোং
ড় ফেলুদা ওয়ান ফেলুদা টু
ড় গোরস্থানে সাবধান
ড় ছিন্নমস্তার অভিশাপ
ড় হত্যাপুরী
ড় টিনটোরেটর যীশু
ড় যতো কান্ড কাঠমুন্ডুতে
ড় ব্রাজিলের কালো মেঘ
ড় দার্জিলিং জমজমাট
ড় সুজন হরবোলা
ড় ডবল ফেলুদা
ড় নয়ন রহস্য
ড় ফেলুদা প্লাস ফেলুদা
ড় রবার্টসনের রুবি
ড় শেয়াল দেবতা রহস্য
ড় অম্বর সেন অন্তর্ধান রহস্য
ড় জাহাঙ্গীরের স্বর্ণমুদ্রা
ড় গোলকধাম রহস্য
ড় বোসপুকুরে খুনখারাপি
ড় শকুন্তলার কণ্ঠহার
ড় ইন্দ্রজাল রহস্য
ড় ড. মুন্সির ডায়রী
বিজ্ঞানী প্রফেসর শঙ্কু
বাংলা কল্পবিজ্ঞান কাহিনীর আসরে স্কাটিশ চার্চ কলেজের অধ্যাপক ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কুর আবির্ভাব উনিশশো একষট্টি সালে। সন্দেশ প্রত্রিকার পাতায় প্রথম বেরুল ‘ব্যোমযাত্রীর ডায়রী’। লেখক সত্যজিৎ রায়। সেই শুরু। একদম শুরু থেকেই শঙ্কুর কাহিনী কিশোর পাঠকদের মন জয় করে নিল। প্রথম কাহিনীতে ডায়রীর আকারে প্রোফেসর শঙ্কু নিজেই বলেছেন নিজের কাহিনী। তার পর থেকে শঙ্কুর আটত্রিশটি সম্পূর্ণ ও দুটি অসম্পুর্ণ ডায়রী প্রকাশিত হয়েছে উনিশশো বিরানব্বই পর্যন্ত। এই তিরিশ বছরে শঙ্কু স্বয়ং এবং তার কাহিনী ছোটদের কাছে সেরা আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
এই বৈজ্ঞানিক ও আবিষ্কারক মানুষটি খাঁটি বাঙালি। ভয়ঙ্কর অভিযানে তিনি আকুতোভয়, অথচ আত্মভোলা। আবার আশ্চর্য সংযমী। তার কর্মক্ষেত্র কলকাতা হলেও গবেষণাক্ষেত্র বিহারের গিরিডিতে। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান মহলে তিনি সসম্মানে গৃহিত হয়েছেন। তার আত্মপ্রত্যয় ও বিচিত্র উদ্ভাবনী প্রতিভা বিষ্ময়কর।
প্রোফেসর শঙ্কুর আবিষ্কারের পদ্ধতি যেমন বিচিত্র, তেমনি অদ্ভুত তার দেয়া সেসব আবিষ্কারের নাম। অ্যানাইহিলিন, মিরাকিউরল, নার্ভিগার, অমনিস্কোপ, স্নাফগান, ম্যাগোরেঞ্জ, ক্যামেরাপিড, লিঙ্গুয়াগ্রাফ ইত্যাদি। এদের কোনটি ওষূধ, কোনটি যন্ত্র, কোনওটি বা অস্ত্র কিম্বা গ্যাজেট। শঙ্কুর জগতে প্রকৃত ও অতিপ্রাকৃতের দারুণ সহাবস্থান। গবেষণা ও আবিষ্কারের সূত্রে শঙ্কু বিদেশ ঘুরেছেন অনেকবার। তিনি ‘সুইডিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্স কর্তৃক সম্মানিত’। এই ‘বিশ্ববিখ্যাত’ চরিত্রটিকে নিয়ে সত্যজিৎ রায় যেসব আশ্চর্য কাহিনী লিখেছেন তাকে শুধু সায়েন্স ফিকশন বা কল্পবিজ্ঞান কাহিনী বললে সবটুকু বলা হয়না। কল্পবিজ্ঞানতো অবশ্যই একই সঙ্গে এই কাহিনীগুলোতে মিশে আছে ভ্রমণ, রহস্য ও অ্যাডভেঞ্চার রস। আবার দুরন্ত অভিযান, অতীন্দ্রিয় পরিপার্শ্ব, ফ্যান্টাসি ও রোমাঞ্চের মিশ্রণে গল্পগৃুলো জমজমাট।
শঙ্কুকাহিনীর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এই কাহিনীগুলোর জগতে ঢুকে ছোট-বড় সকল পাঠকই কিভাবে যেন একবয়সী হয়ে ওঠে। বন্ধুরা, এই সুযোগে দেখে নাও শঙ্কুর কোন কোন অ্যাডভেঞ্চার কাহিনীগুলো পড়া আছে তোমাদের :
ড় ব্যোমযাত্রীর ডায়রী
ড় প্রোফেসর শঙ্কু ও ঈজিপ্সিয় আতঙ্ক
ড় প্রোফেসর শঙ্কু ও হাড়
ড় প্রোফেসর শঙ্কু ও ম্যাকাও
ড় প্রোফেসর শঙ্কু ও আশ্চর্য পুতুল
ড় প্রোফেসর শঙ্কু ও গোলক রহস্য
ড় প্রোফেসর শঙ্কু ও চী-চিং
ড় প্রোফেসর শঙ্কু ও খোকা
ড় প্রোফেসর শঙ্কু ও ভূত
ড় প্রোফেসর শঙ্কু ও রবু
ড় প্রোফেসর শঙ্কু ও রক্তমৎস রহস্য
ড় প্রোফেসর শঙ্কু ও কোচাবাম্বার গুহা
ড় প্রোফেসর শঙ্কু ও গোরিলা
ড় প্রোফেসর শঙ্কু ও বাগদাদের বাক্স
ড় স্বপ্নদ্বীপ
ড় আশ্চর্য প্রাণী
ড় মরুরহস্য
ড় কভার্স
ড় একশৃঙ্গ অভিযান
ড় ডক্টর শেরিং-এর স্মরণশক্তি
ড় হিপ্নোজেন
ড় শঙ্কুর শনির দশা
ড় শঙ্কুর সুবর্ণ সুযোগ
ড় মানরো দ্বীপের রহস্য
ড় কম্পু
ড় মহাকাশের দূত
ড় নকুড় বাবু ও এল ডোরাডো
ড় শঙ্কুর কঙ্গো অভিযান
ড় প্রোফেসর শঙ্কু ও ইউ.এফ.ও.
ড় আশ্চর্জন্তু
ড় প্রোফেসর রন্ডির টাইম মেশিন
ড় শঙ্কু ও আদিম মানুষ
ড় নেফ্রুদেৎ-এর সমাধি
ড় শঙ্কুর পরলোকচর্চা
ড় শঙ্কু ও ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন
ড় ডা: দানিয়েলির আবিষ্কার
ড় ডন ক্রিস্টোবাল্ডির ভবিষ্যদ্বাণী
ড় স্বর্ণপর্ণী
ড় ইনেটেলেকট্রন
ড় ডেক্সেল আইল্যান্ডের ঘটনা
অদ্ভুত বুড়ো তারিণী খুড়ো
পুরো নাম তারিণী রঞ্জণ বন্দোপাধ্যায়। অল্প বয়েসি ছেলেপিলেরা ডাকে তারিণী খুড়ো বলে। তারিণী খুড়োর বয়েস হয়েছে। এখনো পর্যন্ত অবিবাহিত এই মানুষটি থাকেন কলকাতার বেনেটোলায়। গল্প বলায় খুড়ো দারুণ ওস্তাদ। তার দীর্ঘ কর্মময় জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে গল্প শোনাতে ভালবাসেন তিনি। ভুলু, চটপটি, ন্যাপলা, সুনন্দ স্কুল পড়–য়া কয়েকটি মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেরা তার এসব গপ্পোর একনিষ্ঠ শ্রোতা। খুড়োর গল্পের ঝুড়ি কিন্তু অনেক বড়। ভুতের গল্প থেকে হাসির গল্প কি নেই তার ঝোলায়। বিকেলের চা-নাস্তা খাওয়ার জন্যই বেনেটোলা থেকে বালিগঞ্জে আসেন তিনি গল্প শোনাতে।
প্রেমানন্দ মিত্রের ঘনাদার মতোই লম্বা-চওড়া গল্প বলতে ভালবাসেন তারিণী খুড়ো। অধিকাংশ গল্পেই দেখা যায় আসন্ন ঝামেলা বা সমস্যা থেকে তারিণী খুড়ো বেচে গেছেন উপস্থিত বুদ্ধির জোরে। অনেক সময় আবার স্রেফ ভাগ্যের জোড়েও কেটেছে ফাড়া। খুড়োর জন্ম বাঙলার মধ্যবিত্ত পরিবারে হলেও কাজকর্মের সূত্রে নিজেকে তিনি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন পুরো ভারতে। কেবল বাঙালি সমাজের মধ্যে আটকে রাখেননি নিজেকে। সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্ট এই চরিত্রটির পুরো জীবনটাই রোমঞ্চকর ঘটনায় ভরপুর।
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই
আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।
তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন
১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে
আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন
নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৃঙ্খল মুক্তি আমার
শৃঙ্খল মুক্তি আমার

ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।