somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসুন সুন্দরী আর কদাকারের গল্পটা আরেক বার পড়ি।

২৭ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১০:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক সওদাগরের তিন মেয়ে ছিল। বড়মেয়ে , মেজোমেয়ে,আর ছোট মেয়ে । পাঠকরা নিশ্চয় ইতিমধ্যে বুঝে ফেলেছেন যে,বিদ্যা বুদ্ধি আর রুপের দিক দিয়ে ছোট মেয়ে ছিল সবার উপরে । তাই সওদাগর তার ছোট মেয়েকে সবথেকে বেশি ভালবাসতেন। যাই হোক তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করছিল । সওদাগরের টাকা পয়সার কোন অভাব নেই বরং প্রয়োজনের চাইতে বেশীই আছে।তাই তাদের সংসারে কোন দুঃখ ছিল না ।

কিন্তু মানুষের সময়তো সব সময় এক রকম হয় না তাই এক বছর সদাগরের খুব লস হল । বাড়ি আর কিছু জমিজিরাত ছাড়া জমানো টাকা পয়সা সব খরচ হয়ে গেল । অভাবের কারনে কাজের লোকগুলো সব বিদায় করে দিতে হল। কাজেই বাসার রান্না-বান্না থেকে শুরু করে সব কাজের দায়িত্ব পরলো তিন মেয়ের উপর । কিন্তু বড় দুই মেয়ে বললো ,”আমারা কোন কাজ করতে পারবো না । তোর ইচ্ছা হলে তুই কাজ কর ।“ তারা কাজ না করে বরং তাদের এই দুঃখ কষ্টের জন্য তাদেত বাবাকে দোষারুপ করতে থাকলো।ছোট মেয়ে বল্লো ,”ঠিক আছে তোমরা কাজ না করতে চাইলে না কর কিন্তু বাবাকে এসব বলোনা,তোমাদের কাজ আমি করে দেব।” ছোট মেয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সমস্ত কাজ করতে লাগলো । কাজ করতে করতে তার শরীর শুকিয়ে গেল,চোখের নিচে কালি জমে গেল ।
তাই দেখে সওদাগরের মনে খুব দুঃখ হল। সে তার বাড়ি ঘর বাদে অন্য জমিজিরাত বেচে আমার বাণিজ্যে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। বাণিজ্যে যাওয়ার আগে সে তার মেয়েদের ডেকে জিজ্ঞাসা করলো কার জন্য ক নিয়ে আসবে । বড় দুই মেয়ে অনেক দামি দামি জিনিসের নাম বল্ল । আবার ছোট মেয়ের পালা , সে তার বাবার আর্থিক অবস্থার কথা জানত ।তাই সে বল্ল আমার জন্য একটি সাদা গোলাপ এনো কেবল বাবা। সওদাগর তার মেয়ের মনের কথা বুঝতে পারলেন তাই আবার জিজ্ঞেস করলেন আরকি আনব মা ।
ছোট মেয়ে আবার বললো, সাদা গোলাপই এনো বাবা ।

সওদাগর বাণিজ্যে চলে গেলেন বিভিন্ন দেশে ব্যবসা করে সেবার তার প্রচুর লাভ হলো। বাড়ি ফেরার পথে তিনি মেয়েদের চাহিদা অনুযায়ী সব কিছু কিনলেন । কেবল ছোট মেয়ের সাদাগোলাপ বাদে । শহরের কোন গোলাপই তার পাছন্দ হলো না ।সে ভাবলো অন্য কোথাও হয়তো এরচে ভাল গোলাপ পাওয়া যাবে তাই সে অন্য দিকে রওনা দিল। যেতে যেতে পথি মধ্যে সে দেখে একটি বিরাট বাড়ীর আঙ্গিনায় অনেক বড় আর সুন্দর সুন্দর ফুল ফুটে আছে । কোথাও কোন মানুষ জন দেখতে না পেয়ে সে বাড়ির ভেতরে ঢুকে গেল। ভেতরে ঢুকে সে দেখে টেবিলের উপর হরেক রকমের খাবার দাবার। হঠাত তার ক্ষিদে পেয়ে যায়,ডাকাডাকি করে কাউকে না পেয়ে সে খেয়ে দেয়ে পাশের বিছানায় গা এলিয়ে দেয় এবং কিছুক্ষনের মধ্যেই ঘুমিয়ে পরে। ঘুম থেকে উঠেও সে কাউকে দেখতে পেলনা ।তখন সে চিন্তা করল ,আমি একটা ফুল নিয়ে বরং চলেই যাই । কে আর কি বলবে ,একটা ফুলই তো । সে বাগানে এসে একটা ফুল যেই না ছিড়েছে অমনি জন্তুর মত দেখতে কদাকার এক লোক এসে বলল ,তবে রে,দাড়া আমার খেয়ে আমার বিছানায় ঘুমিয়ে এখন কিনা আবার আমার বাগানের ফুল ছেড়া হচ্ছে।

সওদাগর তখন তার ছোট মেয়ের কথা বললো এবং লোকটির কাছে মাফ চাইলো।কিন্তু জন্তুর মতো দেখতে লোকটি বল্লো ,কোন মাফ নাই, তুমি বাড়িতে গিয়ে তোমার ছোট মেয়েকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিবে । সওদাগর মনের দুঃখে বাড়ি ফিরে এলো । বাড়ি ফিরতেই ছোট মেয়ে তাকে এসে জড়িয়ে ধরে বল্লো ,কি ব্যাপার বাবা তোমার মুখ এত মলিন কেন?

সওদাগর তখন মেয়ে কে সব কিছু খুলে বলল । সব শুনে ছোট মেয়ে বল্লো ,দুঃখ করোনা বাবা, আমি ওখনে ভাল থাকবো।
তারপর এক সুন্দর সকালে ঐ মেয়েটি রওনা হয়ে গেল । কদাকার লোকটিকে দেখে প্রথমে সে ভয় পেয়ে গেলেও পরে দেখলো বেচারা খুব ভাল মানুষ। এক সময় ঐ কদাকার লোকটিকে সে পছন্দও করে ফেললো।

একদিন সুন্দরী মেয়েটি বললো সে তার বাবা কে দেখতে যেতে চায়। জন্তুর মত লোকটি অনুমতি দিল। যাওয়ার সময় মেয়েটির হাতে একটি আংটি দিয়ে লোকটি বলল কখনো আমাকে দেখতে ইচ্ছা করলে এই আংটির দিকে তাকিয়ো ,তাহলে আমাকে দেখতে পাবে।

মেয়েটি বাড়িতে এসে লোকটির কথা ভুলেই গেল ।তারপর একদিন হঠাত মনে পড়ে গেলে সে আংটি তে দেখলো লোকটি অসুস্থ,মরনাপন্ন।তার খুব খারাপ লাগলো ,সে ছোটে এল । মরনাপন্ন লোকটির মাথা কোলে তুলে নিয়ে সে বলল, তুমি সুস্থ হয়ে উঠ ,আমি তোমাকে ভালবাসি।

তখন কদাকার লোকটি এক সুন্দর রাজকুমারে পরিনত হল। সুন্দরীকে কুর্নিস করে বল্লো ,এক ডাইনির শাপে আমি জন্তু হয়ে গিয়েছিলাম।আজ তোমার কারনে আমি আবার মানুষ হলাম। আমকে বিয়ে করবে তুমি ?

মেয়েটি রাজি হয়ে গেল। মহা ধুমধামে তাদের বিয়ে হলো। তার পর তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলো।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১০:০৬
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×