এক সওদাগরের তিন মেয়ে ছিল। বড়মেয়ে , মেজোমেয়ে,আর ছোট মেয়ে । পাঠকরা নিশ্চয় ইতিমধ্যে বুঝে ফেলেছেন যে,বিদ্যা বুদ্ধি আর রুপের দিক দিয়ে ছোট মেয়ে ছিল সবার উপরে । তাই সওদাগর তার ছোট মেয়েকে সবথেকে বেশি ভালবাসতেন। যাই হোক তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করছিল । সওদাগরের টাকা পয়সার কোন অভাব নেই বরং প্রয়োজনের চাইতে বেশীই আছে।তাই তাদের সংসারে কোন দুঃখ ছিল না ।
কিন্তু মানুষের সময়তো সব সময় এক রকম হয় না তাই এক বছর সদাগরের খুব লস হল । বাড়ি আর কিছু জমিজিরাত ছাড়া জমানো টাকা পয়সা সব খরচ হয়ে গেল । অভাবের কারনে কাজের লোকগুলো সব বিদায় করে দিতে হল। কাজেই বাসার রান্না-বান্না থেকে শুরু করে সব কাজের দায়িত্ব পরলো তিন মেয়ের উপর । কিন্তু বড় দুই মেয়ে বললো ,”আমারা কোন কাজ করতে পারবো না । তোর ইচ্ছা হলে তুই কাজ কর ।“ তারা কাজ না করে বরং তাদের এই দুঃখ কষ্টের জন্য তাদেত বাবাকে দোষারুপ করতে থাকলো।ছোট মেয়ে বল্লো ,”ঠিক আছে তোমরা কাজ না করতে চাইলে না কর কিন্তু বাবাকে এসব বলোনা,তোমাদের কাজ আমি করে দেব।” ছোট মেয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সমস্ত কাজ করতে লাগলো । কাজ করতে করতে তার শরীর শুকিয়ে গেল,চোখের নিচে কালি জমে গেল ।
তাই দেখে সওদাগরের মনে খুব দুঃখ হল। সে তার বাড়ি ঘর বাদে অন্য জমিজিরাত বেচে আমার বাণিজ্যে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। বাণিজ্যে যাওয়ার আগে সে তার মেয়েদের ডেকে জিজ্ঞাসা করলো কার জন্য ক নিয়ে আসবে । বড় দুই মেয়ে অনেক দামি দামি জিনিসের নাম বল্ল । আবার ছোট মেয়ের পালা , সে তার বাবার আর্থিক অবস্থার কথা জানত ।তাই সে বল্ল আমার জন্য একটি সাদা গোলাপ এনো কেবল বাবা। সওদাগর তার মেয়ের মনের কথা বুঝতে পারলেন তাই আবার জিজ্ঞেস করলেন আরকি আনব মা ।
ছোট মেয়ে আবার বললো, সাদা গোলাপই এনো বাবা ।
সওদাগর বাণিজ্যে চলে গেলেন বিভিন্ন দেশে ব্যবসা করে সেবার তার প্রচুর লাভ হলো। বাড়ি ফেরার পথে তিনি মেয়েদের চাহিদা অনুযায়ী সব কিছু কিনলেন । কেবল ছোট মেয়ের সাদাগোলাপ বাদে । শহরের কোন গোলাপই তার পাছন্দ হলো না ।সে ভাবলো অন্য কোথাও হয়তো এরচে ভাল গোলাপ পাওয়া যাবে তাই সে অন্য দিকে রওনা দিল। যেতে যেতে পথি মধ্যে সে দেখে একটি বিরাট বাড়ীর আঙ্গিনায় অনেক বড় আর সুন্দর সুন্দর ফুল ফুটে আছে । কোথাও কোন মানুষ জন দেখতে না পেয়ে সে বাড়ির ভেতরে ঢুকে গেল। ভেতরে ঢুকে সে দেখে টেবিলের উপর হরেক রকমের খাবার দাবার। হঠাত তার ক্ষিদে পেয়ে যায়,ডাকাডাকি করে কাউকে না পেয়ে সে খেয়ে দেয়ে পাশের বিছানায় গা এলিয়ে দেয় এবং কিছুক্ষনের মধ্যেই ঘুমিয়ে পরে। ঘুম থেকে উঠেও সে কাউকে দেখতে পেলনা ।তখন সে চিন্তা করল ,আমি একটা ফুল নিয়ে বরং চলেই যাই । কে আর কি বলবে ,একটা ফুলই তো । সে বাগানে এসে একটা ফুল যেই না ছিড়েছে অমনি জন্তুর মত দেখতে কদাকার এক লোক এসে বলল ,তবে রে,দাড়া আমার খেয়ে আমার বিছানায় ঘুমিয়ে এখন কিনা আবার আমার বাগানের ফুল ছেড়া হচ্ছে।
সওদাগর তখন তার ছোট মেয়ের কথা বললো এবং লোকটির কাছে মাফ চাইলো।কিন্তু জন্তুর মতো দেখতে লোকটি বল্লো ,কোন মাফ নাই, তুমি বাড়িতে গিয়ে তোমার ছোট মেয়েকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিবে । সওদাগর মনের দুঃখে বাড়ি ফিরে এলো । বাড়ি ফিরতেই ছোট মেয়ে তাকে এসে জড়িয়ে ধরে বল্লো ,কি ব্যাপার বাবা তোমার মুখ এত মলিন কেন?
সওদাগর তখন মেয়ে কে সব কিছু খুলে বলল । সব শুনে ছোট মেয়ে বল্লো ,দুঃখ করোনা বাবা, আমি ওখনে ভাল থাকবো।
তারপর এক সুন্দর সকালে ঐ মেয়েটি রওনা হয়ে গেল । কদাকার লোকটিকে দেখে প্রথমে সে ভয় পেয়ে গেলেও পরে দেখলো বেচারা খুব ভাল মানুষ। এক সময় ঐ কদাকার লোকটিকে সে পছন্দও করে ফেললো।
একদিন সুন্দরী মেয়েটি বললো সে তার বাবা কে দেখতে যেতে চায়। জন্তুর মত লোকটি অনুমতি দিল। যাওয়ার সময় মেয়েটির হাতে একটি আংটি দিয়ে লোকটি বলল কখনো আমাকে দেখতে ইচ্ছা করলে এই আংটির দিকে তাকিয়ো ,তাহলে আমাকে দেখতে পাবে।
মেয়েটি বাড়িতে এসে লোকটির কথা ভুলেই গেল ।তারপর একদিন হঠাত মনে পড়ে গেলে সে আংটি তে দেখলো লোকটি অসুস্থ,মরনাপন্ন।তার খুব খারাপ লাগলো ,সে ছোটে এল । মরনাপন্ন লোকটির মাথা কোলে তুলে নিয়ে সে বলল, তুমি সুস্থ হয়ে উঠ ,আমি তোমাকে ভালবাসি।
তখন কদাকার লোকটি এক সুন্দর রাজকুমারে পরিনত হল। সুন্দরীকে কুর্নিস করে বল্লো ,এক ডাইনির শাপে আমি জন্তু হয়ে গিয়েছিলাম।আজ তোমার কারনে আমি আবার মানুষ হলাম। আমকে বিয়ে করবে তুমি ?
মেয়েটি রাজি হয়ে গেল। মহা ধুমধামে তাদের বিয়ে হলো। তার পর তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


