somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

 সেদিন সার্কিট হাউসে যা ঘটেছিল

০৩ রা জুন, ২০১০ রাত ৩:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৮১ সালের ২৯ মে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে আমার কাছে দিনটা আলসেমিতে কাটানোর মতো ছিল না। মাত্র দুই দিন আগে আমাকে বঙ্গভবন থেকে জানানো হলো, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে আসছেন। তাঁর দল বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্যদের নিয়ে ৩০ মে তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বৈঠক করবেন। ঢাকা থেকে বিএনপির মহাসচিব বদরুদ্দোজা চৌধুরী, উপপ্রধানমন্ত্রী জামাল উদ্দিন আহমেদ, আমেনা রহমান ও বিএনপির কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা তাঁর সঙ্গে আসছেন। আমাকে জানানো হলো, রাষ্ট্রপতি চট্টগ্রামে এসে রাতে সেখানে থাকবেন। বৈঠক শেষ করে পরদিন ঢাকায় ফিরবেন। আমাকে বিশেষ করে জানিয়ে দেওয়া হলো, এটা রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক সফর। এ সময়ে তিনি কোনো সরকারি কাজে মনোযোগ দেবেন না। আমাকে আরও বলা হলো, রাষ্ট্রপতি তাঁর ইরাক ও ইরান সফর বাতিল করে জরুরি ভিত্তিতে ওই বৈঠক করতে আসছেন। (ওই সময়টাতে চলমান ইরাক-ইরান যুদ্ধ বন্ধে অন্যতম মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রাষ্ট্রপতি জিয়া কাজ করছিলেন।)
একজন রাষ্ট্রপতির নির্বিঘ্ন সফর নিশ্চিত করতে যথেষ্ট প্রস্তুতির দরকার হয়। স্বাভাবিকভাবে জেলা পর্যায়ে তাঁর সফরের অন্তত এক মাস আগে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এ বিষয়ে পরিকল্পনা করে থাকে। পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থির অবস্থা চলার কারণে তিনি ওই সময় ঘন ঘন চট্টগ্রাম সফর করছিলেন। তা সত্ত্বেও সাধারণত তিনি সেখানে যাওয়ার অন্তত এক মাস আগে আমাকে প্রস্তুতি নিতে বলা হতো। কিন্তু এ সফরের সময় আমাকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিশ করা হয়। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে আমাকে এর মধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। আমি সার্কিট হাউসে তাঁর থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করলাম।
জিয়াউর রহমানের নির্দেশমতো চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অনাড়ম্বরভাবে আমরা তাঁকে অভ্যর্থনা জানালাম। ৩০ মে সকালবেলা চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার সাইফুদ্দিন, মহানগর পুলিশ কমিশনার বদিউজ্জামান, পুলিশের ডিআইজি শাহজাহান ও আমি তাঁকে বিমানবন্দরে রিসিভ করতে গেলাম। রাষ্ট্রপতি ও তাঁর সঙ্গীদের সঙ্গে দেখা করতে আমার সঙ্গে আমার অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তাও সেখানে গিয়েছিলেন। সেখানে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারাও ছিলেন। রাষ্ট্রপতি এলে বেসামরিক নেতাদের পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর স্থানীয় কমান্ডাররাও তাঁকে স্বাগত জানাতে আসতেন। কিন্তু ওই দিন সকালে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে চট্টগ্রামের জিওসি মেজর জেনারেল মঞ্জুর বিমানবন্দরে এলেন না। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার আজিজুর রহমান জেনারেল মঞ্জুরের প্রতিনিধি হিসেবে এলেন। এটাকে অবশ্য আমার খুব বেশি অস্বাভাবিক মনে হয়নি। এর আগেও বেশ কয়েকবার জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে আসার পর তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে মঞ্জুর আসেননি।
বাংলাদেশ বিমানের একটি কমার্শিয়াল ফ্লাইটে রাষ্ট্রপতি সকালে এসে পৌঁছালেন। বিমান থেকে নামার পর এসকর্ট করে আমি তাঁকে ভিআইপি লাউঞ্জে নিয়ে এলাম। সেখানে তিনি স্থানীয় নেতা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাত মেলালেন। একসময় তিনি ব্রিগেডিয়ার আজিজের দিকে চেয়ে তাঁর কাছে মঞ্জুরের খবর জানতে চাইলেন। আজিজ বললেন, টেনিস খেলতে গিয়ে মঞ্জুর আঘাত পেয়েছেন। সে কারণে আসতে পারেননি। জিয়া মৃদু হেসে একটু তির্যক কণ্ঠে বললেন, ‘আমার মনে হচ্ছে ইদানীং সে খেলাধুলা একটু বেশিই করছে। তাঁকে বোলো, টেনিস খেলে খেলে যেন সে নিজেকে একেবারে নষ্ট করে না ফেলে।’
ভোর চারটার (৩০ মে) দিকে বাংলোতে রাতের দায়িত্বে থাকা এক কর্মচারীর চিৎকারে ঘুম ভাঙল। ‘স্যার, সার্কিট হাউসে হামলা হয়েছে!’ আমি বারান্দায় দৌড়ে বেরিয়ে এলাম। ডিসি হিল থেকে বেশ খানিকটা দূরে থাকলেও দোতলার বারান্দা থেকে সার্কিট হাউস স্পষ্টভাবেই দেখা যায়। আমি পরপর বেশ কয়েকটা গুলির শব্দ শুনলাম। কিন্তু সেখানে বন্দুকযুদ্ধ হচ্ছে কি না, তা বোঝা গেল না। আমার বাসার গার্ডও বারান্দায় উঠে এসেছিল। সে জানাল, এক ঘণ্টা ধরে সার্কিট হাউসের সামনে থেকে সে রাইফেল ও ভারী মেশিনগানের গুলির আওয়াজ শুনেছে।
প্রথমে আমি সার্কিট হাউসের দিকে ছুটে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পরক্ষণেই সে চিন্তা বাতিল করলাম। সার্কিট হাউসে ফোন করলাম। ও পাশ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া গেল না। আধা মাইল দূরেই মহানগর পুলিশের হেডকোয়ার্টার। এবার সেখানে ফোন করলাম। সেখানে দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা ফোন ধরে জানালেন, তাঁরাও সার্কিট হাউসে গোলাগুলি হচ্ছে বলে জানতে পেরেছেন। কিন্তু কারা এবং কী উদ্দেশ্যে সেখানে গোলাগুলি করছে, সে সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারলেন না। এর পরই আমি বিভাগীয় কমিশনার এবং মহানগর পুলিশ কমিশনারকে ফোন করলাম। তাঁরাও সার্কিট হাউসে কী হচ্ছে, তা জানাতে পারলেন না।
বিভাগীয় কমিশনার জানালেন, রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজকে তিনি ফোন করে আসল ঘটনা জানার চেষ্টা করবেন। তারপর তিনি আমাকে ফোনে বিস্তারিত জানাবেন। এ অবস্থায় সার্কিট হাউসে যাওয়া ছাড়া আমার সামনে আর কোনো পথ খোলা ছিল না। কিন্তু আবার ভাবলাম, যদি সত্যিই সেখানে সশস্ত্র হামলা হয়ে থাকে, তাহলে এ পরিস্থিতিতে সেখানে যাওয়াটা হবে চরম বোকামি।
হঠাৎ সার্কিট হাউসের সঙ্গে লাগোয়া জেলা পরিবহন পুলের কথা মনে এল। সেখানে নৈশকালীন দায়িত্বে একজন কর্মকর্তা রয়েছেন। আমি পরিবহন গ্যারেজে ফোন দিলাম। অবাক করার মতো বিষয় হলো, ওপাশ থেকে যিনি ফোন ধরলেন তিনি পরিবহন পুলের কেউ নন। তিনি আমারই অধীন একজন তরুণ ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি আমার সহকারী প্রটোকল অফিসার (এপিও) হিসেবে কাজ করছিলেন। রাতে সার্কিট হাউসের দেখাশোনার জন্য তাঁর ওপর দায়িত্ব দিয়েছিলাম। আমার সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁর কণ্ঠ কাঁপছিল। একই সঙ্গে আমার সঙ্গে কথা বলতে পেরে বোঝা গেল, তিনি অনেকখানি হালকা হতে পেরেছেন। তিনি আমাকে পুরো ঘটনা খুলে বললেন। তিনি আমাকে ঘটনার যে বর্ণনা দিয়েছিলেন, এবার সেটা বলছি।
ভোর চারটার দিকে প্রচণ্ড শব্দে এপিওর ঘুম ভেঙে যায়। কিসের শব্দ, তা বুঝে ওঠার আগেই আবার বজ্রপাতের মতো শব্দ হয়। সামনের ঝুল বারান্দার একটা বিরাট অংশ ভেঙে পড়ে। সম্ভবত ভারী কোনো আগ্নেয়াস্ত্র থেকে ছোড়া শেলের আঘাতেই ওই অংশ ভেঙে পড়ে। ডাইনিং রুমের জানালা দিয়ে এপিও সার্কিট হাউসের সামনে কয়েকটা সামরিক গাড়ি ঢুকতে দেখেন। গাড়ি থেকে মেশিনগান হাতে সাদা পোশাকের লোকজন নেমেই কর্তব্যরত পুলিশের ওপর গুলি ছুড়তে শুরু করে। ভারী গোলার আঘাতে কয়েকটি জানালা মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে। বাইরে থাকা পুলিশ প্রতিরোধের কোনো চেষ্টাই করেনি। সম্ভবত তারা বুঝতে পেরেছিল, হামলাকারীদের ভারী অস্ত্রের সামনে তারা টিকতে পারবে না।
ডাইনিং রুমের একটা টেবিলের নিচে এপিও ঢুকে পড়লেন। সেখান থেকে তিনি দোতলায় রাষ্ট্রপতি যেখানে ছিলেন, সেদিকে একদল লোকের দৌড়ে যাওয়ার শব্দ শুনলেন। কয়েক মুহূর্ত পরই ওপরতলায় চিৎকার, গোঙানি ও মুহুর্মুহু গুলির শব্দ পেলেন। ভাগ্য ভালো, সার্কিট হাউসের একজন বেয়ারাকে সঙ্গে নিয়ে ডাইনিং রুমে যেখানে এপিও লুকিয়ে ছিলেন, সেদিকে কেউ আসেনি।
এপিওর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক ঘণ্টা তারা সার্কিট হাউসে তাণ্ডব চালায়। এরপর তারা আবার গাড়িতে চড়ে কম্পাউন্ড ছেড়ে চলে যায়। বেয়ারা ও তিনি ডাইনিং টেবিলের নিচ থেকে বেরিয়ে দেখলেন, রাষ্ট্রপতির একজন গার্ডের গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। চারপাশে তাণ্ডবলীলার চিহ্ন। প্রচণ্ড ভয় পেয়ে এপিও পেছনের দরজা দিয়ে সার্কিট হাউস থেকে পালিয়ে আসেন এবং পরিবহন পুলের গ্যারেজে এসে আশ্রয় নেন। সার্কিট হাউসের ভেতরে হামলাকারীদের কেউ ছিল কি না কিংবা রাষ্ট্রপতি নিরাপদ কি না, সে বিষয়ে তখনো তাঁর কোনো ধারণা ছিল না।
আমি ও সাইফুদ্দিন যখন সার্কিট হাউসে পৌঁছালাম, তখন সেখানে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। মূল ফটক খোলা; সেখানে কোনো গার্ড ছিল না। পুলিশ কর্মকর্তারা নিচতলার বারান্দায় জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে দেখলাম, পুলিশ কমিশনার, ডিএসপি এবং ডিআইজিও রয়েছেন। দোতলার ঝুল বারান্দার কাঠের পাটাতনের একটা অংশ ভারী গোলায় উড়ে গিয়েছিল। নিচে ভেঙেচুরে যাওয়া কাঠের খণ্ড ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। বারান্দার এক জায়গায় দেখলাম অনেকখানি রক্ত থকথক করছে। বারান্দার সঙ্গে লাগোয়া দেয়ালে বহু বুলেটের দাগ। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে আবার পুরো ঘটনার বিবরণ শুনলাম।
ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানালেন, সার্কিট হাউসের সামনের রাস্তায় সামরিক বাহিনীর একটি কনভয় এসে সেখান থেকেই হামলা শুরু করে। হামলাকারীরা বেশ কয়েকটি সেনাযান নিয়ে এসেছিল। তারা রাস্তা থেকে রকেট ছোড়ার পর ভারী মেশিনগান নিয়ে গুলি করতে করতে ভেতরে ঢোকে। তিনি জানান, তিনি পাল্টা গুলি চালিয়েছিলেন; কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি তাদের ভারী অস্ত্রের সামনে পিছু হটতে বাধ্য হন। প্রায় বিনা বাধায় তারা কম্পাউন্ডে ঢুকে রাষ্ট্রপতির গার্ড ও পুলিশ সদস্যদের ওপর গুলি চালায়। এ সময় একজন পুলিশ কনস্টেবল ও একজন গার্ড নিহত হন (আমাকে জানানো হয়েছিল বারান্দায় তাঁদেরই রক্ত জমে ছিল)।
ওই কর্মকর্তা জানালেন, হামলাকারীরা ওপরতলায় এসে রাষ্ট্রপতির সুইটের দরজায় লাথি মারতে লাগল। রাষ্ট্রপতি জিয়া হকচকিয়ে দরজা খুললেন। তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঝাঁকঝাঁক মেশিনগানের গুলি তাঁকে ঝাঁঝরা করে দেয়। রাষ্ট্রপতির পাশের রুমেই তাঁর সিকিউরিটি অফিসার কর্নেল আহসান ছিলেন। হামলাকারীরা তাঁকেও শেষ করে দেয়। এ ঘটনায় মোট চারজন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন রাষ্ট্রপতি জিয়া, কর্নেল আহসান, একজন পুলিশ কনস্টেবল ও রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত একজন গার্ড।
পুলিশ কর্মকর্তার বর্ণনা শুনে এবং চারপাশের ধ্বংসযজ্ঞ দেখে সহজেই বোঝা যাচ্ছিল, এটা কোনো মামুলি গোছের খুনিদের কাজ নয়। এখানে প্রশিক্ষিত সেনাসদস্যরা ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করার মিশন নিয়েই এসেছিলেন। আমরা চারজন (বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি ও আমি) তখন যে বিষয়টি বুঝতে পারছিলাম না সেটি হলো, রাষ্ট্রপতি কি বিপথগামী সেনাদের হাতে নিহত হয়েছেন নাকি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত আমরা এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাইনি।
অন্য তিনজনকে কম্পাউন্ডে রেখে এসপি ও একজন স্পেশাল ব্রাঞ্চ অফিসারকে সঙ্গে নিয়ে আমি দোতলায় সিঁড়ির কাছেই দেখলাম, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গার্ডের লাশ পড়ে আছে।
দোতলায় উঠেই দেখি রাষ্ট্রপতির সুইটের সামনেই তৃতীয় লাশটি পড়ে আছে। ফ্লোরে লাশটা সাদা একটা চাদর দিয়ে ঢাকা। রাষ্ট্রপতির গার্ডদের একজন লাশের পাশেই পড়ে ছিলেন।
আমার সঙ্গে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাটি আস্তে করে বললেন, ‘স্যার, ইনিই প্রেসিডেন্ট জিয়া।’ কাপড় সরিয়ে দেখলাম পুরো দেহটা ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। মনে হচ্ছিল অনেকগুলো বন্দুক থেকে একযোগে তাঁর ওপর গুলি করা হয়েছে। মুখের যে পাশটাতে গুলি লাগেনি, সে পাশে গোঁফ দেখে কোনো রকমে তাঁকে চেনা যাচ্ছিল। মুখের অন্য দিকটা একেবারে উড়ে গিয়েছিল।
সামনে যা দেখছি, তখনো তা বিশ্বাস হতে মন চাইছিল না। যে মানুষটি আমার সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন, তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি; তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ নেতা; তিনি তৎকালীন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। নিয়তির কী নির্মম পরিহাস, তাঁর লাশের পাশে সেই বিশেষ বাহিনীর এক সদস্যকে দেখলাম। জীবন দিয়ে হলেও রাষ্ট্রপতিকে রক্ষা করার দায়িত্ব ছিল যাঁদের, তাঁরা সবাই বেঁচে আছেন, আর তিনি শহীদ হয়েছেন। এ কারণেই প্রশ্ন জাগে, ভুলটা আসলে কোথায় ছিল?
ভাষান্তর: সারফুদ্দিন আহমেদ


(চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিপথগামী সেনা কর্মকর্তাদের হাতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার সময় সেখানকার জেলা প্রশাসক ছিলেন জিয়াউদ্দিন এম চৌধুরী। তিনি রাষ্ট্রপতির সফর তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময় সেখানে যা ঘটেছিল, তা কাছ থেকে দেখেছিলেন তিনি। ইংরেজিতে লেখা তাঁর অ্যাসাসিনেশন অব জিয়াউর রহমান অ্যান্ড আফটারম্যাথ বইয়ের নির্বাচিত অংশের ভাষান্তর তিনটি পৃথক শিরোনামে প্রকাশ করা হলো। বইটি প্রকাশ করেছে ইউপিএল, ঢাকা। )

প্রথম আলো
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০১০ রাত ৩:০৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×