আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় বসন্তের ফুলে রঙিন হওয়ার কথা ছিল; কৃষ্ণচূড়ার রক্ত রঙ্গে, শিমুল পলাশের বর্ণিল রঙ্গে আমাদের কম্পাসের আনাচে -কানাচে রং খেলে যাওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু বারবার আমাদের ক্যাম্পাস রঙিন- রক্তাক্ত হয় ছাত্রদের রক্তে।
আমাদের কাম্পাস হওয়ার কথা ছিল আনন্দমুখর, অজস্র সংস্কৃতিক দল থাকবে; কিন্তু কোনো রগ কাটার দল থাকার কথা ছিল না । সারাক্ষণ আনন্দের মেলা থাকার কথা ছিল; কিন্তু কোনো রক্তের হোলিখেলা থাকার কথা ছিল না। আমাদের ক্যাম্পাস জ্ঞানীদের মঞ্চ হওয়ার কথা ছিল ; কিন্তু আজ আমাদের কাম্পাস ঘাতকের উল্লাস মঞ্চ। যেখানে অজস্র গবেষণা গ্রুপ থাকার কথা ছিল; সেখানে আজ সন্ত্রাসী- চাদাবাজির অসংখ্য গ্রুপ- উপগ্রুপ।
আমরা অবাক হয়ে দেখি যখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় তার চরিত্র হারায় দিনের পর দিন। যখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার রিহার্সেলে রূপ নেয়। অস্রের ঝনঝনানিতে মাঝে মাঝে আমরা দিক-বিদিক ছুটি তখন আমাদের স্বপ্নের ক্যাম্পাসে আমাদের হৃদপিন্ড কাপে পেন্ডুলামের মত । তখন আমদের প্রিয় কাম্পাস আমাদের অপরিচিত হয়ে যায়। আমরা ছিটকে পড়ি জ্ঞানের গন্ডি থেকে যখন সন্ত্রাসের তান্ডবে দিনের পর দিন বন্ধ থাকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়।
আমরা দেখি এখনো মধ্য যুগে আমাদের ক্যাম্পাস; আমরা অবাক হয়ে যায় সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে ছাত্রীরা থাকে আতঙ্কে; ছাত্র -শিক্ষকরা সত্য কথা বলতে বাধা পায়। অসহায় হয়ে দেখি প্রতিক্রিয়াশীলতার দীর্ঘ চাদরের নিচে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যুতায়িত কিন্তু আলোকশোভিত না; আমরা ছাত্র-শিক্ষকরা ডিগ্রীধারী কিন্তু প্রগতিধারী না। আমরা ছাত্ররা বলেছি বারবার "" ......আমাদের কাম্পাস ঘাতকের উল্লাস মঞ্চ না, ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ার FDC না ...""
আমরা বারবার স্লোগান তুলেছি "" সন্ত্রাস করে তিনটি দল = লীগ-শিবির- ছাত্র দল "" তিনটি ছাত্র সংগঠনই দায়ী কাম্পাসের সকল দখল - অস্থিতিশীলতা -খুনের। তাদের জন্য ছাত্র-কৃষক-শ্রমিক- সকল স্তরের মানুষের আশার প্রদীপ ছাত্ররাজনীতি হচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ। আমরা চাই আমাদের প্রিয় কাম্পাসে গনত্রান্ত্রিক রাজনীতি থাকবে কিন্তু কোনো সন্ত্রাসীর রাজনীতি থাকবে না ; প্রগতির রাজনীতি থাকবে কিন্তু কোনো মৌলবাদী জামাত শিবির থাকবে না । অসংখ্য মেধাবীর পদচিহ্ন থাকবে, কিন্তু কোনো রক্তছাপ থাকবে না। এখানে জ্ঞানের শিখা থাকবে কিন্তু কোনো বারুদের শিখা থাকবে না। আওয়াজ থাকবে কিন্তু কোনো হুঙ্কার থাকবে না ; চিৎকার থাকবে কিন্তু কোনো আর্তনাদ থাকবে না। আমাদের মিছিল হবে দাবির - সমস্যা মুক্তির ; মানব বন্ধন হবে অধিকার আদায়ের ; শোভাযাত্রা হবে আনন্দের। আমাদের ক্যাম্পাস হবে সবচে নিরাপদ। একজন ছাত্রী দু স্বপ্নেও ভাববে না কোনো নিপীড়নের । প্রত্যেকে সকল অসঙ্গতির বিপরীতে বলবে "".....আমি মানি না..""
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেঁড়া শার্ট পরিহিত দরিদ্র ছাত্র থেকে শুরু করে গবেষনার ব্যাগ বাহী শিক্ষক সবাই গনত্রান্ত্রিক কাম্পাস চান ; পাজেরো শোভিত ভিসি থেকে জননেত্রী খেতাবী প্রধানমন্ত্রী সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে গনতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু......

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



