somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রিয় ফারিয়া, KISS......

০৯ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১২:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তীব্র গরম! তার উপর লোডশেডিং এবং মশাদের অসহ্য বন বন। ল্যেপটপ টার চার্য ও শেষের দিকে। নাহ্ চা খেয়ে আসি। সাথে ষ্টেশনে একটু গুনগুন। লুংগী পাল্টে থ্রী কোয়ার্টার, পাতলা গেন্জী, একটু সাহেবী ভাব। ষ্টেশন প্ল্যাটফর্ম এক কাপ চা নিয়ে পায়চারি শুরু।কত রকম মানুষ! দুই জন মহিলা (আসলে মেয়ে, ওরা অল্প বয়সেই মহিলা হয়ে গেছে) একে অপরের চুল ধরে টানা টানি করছে সাথে অসভ্য গালি গালাজ। পান চিবুতে চিবুতে এক বুড়ো ওদের পাশেই পানের পিক ফেল্ল সাথে তামাশার হাসি। এেহ্ !! ঘেন্না!! একটু দূরে এসে দাড়ালাম।

ইদানিং জোর করে সিগারেট টানা শুরু করেছি। জিনিসটা ঠিক বাগে আসছে না কিন্তু একজান প্রোগ্রামার সিগারেট টানতে পারে না এটা লজ্জার।এক দিন একেক ব্র‌্যান্ড ট্রাই করি। আজকের ব্র‌্যান্ড মার্লব্রো। নাহ্ বোটকা গন্ধ টা নিজেই হজম করতে পারছি না।চারপাশ কাঁপিয়ে দাড়ালো রাত ১২.৩০ এর ট্রেইন। চারপাশ থেকে সবাই উঠে বসছে, মধ্যরাত বলে হৈ হল্লা একটু কম।

আমার এদিকটায় একটু অন্ধকার। দুইটা বগির মাঝখানের জাংশনটায় যেখানে একটু আলো পড়েছে ওখানে হঠাৎ দেখি চারটি ছোট ছোট পা, পীঠ দুই পাশের বগিতে হেলান দেয়া। কি জানি গুটুর গুটুর করছে ওরা দুই জন। কত বয়স হবে ওদের? সম্ভবত একজন ৫ আর আরেক জন ৭ এর মধ্যেই।কৌতুহল নিয়ে এগিয়ে গেলাম।
--"কিরে কি খবর?"
(বড়টা আমার দিকে তীব্র অবহেলায় তাকাল, ছোটজনের চেহারায় নির্লিপ্ততা)
--"ট্রেইন ছাড়লে ত পড়ে মরবি! নাম জলদি!"
--"মরলে মরুম!"
কোনা চোখে তাকিয়ে বিরবির করে আর কিজানি বলে যাচ্ছে। চোখে মুখে বিরক্তির শেষ নাই।অবাক করার মত এক্সপ্রেশন অল্প বয়সেই।
--"নেমে যা!"
--"আরে কিছু হইবনা। কমলাপুরর থন আইছি না এইয়ানে? "
লুন্গি পরা এক ভদ্রলোক(?) এসে দাড়ালেন পাশে।
--"এগরে এমনে হইবনা ভাই।"
একটু এগিয়ে,
--"ঔ তোরা কি গেলি! নাকি 'হোগায়' দিমু দুইটা?"
আশ্চর্য! ছেলে দুইটা বিদ্যুৎ গতিতে নেমে দৌড় দিল।পানের পিকে লাল হওয়া দাঁত দেখিয়ে লোকটা কুৎসিত একটা গালি ছুড়ে দিল। তার পর হা হা হা হা..। ভীষন মজা পেয়েছে সে।

কুহু ঝিকঝিক কুহু ঝিকঝিক.... ট্রেইন কিছুক্ষন পরেই চলে গেল। আমি একটু এগিয়ে আসতেই ওই দুইজন কে পেয়ে গেলাম।
আহা! দুই জনিই ঠোট ফুলিয়ে চলে যাওয়া ট্রেনের দিকে তাকিয়ে আছে। এতক্ষন অন্ধকারে থাকায় ওদের মুখ দেখিনি, দুটি চেহারায় আশ্চর্য মায়া! বুকটা হু হু করে উঠল। হাফ পেন্টগুলির রাবারের ইলাস্টিসিটি শেষ পর্যায়ে। কোনমতে কৃমি ভরা পেট দুটিতে আটকে আছে। এগিয়ে কাছে গেলাম।

--"কিরে! যেতে পারলি না!"
--"দেহেন না কেমনে খেদাইয়্যা দেল!" (অভিমান... চোখ চলে যাওয়া ট্রনের দিকে, আরেকটু হলে অশ্রু গড়ায় সাগর দুটি চোখে।)
--"কই যাস এত রাতে?"
--"বাড়ি যামু আর কই?" (কোপা কোপা উত্তর।)
--"বাড়ি কই?"
--"নারায়নগন্জ"
--"তর পাশে এইটা কে?"
--"ছড় ভাই" ('ছড় ভাই' আমার দিকে তাকিয়ে হাসল।)
--"তরা ক'ভাই বোন?"
--"আমরাই খালি"
--"হুমমম.. এখন কি করবি? ট্রেইন ত গেছেগা।"
--"কি করুম! রাইতে সেলাব (স্ল্যেব) এ থাকুম, কাইল যামুগা।"
--"তগ মা চিন্তা করব না?"
--"নাহ্। হেই বেডি জানে মাজে মইদ্যে গেন্জাম অই। কাইল যামুগা।"
--"এখানে কেন আসছিলি? কি করছ?"
--"তরকারি টুকাই মালগারির থন। পরে এই গুলান বেচি।"

হঠাৎ রেল ষ্টেশন এর দারোয়ান হাতে লাঠি আর বাঁশিতে ঈস্রফিল এর মতন ফুঁক দিতে দিতে দৌড়ে এল। বাচ্চা দুটু আমি কিছু বোঝে উঠার আগেই ভোঁ দৌড়। একজন কিছুক্ষন পরপর পেছন ফিরে দেখছে দূরত্ব কট্টুক বাড়াতে পেরেছে পেছন পেছন এগুতে থাকা লাঠির বাড়ি থেকে। একটু পরপর ঢিলে হয়ে আসা পেন্ট টাও টেনে নিচ্ছে। রাতটা কোথায় কাটাবে ওরা? শালা দারোয়ান টাকে আমার খুন করতে ইচ্ছে হচ্ছিল।

ফারিয়া বড়ভাইয়ের মেয়ে। আমার এত্ত আদরের! ৬ বছরে পড়েছে।এবার ঢাকা ফিরে আসার সময় আমার পকেটে একটা চিঠি গুঁজে দিয়েছে।
"বাপ্পি, আবার আসার সময় আমার জন্য টম এন্ড জেরির বই আনবেন।KISS "
প্রিয় ফারিয়া, আজকে ষ্টেশনে একটা বাচ্চা দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় পেছন ফিরে আমার দিকে একবার তাকিয়ে ছিল।আবছা ওকে কেন জানি তোর মতন দেখাচ্ছিল। ভাল থাকিস....KISS..
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ৯:৫১
২০টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×