প্রথম কিস্তি-- Click This Link
দ্বিতীয় কিস্ত-- Click This Link
শেষ কিস্তি
ভেবে ছিলাম কফি হাউজ টা শেষ করে দিব হল না তাই আবার বিতর্কিত বিষয়নিয়েই লিখতে বসলাম।
এখানেও বলে রাখি যুক্তিহীন গালিগালাজ বা ছাগু ফাগু টাইপ করে কেও অযথা সময় নষ্ট করবেন না; সকল যুক্তিবাদীদের সমালোচনা আমি অধিকতর পচ্ছন্দ করি। আমি অতিসাধারণ একজন- আমার ধারনা সবসময় ঠিক হবে এটি আমি কখনই বিশ্বাস করি না; আমার যে কোন ভুল আমি স্বীকার করে নেয়াই আমার ধর্ম।
গত দুটি পর্বের আলোচনা ও সমালোচনা দুটিই ছিল দৃশ্য মান। তাই তৃতীয় পর্বটিও লিখলাম।
আমার কুড়ি ক্লাস পড়া লেখা; ১০ বৎসরের ৮টা কোম্পানীতে চাকুরী (১ম- ৩ বৎসর; ২য়- ৩মাস; ৩য়-৩৭১দিন; ৪র্থ- সাড়ে চার বছর- ৫ম- ১বছর; ৬ষ্ঠ-৩দিন; ৭ম- ২২ দিন; ৮ম-৮মাস চলিতেছে); বৈদ্যাশ যাইতে গিয়ে পাছায় লাথি; প্রায় ৩ বৎসরের ট্রান্সপোর্ট/পরিবহন ব্যবসার সহিত জড়িত; ৩ বছর নোংড়া রাজনীতি; আড়াই ডজন এর কাছা কাছি বন্ধু-বান্ধবী; দেশের প্রায় অধিকাংশ বড় শহরে ভ্রমন; প্রায় এক কুড়ি প্রেম (উল্লেখ্য যে প্রথম প্রেমেই ফাটা ফাঠি আকারের একটা ছ্যাকা); (দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের/যার অধিকাংশই চাকুরী জীবি) সেই সুবাদে ঐ সব এলাকার আরো কিছু মানুষের সাথে চলা ফেরা; একখান বিয়ে- পুত্র সন্তানের জনক হওয়া সহ অভিজ্ঞতার আলোকে আমার মনে হয় মেয়েরা স্বাবলম্বীর নামে পণ্যই হয়ে যাচ্ছে দিন দিন।
উচ্চ থেকে নিম্ন যে চাকুরী জীবি মেয়েদের কথাই বলি না কেন তারা প্রতি দিনই লাঞ্চিত হচ্ছে। হতে হচ্ছে নির্যাতনের শিকারও। আর যৌন হয়রানির কথা তো হর হামেসাই শোনা যাচ্ছে। আর ধরষনের খবর যে গুলো পত্র পত্রিকায় আসছে সেগুলো সামান্যই। তার চেয়েও অধিক সম্ভ্রম হানি ঘটছে প্রতিনিয়ত যা অগোচরেই থেকে যাচ্ছে। অনেক পাঠকই চোখ বন্ধকরে বলবেন আমাদের দেশের কাচা বাশের ঘুনে ধরা সমাজ; তাই এই দুরদশা। একটু দয়া করে ইউরোপ আমরিকার পাকা সেগুন কাঠের- আকতার ফার্নিচারের বার্নিষ করা সমাজের দিকে তাকালে আরো অনেক ভয়াবহতা দেখতে পাবেন। যেখানে নারীর কোন মর্যাদা আছে বলে মনে হয় না। আমরা টেলিভিষনের পর্দায় দেখি মেয়েকে টিজ/লাঞ্চিত করার অপরাধে চারিদিক থেকে ফুলিশ আর ফুলিশ এসে ঘিরে ধরছে অপরাধীকে; কিন্তু--- বাস্তব টা কিন্তু আলাদা। যেখানে প্রতি ৪৫ সেকেন্ডে একজন নারী ধর্ষিত হচ্ছে। বাড়ীর অধিকাংশ কিশোরী ও বয়ষ্কারা আশ্রয় নিচ্ছে আশ্রমে শুধ মাত্র যৌন অত্যাচারের ফলে।
যৌনতা /কাম লালসা যেটাই বলেন না কেন সৃষ্টি কর্তাই এটাকে সৃষ্টি করেছেন। যেটা প্রত্যেক জীবেরই প্রয়োজন হয়। আর মেয়েদের ভিতরেই দিয়েছেন পুরুষকে আকর্ষন করার মত সকল আকর্ষণীয় শক্তি। আর নারীকেও করে দিয়েছেন কোমল মনের অধিকারী করে।
একজন অবিবাহিত পুরুষ তার যৌন চাহিদা মেটাচ্ছে বিয়ে না করে বিভিন্ন ভাবে তা উদাহরণ স্বরূপ বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। কিন্তু মেয়েটি!--- অসহায় হয়ে পড়ছে ঘরে। সে জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মে। (যারা মনে করেন স্বামী ব্যাতি অন্যজনের সাথে কাম লালসা পূর্ণ করা অন্যায় কিছু না তাদের জন্য অবশ্যই এই লেখাটা নয়)।
আমাদের সমাজে দিন দিন অবিবাহিত মেয়ের সংখ্যা বেড়েই চলেছে যা আমার প্রতিটি পর্বেই উল্লেখ আছে। যার অধিকাংশ পিতা মাতা কন্যাকে পাত্রস্থ করতে পারছে না যোগ্য পাত্রের অভাবে। আর যুব সমাজ ভুগছে বেকার সমস্যায়- যার ফলে বিয়ে করে বউকে কি খাওবে এই চিন্তায় করছে না বিয়ে। আর স্যাকুলারের সাথে স্যাকুলার হয়ে জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অসামাজি কর্মকান্ডে।
আর যে সকল পাত্র বিয়ে যোগ্য হচ্ছে (অর্থনৈতিক ভাবে) তার পিছনে ছুটছে ঐ সকল কন্যার পিতা মাতারা। এখন আর যৌতুক চাইতে হচ্ছে না কোন ছেলে কে- কন্যার পিতাই বলে দিচ্ছে- আমি এইটা দিব ঐটা দিব- বিয়ে যাতে ছেলে জাকজোমক ভাবে করতে পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থিক সহযোগিতাও করবে। আর ঐ সব গ্রহণ করছে ছেলেরা হর হামেসায়। যাদের অর্থনৈতিক সামর্থ আছে তাদের কাছে কোন ব্যাপার না; কিন্তু তাদের দেখা দেখি যে সকল কন্যার পিতা মাতার অর্থনৈতিক সামর্থ নাই বিপদে পড়ছে তারা। ফলে বাড়ছে অবিবাহিতের সংখ্যা। যারা বিবাহিত আছেন তাদের উদ্দেশ্যেই বলি- আপনাদের বিয়ে আগের চিন্তা ভাবনা আর এখনকার চিন্তা ভাবনা একটু মিলিয়ে দেখেন তাতেই পার্থক্য বুঝতে পারবেন।
অন্যদিকে সরকার বিভিন্ন প্রকার কোটা সহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে মেয়েদের সেটেল করায় ব্যস্ত। আর একজন চাকুরী জীবি মেয়ে কোন অবস্থাতেই বেকার ছেলে কে বিয়ে করবে না। অন্যদিকে অধিকাংশ ছেলেই বেকার মেয়েদের বিয়ে করবে। ফলে কোন ফ্যামিলিতে দুই জনই চাকুরী জীবি আর কোন ফ্যামিলিতে কেওই চাকুরী পাচ্ছে না। যার ফলে বাড়ছে সামাজি অর্থনৈতিক দুরত্ব।
অনেকই প্রশ্ন তুলেছেন- মেয়েরা কি ঘরে বসে থাকবে? ঘরে বসে দাসি বান্দির কাজ করবে? আপনাদের উদ্দেশ্যে ঘরের বাইরে যা করছেন- সেটা আপনার ঘরের দাসি বান্দীর থেকে কিন্তু খুব বেশী আলাদা না। আপনারা মাইনে পাচ্ছেন একটু বেশী এই যা পর্থক্য। আর ঘরের কাজকে দাসী বান্দীর কাজ যারা মনে করেন তারা মনে হয় অত্যন্ত নিম্নমানুষিকতার লোক। একটি মেয়ে তার সংসারে সাংসারিক কাজ করবে; বাচ্চা কাচ্চা লালন পালন করবে তার চেয়ে মহান কাজ কিছু হতে পারে বলে মনে হয় না।
কেউ বলেছিলেন- যাদের কোন পুত্র সন্তান নেই তাদের কি হবে- একটি মেয়ে তার স্বামীর ঘরে থেকে অব্যই তার মা বাবা কে দেখতে পারবে এতে কারো কোন সমস্যা হবার কথা নয়। (উদাহরণ- আমার কোন মামা নেই- আমার নানা মারা যাবার পর উনি আমাদের সাথেই থেকেছেন একজন গার্ডিয়ান হিসেবে।)
কেও বলেছিলেন- যেখানে ছোট বাচ্চা রেখে তার বাবা মারা যান সেখানে কি হবে। সেখানে তার দাদা/চাচা/ফুপা/মামা কেও না কেও থাকবে। আর তাও যদি না থাকে তবে তার দায়িত্ব সমাজের; সরকারের। ইসলামিক আইন মোতাবেক যদি একজন ব্যক্তি ঠিকম মত শুধু তার যাকাত প্রদান করতেন তা হলে এই অর্থনৈতিক সমস্যা কোন কালেই হত না। আপনার সংসারে যখন অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা থাকবে তখন আপনি আপনার প্রতিবেশীকে দেখবেন অনায়াসে; আর না দেখলে সরকারের উচিৎ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।
যেখানে নারী নির্যাচত হচ্ছে সেখানে নির্যাতন কারীর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। নির্যাতন কারীর শাস্তির ব্যবস্থা না করে তাদের স্বাবলম্বী করে তার সমাধান হবে না। কারণ চাকুরী জীবি মেয়েরাও কিন্তু কম নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছেন না দিন দিন বরং গৃহিনীদের থেকে অধিকতর। আপনারা আপনাদের স্বাবলম্বীতার ফলে ডিভোর্স দিচ্ছেন- ফলশ্রুতিতে অধিকাংশই মানুষিক ভাবে ভেঙ্গে পরছে পরবর্তীতে।
ইসলাম ধর্মের যে বিধান গুলো আছে তা যদি আমরা পালন করি তা হলে আমাদের মেয়েদের রাস্তায় নেমে স্বনির্ভরতার নামে পণ হতে হবে না। আর ধর্মীয় শাসন যদি কেও মেনে না চলে সরকারের উচিৎ তাকে মেনে চলতে বাধ্য করা। ইসলাম এমনই একটি জীবন বিধান যা মেনে চললে সমাজের সব সমস্যায় দুর হয়ে যাবে। পাশ্চ্যাতের সভ্যতায় মগ্ন না হয়ে ইসলামিক সভ্যতায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করি। আর গড়ে তুলি সুন্দর সমাজ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

