নারী নির্যাতন : বরিশালে বিচারকের লালসার শিকার গৃহপরিচারিকা : জজের ছেলেসহ আরও অনেকের ধর্ষণ : তদন্তের নির্দেশ
নারী নির্যাতন : বরিশালে বিচারকের লালসার শিকার গৃহপরিচারিকা : জজের ছেলেসহ আরও অনেকের ধর্ষণ : তদন্তের নির্দেশ
বরিশাল অফিস
এক গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে বরিশালের সাবেক এক জেলা জজের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। অসহায়ত্বের সুযোগে একে একে আরও অনেকের ভোগ ও নির্যাতনের শিকার হতে হলো ওই গৃহপরিচারিকাকে। নির্যাতনকারীদের মধ্যে ওই জেলা জজের ছেলে ও আদালতের একাধিক তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীও রয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় নগরীর বিভিন্ন মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, বরিশালের সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ শহিদুল্লাহর বাসায় ধর্ষণের শিকার হয় তার গৃহপরিচারিকা। তার গর্ভপাতও করানো হয়। জেলা জজ এখান থেকে বদলি হয়ে যাওয়ার পর ওই পরিচারিকা বিচার চেয়ে বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করে। বিষয়টি তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় বরিশালের বর্তমান জেলা ও দায়রা জজ কেএম সলিমুল্লাহকে।
সূত্র জানায়, এরই মধ্যে ধর্ষিতার গর্ভপাত ঘটানোর সময় দায়িত্বপালনকারী মেরি স্টোপসে্র নার্সসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সূত্র আরও জানায়, তদন্ত রিপোর্ট আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হবে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ একেএম সলিমুল্লাহ তদন্ত নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, এটি প্রশাসনিক একটি বিষয়। তাছাড়া সব কিছু নিয়ে কথা বলা সম্ভব নয়।
ধর্ষিতা ও স্বজনদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, বাকেরগঞ্জের নিয়ামতি এলাকার মন্নুজান চৌধুরী নামের সাবেক এক ইউপি মেম্বার তার মামাতো বোনকে জেলা জজ মোহাম্মদ শহিদুল্লার বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজে দেন। পরে জেলা জজ তাকে চাকরি দেয়ার প্রলোভনে বিভিন্ন সময় ধর্ষণ করে। বিষয়টি জেলা জজের স্ত্রীকে জানানো সত্ত্বেও প্রতিকার পায়নি ধর্ষিতা; বরং জেলা জজের ছেলে আরিফ উল্লাহও তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে সে গর্ভবতী হয়ে পড়লে ২০০৯ সালের ৭ জুলাই বেসরকারি সংস্থা মেরি স্টোপসের ক্লিনিক থেকে গর্ভপাত ঘটানো হয়। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলে আবারও তাকে ধর্ষণ করা হয়।
জেলা জজ মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ গত বছর বদলি হয়ে চট্টগ্রামের শ্রম আদালত-২-এ যোগদান করেন। বরিশাল ছাড়ার আগে জেলা জজ ১৫ জানুয়ারি ধর্ষিতাকে তার গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। তাকে বলা হয় সেখান থেকে প্রার্থী হয়ে বরিশালে এসে চাকরির পরীক্ষা দিতে। জজের বাসায় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিলে বদনাম হবে। জেলা জজের এ কথা বিশ্বাস করে মেয়েটি গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। এর কয়েকদিন পর ধর্ষিতা জানতে পারে জেলা জজ বদলি হয়ে চলে গেছেন। জীবনের সব হারিয়েও চাকরি না পেয়ে অসহায় গৃহপরিচারিকা আদালতের ক্যাশ সরকার দ্বীন মোহাম্মদের শরণাপন্ন হয়।
ধর্ষিতার বোন মুন্নুজান বলেন, বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে দ্বীন মোহাম্মদ জেলা জজের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায় করেন। দ্বীন মোহাম্মদ ধর্ষিতাকে ডেকে নিয়ে বিষয়টির সুরাহার প্রলোভন দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। বিষয়টি টের পেয়ে দ্বীন মোহাম্মদের স্ত্রী ধর্ষিতাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। মন্নুজান বলেছে, এ ঘটনা প্রকাশ করায় দ্বীন মোহাম্মদ তাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। ধর্ষিতার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে আদালতের আরও একাধিক চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী বিভিন্ন সময় তার বোনকে ধর্ষণ করেছে। শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।
সূত্রঃ
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

