somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রোহিঙ্গাদের জন্য সাধারণ মানুষ কি করতে পারেন/পারতেন

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রোহিঙ্গাদের সাহায্য-সহায়তা নিয়ে লিখিত আমার গত পোস্টে (view this link) "বিচার মানি তালগাছ আমার" নামের একজন ব্লগারের মন্তব্যে "...এখানে সাধারণ মানুষের করার খুবই সামান্য কিছু আছে। আমাদের ক্ষমতাও আমেরিকা, জার্মানীর মত না..." - এমন কথার জবাব লিখতে বসে দেখলাম এ নিয়ে একটা পৃথক পোস্ট দেয়াই ভালো!

আসুন দেখি রোহিঙ্গাদের জন্য সাধারণ মানুষ কি করতে পারেন/পারতেন দেখা যাক:

১) তাদের "পাশেরবাড়ি" যে জ্বলছে, সে সম্বন্ধে সচেতন হতে পারেন/পারতেন - নিজে সচেতন হয়ে থাকলে, অন্যকে সচেতন করতে পারতেন।

২) রাসূল (সা.)-এঁর একটা প্রসিদ্ধ হাদীস অনুযায়ী মুসলিম উম্মহ্ একটি দেহের মত হবার কথা, যার একটি অংশ ব্যাথা পেলে গোটা দেহে জ্বর আসার কথা। আমার গত পোস্টের ভিডিও ক্লিপের( view this link ) ঐ বিধর্মী মহিলার যে বোধ/অনুভব, যে আহাজারি/দুঃখ বা কান্নার ছবি আমরা দেখলাম - আমাদের মাঝে তার লেশমাত্র আছে কি? আমি তো দেখি আমাদের "মৌজ"-এর সকল আয়োজন যথাস্থানেই রয়েছে - এই ব্লগের প্রথম পাতা দেখলেই তা বোঝা যায়।
[উপরে উল্লিখিত হাদীসটির দলিল: An-Nu’man ibn Basheer reported: The Messenger of Allah, peace and blessings be upon him, said, “The parable of the believers in their affection, mercy, and compassion for each other is that of a body. When any limb aches, the whole body reacts with sleeplessness and fever.”

Source: Ṣaḥīḥ al-Bukhārī 5665, Ṣaḥīḥ Muslim 2586
সূত্র: view this link]

৩) আমাদের ক্ষমতা সীমিত হতেই পারে, কিন্তু সহমর্মিতার জন্য পয়সা/অস্ত্র লাগে না। ধরে নিই আমরা একেবারেই অক্ষম! সেক্ষেত্রে "সঠিক বোধ" থাকলে, আমরা মজলুমের পক্ষ নিয়ে জালিমের বিরুদ্ধে আল্লাহর দরবারে প্রতিনিয়ত হাত উঠাতে পারতাম - মনে রাখবেন দোয়া হচ্ছে: weapons of the believers! মসজিদগুলোতে ফরজ নামাযের পরে, সুন্নাহ্ অনুযায়ী "কুনুত নাযিলা" করতে পারতাম!

৪)গত ২০ বছরে বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক সঙ্গতি যে বেড়েছে, তা বুঝতে অর্থনীতিবিদ হবার প্রয়োজন নেই। মানুষকে নষ্ট করতে বা প্রলুব্ধ করতে, ফোন কোম্পানিগুলোর অফার বয়ে যে ক্ষুদেবার্তা বা অযাচিত বিরক্তিকর কলগুলো প্রতিদিন যে কারো মোবাইলে আসে - সেটাই অর্থনৈতিক সঙ্গতির একটা সূচক হতে পারে! একসময় কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়গামী ছেলে-মেয়েরা যে স্বাচ্ছ্যন্দে ২~৫ টাকা দামের একটা সিংগাড়া খেতো, আজ সেই স্বাচ্ছ্যন্দে অনায়াসে ১০০/২০০ টাকার একটা বার্গার বা স্যান্ডউইচ্ খেয়ে থাকে। সকলে মিলে নতুন ও বাড়তি ভোগ-সুখের এই আয়োজন সামান্য কাট-ছাট করলেই, বিশাল কিছু করা সম্ভব। কেবল যুক্তি উপস্থাপন করতেই বলছি: ১৬ কোটি মানুষের যদি সঠিক "বোধ" থাকতো, আর তারা যদি তাদের নবলব্ধ ভোগ-সুখ থেকে দিনে মাত্র ১টি টাকা(নগন্য বলে যার কোন লেনদেন নেই বললেই চলে - আজকাল ১ টাকার একটা কয়েন দিলে ভিক্ষুকরা ক্ষুব্ধ হয়, নিতে চায় না!) সরিয়ে রাখতেন, তবে দিনে ১৬ কোটি টাকা, আর মাসে ৪৮০,০০,০০,০০০ টাকা দিয়ে সমকালীন বিশ্ব-ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য গণহত্যা, ধর্ষণ, জাতিগত নিধন আর নির্যাতনের শিকার তাদের মুসলিম ভাই-বোনদের সাহায্য করতে পারতেন! কিন্তু আমরা তো বুঁদ হয়ে আছি ফেন্সিডিল, ইয়াবা, সব-সম্ভবের এনার্জি ড্রিংক, ৪০ চ্যানেলে আমাদের ইসলামের-শৃঙ্খল-থেকে-মুক্ত-করতে-চেয়ে সরবরাহ করা সর্বনাশা বিনোদন সামগ্রী আর সব ছাড়িয়ে (একেবারে টয়লেটে বসেও আমাদের কিশোর/তরুণরা যেন একমুহূর্ত মিস না করেন, সেই উদ্দেশ্যে ছড়িয়ে দেয়া) মোবাইল ফোন কেন্দ্রিক পর্ণোগ্রাফিতে! আমাদের কি ভাববার বা অনুভব করার সময় আছে?

৫)যাহোক, কথার পিঠে অনেক কথা বলা হয়ে গেল। এটা ঠিক যে, সবার জন্য উখিয়া/টেকনাফ গিয়ে সাহায্য করা যেমন সম্ভব না, তেমনি সাহায্যের উদ্দেশ্যে দেয়া আপনার অর্থ যে সঠিক পথে ব্যয় হবে, সেটা নিশ্চিত করাও কঠিন। এই কাজটা যারা সঠিকভাবে সমাধা করবেন বলে সবচেয়ে বেশী আশা করা যায়, তাদের মাধ্যমে আপনি চাইলে নিম্ন ঠিকানায় আপনার অর্থ-সাহায্য পাঠাতে পারেন ইনশা' আল্লাহ্:

RELIEF FUND,
Headquarters 10 Infantry Division.
Account Number: 0096-0310003711.
Trust Bank Limited , Ramu Branch, Chittagong.
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:২৯
৭টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঠেলায় নাম বাবাজি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৯


সময়টা সরকারের জন্য মোটেও ভালো যাচ্ছে না। একদিকে গ্যাস আর বিদ্যুতের সংকটে মানুষ প্রতিদিন কষ্টে দিন কাটাচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের একের পর এক সিদ্ধান্ত নেটিজেনদের বাধার মুখে পড়ছে। ফলে সরকার নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার মত তারেক জিয়াও কি ভারতে ইলিশ পাচার করছে?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৬



চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম কিন্তু বাজারে কোন ইলিশ নেই.... ইলিশ নেই বললে ভুল হবে ইলিশ আছে কিন্তু উহা সাধারণ মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আওয়ামীলীগ আমলের ১৭ টি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

~~~সংশয়~~~

লিখেছেন জটিল ভাই, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৩

♦أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشِّيْطَانِ الرَّجِيْمِ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ্'র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
♦بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্'র নামে)
♦ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)


(ছবি নেট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্ত ও সুপ্ত কি আওয়ামী লীগকে লুপ্ত করতে পারবে?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৫২



গুপ্ত ও সুপ্ত আওয়ামী লীগকে লুপ্ত করতে না পারলে তারাই আবার ফিরতে পারলে গুপ্ত ও সুপ্তকে লুপ্ত করার কার্যক্রম গ্রহণ করবে। কারণ অতীতে গুপ্ত ও সুপ্তকে লুপ্ত না... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×