আমার বন্ধুবান্ধব সহকর্মী মোটামুটি সবাই জানে
দাঁড়াতেই বেশি পছন্দ আমার;
তবে কেনো আমি নানা ছুঁতোয় দাঁড়িয়ে যাই
সেটা তাদের জানার কথা নয়-
অবশ্য দুয়েক জনকে কখনো-কখনো
বলতে নিয়েছি...
এর পেছনে...
এর পেছনে আছে একটা দুর্বিষহ স্মৃতি
দুঃস্বপ্নের মতো সেই স্মৃতিটা মনে পড়তেই
শিউরে উঠি আমি। দগ্ধ হতে থাকি অনুতাপে।
আসলে আমি ছিলাম শালবন বৌদ্ধবিহারের
পাশে একটা দীর্ঘকায় শালগাছ,
ঋজু, সটান! বেশ বয়েস হয়ে গিয়েছিলো।
দীর্ঘদিন ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে
খিল ধরে গিয়েছিলো পায়ে।
তা, একদিন ভাবলাম আর কতো এভাবে
দাঁড়িয়ে থাকবো?
একটু এদিক-সেদিক ঘুরে আসলেই তো পারি।
বাচ্চাদের ছোটাছুটি দেখতে কী যে ভালো লাগে!
গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি সব বাচ্চার
মানুষের বাচ্চা হলে তো কথাই নেই!
নিজের জন্ম-ভাগ্যের ওপর বিরক্ত হলাম
মনে মনে একচোট গালও দিয়ে নিলাম।
নাহ্, আমাকে হাঁটতে হবে, ছুটতে হবে
ঘুরে বেড়াতে হবে চরাচরে
বিপুলা ধরনীর বিচিত্র রূপ-রস-গন্ধের
অমোঘ হাতছানি আমাকে উদ্গ্রীব করে তুললো
মনে সংকল্প দানা বাঁধলো--
ভাবলাম মানুষের বাচ্চা হলে বেশ হবে
শুধু এক পায়ের জায়গায় দু'পা
উড়তে বা সাঁতার কাটতে তো পারবো না
চারপেয়ে পশু হতে গেলেও বিপদ,
আমার আবার ঝুঁকে পড়ার অভ্যেস নেই।
একদিন ঠিক ঠিক আমার গাছশরীর থেকে
চুপিসারে বেরিয়ে পড়লাম
আর সন্তর্পণে ঢুকে পড়লাম
বিহারে বেড়াতে আসা এক দর্শনার্থীর জঠরে।
বলতে কী? মেয়েটাকে আমার খুব মনে ধরেছিলো--
শ্যামলা। কিন্তু স্নিগ্ধ ও মায়াবী চেহারা।
একহারা গড়ন। শালগাছের সাথে বেশ মিল।
এক যুবক আড়ালে শালপ্রাংশু বনে
মন্তব্যও করেছিলো মনে হয়, হবেও বা!
সেই বৃক্ষ-জন্মের স্মৃতি তো!
ঠিক মনে করতে পারছি না। আবছা।
হ্যাঁ, যা বলছিলাম, মেয়েটার সাথে শুধু
চারটা ছোট-বড় মেয়ে-সন্তান দেখে
আমি বুঝতে বাকি রইলো না- তার কোনো ছেলে নেই।
তাই পুত্র-সন্তান কামনায় বুঝিবা
কোনো মানস নিয়ে বিহারে এসেছিলো।
কে জানে!
ইশ্, মেয়ে মেয়ে করছি কেনো?
ও তো আমার মা। হ্যাঁ, মাই তো!
আমি তার জরায়ুতে ভ্রুণ হয়ে গোলাম--
প্রথমে পরাগ-রেণু, এরপর গোলাপ ফুল হয়ে
একসময় গাছের চারার মতো
মানব-শিশু হয়ে ধাপে ধাপে বেড়ে উঠলাম আমি।
একটু কষ্ট তো লেগেছিলোই--
বদ্ধ কুঠুরীতে দশমাস দশদিন
সারাক্ষণ গুঁটিসুঁটি মেরে থাকা!
অতোটুকুন জায়গায় কতো আর হা-পা ছোঁড়া যায়?
এক সময় ভূমিষ্ঠ হলাম.
মায়ের পায়ের জবা-কুসুম চুম্বন করে...
আহ্ পুত্র-সন্তান পেয়ে আমার মায়ের
সে কী আনন্দ! নিমিষেই সমস্ত দুঃখ-কষ্ট ভুলে
মা হয়ে গেলেন উষ্ণ জলের প্রফুল্ল ফোয়ারা।
বাবা থাকতেন শহরে
তার কাছে খবর পৌঁছুলো
খুশিতে ডগমগ আর হন্তদন্ত হয়ে তিনি উড়ে এলেন,
পাড়া-পড়শীরাতো আছেই!
চারদিকে মিষ্টি উড়তে লাগলো বাহারি বেলুনের মতো
শত্রু-মিত্র কেউই বাদ পড়লো না।
পুত্র-সন্তানের জন্যে মানুষের
এতো আকুতি এতো আনন্দ
আমার কাছে একটু বাড়াবাড়ি বলেই মনে হলো।
হয়তো আমি গাছ বলে;
গাছের রাজ্যে আবার মেয়েদেরই কদর কিনা!
ফলবতী আর পুষ্পিতা তো হয় মেয়ে গাছেরাই।
হ্যাঁ, বলেছি না? আমি চার চারটি বোন পেয়েছি?
একটা ভাই পেয়ে ওরাও মহাখুশি!
আনন্দে লাফাতে শুরু করলো ওরা
পাখির মতো কিচির-মিচির, ঠোকরা-ঠুকরি
এলোমেলো ডানা ঝাপটানি, হুড়োহুড়ি;
মায়ের কোল থেকে ছোঁ মেরে লুফে নিতে
টানাটানি শুরু করে দিতো
কার আগে কে নেবে তা নিয়ে কাড়াকাড়ি।
মা, না পারতে ওদের কারো কাছে আমাকে দিয়ে
শংকিত হয়ে থাকতেন-
এ্যাই! ব্যাথা পাবে! পড়ে যাবে দেখিস!
উৎকণ্ঠা আর ওদের সতর্ক করতে করতে
মায়ের গলার পানি শুকিয়ে যেতো,
শেষের নিজের কোলে ফেরত পেলে তবেই শান্তি।
চুমোয় চুমোয় ভরিয়ে তুলতেন আমার তুলতুলে মুখ
আমার বেশ লাগতো
উমমম্...
মানবজনম সার্থক ভাবতাম।
আর একটা কথা।
বলতে তো ভুলেই গিয়েছিলাম।
গরুবাছুরদের মায়ের ওলান থেকে
আয়েশ করে দুধ খেতে দেখে
আমারও ভারি লোভ হতো
মনে মনে কতোবার বাছুর হতে চেয়েছি!
মানব-শিশু দুধ খায় কিনা
আমার তখনো জানা ছিলো না।
পরে মানুষ-জন্মের পর যখন আমি
ওঁয়া ওঁয়া করে কাঁদতে শুরু করি
আমাকে কোলে নিয়ে মা তার ডান স্তনের বোঁটাটি
আলতো করে আমার মুখে পুরে দিলেন।
আমি অভূতপূর্ব আস্বাদনের আনন্দে
বিস্মিত ও শিহরিত হলাম।
মাতৃস্তন এতো কোমল আর উষ্ণ! দুধও!
ওটাকে তো শালদুধ বলে, তাই না?
কী শালগাছের কথা মনে পড়ছে?
আমিও বেশ মজাই পেয়েছিলাম।
গাছেদের তো আবার দুধ খাওয়ার
ব্যাপার-স্যাপার নেই। সেকারণেও।
পরে জেনেছি শালদুধ পুষ্টিতে ভরপুর স্তনামৃত।
আমি, কী বলবো? পুরোটাই খেয়েছিলাম।
মা দুষ্টুমি করে বললেন, ওমা!
এ যে দেখি রাক্ষুসে হবে মা!
সাথে সাথে আমার নানী মুখে তর্জনী তুলে
বললেন, ছি! হতচ্ছাড়ি!
কী যা-তা বকছিস?
এমন অলক্ষুণে কথা মুখে আনে কেউ?
মা লজ্জায় চুপ হয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে
আমাকে আদর করতে লাগলেন।
আমার খুব হাসি পেয়েছিল
কিন্তু, আমি তো তখনো হাসতেই শিখিনি!
তো, আমাকে দুধ ছাড়াতে মাকে
বেশ বেগ পেতে হয়েছিলো।
বোধ হয় পুরো সাড়ে তিন বছরই খেয়েছি।
আমার জিহ্বায় মায়ের দুধের সেই নোনা স্বাদ
লেগে আছে এখনো। মাংসল গন্ধটাও।
কিন্তু, আমার বারবার মনে পড়ে যায়
আমি তো আসলে শালগাছ। মানুষ নই।
মানুষের খোলের ভেতর ছাল-বাকলে মোড়ানো
কাষ্ঠল সত্তার অতৃপ্ত আত্মা!
কাউকে বলাও মুশকিল।
হায়! আমার মা যদি জেনে ফেলে?
আহারে বেচারি! আমাকে যা আদর করে!
আমাকে স্কুলে ভর্তি করে দেয়া হলো।
একদিন দেখলাম পড়া না পারলে শিক্ষক
ছেলেমেয়েদের কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখেন;
দেখে অদ্ভুত লাগলো আমার,
আমারো ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকার লোভ হলো
ওই যে! পুরানো অভ্যেস!
সুযোগে মাথা ছাড়া দিয়ে উঠেছে,
বাড়ি ফিরে পেট ব্যথার নাম করে
পড়া না শিখেই ঘুমিয়ে পড়লাম।
পরদিন খুশি মনে নাচতে নাচতে স্কুলে গেলাম।
কিন্তু, আমার উৎফুল্ল চেহারা দেখে স্যার
আর পড়াই জিজ্ঞেস করলেন না।
ধেত্তেরি! ভাগ্যটাই মন্দ!
বের করলাম নতুন বুদ্ধি।
স্যার নাম ডাকলেন
আমি শুনেও না শোনার ভান করে
একটা উদাসীন ভাব নিয়ে বসে থাকলাম।
আর যায় কোথায়?
আকবর মাস্টার আমাকে ডেকে নিয়ে
টেবিলের ওপাশ থেকে কান ধরে টান দিতেই
আমার পা মাটি থেকে আলগা হয়ে গেলো
পট পট করে ওঠল কানের গোড়া!
ভাগ্যিস পা! শিকড় হলে কানটাই ছিঁড়ে যেতো।
লাল ক্ষীর, রক্ত!
নখ বসে গেলো কানে। আমার ছুটি...
সে বছর ছাত্র পেটানোর কারণে কোথায় জানি
বাপ-ভাই মিলে একটা মাস্টারকে
পিটিয়ে মেরে ফেলেছিলো--
শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডাকলেন
তিন মাস স্কুলে তালা...
লাগাতার বন্ধে বন-বাদাড়ে ঘুরলাম প্রচুর
কিন্তু, মনটা খারাপ হয়ে গেলো
বৃক্ষের ওপর মানুষের অবিচার দেখে।
আমার এতো বৃক্ষকাতরতা কেনো?
রবি ঠাকুরের গল্পের বলাইয়ের কথা মনে পড়ছে
আমার ভাবতে ইচ্ছে করে
আমি ও বলাই সহোদর একই বৃক্ষমাতার
বীজাণু থেকে অঙ্কুরিত হয়েছি।
আমার মাও অবশ্য খুব গাছ ভালোবাসতেন
গাছ পেটে ধরেছিলেন বলেই কিনা জানি না
তবে গাছের প্রতি ছিলো তার মমতা
জগদীশ বসু না পড়েই জানতেন
গাছেরও প্রাণ আছে, ওরাও ঘুমায়
রাতে গাছের কাছে বিনীত অনুমতি
প্রার্থনা ছাড়া একটি পাতাও ছিঁড়তে দিতেন না।
চারদিকে অকারণ বৃক্ষ হত্যা
আমাকে ব্যথিত করতো।
মায়ের আদর, বোনদের সাথে সারাদিন
খিটিমিটি হাতাহাতি আমাকে
আবার গাছজীবনের কথা ভুলিয়ে রাখলো
একদিন শুনি কি, গ্রামের বুড়ো বটগাছটি
কারা যেনো কেটে ফেলেছে
বারাউলিয়ার দরগার পাশের তেঁতুল গাছটি আর নেই
তুলাতুইল্লা মোরার বিশাল গর্জন গাছটি
বন বিভাগের লোকজনের সাথে
যোগসাজশ করেই...
আমার চোখে জল এসে যায়
কিন্তু, আমার বৃক্ষ জন্মের কথা ফাঁস
হয়ে যাওয়ায় ভয়ে প্রতিবাদ করি না।
আমি আবার গাছ হয়ে যেতে চাই
শালবনে ফেলে আসা আমার শরীর;
সেই শালগাছটার জন্য মনে বেদনা উথলে ওঠে
কিন্তু, মায়ের আদর-স্নেহ
আমাকে আবার সবকিছু ভুলিয়ে দেয়
আমি স্কুল পেরিয়ে কলেজ, ভার্সিটি...
মায়ের খুব অসুখ হলো ঘুণপোকা
তার বাকলটা ছাড়া পুরোটাই খেয়ে ফেলেছিল।
আমি শহরে। ১৭ এপ্রিল ১৯৯১।
খবর পেয়ে ছুটে পৌঁছার আগেই
রোজাদার মুসল্লি-মুরব্বিদের পীড়াপীড়িতে
দারোগা মসজিদের কবরস্থানে দাফন শেষ--
শোকার্ত সঙ্গীহারা বাবা গলিত পাথর।
কাঁদলাম জবাই করা পশুর মতো
গর গর আওয়াজ করে। নিষ্ফল।
ক’দিন পর এলো সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল।
লাখ লাখ মানুষের সাথে অসংখ্য
বৃক্ষের মৃত্যু আমাকে আবার অনিবার্যভাবে
বৃক্ষ-জন্মের, জীবনের কথা মনে করিয়ে দিলো
কাউকে না জানিয়ে চলে গেলাম শালবনে
দেখি কী! আমার শরীর, সেই শাল--যার মধ্য থেকে
আমি বেরিয়ে এসেছিলাম--মর্মান্তিকভাবে
শিকড়-চাকড়সুদ্ধ উপড়ে পড়ে আছে।
আর করাত, কুঠার নিয়ে কিছু মানুষ...
নাহ্, আর বলতে পারছি না।
হায়! শ্যামাঙ্গী জননী আমার!
আজ তুই ও নেই আমারও আর
বৃক্ষ জীবনে ফিরে যাবার উপায় রইল না...
অগত্যা, ফিরে আসতে হয়, অবশ্য
আমার ও বৃক্ষজীবনের কথা কেউ জানে না।
এমনকি আমার বাবা, বোনেরাও না।
আচ্ছা, বাবা যদি জানেন?
তিনি মাঝে মধ্যে আমাকে গাছ-বাঁশের
পয়দায়েস বলে গাল-মন্দ করতেন।
তিনি কি খুশি হয়ে উঠবেন
তার কথা সত্য হলো বলে?
আমরা বোনেরা? ওরা যদি জানে
তাদের আদরের ছোট ভাইটি
আসলে একটি শালগাছ, তাহলে?
তারা কি আমাকে কেটে-চিরে তক্তা বানাতে চাইবে?
নাকি আমার শরীর থেকে কলম
বানিয়ে পুঁতে দিয়ে পরীক্ষা করে
দেখতে চাইবে এরকম আরো গাছমানুষ
জন্মানো যায় কিনা উঠোনের ধারে
কিম্বা বারান্দার টবে?
আমার ভাগ্নে-ভাগ্নিরা?
ওরা কি আমাকে আর মামা ডাকবে না?
বন্ধুরা কি এমন বিরল ঘটনায় খুশি হবে?
নাকি কৌতুক বোধ করবে?
একটা চমৎকার ঠাট্টার বিষয় পাওয়া গেলো বলে
ইউরেকা! ইউরেকা!! বলে
সোল্লাসে চীৎকার করে উঠবে সমস্বরে?
আচ্ছা আমি এসব ভাবছি কেনো?
আমিতো গাছ। শালগাছ। কী জানি
এতোদিন মানুষের সাথে থাকতে থাকতে
সঙ্গদোষে হয়তো আমি মানুষই হয়ে গেছি।
আমি হয়তোবা গাছমানুষ না মানুষগাছ হয়ে গেছি্
নাকি নরকল্পতরু? না তরুকল্পনর?
হয়তো বা দুটোই। নাকি কোনোটাই না!?
মাঝে মাঝে ভাবি আগে আমার শরীরে
ছিলো ক্লোরোফিন, সেটা এখন
হিমোগ্লোবিন হয়ে গেছে। তেমন তফাত কী?
আবার ভাবি মিছেমিছি মানুষ
হতে চেয়েছিলাম কেনো?
আমার বৃক্ষশরীরে তবে কি
একটা মানুষ্যমন ছিলো?
যাক, বলছিলাম কী, শুলে বা বসলে
আমার ফেলে আসা শরীরটার কথা
মনে পড়ে যায়। বুকটা চিনচিন করে ওঠে
আমি দাঁড়িয়ে যাই
সটান ঋজুতায় ফোটাতে চাই বৃক্ষজন্মের স্মৃতি।
অনুশোচনা হয় আমি একটা সপ্রাণ
জীবন ছেড়ে এসেছি বলে। আমার ডালে-ডালে
ছিলো পাখ-পাখালির কলরব, কোলাহল।
কতো কীট-পতঙ্গ। কাঠ বিড়ালীর চাঞ্চল্য।
পাখির বাসা। সাপের নিঃশব্দ চলা।
সব ছেড়ে শুধু চরাচরে চরে বেড়ানোর
লোভে আমি মানুষ হয়ে গেলাম।
আবার ভাবি, মানুষের শরীরেও তো আছে
অসংখ্য জীবাণুর আশ্রয়!
আসলে জীবন মানে তো বিচিত্র প্রাণের বর্ণিল উৎসব
ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় প্রাণে প্রাণে বাঁধা
অদৃশ্য সেতু--পারাপারের পার্বণ।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


