আমার প্রিয় পোস্ট

যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে, ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

স্লো ইনিংসে অবশেষে ডাবল সেঞ্চুরী (দুইশ নাম্বার পোস্টে স্মৃতিচারণ)

২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৭

                       

জীবনে টুকটাক ক্রিকেট খেলেছি অনেকই, টেনিস বল, টেপটেনিস, কাঠের বল এমনকি শক্ত রাবারের বেইসবল দিয়েও খেলেছি। কিন্তু কেউ কোনদিন এই বদনাম করতে পারবেনা যে আমি ঠুকিয়ে ঠুকিয়ে ব্যাটিং করি। ক্রিজে নেমে এলোপাতাড়ি পেটানোর চেষ্টা করি, দুচারটা চার-ছয় মেরেই আউট হয়ে ফিরে আসি। কিন্তু সেই আমারই ব্লগীয় ইনিংসটা এতই ধীর গতিতে চলছিলো এবং চলছে যে, আমি নিজেও কোনদিন আশা করিনি যে দু'শ পেরুতে পারবো। এই স্লো ইনিংস গাভাস্কারকে ছাড়িয়ে রিজওয়ানুজ্জামান (পাকিস্তানের এই ওপেনার একবার নাকি ১২০ বলে ৫ রান করেছিলো!) পর্যন্ত চলে গেছে মনে হয়।

এই পোস্টটা মূলতঃ স্মৃতিচারণের, নিজের কথা বলার। বিশাল পোস্টও হয়ে যেতে পারে, আবার খুব কমেও শেষ হয়ে যেতে পারে। নিজেও এখনও বুঝছিনা কীবোর্ড কোনদিকে টেনে নিয়ে যাবে। যেদিকেই নিয়ে যাক, আপাততঃ যেতে থাকি।

সামহোয়ারে প্রথম ঢুকেছি ধীমান ব্লগার সাদিকের ব্লগে, ছেলেটা এখন ইউসিএলএ'তে পড়াশোনায় আর সুফি সাধনায় এমনই ব্যস্ত যে ব্লগে মনে হয় মাসে দু'মাসেও একবার আসেনা। অথচ আগে ইকেয়া থেকে আয়না কিনে আনলেও ব্লগে সেটার জানান দিয়ে যেতো । যাইহোক, সাদিকের ব্লগের খুব গভীর সুফিজম নিয়ে কোন একটা লেখা ফরোয়ার্ডেড পাই এক বন্ধুর কাছ থেকে, খুলে পড়তে গিয়ে দেখি মাথা ঝিমঝিম করছে। বুঝছি, আবার বুঝছিনা; ঠিক কিভাবে বুঝে নিলে নিশ্চিত হবো যে বুঝছি সেটা বুঝছিনা। বুঝলাম, এ নিশ্চয়ই খুব উঁচুমার্গের আড্ডাখানা (সাদিকের লেখা আসলেই খুব গভীর, রীতিমতো গবেষণা করানো যায় ওগুলো দিয়ে), খানিকটা ভয় পেলাম। কিছুদিন আর ওপথ মাড়ালামনা।

এর মাঝে যায়যায়দিনের পাঠকদের লেখা নিয়ে সাজানো বিশেষ সংখ্যায় একটা লেখা ছাপা হলো আমার, এবেনের গল্প, 'স্ট্যান্ডার্ড' নামে। নিজের লেখা এর আগে মাত্র একটা প্রকাশিত হয়েছিলো যায়যায়দিনেরই সমকালে, তারপর অনেকদিন এসবের ধারেকাছেও যাইনি। কিন্তু এবার বাড়তি যেটা যোগ হলো, সেটা হলো যে পাঠকদের অনেকের কাছ থেকে লেখা বিষয়ে ই-মেইল পেলাম, আর সেজন্য আমি তখন খানিকটা হাই, নিজেকে কিছু একটা ভাবা শুরু করছি। এই ইমেইল পাওয়ার অবশ্য অন্য কারণ ছিলো, ইমেইলকারীদের অধিকাংশই এবেনকে কোনভাবে চেনেন। তবে কারণ যাই হোক, আমি মহাউল্লাসে ভার্চুয়াল-বাস্তবের বন্ধুবান্ধবদের জানাতে শুরু করলাম ব্যাপারটা। তখনই একজন আমাকে দিলো সামহোয়ারের আরেকজন ব্লগারের লিংক, বললো, আপনিও এখানে লিখতে পারেন। আমি সেই পেজে গিয়ে দেখি বড় বড় অক্ষরে লেখা "তোড়ায় বান্ধা ঘোড়ার ডিম!" --আবারও সেই উচ্চমার্গের কথা। এটা ছিলো আরেক প্রতিভাবান ব্লগার হিমু'র ব্লগ, এখন সচলায়তনে লিখেন। তাও, এবার সাহস করে দুএকটা লেখা পড়া শুরু করলাম। দেখলাম ঈশ্বর উইকএন্ডের আগে আগে হিমুকে বানিয়ে ভুলে ওভেনে রেখে দিয়েছে পুরো দুইদিন -- সে নিয়ে বেচারার মহাআক্ষেপ। মার্গটা একটু কমলো মনে হলো, মজা পেলাম; তারপর সেখানকার নানান লিংকে গুঁতোগুঁতি করতে করতে চলে এলাম প্রথম পেজে।

প্রথম পেজে এসে তো আমার চক্ষু চড়কগাছ। দেখি দুদল ব্লগারের মধ্যে ধুন্ধুমার বিতর্ক চলছে, "কেন প্রাপ্তি নামের ছোট্ট একটি মেয়ের ছবি নিয়ে নাস্তিক-আস্তিক রাজনীতি হবে" -- সেটাই বিতর্কের বিষয়। বিতর্ক দেখে সত্যি বলতে কি, আরো মজা পেয়ে গেলাম। মার্গ তো এখন আমার কানের আশেপাশে!! সবসময়ই জ্ঞানী-গুণীজনের কাছে শুনেছি বাঙালীরা এক হলেই নাকি এর বিরুদ্ধে সে, সে'র বিরুদ্ধে এ -- এসব নিয়ে ঝগড়ায় মেতেই থাকে। কার ছেলের হাইট বাবার পাঁচফুট হাইটকেও ছাড়াতে পারবেনা, কার মেয়েকে দেখে এখনই বোঝা যায় মা'র চেয়েও ধুমসী হবে -- এসব নিয়েও নাকি তর্কাতর্কি চলে। আমি অবশ্য এরকম তর্ক কখনও হতে দেখিনি, বেশীরভাগ তর্কই দেখেছি ঐ দুটো বিষয় নিয়ে -- "ইশ্বর আছে কি নেই", অথবা "হাসিনা ভালো না খালেদা ভালো"। এমনকি আবাহনী-মোহামেডান নিয়েও কোন তর্ক হতে দেখিনা। এপ্রসঙ্গে দেখি সবাই একে অন্যের সাথে খুনসুটি করে। যাই হোক জ্ঞানী-গুণিজন যাই বলুক, আমি বাঙালীর এই তর্কাতর্কি ভীষন উপভোগ করি, শুধু উপভোগই করিনা, কিভাবে যেন নিজের অজান্তেই জড়িয়েও যাই। সামহোয়ারেও তাই হলো, আপাততঃ পড়ার কাজে জড়িয়ে গেলাম। এর যুক্তি পড়লে মনে হয়, "হুমম, কথা সত্য।" আবার ওরটা পড়ে মনে হয়, "হুমম, এটাওতো ফেলে দেয়া যায়না।" মনের মাঝে এক অলৌকিক দোলনায় দুলি। দুলতে দুলতে কখন যেন সাইনআপ করে ফেলি টের পাইনা। তখন আমার এক হটমেইল আইডি ছিলো জ্বিনের বাদশা নামে, সেটাকেই এখানেও সেঁটে দিলাম। তৈরী হয়ে গেলো জ্বিনের বাদশা! সেটা সম্ভবতঃ মে মাসের ৩১ তারিখ, ২০০৬। এখনও মনে আছে, আমার ব্লগে প্রথম মন্তব্য করেছেন "আমার লেখা" নামের একজন ব্লগার। তিনি যে কোথায় হারালেন, জানিনা। প্রথম পোস্টে পড়ল ৮ টি মন্তব্য। আমি কি খুশী! তারওপর সেদিনই ব্লগার হযবরল (তুখোড় পদার্থবিদ) একটা পোস্টও দিয়ে দিলো, "একজন আইছে জ্বিনের বাদশা নামে" বা এরকম কিছু শিরোনামে। আমি তো মহাখুশী, যাক অভিষেক খারাপ হয়নি।

সেই শুরু। প্রথম প্রথম খেয়াল করলাম ব্লগে কয়েকটা সার্কল তৈরী হয়ে আছে। নতুন যারা ঢুকছে, তারা নানাভাবে চেষ্টা করছে একেকটা সার্কলে ঢুকতে। আমিও চেষ্টা করলাম। এরমাঝে একজন (সম্ভবতঃ হযবরল) টিপস দিলো যে মন্তব্য পেতে হলে বেশী বেশী অন্যদের ব্লগে মন্তব্য করুন, নিজেকে চেনান। আমি মহাউৎসাহে লোকজনের ব্লগে মন্তব্য করতে শুরু করলাম। বিনিময়ে মন্তব্যও পেতে লাগলাম, দুয়েকটা করে। এখনও স্পষ্ট মনে আছে, মন্তব্য পাওয়ার জন্য তীর্থের কাকের মতো বসে থাকতাম, এমনও দিন গেছে, রাত তিনটার (তখন আমি সেইরকম নিশাচর ছিলাম) সময় পোস্ট দিয়ে সকাল পর্যন্ত সিগারেট টানতে টানতে কাটিয়ে দিয়েছি আর মন্তব্য চেক করেছি। কেউ মন্তব্য করলে সাথে সাথে সেটা রিপ্লাই করতাম যে তা কিন্তু না, এখানেও একটা হিসেব ছিলো। যখন মন্তব্যটা সাম্প্রতিক মন্তব্যের ঘরে নিচে নামতে নামতে উধাও হয়ে যেতো, তখনই রিপ্লাই করে সেটাকে আবার প্রথম পাতায় (সাম্প্রতিক মন্তব্যের ঘরে) তুলে আনতাম। আহা সেই দিনগুলো!!

কিন্তু কিছুদিন যেতেই যে ব্যাপারটা লক্ষ্য করলাম, তা হলো কারো সাথে আমার সেরকম জমছেনা। এরমাঝে আরেকটা ব্যাপার টের পেলাম, প্রত্যেক সার্কেলেই ব্লগারদের মাঝে আবার মেসেঞ্জার বা সেরকম অনলাইনচ্যাটের মাধ্যমে যোগাযোগ থাকে। আমার সাথে তো কারুর নেই! মনে মনে নিজেকে সান্ত্বনা দিলাম, সেজন্যই হয়ত জমছেনা। যাই হোক, হাবিজাবি/খাদ্য-অখাদ্য যাই পারি, ব্লগে ঢোকাতে লাগলাম একের পর এক। এমনই একদিন হঠাৎ হাসান নামের একজন ব্লগার লিখলেন একটা পোস্ট, ব্লগারদের নিকনেমগুলো বাস্তব জীবনে কতটা হাসির হতে পারে। সে পোস্টটা শুরুই করেছিলেন জ্বিনের বাদশা নিকটা দিয়ে, মনে হয় কথাটা ছিলো অনেকটা এরকম "হঠাৎ কোন আড্ডায় যদি বলা হয় 'আজকে জ্বিনের বাদশা কথাটা কিন্তু খারাপ কয়নাই', তাইলে ব্লগের বাইরের লোকের চেহারা কিরকম হবে!" সেই পোস্ট পড়ে আমার চোখ যেন একটু ভিজে গেলো আনন্দে, মনে হলো অস্তিত্বের স্বীকৃতি পেয়েছি। হাসানকে ইদানিং কোথাও দেখিনা, শুনেছি বিয়ে করে সংসারী হয়েছে, সংসার সুখে কাটুক।

তাও ঠিক যেরকম বন্ধুত্ব বা স্বীকৃতি চাইছি সেটা পেয়েছি বলে মনে হচ্ছিলনা। কোথায় যেন একটা দূরত্ব আছে, কোথায় যেন ঠিক মিলে যাচ্ছেনা। ভাবলাম, আমার নিজেরই সমস্যা, ভার্চুয়াল পৃথিবীকে খুব আপন করে নিতে পারছিনা। আবার ভাবলাম, সবাই কিভাবে পারে? ঠিক সেরকম সময়েই একজন হাত বাড়িয়ে দিলেন, এবং সেটা এমন একজনই যার লেখার আমি অলরেডি বিরাট ভক্ত। বিরাট বললে ভুল হবে, বলতে হবে সবচেয়ে বেশী ভক্ত। একটা পোস্টে তাঁকে নামের শেষ "দা" যোগ করে ডাকাতে তিনি হেসে হেসে বললেন, এরপর যদি "দা" টা ফেলে শুধু "শুভ" বলে না ডাকতে পারেন, তাহলে আপনাকে দা দিয়ে একটা কোপ দেয়া হবে ;)। আমার আসলেই চোখে পানি চলে এলো এদিন, ল্যাবে বসে আমি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছি, চোখের পানি পড়ছে। শুভ ভাই, যাকে আমি একদম অতুলনীয় ব্লগার ভাবি, যার লেখা পড়লে আবেগে গা কাঁপতে থাকে, যিনি একদম চোখে আঙুল দিয়ে বারবার জামাতপন্থী ব্লগারদের দেখিয়ে দিচ্ছিলেন কোন জায়গাটায় তাদের "মহান" নেতারা অপরাধী, সেই শুভ ভাই উদারভাবে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। হয়ত এখনও যে সামহোয়ারে লিখছি, সেই শক্তিটা সেদিন এসেছিলো। মনে হয়েছিলো, না, বন্ধুত্ব হবে।

ব্লগারদের বর্তমান প্রজন্ম যারা শুভ ভাই'র পোস্টগুলো পড়তে পারেননি, তারা ভীষন মিস করেছেন বলে আমি মনে করি। অসম্ভব নরম হৃদয়ের এই অভিমানী লোকটি আপোস করতে পারেননি অনেক কিছুর সাথেই, সরিয়ে নিয়েছেন নিজেকে। আমাদেরই এখন তাঁকে খুঁজে নিতে হবে বারবার। শুভ ভাই প্রসঙ্গে বলি, তিনি প্রতিষ্ঠিত লেখক আলী মাহমেদ, অদ্ভুত রকমের আবেগ দিয়ে লিখতে পারেন তিনি। হুমায়ুন আহমেদের পর এত আবেগঘন লেখা আমি আর কারো বইয়ে পাইনি। এই প্রজন্মের যেসব পথভ্রান্ত যুবক/যুবতীরা আসলেই বিশ্বাস করে ৭১ এ এদেশে যুদ্ধাপরাধ হয়নি, জামাতী নেতাগুলো নিষ্পাপ, তাদের অন্ততঃ শুভ ভাই'র "ফ্রিডম" বইটা পড়তে বলবো। বইটি পড়ে যদি তাদের চোখে পানি না আসে তাহলে আমার আর কিছুই বলার নেই। গতবার দেশে যাবার পর শুভ ভাই'র সাথে দেখা হয়েছে, এই লেখাটার মাধ্যমে শুধু এটুকু বলতে পারি, আমি যে কতটা কৃতজ্ঞবোধ করেছি সেটা বলে বোঝাতে পারবনা।

সেই শুরু। ধীরে ধীরে ব্লগারদের সাথে পরিচয় বাড়তে থাকে। আমিও সাহস পেতে থাকি। সবাই যেভাবে, "বাহে, খবর কি?" বলে মন্তব্য করে আনিও শুরু করি। ধীরে ধীরে খাতির হয় হযবরল, সাদিক, ধুসর গোধূলী, ঝড়ো হাওয়া, মাহবুব মুর্শেদ, মোরশেদ ভাই,শোহেইল ভাই, শিমুল ভ্রাতঃ, তীরুদা, কৌশিকদা, কালপুরুষ, টিপু, কনফুসিয়াস, চোর, ত্রিভুজ, আস্তমেয়ে, সাব্বির (কোথায় যে গেলো!), দূরের কন্ঠস্বর -- আরো অনেকের সাথেই। ব্লগে দেখি পরিচিতমন্ডলের এক ছোটভাই, যে কিনা অলরেডী ব্লগস্পটে লিখে আমাদের কাছে বিখ্যাত, সেই সৌরভকে। এখানে লিখত "অনুভূতিহীন মানব" হিসেবে। তখনও মাহবুব সুমন ব্লগিং শুরু করেননি। পরে সুমনের সাথে হেভী খাতির হয়, অসম্ভব চমৎকার একজন মানুষ। সুমনের চিন্তার ডাইমেনশনের প্রসার দেখে আমি রীতিমতো মুগ্ধ! যেকোন বিষয়েই সম্ভবতঃ একদম বেসিক জায়গাটাতে খুব সহজেই ফোকাস ফেলতে পারে সুমন। তবে ব্যাটার আহ্লাদ বেশী, ইদানিং আমাকে চাচা ডাকতে চায় । দেশে গিয়ে শুভ ভাইর সাথে দেখা হওয়ার পাশাপাশি দেখা হয় ঝড়ো হাওয়ার সাথে, এক কথায় বলা যায় ভালো মানুষ। চমৎকার হাসির সুদর্শন এই যুবক (মহিলা ব্লগারদের জন্য বিনা পয়সার টিপস ;)) সংক্ষিপ্ত আকারের লেখা লেখার জন্য বেশ বিখ্যাত। যাকে বলে একেবারে রিয়াল ব্লগিং। ৭১ এর গল্প লেখার আহবানে ঝড়ো হাওয়ার বিশেষ সহযোগিতার সূত্রে বেশ খাতির হয়ে যায়, উনাকে ইদানিং দেখিনা ব্লগে। ব্যস্ত খুব?

ব্লগে অনেককিছু ঘটেছে, সব স্মৃতিতে থাকেনা, সব স্মৃতিচারণ না করলেও হয়। তবে এখনও মনে পড়ে স্বাধীনতার পক্ষে শুভ ভাই আর পিয়াল ভাই যেভাবে একের পর এক প্রমাণসহ পোস্ট করে যাচ্ছিলেন আর সেগুলো দেখে কিভাবে প্রকম্পিত হচ্ছিলাম। একথা আমি নিশ্চিত করেই বলতে পারি যে ব্লগে আসার ফলে স্বাধীনতার ইতিহাস বিষয়ে সচেতনতা অনেক বেশী বেড়েছে, অনেক কিছু নতুনভাবে জেনেছি, দালালগুলোকে নতুনভাবে চিনেছি। এখন ভাবি, আরো আগেই জানা উচিত ছিলো, আরো বেশী পড়া উচিত ছিলো। আমরা ৮০ এর দশকে এরশাদের আফিম খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা প্রজন্মের, অনেক কিছুই জানতে পারিনি, অনেক কিছুই জানতে দেয়া হয়নি। সেগুলো যে সাইবারমাধ্যমের কল্যাণে এভাবে বেরিয়ে আসতে পারছে, এটা একটা বিরাট পাওয়া।
আরেকটা ব্যাপার ছিলো, প্রাপ্তির চিকিৎসায় ব্লগারদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার প্রেক্ষিতে তৈরী প্রস্তাবনা, "প্রাপ্তি ফাউন্ডেশন"। ভবিষ্যতে ব্যয়বহুল দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিশুদের কাছে যাতে সবার সহযোগিতা খুব দ্রুত পৌঁছে যেতে পারে, সেজন্য একটি ফান্ড গঠনের প্রক্রিয়া। কৌশিকদা একটা বিশাল সংবিধান লিখে ফেললেন, কয়েকজন মিলে লোগো বানিয়ে ফেললেন, আরো অনেক কিছু করা হলো। কিন্তু কিভাবে যেন উদ্যোগটা স্তিমিত হয়ে গেলো। প্রাপ্তি প্রসঙ্গে বলি, আশা করি, ছোট্ট প্রাপ্তিসোনা খুব শিগগিরই পুরোপুরি সুস্থ্য হয়ে উঠবে। এই প্রাপ্তির কল্যাণে সামহোয়ারে প্রচুর ঝগড়া/কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বন্ধ হতো একসময়, সামহোয়ার আজকের টিকে থাকার জন্য প্রাপ্তির কাছে কোন না কোনভাবে ঋনী হয়ে থাকবেই।

তবে ব্লগে সবচেয়ে সাড়া ফেলেছিলো সম্ভবতঃ কৌশিকদার "আগুনের পরশমণি" সিরিজটা। একেকজন ব্লগারের সাক্ষাৎকার নেয়া হতো, সবাই নানারকম প্রশ্ন করত, জমতো জিনিসটা। অনেকদিন পর ইদানিং কৌশিকদা সেটা আবারও শুরু করেছেন, আশা করি আবারও জমে উঠবে।

গত বছরের মাঝামাঝি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে হেলাফেলা করে লেখা একজন ব্লগারের একটি পোস্ট ডিলিটকে কেন্দ্র করে ব্লগে চুড়ান্ত রকমের ধুন্ধুমার লেগে গেল। আমার দূর্ভাগ্য, এরকম সব ধুন্ধুমার কান্ডগুলোতেই আমি হয় বিয়ের শপিংয়ে ব্যস্ত, না হয় সাইপানে অবকাশ কাটাচ্ছি (জানুয়ারীর ধর্মঘটের সময়েও অনেক পরে জানলাম)। তো, সেই ঘটনার ফলাফল এমনই হলো যে প্রায় জনাবিশেক বা তারও বেশী রেগুলার ব্লগার সামহোয়ার ছেড়ে চলে গেলন চিরতরে। এরা সবাই খুব ভালো লিখতেন, অনেকের লেখার সাহিত্যমানও খুবই উঁচু। সবচেয়ে বড় কথা এরা সবাই ব্লগটাকে মাতিয়ে রাখতেন প্রচুর মন্তব্যে, আর পারস্পরিক ইন্টারএ্যাকশনে। এই ঘটনা নিশ্চয়ই সামহোয়ারের ইতিহাসে বিরাট একটা শক! ব্লগে এসে পুরো ঘটনা টের পেলাম সম্ভবতঃ পরদিন। আমি নিজে কখনই এভাবে ভাবিনা যে ব্লগ ছাড়তে হবে, কর্তৃপক্ষের কাছে এটা সেটা দাবী করার ভিত্তিতে। বিশেষ করে সামহোয়ার কর্তৃপক্ষের আচরণ পড়ে আমি যেটা বুঝেছি যে, তারা ব্লগারদের সাথে সেরকম কমিউনিকেশন রাখতেই আগ্রহী নন। সম্ভবতঃ প্রয়োজনীয় হ্যান্ডসের অভাব।

একসেন্সে বলা যায়, ব্লগাররা কি চায় না চায়, সেটা নিয়ে তারা তেমন মাথা ঘামাননা। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও তাই, অতএব তাদের সাপেক্ষে আমি একই স্ট্যান্স নিই। তারা কি করছে সেটা দেখার আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো, সম্ভবতঃ যেদিন ব্যানকরা/আনব্যানকরার বাটন চালু হয়েছিলো সেদিন থেকেই। আমি সবসময়েই একশোভাগ বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী, এমনকি মিথ্যা কথা বলার স্বাধীনতার ব্যাপারে। সেই বাটন তৈরীর দিনই মনে হয়েছে সামহোয়ারে ঝামেলা বাড়বেই। সেই বাড়া-কমার মাঝেই পেরিয়েছে সামহোয়ার ২০০৭ সাল। হয়ত এখন ধীরে ধীরে কনভার্জেন্সের দিকে যাচ্ছে। আমি তাই ব্লগ ছাড়িনি। আসলে যেকোন ব্লগেই আসি কেন? কর্তৃপক্ষের টানে? নেভার!! সহব্লগারদের টানে। সহব্লগারদের কমেন্ট পড়ে, লেখা পড়ে মজা পাওয়ার টানে। এই যে সেদিন আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ হলে, জমজমাট খুনসুঁটি হলো ব্লগারদের মাঝে, আবার মাঝে মাঝে জটিল বিষয়গুলো গভীর আলোচনা হয় -- এগুলোর টানে। কাজেই ব্লগটা আমার কাছে স্টেডিয়ামের গেটের বেশী কিছু না, বাকী খেলোয়াড়, রেফারী, দর্শক সবই ব্লগাররা। সামহোয়ারে কত কত মেধাবী লেখকদের সাথে পরিচয়! এই যে গত বছর খাতির হলো --রাশেদ, প্রত্যুদা, এস্কিমো ভাই, রাগ ইমন, মিরাজ ভাই (এই লোক গেলো কই?), নির্বাসিত, জেবতিক দা, শিপন, ফারহান, মেহরাব, রন্টি, মুকুল, ইমন, বিষাক্ত মানুষ (আসলে ভালো), দুরন্ত, বাফড়া, গন্ডার, অচু, জোনাকি, মানবী, সাইফুর, ভাস্কর চৌধুরী, ঝড়ো, মাসু, হ্যারি, রাগিব -- আরো কত কত নাম!! সবার নাম লিখতে গেলে তো শেষই করা যাবেনা! আমার কাছে সামহোয়ার মানে এই মানুষগুলো, সময় পেলেই এখানে আমার আসা হবে,আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কে ঠেকাবে, এক বউ ছাড়া :)

সম্ভবতঃ কোনদিন বলতে পারবোনা আর লিখবোনা এখানে। সেটা হয়না। আমি পুঁজিবাদী মানুষ, ভার্চুয়াল জগৎকে যতটা বাস্তবসম্মতভাবে ব্যবহার করা যায় ততটাই আমি করব। এটুকুই হয়তো এখন বলতে পারি।

 

 

  • ১১৮ টি মন্তব্য
  • ৫৯৫বার পঠিত
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ২৩ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৯
comment by: বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: ধুন্ধুমার অভিনন্দন আপনাকে ।
২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ;)

২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:১০

লেখক বলেছেন: আপনাকে একটা ধুন্ধুমার ধন্যবাদ

২. ২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:০৩
comment by: প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন: মোহামেডান এর পক্ষ থিক্কা পিলাচ :)

অভিনন্দন... ৩০০... ৪০০.... ০০০০ হাজারকে ছাড়িয়ে যাক...
২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৪১

লেখক বলেছেন: আরে বস্ ... আপনি যেই টার্গেট দিলেন ;) ... আমার তো আর ক্রিজ ছাড়া হবেনা দেখছি

আবারও কই, মোহামেডান জিন্দাবাদ

৩. ২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:০৯
comment by: আবুল বাহার বলেছেন: অভিনন্দন দ্বিশততম পোস্টের জন্য ।

ভাইজান আর মোহামেদান কৈরেন না !!!!
২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৪১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইজান ... ছুটু বয়সের অভ্যাস, মোহামেডান কেমনে ছাড়ি :(

৪. ২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:১৩
comment by: শাওন বলেছেন: শুভেচ্ছা , শুভেচ্ছা ।
;) চালিয়ে যান ।
২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৪২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শাওন ... হুমমম, হাত খুলে লিখে যাবো :)
শাওন ছেলেটাও বড় হয়ে গেল! ;)

৫. ২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:২৭
comment by: বুমবুম বলেছেন: নিজের লগে অনেক জায়গায় মিল পাইতেছি।অভিনন্দন:)
২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৩

লেখক বলেছেন: ভালোই তো হলো, নাকি :)

৬. ২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৩০
comment by: `হাসান বলেছেন:
দবল সেনচুরির জন্য অবিনন্দন
২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ গন্ডুদা ... আপনি যে কখন গন্ডার আর কখন 'হাসান হয়ে যান! :) ... হাইজেনবার্গের সূত্রের কথা মনে পড়ে

৭. ২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৩১
comment by: সাইফুর বলেছেন: ডাবল সেন্চুরির অভিনন্দন

পোষ্টটা দারুন ভালো লেগেছে...

শোকেস সরাসরি
২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৪

লেখক বলেছেন: থ্যাংকিউ থ্যাংকিউ ;)

৮. ২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৩২
comment by: নেমেসিস বলেছেন: অভিনন্দন

চেরাগের জ্বীন দ্বারা পুস্ট আরও বাড়ানো হউক ;)
২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৫

লেখক বলেছেন: চেরাগ থেকে যখন বাইর হইয়াই গেলাম ... বাড়াইতেই হইবে ... ধন্যবাদ ক্যাডার ভাই

৯. ২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৩
comment by: সাইফুর বলেছেন: অনেক কিছু জানলাম.....দারুন...
১০. ২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৭
comment by: কালপুরুষ বলেছেন: ব্লগিং-এ দ্বিশতক অজর্নের সকল কৃতিত্বকে সম্মান জানাই। একজন নীরব ও একনিষ্ঠ ব্লগার হিসেবে আপনার এই অমূল্য অর্জনের জন্য শ্রদ্ধা, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। শুভ ব্লগিং।
২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৯

লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ কালপুরুষদা ...

১১. ২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৫
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: মাইনাস দিতে চাইলেও দিলাম না চাচ্চু ;)

ব্লগটাকে আমার আশে পাশের চিরচেনা পৃথিবীই মনে হয়। উপভোগ করি।

ডাবল সেন্চুরীর জন্য হলুদ গুলাপের শুচেচ্ছা। আশা করি ওজন আরো বাড়বো।

২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৫১

লেখক বলেছেন: "আশা করি ওজন আরো বাড়বো।" --- ভাতিজারে, এই অভিশাপটা না দিলে কি চলতনা :(

ধন্যবাদ দিতে চাইনাই, তাও দিয়া দিলাম

১২. ২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৬
comment by: ৈবেদশী বলেছেন: ভাই বসে ডাইকতাছে। পরে পড়ুমনে। রাগ কইরেননা।
২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৩

লেখক বলেছেন: নো পরিবলেম ভাইজান ... আগে ভাই, পরে ব্লগ

১৩. ২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৯
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: এনিওয়ে, আমি সংস্কারবাদী হয়ে যাচ্ছি আজ কাল। দল বদল করুম সামনে। সংস্কারবাদী ক্রিয়া চক্র জিন্দাবাদ
২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৫২

লেখক বলেছেন: কন কি! নতুন দল মনে হইছেতে!!
বিকল্পখেলা না নাগরিক ক্রীড়াশক্তি?

১৪. ২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৬
comment by: বুমবুম বলেছেন: আমগো তামার ক্রিকেটাররা যদি এর ৪ ভাগের ১ ভাগ ও করতে পারত:)
২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:১১

লেখক বলেছেন: আহারে ... ;)

১৫. ২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:০১
comment by: মেন্টাল বলেছেন: শুভেচ্ছা।
২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:১২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মেন্টাল ... আপনাকে অনেকদিন পর দেখলাম

১৬. ২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:০৬
comment by: কৌশিক বলেছেন: একসময় সেঞ্চুরী পোস্ট ছিল অবধারিত। ব্লগাররা সেটা লিখতেনও দরদ দিয়ে। মনে হয় এক বছর হবে শেষ পড়েছি সেঞ্চুরি পোস্ট। তবে যতদূর মনে পড়ে এই সেঞ্চুরী পোস্টটির সাথে তুলনা করার মত অন্য কোন সেঞ্চুরী পোস্টের কথা মনে পড়ছে না। ইউ রক।
২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:১৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, কৌশিকদা ... আপনার প্রসংশাগুলাও সেইরকম হয় ... মনে হয় বান্ধাইয়া দেয়ালে ঝুলাইয়া রাখি

১৭. ২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:২২
comment by: দূরন্ত বলেছেন: ডাবল সেঞ্চুরির অভিনন্দন। ভালো লাগলো (আমার নামটা দেখে লাফ মারতে ইচ্ছা করতেছিল :) )।
ভাল বলেছেন, আমরা ৮০ এর দশকে এরশাদের আফিম খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা প্রজন্মের, অনেক কিছুই জানতে পারিনি, অনেক কিছুই জানতে দেয়া হয়নি। সেগুলো যে সাইবারমাধ্যমের কল্যাণে এভাবে বেরিয়ে আসতে পারছে, এটা একটা বিরাট পাওয়া।
অনেক ধন্যবাদ।
২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:২৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ দুরন্ত ... আপনি খুব দ্রুতই আমার (এবং আমার মনে হয় সবারই) বেশ প্রিয় একজন ব্লগারে পরিণত হয়েছেন ... আর আপনার সাথে ধাঁধাবাজিতে আমার একটা আলাদা কানেকশনও আছে ;)

১৮. ২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৩
comment by: দূরন্ত বলেছেন: =p~ জেনে খুশি হলাম। কারও প্রিয় হতে পেরেছি কিনা জানিনা। তবে আপনাকে ভালো লাগে। বিশেষ করে ভ্রমণ কাহিনী আর ধাঁধাগুলো । আমি বিদেশে আসার পর আগের তুলনায় সময় বেশী দেই তা ঠিক।
অনেক ধন্যবাদ।
২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৫

লেখক বলেছেন: "তবে আপনাকে ভালো লাগে" --- জেনে খুব খুশী হলাম ...

আসলেই, বিদেশে এলে তো এই ব্লগটাই একটুকরো দেশ

১৯. ২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৩
comment by: প্রচেত্য বলেছেন:
স্মৃতিচারণ যেমন ছিল, তেমনই ছিল আশা, নিরাশার সব অতীত-ভবিষ্যত বার্তা কিন্তু তা কখনই বর্তমানকে উপেক্ষা করে নয়

তই যেভাবে দুশতম পোষ্টে সবাইকে নিয়ে যেতে চেয়েছেন সেই লেখা প্রথম পোষ্টটাতে আবার ফিরিয়ে আনতে চেয়েছেন আজকের তারিখের করা পোষ্টটিতে সেভাবেই বিচরণ করেছি পুরো পোষ্টটি পড়ে

অসম্ভব ভাল লাগল এভাবে আমাদের পাশে ছিলেন, মন্তব্য, লেখা সবকিছুর মধ্য দিয়ে, যেখানে হয়ত ছিল আবেগ, রাগ, অভিমান আবার স্পেশাল ব্লগারদের জন্য স্পেশাল ভালবাসা এবং সকল ব্লগারদের জন্য গণ ভালবাসা ও আন্তরিকতা

শুভকামনা রইল, এগিয়ে যাবার প্রত্যাশায় সকল উপলব্ধি সক্রিয় থাকুক সে প্রার্থনাই করি
২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৬

লেখক বলেছেন: আপনার খুব চমৎকার মন্তব্যটার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ ... এভাবেই এগিয়ে চলুক মতপ্রকাশের এই গাড়ী

২০. ২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৮
comment by: মনিটর বলেছেন: অভিনন্দন জ্বিনের বাদশা।তবে জ্বীনের বাদশা আরেকটা আসছে দেখলাম কয়দিন আগে------------------
২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:৫২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মনিটর ... হুমমম, আমিও দেখলাম ...:)
পরে অবশ্য উনি নাম বদল করেছেন ... বিশেষ কৃতজ্ঞবোধ করলাম ভদ্রলোকের প্রতি

২১. ২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৩
comment by: সুনীল সমুদ্র বলেছেন:


সামহয়্যারে প্রথম যুক্ত হওয়া থকে শুরু করে এ পর্যন্ত অগ্রসরমান দিনযাপনের স্বরলিপি জ্বিনের বাদশা'র ২০০-তম পোষ্টটিতে এমন সহজ সরলভাবে উচ্চারিত হলো, যে তা' রীতিমতো চমকে দিয়েছে আমাকে।

তার অনেক খোলামোলা কথা, অনেক স্বীকারোক্তি আর অনেক অনুভবের মাঝে সামহয়্যারের অনেক ব্লগারই নিজেকে খুঁজে পাবেন।
বিশেষ করে ২০০৬ এ আমরা যারা প্রথম সামহয়্যারের এই মুগ্ধ জানালায় মুখ রেখেছিলাম, তারা এই লেখার মধ্যে অনেক হারিয়ে যাওয়া ব্লগারের নাম দেখতে পেয়ে নিশ্চয়ই নষ্টালজিয়ায় আক্রান্ত হবেন!

ধন্যবাদ জ্বিনের বাদশা । আপনার আগামী দিনগুলোর ব্লগিং আরো সুন্দর ও প্রাণস্পর্শী হোক- এই শুভকামনা রইলো।


২৩ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৯

লেখক বলেছেন: সুনীল কবি, আপনাকে দেখে আবার সেই পুরোনো কথাগুলো মনে পড়ে গেলো ... অসংখ্য ধন্যবাদ

২২. ২৩ শে মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১০
comment by: দোলাহাসান বলেছেন: অনেক অভিনন্দন।অনেক কিছু জানতে পারলাম।ভাল লাগলো আর আগামির জন্য শুভেচ্ছা রইল।
২৩ শে মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১২

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ আর শুভেচ্ছা

২৩. ২৩ শে মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৩
comment by: মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: অভিনন্দন বস । লেখাটা এত প্রাণবন্ত যে খুব ধীরে ধীরে পড়লাম , যেন একটা শব্দও আমার দৃষ্টির আর মনের আড়াল না হতে পারে (কানে কানে বলি , আমার নামটা দেখে একটা বিশাল লাফ দিয়েছি)

তবে আপনি যদি হোন চিকন আলী , আমি কিন্তু কইলাম নাই । ১ বছর ৫ মাস একদম রেগুলার ব্লগিং করে মাত্র ৪৬ টা পোস্ট দিয়েছি । হাফ সেঞ্চুরি পোস্টটায় নিজের অভিজ্ঞতা গুলো লেখার একটা প্ল্যান মাথায় আসলো :)

কমেন্ট পাওয়ার আকুলতা দেখে নিজের কথা মনে পড়ে গেলো ।আমার ব্লগে আপনার প্রথম কমেন্ট সম্ভবত হাবিবুল বাশার কে নিয়ে লেখা একটি পোস্ট । সেদিন আপনি আমার সাথে তীব্র দ্বিমত পোষণ করেছিলেন(আমিও অবশ্য আব্দুল জলিলকে নিয়ে লেখা পোস্টে আপনার সাথে দ্বিমত পোষণ করে সমতা ফিরিয়ে এনেছিলাম )

জ্বিনের বাদশা নামটা আমার কাছে সবসময় স্মরণীয় হওয়ার আরও কারণ আছে । মনুষ্য প্রজাতির কেউ বেইল না দিলেও আপনিই প্রথম আমার একটা পোস্ট প্রিয়তে নিয়েছিলেন। সেই একই পোস্টে শুরুতেই মিরাজ ভাই , ভাস্করদা আর আপনার কমেন্ট পেয়ে আমি সেদিন রীতিমত আকাশে উড়ছি ।

২০০ পরিণত হোক ২০০০ এ , সবসময়ের শুভকামনা





২৪ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:৪৪

লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যটা পড়ে খুবই ভালো লাগলো ... একটা চার মেরে ফিফটি করে ফেলুন ;)

২৪. ২৩ শে মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৫
comment by: হ্যারি সেলডন বলেছেন: আপনি আমার খুব প্রিয় একজন মানুষ এবং ব্লগার। কখনও বলা হয়নি। আজ বললাম।

আলী মাহমেদ ভাই কিন্তু ব্লগস্পটে লিখেন। তার বাসায় দাওয়াত খেয়েছিলাম। এরকম একজন মানুষের সাথে কিছুক্ষণ কাটাতে পেরে এত ভাল লেগেছিল।
২৪ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:৪৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, হ্যারি ... জেনে ভালো লাগলো

শুভ ভাইর বাসায় দাওয়াতটা পেন্ডিং হয়ে আছে, পরের বার দেশে গেলেই যাইতে হবে :)

২৫. ২৩ শে মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৬
comment by: হ্যারি সেলডন বলেছেন: আর পোস্টে কমেন্ট পাওয়ার কথা যেটা বলেছেন সেটা এই অধম এখনও করি!
২৬. ২৩ শে মে, ২০০৮ রাত ৮:১৮
comment by: চিকনমিয়া বলেছেন: আমিও
কতযে মজা পাইচি এই পুষ্ট পইরা, এইতা কইতে পারি না:(
তয় পেলাচ
২৪ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:৪৫

লেখক বলেছেন: আপনাকেও পেলাচ :)

২৭. ২৩ শে মে, ২০০৮ রাত ৯:২০
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: অভিনন্দন।
মোহামেডান জিন্দাবাদ।
২৪ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:৪৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ... মোহামেডান!! মোহামেডান!!!

২৮. ২৩ শে মে, ২০০৮ রাত ১০:০৩
comment by: হ্যারি সেলডন বলেছেন: জ্বিনের বাদশাভাই, আমি আলী মাহমেদকে নিয়ে একটা পোস্ট দিছি। সময় পেলে একটু পায়ের ধুলো দিয়েন এই অধমের ব্লগে!
২৯. ২৩ শে মে, ২০০৮ রাত ১০:১৪
comment by: মুকুল বলেছেন: প্রিয় জ্বিনের বাদশাকে আন্তরিক অভিনন্দন। :)

আমার দেশী ভাই হিসেবে বাড়তি শুভেচ্ছা। :)

অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক...
২৪ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:৪৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ দেশী ... :) ভালো আছেন?

৩০. ২৩ শে মে, ২০০৮ রাত ১১:২৪
comment by: ফরিদ বলেছেন: ব্লগে আমার বিচরণ পাঠক থেকে বিজ্ঞাপক থেকে লেখক থেকে আবার পাঠক। তাই আজকাল বেশিকিছু না লিখলেও প্রচুর পড়ি। একটি বিষয়ে সম্পুর্ণ একমত যে বাঘা বাঘা বহু লেখক সাহিত্যিক অনলাইনে আছে কিন্তু আপনার মত বাহারী বহুমুখী ব্লগার আমরা পাইনি। নিজের মুন্সীয়ানা হালকা হিউমারের নিচে চাপা দিয়ে জাদু লিখে যান। জ্বিনের বাদশার বাদশাহী সুদীর্ঘ হোক।
২৪ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:৪৭

লেখক বলেছেন: ওরে বাবা! এমন প্রসংশা তো বাঁধাই করে রাখতে হবে!!
আপনাকে ইদানিং মিস করি, ফরিদ

৩১. ২৪ শে মে, ২০০৮ সকাল ৭:০১
comment by: রাশেদ বলেছেন: একগাদা অভিনন্দন আপ্নারে।

খুব ভালো লাগছে আপনার স্মৃতিচারণ।
৩২. ২৪ শে মে, ২০০৮ সকাল ৭:০১
comment by: রাশেদ বলেছেন: আমার ব্লগে সবচেয়ে প্রিয় বড়ভাইদের একজন আপনি। :)
২৪ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:৪৮

লেখক বলেছেন: কৃতজ্ঞতা রাশু ... এসব পড়লে শক্তি অনুভব করি

৩৩. ২৪ শে মে, ২০০৮ সকাল ১০:৫৩
comment by: বাফড়া বলেছেন: আপ্নে যে জাবি'র ছাত্র ছিলেন জানা ছিলনা; সেন্চুরির ঘটনায় জানতে পারলাম

ব্লগে এসে বসে থাকি বললে ভুল হবে বরং বলা যায় আপনাদের কয়েকজনের ব্লগে এসে বসে থাকি যদি নতুন কিছু পাওয়া যায়, নাইলে পুরনো লেখাই পড়ি।

আপনার ব্লগিং চলতে থাকুক; অন্যদের মত ছেড়ে যাবেন না।

হ্যাপি ব্লগিং (কর্তিপক্কের আবিষ্কার এই শব্দযুগল আমার চরম অপছন্দ, তারপরও)
২৪ শে ম