এক.
১৯৭৫ এর নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহটায় এদেশের ইতিহাস একটা "অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়" পার করেছে -- সেটা নতুন করে বলার দরকার নেই। অগ্রজদের যতবার জিজ্ঞেস করেছি ততবারই একই কথা শুনেছি, "ঐ সময়টা সম্পর্কে আসলে আমরা কিছু জানিনা"। যা কিছু লিখিতভাবে এসেছে, পড়ে দেখেছি, খুবই একপেশে বর্ণনা --- হয় জিয়ার প্রসংশায় পঞ্চমুখ বর্ণনা, নাইলে জিয়ার নিন্দায় পঞ্চমুখ বর্ণনা।
যাই হোক, সেই ইতিহাস আসলে কি ছিলো সেটা পুরোপুরি না জানলেও তার আগের আর পরের ইতিহাসের প্রেক্ষিতে কতগুলো প্রশ্ন মাথায় জাগে। সেগুলোই তুলে ধরব। যে যা জানেন বা বোঝেন তার প্রেক্ষিতে মন্তব্য করলে বাধিত হবো।
যে সাধারণ বিষয়টায় সবাই একমত হবেন সেটা হলো, জেনারেল জিয়া কর্ণেল তাহেরের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। সম্ভবতঃ এটা স্বীকৃত যে ৭ ই নভেম্বর সিপাহীদের একাংশের সহায়তায় কর্ণেল তাহের জেনারেল জিয়াকে মুক্ত করেন। জিয়া বন্দী হয়েছিলেন ৩রা নভেম্বর, খালেদ-জামিল-হায়দার ক্যু'র ফলশ্রুতিতে। পরবর্তীতে জিয়া কর্ণেল তাহেরকে ঠকিয়েছেন, শুধু তাইনা, পথের কাঁটা দূর করার জন্য কর্ণেল তাহেরকে মেরেই ফেলেছেন। সাথে আরো অনেক অনেক সেনাসদস্যদেরকেও।
এর পরিপ্রেক্ষিতে জিয়াকে ভিলেন মানতেই হবে, কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো, এই ব্যাপারটা তাহেরকে মহিমান্বিত করছে কোন হিসেবে?
আমার কাছে তো এটা দুই ক্ষমতালোভীর ভাগাভাগির হিসাবের গন্ডগোলের জের -- এরচেয়ে বেশী কিছু মনে হয়না!
কারণ হিসেবে আমি যে প্রশ্ন গুলো উত্থাপন করতে চাই সেগুলো হলো:
১. ৭ই নভেম্বরের সিপাহী বিপ্লব কি মহান কিছু, না কয়েকদল সেনার মধ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াই?
২. ৭ই নভেম্বরে ১৯৭৫ এর সেই পয়েন্টে জিয়া যদি বদমাইশ হয় (যেটা আমি মনে করি ঠিক), তাহলে তাহের কেন না?
৩. জিয়া যদি তাহেরের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা না করে তাকে তার ভাগ দিতো, তাহলে কি ৭ই নভেম্বরের তাহের-জিয়ার কীর্তিকলাপ গুলো "মহান" হয়ে যেত?
৪. জিয়া যদি তাহেরের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা না করে তাহেরকে তার ভাগ দিতো, তাহলে কি তাহেরের হাতে আপনি বঙ্গবন্ধুর রক্ত লেগে থাকতে দেখতেননা? বাস্তবে, তাহেরের হাতে কি বঙ্গবন্ধুর রক্ত লেগে নেই একটুও?
প্রাসঙ্গিকভাবে যে প্রশ্নটা চলে আসে:
১. ৭ই নভেম্বরে তাহের যে জিয়াকে মুক্ত করলেন, সেটা দুজনের মধ্যে কোন কোন আন্ডার্স্ট্যান্ডিংয়ের ভিত্তিতে? তাদের মধ্যে কি কি চুক্তি হয়েছিলো (ঘটনার আগে)?
২. তাহেরের কেন জিয়াকে মুক্ত করার দরকার পড়লো?
দুই.
আমার মতে পাপটা তো শুরু হয়েছিলো সেই ৭৫ এর অগাস্টের ১৫ তারিখ থেকে, যেদিন একটা মানুষকে বিনা কারণে, বিনা দোষে সপরিবারে (আট বছর বয়সের একটি বাচ্চা ছেলেসহ) মেরে ফেলা হলো।
তারপরই শুরু ক্ষমতা দখলের হোলি উৎসব! যে যেভাবে পারলো ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টায় নেমে পড়ল। এই যে দখলের প্রতিযোগিতায় নামা "মহামানবেরা", যারা কেউ ওরকম বীভৎস হত্যাকান্ডের ব্যাপারে টূঁ শব্দও করলেননা, বরং সেই হত্যার যে রসালো ফল, সেটা খাবার জন্য হামলে পড়লেন, তাদের কারো হাতে বঙ্গবন্ধুর রক্ত লেগে নেই -- আপনি বলতে পারবেন?
আমি অবাক হয়েছিলাম ১৫ ই অগাস্টের ঘটনার মেজর(সম্ভবতঃ) হামিদের বর্ণনা পড়ে যেখানে জানলাম যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে যখন ক্যু সম্পন্ন হলো, তখন যে সেনারা উল্লাস করছিলেন তাদের মধ্যে খালেদ মোশাররফও ছিলেন!! আর বাকী রইলো কি?
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



