৯১ এর ভোটের সময় "জরিপ" নামক ব্যাপারটা সম্পর্কে জানতামনা, জানলাম ৯১ এর শেষে অথবা ৯২ এর শুরুতে সিএনএনের কল্যাণে, যখন বিল ক্লিনটন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতলেন। ভোটের কয়েকদিন আগে থেকেই সিএনএনে দেখাচ্ছিল যে জরিপে ক্লিনটন এগিয়ে বুশের চেয়ে -- ভেবেছিলাম "রামছাগলগুলোর বুদ্ধি কি! মাত্র কয়েকহাজার লোককে জিজ্ঞেস করেই বলে দিলো কে জিতবে!! এতই সোজা!!!"
পরে ভোটের রেজাল্ট দেখে তো চক্ষু চড়কগাছ, জরিপের মতোই ক্লিনটন তো জিতলেনই, সেইসাথে দেখলাম জরিপের পার্সেন্টেজ আর মূল ফলাফলের মাঝে তেমন বড় কোন তফাৎ নেই। আমি তো পুরা পাঙ্খা! জরিপ তাইলে এত চমৎকার একটা জিনিস!
৯৬ তে দেশে ছিলামনা, দেশের সংবাদপত্রেও এ্যাকসেস ছিলোনা, টিভির খবর তো অনেক দূরের ব্যাপার। জানতেও পারিনি বাংলাদেশে জরিপ হয়েছিলো কিনা। তবে যায়যায়দিনে ডেমোক্রেসিওয়াচ নামক সংস্থার সামাজিক ফ্যাক্টর আর সরকারের পারফরম্যান্সের উপর জরিপের ফলাফল নিয়মিত ছাপা হতে লাগলো হাসিনার সরকার ক্ষমতায় যাবার পর। আমি জানিনা ডেমোক্রেসিওয়াচই প্রথম এরকম নিরন্তর জরিপের প্রচেষ্টা চালিয়েছিলো কিনা।
২০০১ এ পত্রিকা পড়েছি অনলাইনে, প্রায় নিয়মিত, কিন্তু সেরকম কোন জরিপের ফলাফল দেখিনি। এসময় আমি আশা করেছিলাম যে নিয়মিত জরিপের সংখ্যাগুলো দেখা যাবে ডেমোক্রেসীওয়াচ এবং এধরনের আরো কিছু সংস্থার মাধ্যমে। যেহেতু শফিক রেহমানের ডেমোক্রেসিওয়াচ বিএনপি-ঘেঁষা হবার কথা, তাই এর কাউন্টারপার্টও তৈরী হয়ে গেছে -- এমনটাই ভেবেছিলাম।
কিন্তু যতটুকু মনে আছে কোন পত্রিকাই সেরকম সংখ্যা আকারে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেনি -- অন্ততঃ অনলাইন ভার্সনে। এটা মনে আছে এজন্যই যে সেসময় জরিপের রেজাল্ট খুব খুঁজেছিলাম কিন্তু পাইনি। এক প্রথম আলো শেষদিকে ঢাকার সিটগুলো নিয়ে একটা জরিপ করে ফলাফল বলেছিলো, ঢাকায় লীগ আর দল মোটামুটি অর্ধেক-অর্ধেক আসন পাবে! সে জরিপটা কোন ব্যক্তি ঠিক কিভাবে করেছিলো পরে অনেক ভেবেছি, কূল পাইনি!!
এটুকু মনে আছে অনলাইন ভোটিং সিস্টেম চালু ছিলো তবে সেটা এতই ফ্র্যাজাইল যে একজন চাইলে লাখবার ভোট দিতে পারতো। সেসময় অলরেডী জানি যে অধিকাংশ দেশেই ভোটের আগে প্রায় প্রতি দুতিনদিনেই সবগুলো সংবাদ সংস্থা নিজেদের জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে। মনে বিরাট প্রশ্ন ছিলো আমাদের দেশে হচ্ছেনা কেন? বা হলেও কি শুধু প্রিন্ট ভার্সনে প্রকাশ হয়?
এরপর তো এলো ২০০৮। প্রতিদিনই ভাবি পত্রিকাগুলোতে সারাদেশের জরিপ, বিভাগওয়ারী জরিপ -- এসবের রেজাল্ট ভরা থাকবে। কিন্তু এখনও কিছু দেখছিনা, অথচ ভোটের আর দুসপ্তাহও নেই।
এবছরই হওয়া আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নির্বাচনের প্রায় তিনমাস আগে থেকেই প্রায় প্রতি দুতিনদিনেই সবগুলো মিডিয়া নিজেদের জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছিলো। একদম কনক্রিট তথ্য দিয়ে, যেমন ওবামা ৪৬.৭%, ম্যাকেইন ৪৪.৫%। শুধু তাইনা, প্রত্যেক স্টেটে কার কত পার্সেন্ট সমর্থন আছে সেটারও জরিপ চলছিলো একই তালে। সেখান থেকে ভোটের দুসপ্তাহ আগেই বোঝা যাচ্ছিলো কোন স্টেটগুলোতে মূল ফাইট হবে, ওবামা আর ম্যাকেইনের দুজনই ভোটের আগ পর্যন্ত নাওয়া খাওয়া ভুলে সে স্টেটগুলোতে ঘোরাঘুরি করেছেন, ক্যাম্পেইন করেছেন -- এসবই আমরা জানি এখন।
আমাদের দেশেও তো এরকম তথ্যগুলো খুব সহজেই পত্রিকায় আসার কথা, প্রত্যেক আসন অনুযায়ী রেগুলার জরিপের প্রকাশ জনগনকে বুঝতে সাহায্য করে ইস্যুগুলো কি কি? আর সবাই কি কি ভাবছে।
দেশের মিডিয়াগুলো খুব পরিস্কার ধরনের জনমত জরিপ করেনা কেন?
এটা কি দক্ষতার অভাব, মানে দক্ষ জরিপকারীর সংখ্যার অভাব? নাকি ইনফ্রাস্ট্রাকচারের অভাব? নাকি পলিসি? যে ভোটের আগেই রেজাল্ট যাতে কোন একদলের পক্ষে না চলে যায়!
রাজনৈতিক দলগুলো কি জরিপ করে কিনা এটাও একটা প্রশ্ন। এদের তো এটা করা ফরযের মতো, বিশেষ করে সংসদ নির্বাচনের মতো ক্ষেত্রে, যেখানে কেন্দ্রের সহায়তা হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের জায়গাগুলোতে নিজ প্রার্থীকে বাড়তি সুবিধা দেবে। নাকি তারা জরিপ করে কিন্তু সে রেজাল্ট প্রকাশ করেনা।
যাই হোক, খুব দ্রুত জরিপ ফলাফলের বক্স দেখতে চাই পত্রিকার কোন এক কোণায়।
ফুটনোট:
১.পত্রিকাগুলোর অনলাইন ভার্সনে প্রায় বিনাকষ্টে(পত্রিকাওয়ালাদের) প্রাপ্ত জরিপ "অমুকের তমুক কাজের জন্য সমুক ফলাফল হবে বলে মনে করেন কি" টাইপের জরিপের আপাততঃ আমি কোন মানে দেখিনা!
২.ছবি প্রথম আলো থেকে টুকলিফাইড, এমএসপেইন্টে মডিফাইড।
আলোচিত ব্লগ
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার
বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?
কর্মসংস্থান? না।
বিনিয়োগ? না।
ডলার সংকট? না।
গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।
ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।
সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
পণ্ডশ্রম

এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।
কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,
আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।
দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।