somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভ্রমণ বিষয়ক পোষ্টঃ ঘুরে এলাম "খাগড়াছড়ি"

১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি বরাবরই ঘুরাঘুড়ি করতে পছন্দ করি সেটা দেশে হোক আর বিদেশেই হোক, জঙ্গল, পাহাড়, সাগর, নদী যাই হোক। সেদিন হঠাৎই যাওয়ার প্রোগ্রাম হয়ে গেল। আমার এক দুস্ত রুবেল অফিস ট্যুর এ খাগড়াছড়ি যাবে, আমাকে ফেন করে জানতে চাইল যাব কি-না। আমিতো শুনেই একপায়ে খাড়া। যাই হোক তুমুল বৃষ্টি মাথায় নিয়ে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে রাত ১১:২০ এ কলাবাগান কাউন্টার থেকে সৌদিয়া পরিবহনে চড়লাম। বৃষ্টি বিঘ্নিত হওয়ায় গাড়ী কিছুটা ধীর গতি। আগেই জেনে নিয়েছিলাম সাধারণত সকাল ৬ টা সাড়ে ৬ টার মধ্যে গাড়ী খাগড়াছড়ি পৌঁছায় কিন্তু বৃষ্টির জন্য ২/১ ঘন্টা সময় বেশী লাগবে সাথে যদি পাহাড়ী ঢল অথবা পাহাড় ধস যোগ হয় তাহলে তো কথাই নেই। ভোর ৪:৩০ আমরা মিরেরসরাই পৌঁছলাম। উল্লেখ্য মিরেরসরাই থেকে চট্রগ্রাম এবং খাগড়াছড়ির রাস্তা আলাদা হয়ে যায় এবং সে রাস্তায় ঢুকার কিছুক্ষণপর থেকেই পাহাড়ী এলাকা শুরু হয়, গাড়ী তখন শুধু উপরেই উঠতে থাকে। যেহেতু তখনো অন্ধকার তাই সেখানে বাস ১ ঘন্টার বিরতি দিল কারণ অন্ধকারে বৃষ্টিভেজা রাস্তা বিপদজনক, শান্তি বাহিনী এবং সাথে স্থানীয় ডাকাতের ভয়ও আছে। ডাকাতরা রাস্তায় গাছ ফেলে রাস্তা বন্ধ করে বাস ডাকাতি করে। কিছুটা আলো ফোটার পর ৫:৩০ এ দিকে আবার যাত্রা শুরু হল। ড্রাইভারের পেছনের সিটটা আমার তাই সামনে এবং ডান/বাম স্পষ্টই দেখতে পাচ্ছিলাম। যেদিকেই তাকাই শুধু বিশাল পাহাড় আর পাহাড় মাঝে মাঝে পাহাড়ী নদী। কখনো একদিকে পাহাড় আরেকদিকে কয়েক হাজার ফুট গভীর খাদ। শিহরণ জাগানো এক অন্যরকম অনুভূতি। গাড়ী একবার খাড়া উপরে উঠে আবার খাড়া নীচে নামে। আর একেকটা বাঁক চোখে না দেখলে বলে বুঝানো কঠিন। তবে রাস্তা খুব ভাল, এখনো কিছু স্থানে রাস্তার কাজ চলছে। চড়াই-উৎড়াই পার হয়ে সকাল ৭:৩০ মিনিটে আমরা আমাদের প্রাথমিক গন্তব্য এবং আগে থেকেই বুকিং করা খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলে পৌঁছলাম। উল্লেখ্য পর্যটন মোটেলটি শহরের বাইরে এবং মোটেল থেকে শহরে যেতে ১৫/- রিক্সা ভাড়া লাগে। ফ্রেশ হয়ে, নাস্তা করে হালকা রেস্ট নিয়ে শহরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। কর্মসূত্রে পরিচয় হল সাবেক স্থানীয় এমপির ভাতিজা মাসুদ এবং তার বন্ধু বাবলুর সাথে ফলাফল ২টা মোটর সাইকেল ফ্রিতে পেয়ে গেলাম। এখন আর আমাদের পায় কে? সময় স্বল্পতার কারনে আশে-পাশে ঘুড়ে সেদিনের মত বিরতি দিয়ে পরবর্তী দিন রিছাং ঝর্ণা এবং আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র যাওয়ার প্রোগ্রাম ঠিক করে সন্ধ্যায় মোটেলে চলে এলাম। উল্লেখ্য সন্ধ্যার পর মোটেল থেকে বের হওয়া বিপদজনক তাই টিভি দেখে, গান শুনে বাকী সময়টা পার করতে হল। সকালে ঘুম থেকে উঠে তৈরী হতে হতে আমাদের মোটর সাইকেল চলে এল, আমরা যাত্রা করলাম আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে কিন্তু আলুটিলা পৌঁছে গেটের চা দোকানে চা খেতে খেতে ঠিক করলাম আগে রিছাং ঝর্ণা দেখব এবং ফেরার পথে আলুটিলায় ঢুকব। উল্লেখ্য দুটি স্থানই একই পথ ধরে যেতে হয়। আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র শহর থেকে ৮ কিঃমিঃ এবং রিছাং ঝর্ণা ১১ কিঃমিঃ দূরত্বে তাই দূরেরটাই আগে দেখার সিন্ধান্ত হলো। বলে রাখা ভাল খাগড়াছড়ি এসে বৃষ্টির ব্যাপারে আমার এক নতুন অভিজ্ঞতা হলো। দিনে-রাতে ৩০-৪০ বার বৃষ্টি নামে আবার থামে আবার নামে। সবই ৫মিঃ/১০মিঃ এর বৃষ্টি, এই সময়ে নাকি এরকমই হয়। বৃষ্টির কারণে বড় ক্যামেরা নেয়া সম্ভব হয়নি। নিচের সবগুলি ছবিই মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে তুলা হয়েছে। আমরা রিছাং এর কাছাকাছি পৌঁছে মাসুদ এর পরিচিত রবিন্দ্র দা নামে এক লোকের বাড়ীতে উঠলাম। এর মধ্যে রোদ-বৃষ্টি সবই আমাদের উপর দিয়ে অনবরত পার হয়ে যাচ্ছে। আমাদের সাধের ক্যামেরা, মোটর সাইকেল, মানিব্যাগ, জুতা ইত্যাদি রবিন্দ্রদার জিম্মায় রেখে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে রিছাং এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। কারণ এর পর আর কোন বাড়ী নেই এবং মোটর সাইকেল নেওয়ারও কোন রাস্তা নেই, খাড়া পাহাড় বেয়ে শুধু নামা আর নামা। রওয়ানা হওয়ার আগে সে গুড়-মুড়ি দিয়ে নাস্তা করালো এবং জোঁকের হাত থেকে বাঁচতে যত্ন করে সবার পায়ে কেরাসিন তেল মেখে দিল তাই আমরা নিশ্চিন্ত হয়ে রিছাং এর উদ্দেশ্যে পা বাড়ালাম।
চলবে................
আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের প্রবেশ পথ।
রবিন্দ্রদার বাড়ীতে পাহাড়ী হুক্কায় ধুমপান চলছে।
এই পথ বেয়ে পাপনাকে নামতে হবে, দূরে ঝর্ণ দেখা যাচ্ছে।
রিছাং ঝর্ণা
পথে এই অদ্ভুদ সুন্দর এই গাছটা আপনার চোখে পড়তে পারে।
এই এত উপরে উঠল কেমনে?
শ্রী শ্রী কৈবল্যপীঠ মন্দির
লুলুপাগলা, দুস্ত রুবেল এবং মাসুদ।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:৩৭
১৬টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×