ছোটবেলায় আমরা ফাইজলামি করার সময় সাধু ভাষায় লিখতাম। একবার আমার এক বান্ধবীর জন্য অপমানপত্র লিখছিলাম সাধুভাষায়, মনে আছে। আমার আম্মা খুব বঙ্কিম চন্দ্র পড়তো আর মাঝে মাঝে তাড়াহুড়ায় কথা বলার সময় সাধুভাষা বলে, এখনো।
যেমন একবার আব্বা দোকানের পার্কিং থেকে গাড়ি বের করছিল, পিছনে একটা খাম্বা মতন ছিল, ওইটা আব্বা দেখেনাই। আম্মা মহা তাড়াহুড়ায় বললো যে - তোমার গাড়ী ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে! এইরকম আরো আছে - আম্মা ব্যাথা পাওয়ার বদলে 'আঘাত' পায়, কোন কিছু ছুড়ে ফেলার বদলে 'নিক্ষেপ' করে ইত্যাদি। এইগুলি নিয়া আমাদের সাথে সাথে আম্মাও হাসে।
তো এইসব ইতিহাসের কারণে, নতুন কিছু লেখা সাধুভাষায় দেখলে প্রথমে বুঝতে পারি না সিরিয়াসলি নিব নাকি রম্য রচনা হিসাবে নিবো। কিন্তু ইদানিং বাংলা পত্রিকার সাহিত্য পাতায় দেখি অনেকে সাধু ভাষায় লিখেন। সিরিয়াস লেখাই।
এই জিনিষ হঠাত শুরু হইছে কিনা জানিনা। আমার নজরে পড়লো হঠাতই। এর কারন অনুমান করতে পারেন কেউ? আমার কৌতুহল হচ্ছে এই বিষয়ে।
আমার মনে হয় সম্ভাব্য দুইটা কারণ আছে।
সাধুভাষা সম্পর্কে প্রিকন্ডিশানড মনোভাব দুর করা। এই যেমন আমার হাসি আসে এই ভাষায় নতুন লেখা দেখলে (পুরানো গুলাতে হাসি আসে না, হাসির না হইলে)।
আরেকটা কারণ হতে পারে, বাংলা ভাষা আস্তে আস্তে বদল হইতে হইতে অনেক হইছে, এখন অনেক লেখকরা আবার সাধু থেকে শুরু করতে চাইছেন। বৃতত সম্পুণ করার উদ্দেশ্যে।
আপনাদের কি ধারণা ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


