বাংলাদেশ বেতারের বরিশাল আঞ্চলিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ 8 বছর পেরিয়ে গেলেও পূর্ণতা পায় নি। 1999 সালের 12 জুন বরিশালের রূপাতলীতে এই বেতার কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হলেও অদ্যাবধি এর সুফল পায়নি টার্গেট এলাকার জনগন।
বরিশাল বেতারের প্রচার ক্ষমতা 10 কিলো ওয়াট । মিডিয়াম ওয়েভ 233.10 মিটারে 1287 কিলোহার্জে বরিশাল আঞ্চলিক কেন্দ্র অনুষ্ঠান প্রচার করে। এর প্রচার পরিধির ব্যাসার্ধ কাগজে কলমে 100 কি: মি: হলেও বাস্তবে 70 কি: মি: এর বেশি নয়। উপকূলীয় জনগন বিশেষ করে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা এই বেতার কেন্দ্রের আবহাওয়া বার্তা বা অন্যান্য তথ্য শুনতে পায় না। কারণ, বেতার কেন্দ্র হতে উপকূলের দুরত্ব 100 কি: মি: এর বেশি।
বরিশাল অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল একটি আঞ্চলিক বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার। এ এলাকার সংস্কৃতি প্রেমীদের প্রতিভা বিকাশের কোন সহজ সুযোগ আগে ছিল না। তাদের অডিশন দিতে হত খুলনা আঞ্চলিক কেন্দ্রে। সেক্ষেত্রে বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলের প্রতিযোগীদের সাথে পেরে ওঠা সহজ ছিল না। শ্রোতারা ভেবেছিল এই কেন্দ্রের মাধ্যমে তাদের তথ্য ও বিণোদনের চাহিদা পূরণ হবে।
বরিশাল বেতার কেন্দ্রের বিভিন্ন ধরণের সমস্যার মধ্যে প্রধান হলো: প্রচার সময়ের সমস্যা, মানহীন অনুষ্ঠান, বৈদ্যুতিক সমস্যা, কারিগরি সমস্যা, অবকাঠামোগত সমস্যা, প্রশাসনিক জটিলতা ইত্যাদি।
প্রতিদিন সকাল 10:45 মিনিট থেকে বিকেল 4:15 মিনিট পর্যন্ত মাত্র 1টি অধিবেশন প্রচারিত হয় বরিশাল বেতার থেকে। এই সময়টাকে বলা হয় প্রচার সময়ের অফ-পিক আওয়ার। যে কোন পেশাজীবী শ্রোতার জন্যই এটা ব্যস্ত সময়। তাই শ্রোতাদের একটি বিরাট অংশ অনুষ্ঠান শোনা থেকে বঞ্চিত।
বেতারে পল্লী বিদ্যুতের একটি মাত্র সাধারণ সংযোগ রয়েছে। তাই সাড়ে 5 ঘন্টার অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকবার লোড শেডিংয়ের ঘটনা ঘটে। একটি মাত্র জেনারেটর দিয়ে তখন কাজ চালাতে হয়। তাতেও প্রায়ই যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়।
বেতারের স্টুডিও অংশের স্ট্রাকচার উই পোকায় খেয়ে ঝরঝর করে ফেলেছে। প্রায়ই স্ট্রাকচার ভেঙ্গে পড়ে মেঝেতে ময়লা জমে থাকে। এছাড়াও প্রশাসনিক জটিলতায় ঘোষক-ঘোষিকা কলাকুশলীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।
প্রতিষ্ঠার 8 বছর পরও চালু হয় নি সংবাদ ও নাটক বিভাগ। বরিশাল অঞ্চলের স্থানীয় খবর প্রচারিত হয় খুলনা আঞ্চলিক কেন্দ্র থেকে। যা অত্যন্ত হাস্যকর।
বরিশাল অঞ্চলের জনগণের তথ্য ও বিণোদনের চাহিদা মেটাতে বেতারটি প্রতিষ্ঠিত হলেও তা আজও যথাযথ ভাবে কার্যকর হয় নি। এ ব্যাপারে বেতারের সাবেক আঞ্চলিক পরিচালক মীর শাহ আলম ও বর্তমান আঞ্চলিক পরিচালক মো: মহিউদ্দিন জানিয়েছেন- একাধিক বার ঢাকায় প্রধান কার্য্যালয়ে আবেদন করেও কোন সুফল পাওয়া যায়নি।
শীঘ্রই বেতার কেন্দ্রটির মানোন্নয়নের দাবী জানিয়েছেন বরিশাল বেতারের শ্রোতারা।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



