বাংলাদেশ বেতার সর্বোচ্চমানের একজন রবীন্দ্রসংগীত শিল্পীকে একটি গানের জন্য যে সম্মানী দেয়, তা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে একজন শিল্পীর জন্য রীতিমত অসম্মানের। বেতারে বর্তমানে একজন ‘ক’ শ্রেণীর সংগীতশিল্পীর সম্মানী ৩৫০ টাকা। একজন `ক' শ্রেণীর গীতিকার প্রতিবার গান প্রচারের জন্য রয়্যালটি পান মাত্র সাড়ে ১০ টাকা। ‘গ’ শ্রেণীর গীতিকার পান ২ টাকা ৬২ পয়সা। একজন ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার সারাদিন ম্যাচ ভাষ্য দিয়ে সর্বোচ্চ পান ৫৫১ টাকা ২৫ পয়সা।
বরেণ্য রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী কলিম শরাফী আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশ বেতারে শিল্পীদের যে সম্মানী দেয়া হয় তাকে আদৌ সম্মানী বলা চলে না। শিল্পী সম্মানী নিয়ে শিল্পীদের মাঝে বরাবরই হতাশা বিরাজমান ছিল। প্রতিষ্ঠিত অনেক শিল্পীর মতে, যে সম্মানী বেতার থেকে দেওয়া হয়, তাতে তারা কাজ করার ইচ্ছে থাকলেও উৎসাহ পান না। যে কারণে বেতার থেকে তাদের ডাকলেও তারা সাড়া দেন না। তারা বলছেন, দিনে দিনে বেতার জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে।
বেতারের অনুষ্ঠান বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, প্রতিষ্ঠিত অনেক শিল্পীকে আমরা বহুদিন এ এলাকায় দেখি না। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের ডেকেও পাই না। অথচ তাদের অনেকেই এ বেতার থেকেই নিজের পেশাদার শিল্পীজীবন শুরু করেছিলেন। যাদের জন্য বেতারের জনপ্রিয়তাও বেড়েছে অনেকাংশে। এখন তারাও আসেন না, বেতারের জনপ্রিয়তাও নাই আগের মতো।
নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার জানান, এর আগে বেতার টেলিভিশনের ¯^vqËkvm‡bi দাবির মধ্যে শিল্পী সম্মানী চারগুন বৃদ্ধি করার দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু এর ফলাফল পাওয়া যায় নি। তিনি বলেন, আমি নিজে বেতারে সংবাদ পাঠ কিংবা অন্য কোন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আগ্রহ বোধ করি না। আমার মতে শিল্পীদের এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়া উচিত।
বরেণ্য কন্ঠ শিল্পী ফরিদা পারভীন বলেন, বেতারের বর্তমান সম্মানী একজন শিল্পীকে কাজ করার জন্য মোটেও উৎসাহিত করে না। কর্তৃপক্ষ শিল্পীদের প্রতি বরাবরই উদাস।
শিল্পী এন্ড্রু কিশোর বলেন, তিন বছর আগে আমরা বেতারে গান করে যে সম্মানী পেতাম তখনকার বাজারদর এবং জীবনযাত্রার মান অনুযায়ী তা যথেষ্ঠ ছিল।
বাংলাদেশ বেতারের উপ-মহাপরিচালক মো: আব্দুর রউফ নিজেও শিল্পী সম্মানী যে যথেষ্ঠ নয়, তা ¯^xKvi করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শিল্পী সম্মানী বিষয়ে বাংলাদেশ বেতার একটি কমিটি গঠন করেছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



