যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গত ১০ বছরের প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুজন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। অপরাধ আর দুর্নীতির রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন আরও অনেকে। এসব সাংবাদিক নিজের জীবনের চেয়ে দায়িত্বকে বড় করে দেখেছেন। তাই তাদের স্মরণে লন্ডনে বিবিসি ভবনের ওপরে স্থাপন করা হয়েছে একটি ‘আলোকচ্ছটা’র। সেই আলোকচ্ছটা স্মরণ করিয়ে দেবে তাদের কর্মকে। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন গত ১৬ জুন সোমবার এই আলোকচ্ছটার উদ্বোধন করেন।
সমপ্রতি বিবিসি’র দুজন সাংবাদিক নিহত হন। আবদুল সামাদ রোহানি আফগানিস্তানে ও নাসতেহ দাহির ফারাহ সোমালিয়ায় প্রাণ হারান। তাদের মৃত্যু এই আলোকচ্ছটার নির্মাণকাজকে ত্বরান্বিত করে।
১০ ফুট উচু কাঁট এবং স্টিলের তৈরী এ আলোকচ্ছটার নকশা করেছেন স্পেনের শিল্পী ইয়াওমি প্লেনসা। প্রতিদিন রাত ১০ টায় সেখান থেকে উজ্জ্বল আলোকরশ্মি ঠিকরে বেরোবে যার স্থায়ীত্ব কাল হবে আধ ঘন্টা। আর এর মাধ্যমে স্মরণ করা হবে নিহত সব সাংবাদিককে। এমনকি অনুবাদক, গাড়িচালকসহ যারা তাদের সঙ্গে ছিলেন, তারাও বাদ পড়বেন না। স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনের সময় নিহত সাংবাদিকদের আত্মীয়স্বজনও জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে যোগ দেয়।
বান কি মুন বলেন, বিশ্বের যেসব সাংবাদিক শত্রুপক্ষের হুমকি ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জীবন দিয়ে তাদের সাহসিকতার মূল্য শুধেছেন, তাদের স্মরণে এই আলোকচ্ছটা নির্মাণ করা হলো। যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের হয়েও কথা বলবে এই আলোকচ্ছটা।
সাংবাদিকদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ তৈরীর জন্য বিশ্বব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল নিউজ সেফটি ইনস্টিটিউট। এ সংগঠনের পরিচালক রোডনি পিন্ডার বলেন, এসব নিহত নারী-পুরুষ গণতন্ত্রের অভিনন্দিত নায়ক। নতুন স্থাপিত আলোকচ্ছটা তাদের কর্মকেই স্মরণ করিয়ে দেবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



