আমাদের ইউনিভার্সিটি লন্ডন অলিম্পিক কমিটি এর সাথে একটা প্রজেক্ট করছে যাতে আমাদের HR এর ষ্টুডেন্টদের অংশগ্রহন করার সুযোগ ছিল। আমি এসব একট্রা কারিকুলাম এ্যাকটিভিটিস বেশ গুরুত্বের সাথেই নেই, যে কারনে আমার নাম দেওয়া এই প্রজেক্টে। কিছু দিনের মধ্যেই আমাদের ক্লাসের সকলের ট্রেনিং শেষ হয়ে গেল সেই সাথে কাজ করার জন্য ডাকও আসল। আমাদের কাজ হল যারা লন্ডন অলিম্পিক এ ভলানটিয়ার হিসেবে কাজ করতে চায় তাদের ইন্টারভিউ নেয়া এবং বাছাই করা কারা এই কাজের উপযুক্ত। আমাদের বিভিন্ন পোস্টের জন্য ভলানটিয়ার বাছাই করতে হত।
লন্ডন অলিম্পিকে ৭০,০০০ ভলান্টিয়ার নিয়োগ করা হবে যাদের দ্বায়িত্ব হবে গেমস চলাকালীন সময়ে দর্শনার্থীদের সাহায্য করা এবং এ্যাথলিটদের খেলার স্থানে নিয়ে যাওয়া সহ আরও অনেক কিছু।
আমাদের ইন্টারভিউ নেওয়ার ভেন্যু ছিল লন্ডনের এক্সেল সেন্টার যেখানে সাধারনত বড় বড় এক্সিবিশন হয়ে থাকে। আমি এই সেন্টারের খুব কাছে থাকা সত্বেও কোনদিন যাবার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। তবে যাই হোক প্রথম দিনে যাদের ইন্টারভিউ নিয়েছি তাদের কথা বলছি:
প্রথমে যিনি আসলেন তিনি ওভার কোয়ালিফাইড, বেশ কয়েকটি ম্যারাথনে অলরেডি ওরগ্যানাইজ এবং অংশগ্রহন করেছেন, একটাই তার দুর্বলতা ছিল, যেটা হচ্ছে উনি যে পোস্টের জন্য আবেদন করেছেন সেটায় দুটো ভাষা জানা জরুরী যেটা তার নেই এবং সে সেটা অকপটেই স্বীকার করল। তাকে যখন মার্কিং করলাম তখন বেশী নম্বর দিতে হল তার যোগ্যতার কারনেই।
দ্বিতীয় জন একটি কলেজের প্রিন্সিপাল, তৃতীয় জন একজন প্রায় রিটায়ার্ড এক কাছাকাছি আসা একজন তরুন। তরুন এ কারনে বললাম, কারন তিনি বয়সে কিছুটা বেশী হলেও মনে একজন তরুন। সে তার কর্মজীবন লন্ডন অলিম্পিকে অংশগ্রহন করে শেষ করতে চায়। যে পদে আবেদন করেছে তার জন্য একজন ভাল প্রার্থী। এর পর ব্রিট্রিশ এয়ারের বিমান বালা সহ এমন আরো অনেকর সাক্ষাৎকার নিলাম যারা এই ভলানটিয়ার কাজে অংশগ্রহন করতে এসেছে। একটা জিনিস সত্যিই বিস্ময়কর যে নানা বয়সের মানুষের সত্বঃফূর্ত অংশগ্রহন, যারা অলিম্পিক শুধু দেখতেই নয় অংশগ্রহন করতে ইচ্ছুক। ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে আমাদের দেশে কিছুদিন আগে বিশ্বকাপ গেল যাতে আমরা এমন সবাইকে অংশগ্রহন করানোর সুযোগ নষ্ট করেছি। নষ্ট করেছি জাতি হিসেবে এক হওয়ার একটি সুযোগ।
দ্বিতীয় দিন যখন আবার যখন শিফট শুরু হল প্রথমেই একটা ডানাকাটা পরী আসল। সত্যিই ডানাকাটা তানা হলে উড়ে চলে যেত। এই দিনে অবশ্য অনেক তরুন ছেলে মেয়েরা এসেছিল। কেউ কেউ এসেছে প্রায় ২০০-৩০০ মাইল দূর থেকে। একটা জিনিস না বললেই নয় কোন কিছু না পাওয়া সত্বেও যে তাদের এই নিজেদের গেমসের সাথে ইনভলভ করার এই চেষ্টা তা তুলনাহীন। আমি নিজেও প্রায় ৪ মাস ভলানটিয়ার ওয়ার্ক করেছি একটি প্রতিষ্ঠানে যেখানে লার্নিং ডিসেবলদের নানারকম ভাবে সাহায্য করা হয়।
এসব কাজে টাকা হয়ত পাওয়া যায় না, কিন্তু মনে একটা বিশাল প্রশান্তি আসে যা পরিমাপ করা যায়না। সমাজকে কিছু দেয়ার মধ্যে কি আনন্দ তা না পেলে বোঝা সম্ভব না।
আমার তৃতীয় দিনে অবশ্য আমাদের জন্য দারুন একটা সুযোগ ছিল, তা হলো অলিম্পিক টর্চের (মশাল) সাথে ছবি তোলা। অনেকেই হয়ত টিভিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেখেছেন সেই মশাল। এবারের লন্ডন অলিম্পিকের মশাল নিয়ে সারা দেশব্যাপি অনুষ্ঠান হয়েছে, যেখানে অনেকে পেয়েছে মশাল নিয়ে দৌড়ানোর সুযোগ যা কিনা দেশব্যাপী মশাল দৌড়ের অংশ। মশাল ধরে অনেকগুলো ছবি তুললাম এই সুযোগ তো আর কোনদিন আসবে না। তাছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের টিকিট পাইনি
এই টর্চের মাঝে ৮০০০ ছিদ্র আছে যা ৮০০০ রানার যারা এটা নিয়ে দৌড়াবে তাদের সংখ্যা প্রকাশ করেছে। আর তিনটি কোন খেলাধুলা, শিক্ষা, সংস্কৃতি কে প্রকাশ করেছে। আপনাদের জন্য কিছু ক্লোজআপ শট দেওয়া হল।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১১ বিকাল ৩:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

