somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লন্ডন অলিম্পিক এবং আমার অভিজ্ঞতা

০৮ ই জুলাই, ২০১১ বিকাল ৩:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সবাইকে কথা দিয়ে ছিলাম যে লন্ডন অলিম্পিক নিয়ে লিখব, তো আজকে কিছুটা সময় পাওয়ায় এই লিখা।


আমাদের ইউনিভার্সিটি লন্ডন অলিম্পিক কমিটি এর সাথে একটা প্রজেক্ট করছে যাতে আমাদের HR এর ষ্টুডেন্টদের অংশগ্রহন করার সুযোগ ছিল। আমি এসব একট্রা কারিকুলাম এ্যাকটিভিটিস বেশ গুরুত্বের সাথেই নেই, যে কারনে আমার নাম দেওয়া এই প্রজেক্টে। কিছু দিনের মধ্যেই আমাদের ক্লাসের সকলের ট্রেনিং শেষ হয়ে গেল সেই সাথে কাজ করার জন্য ডাকও আসল। আমাদের কাজ হল যারা লন্ডন অলিম্পিক এ ভলানটিয়ার হিসেবে কাজ করতে চায় তাদের ইন্টারভিউ নেয়া এবং বাছাই করা কারা এই কাজের উপযুক্ত। আমাদের বিভিন্ন পোস্টের জন্য ভলানটিয়ার বাছাই করতে হত।

লন্ডন অলিম্পিকে ৭০,০০০ ভলান্টিয়ার নিয়োগ করা হবে যাদের দ্বায়িত্ব হবে গেমস চলাকালীন সময়ে দর্শনার্থীদের সাহায্য করা এবং এ্যাথলিটদের খেলার স্থানে নিয়ে যাওয়া সহ আরও অনেক কিছু।

আমাদের ইন্টারভিউ নেওয়ার ভেন্যু ছিল লন্ডনের এক্সেল সেন্টার যেখানে সাধারনত বড় বড় এক্সিবিশন হয়ে থাকে। আমি এই সেন্টারের খুব কাছে থাকা সত্বেও কোনদিন যাবার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। তবে যাই হোক প্রথম দিনে যাদের ইন্টারভিউ নিয়েছি তাদের কথা বলছি:

প্রথমে যিনি আসলেন তিনি ওভার কোয়ালিফাইড, বেশ কয়েকটি ম্যারাথনে অলরেডি ওরগ্যানাইজ এবং অংশগ্রহন করেছেন, একটাই তার দুর্বলতা ছিল, যেটা হচ্ছে উনি যে পোস্টের জন্য আবেদন করেছেন সেটায় দুটো ভাষা জানা জরুরী যেটা তার নেই এবং সে সেটা অকপটেই স্বীকার করল। তাকে যখন মার্কিং করলাম তখন বেশী নম্বর দিতে হল তার যোগ্যতার কারনেই।

দ্বিতীয় জন একটি কলেজের প্রিন্সিপাল, তৃতীয় জন একজন প্রায় রিটায়ার্ড এক কাছাকাছি আসা একজন তরুন। তরুন এ কারনে বললাম, কারন তিনি বয়সে কিছুটা বেশী হলেও মনে একজন তরুন। সে তার কর্মজীবন লন্ডন অলিম্পিকে অংশগ্রহন করে শেষ করতে চায়। যে পদে আবেদন করেছে তার জন্য একজন ভাল প্রার্থী। এর পর ব্রিট্রিশ এয়ারের বিমান বালা সহ এমন আরো অনেকর সাক্ষাৎকার নিলাম যারা এই ভলানটিয়ার কাজে অংশগ্রহন করতে এসেছে। একটা জিনিস সত্যিই বিস্ময়কর যে নানা বয়সের মানুষের সত্বঃফূর্ত অংশগ্রহন, যারা অলিম্পিক শুধু দেখতেই নয় অংশগ্রহন করতে ইচ্ছুক। ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে আমাদের দেশে কিছুদিন আগে বিশ্বকাপ গেল যাতে আমরা এমন সবাইকে অংশগ্রহন করানোর সুযোগ নষ্ট করেছি। নষ্ট করেছি জাতি হিসেবে এক হওয়ার একটি সুযোগ।

দ্বিতীয় দিন যখন আবার যখন শিফট শুরু হল প্রথমেই একটা ডানাকাটা পরী আসল। সত্যিই ডানাকাটা তানা হলে উড়ে চলে যেত। এই দিনে অবশ্য অনেক তরুন ছেলে মেয়েরা এসেছিল। কেউ কেউ এসেছে প্রায় ২০০-৩০০ মাইল দূর থেকে। একটা জিনিস না বললেই নয় কোন কিছু না পাওয়া সত্বেও যে তাদের এই নিজেদের গেমসের সাথে ইনভলভ করার এই চেষ্টা তা তুলনাহীন। আমি নিজেও প্রায় ৪ মাস ভলানটিয়ার ওয়ার্ক করেছি একটি প্রতিষ্ঠানে যেখানে লার্নিং ডিসেবলদের নানারকম ভাবে সাহায্য করা হয়।
এসব কাজে টাকা হয়ত পাওয়া যায় না, কিন্তু মনে একটা বিশাল প্রশান্তি আসে যা পরিমাপ করা যায়না। সমাজকে কিছু দেয়ার মধ্যে কি আনন্দ তা না পেলে বোঝা সম্ভব না।


আমার তৃতীয় দিনে অবশ্য আমাদের জন্য দারুন একটা সুযোগ ছিল, তা হলো অলিম্পিক টর্চের (মশাল) সাথে ছবি তোলা। অনেকেই হয়ত টিভিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেখেছেন সেই মশাল। এবারের লন্ডন অলিম্পিকের মশাল নিয়ে সারা দেশব্যাপি অনুষ্ঠান হয়েছে, যেখানে অনেকে পেয়েছে মশাল নিয়ে দৌড়ানোর সুযোগ যা কিনা দেশব্যাপী মশাল দৌড়ের অংশ। মশাল ধরে অনেকগুলো ছবি তুললাম এই সুযোগ তো আর কোনদিন আসবে না। তাছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের টিকিট পাইনি X(( তাই টিভিতে যখন দেখব তখন তো বলতে পারব এটা আমি স্পর্শ করেছি। দুধের স্বাধ ঘোলে মেটানো আর কি :((

এই টর্চের মাঝে ৮০০০ ছিদ্র আছে যা ৮০০০ রানার যারা এটা নিয়ে দৌড়াবে তাদের সংখ্যা প্রকাশ করেছে। আর তিনটি কোন খেলাধুলা, শিক্ষা, সংস্কৃতি কে প্রকাশ করেছে। আপনাদের জন্য কিছু ক্লোজআপ শট দেওয়া হল।











































সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১১ বিকাল ৩:১৮
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×