somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোলরিজের কবিতা: বুড়ো নাবিকের গান (দ্বিতীয়াংশ)

১৬ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৩:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সূর্যটা এখন ডান দিকটায় উদিত হল,
যেন সাগরের নিচ থেকে ভেসে উঠল,
এখনো কুয়াশায় লুকিয়ে আছে, বাঁ দিকটায়,
ডুব দিল সাগরে।

এবং এখনো সুন্দর দখিনা বাতাস বয়ে চলছে পেছনে,
কিন্তু এবার কোন সুন্দর পাখি আমাদের পিছু নেয়নি,
না কোন পাখি এসেছিল খেতে অথবা খেলতে
নাবিকের কামরায়!

এবং আমি একটা পাপিষ্ঠ কাজ করে বসেছি,
যা তাঁদের উপর ডেকে আনবে বিপর্যয়ঃ
সবাই নিশ্চিত, আমি পাখিটা মারার কারণেই
জোরে বাতাস বইতে শুরু করেছে,
আহ হতভাগা! তাঁরা বলল, এমন পাখি কেউ মারে,
এজন্যই জোরে বাতাস বইতে শুরু করেছে!

না ক্ষীণ, না রক্তিম, যেন ঈশ্বরের নিজের মাথা,
উজ্জ্বল সূর্যটা জেগে উঠলঃ
তারপর সবাই নিশ্চিত, আমি পাখিটা মারার কারণেই
এসেছে ঘন কুয়াশা,
এটাই ঠিক, তাঁরা বলল, এমন পাখি কেউ মারে,
এজন্যই ধেয়ে আসছে এমন ঘন কুয়াশা!

মৃদু বাতাস বইতে শুরু করল, সাদা মেঘ উড়তে শুরু করল,
জাহাজটা মুক্তভাবে ভাজ কেটে যাচ্ছিল পানিতে,
আমরাই প্রথম উদিত হলাম
এই নীরব সাগরে।

বয়ে চলা বাতাসটা হঠাৎ থেমে গেল, নেমে গেল জাহাজের গতি,
বিষণ্ণতায় ছেয়ে গেল সবকিছু,
আর আমরা কথা বলছিলাম
শুধুই সাগরের নীরবতা ভাঙতে!

বিকালে লাল সূর্যটা তেঁতে উঠেছিল
গরম, তামাটে আকাশটায়,
ঠিক এসে দাঁড়িয়েছিল মাস্তুলের আগায়,
দেখতে চাঁদের চেয়ে বড় নয়।

দিনের পর দিন, দিনের পর দিন,
আমরা আটকা পড়েছিলাম, আটকে গিয়েছিল নিঃশ্বাস, নিস্পন্দ;
যেন একটা অঙ্কিত জাহাজ
দাঁড়িয়ে আছে একটা অঙ্কিত সমুদ্রে।

পানি, পানি, সবখানে পানি,
আর সবকটি তক্তা চুপসে গিয়েছিল;
পানি, পানি, সবখানে পানি,
কিন্তু পান করার মত একটি ফোটাও ছিল না।

একেবারে গভীরে ধরেছিল পচনঃ আহ ঈশ্বর!
এমনি হওয়ার কথা ছিল!
হ্যাঁ, চটচটে প্রাণীরা ভেসে বেড়াচ্ছিল
চটচটে সাগরটায়।

প্রচণ্ড ঘূর্ণনে
মৃত্যু -আগুনরা নাচছিল সারা রাত,
পানিটা, যেন ডাইনির হাতে যাদুর তেল,
পুড়ে পুড়ে হচ্ছে সবুজ, নীল আর সাদা।

কেউ কেউ নিশ্চিত করল তাঁরা
স্বপ্নে দেখেছে সেই অশুভ আত্মাকে,
যে আমাদেরকে ফেলেছে এই মহামারিতে
নয় ফেদম পানির গভীরে সে আমাদের
পিছু নিয়েছিল, কুয়াশা আর তুষারের দেশ থেকে।

প্রতিটা জিহ্বা তৃষ্ণায় চৌচির হয়ে গিয়েছিল,
শুকিয়ে গিয়েছিল গোঁড়া থেকে,
আমাদের মুখ থেকে কোন কথা বেরুচ্ছিল না
যেন আমাদেরকে গলায় কেউ ঠেসে দিয়েছে ভুসি।

আহ! একদিন! আমার চেহারা দেখাচ্ছিল শয়তানের মত,
তীরের বদলে, অ্যালবাট্রসটা
আমার ঘাড়ে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছিল।
---------
দ্বিতীয় অংশের সমাপ্তি। চলবে...

প্রথমাংশ পড়ুন এখানে

তর্জমা
১৬/০৩/২০১৬
মূলঃ দ্যা রাইম অব দ্যা এইনশানট মেরিনার — স্যামুয়েল টেইলর কোলরিজ
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৪:২৬
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×