আমরা জানি, আমাদের এই গ্রহ পৃথিবী সৌর জগতের নয়টি গ্রহের একটি। সৌর জগতের তৃতীয় গ্রহ। আসুন কিছু জিনিস বুঝার চেষ্টা করি। সূর্যের ব্যাস পৃথিবীর (যার প্রকৃত ব্যাস ১২২০০ কিমি) চেয়ে ১০৩ গুন বড়। তুলনা করতে গেলে আমাদের পৃথিবীটা হবে একটা মার্বেল এবং সূর্য হবে একটি ফুটবলের চেয়ে দিগুন বড়। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই স্কেল অনুযায়ী এই দুটোর মধ্যে দূরত্ব হতে হবে ২৮০ মিটার বা ৯২০ ফুট এবং সবচেয়ে দূরের গ্রহটি কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করবে। কিন্তু এই বিশাল সৌর জগতের বিশালত্ব ও আপনার কাছে ক্ষুদ্র মনে হবে যখন এটিকে আমাদের ছায়াপথের ( Milky way) এর অন্যান্য বস্তুর সাথে তুলনা করা হবে। ছায়াপথটি প্রায় ২৫০ বিলিয়ন নক্ষত্র (সূর্য) নিয়ে গঠিত। আমাদের সবচেয়ে কাছেরটি হচ্ছে Alpha Centauri । যদি সূর্য এবং পৃথিবী ২৮০ মিটার দূরত্বে হয় তবে একই পরিমাপ ( অনুপাত) অনুযায়ী Alpha Centauri হবে প্রায় ৭৮০০০ কিঃমিঃ ( ৪৮৫০০ মাইল)। এখন এই আনুপাতিক দূরত্ব এবং এবং আয়তন বা আকৃতিকে আনুপাতিক হারে কমিয়ে আনি যেখানে পৃথিবী হবে ক্ষুদ্র বালি কনা যা খালি চোখে দেখা কষ্ট কর। তখন সূর্য হবে একটি চিনা বাদামের সমান যা পৃথিবী থেকে ৩ মিটার দূরত্বে থাকবে। আর Alpha Centauri সূর্য থেকে ৬৪০ কিমি দূরত্বে থাকবে এবং এর আকৃতি হবে একটা বড় ফুটবলের সমান। কিন্তু ছায়াপথটি আরও প্রায় ২৫০ বিলিয়ন তারকা দ্বারা গঠিত যাদের মধ্যে এর চেয়েও বেশী দূরত্ব বিদ্যমান। আমাদের সৌর জগত এর মধ্যে ছোট আকারের ব্যবস্থা। তার চেয়েও মজার ব্যাপার হচ্ছে আমাদের ছায়াপথটি ও এই মহাবিশ্বের মধ্যে ক্ষুদ্র জায়গা দখল করে আছে যখন এটিকে আমরা এই মহাবিশ্বের প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ছায়াপথের সাথে তুলনা করবো। আর এদের মধ্যে দূরত্ব হবে সূর্য এবং Alpha Centauri এর মধ্যকার দুরতবের কয়েক মিলিয়ন গুন। যখন পুরো মহাবিশ্বকে গণনায় আনব তখন সূর্য একটি ছোট কনার চাইতে বেশী কিছু নয়। আর আমাদের এই সুন্দর পৃথিবী হবে একটি পরমাণুর মতো। তাহলেই ভাবুন আমারা কতটা ক্ষুদ্র এই মহাবিশ্বের বিশালতার তুলনায়। এখন যদি বিগ ব্যাং একটি অপরিকল্পিত এবং অনিয়ন্ত্রিত কাঁকতলিয় ঘটনা হয় তাহলে কিভাবে সৌর জগত ও পৃথিবীর মতো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ সঠিক এবং ত্রুটিহীন ভাবে সৃষ্টি হয়? বিজ্ঞানের অনেক নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষাও এতটা নিয়ন্ত্রিত ভাবে পরিচালনা সম্ভব হয় না। কোনো অতি উন্নত এবং শক্তিশালী মস্তিষ্কের পরিকল্পনা এবং নিয়ন্ত্রন ছারা কি এসব সম্ভব? কিন্তু আমাদের নাস্তিক ভাইয়েরা, যারা নিজেদের বিজ্ঞান মনস্ক এবং বিজ্ঞানের পূজারি, মহাজ্ঞানী ভাবেন তারা এত সূক্ষ্ম এবং ত্রুটিহীন নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাকে কাঁকতলিয় বলার মতো অবৈজ্ঞানিক কথায় বিশ্বাস করে বসে থাকেন। যেসব ঘটনার উপযুক্ত ব্যাখ্যা তারা নিজেদের বিশ্বাস থেকে দিতে পারেন না, যেসব ঘটনা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব প্রমাণ করে সেসব ঘটনাকে উনারা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব অস্বীকার করার জন্য কাঁকতলিয় বলে চালিয়ে দিতে চান। আর এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিতে এবং পরিচালনায় স্রষ্টার কতৃত্বের জ্বলন্ত সত্য অস্বীকার করার জন্য বা বলা ভাল মানুষের চোখকে ধুলো দেয়ার জন্য মাল্টি ভার্স তত্ত্বের মতো আজগুবি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী প্রদান করা হয় যা বিশ্বাস করার চেয়ে স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করা অনেক সহজতর।
মহাবিশ্বে মহাজাগতিক বস্তু সমুহের অবস্থান এবং এদের মধ্যে দূরত্ব পৃথিবীতে প্রানের অস্তিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। কসমিক বল দ্বারা নক্ষত্রগুলোর মধ্যকার দূরত্ব এমনভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে যা পৃথিবীকে মানুষের জীবনধারণের উপযোগী করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অতি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে। মহাজাগতিক বস্তু সমূহের মধ্যকার দূরত্ব যদি কিছু কম হোতো তবে মহাকর্ষীয় আকর্ষণ, গ্রহগুলোর স্বাভাবিক অবস্থা, তাপমাত্রা ইত্যাদির ব্যাপক পরিবর্তন ঘটত। যদি মহাজাগতিক বস্তুগুলোর মধ্যে দূরত্ব কিছুটা বেশী হোতো তবে বস্তুগুলো সুপারনোভা অবস্থায় ছরিয়ে ছিটিয়ে যেত। ফলে গ্রহাণুগুলো একত্রীত হতে পারত না এবং আমাদের পৃথিবীর মতো গ্রহ তৈরি হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ঘনত্বে পৌছাতে পারত না। মহাকাশ বিজ্ঞানী জর্জ গ্রিনস্টেইন এই অভাবনিয় ব্যবস্থার ব্যাপারে বলেন “ যদি তারকাগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কিছুটা কম হোতো তবে astrophysics খুব একটা পরিবর্তন হোতো না। পদার্থ বিদ্যার মৌলিক নিয়ম, যেসব নক্ষত্র, নেবুলা ইত্যাদির মধ্যে ক্রিয়াশীল সেসবও খুব একটা পরিবর্তিত হতো না। শুধু মাত্র ছোট খাট কিছু পরিবর্তন হোতো। যেমন, রাতে ঘাসের মেঝেতে শুয়ে রাতের যে আকাশটা দেখি তা কিছুটা উজ্জ্বল দেখাত। আর আরেকটি ছোট্ট পরিবর্তন হতো। তা হচ্ছে, রাতের এই উজ্জ্বল আকাশ দেখার জন্য আমি বা আপনি কেউই থাকতাম না।
অন্যকথায়, নক্ষত্ররাজি এমনভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে,এতটা নিখুত ভাবে করা হয়েছে যতটা এই এই পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্বের জন্য প্রয়োজন। এই অপরিসিম মহাবিশ্ব কোনো কাঁকতলিয় ঘটনার মাধ্যমে সৃষ্ট নয়। এটি একটি পরিকল্পিত এবং তৈরিকৃত ব্যবস্থা যা মহান আল্লাহতায়ালা নিয়ন্ত্রন করেছেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০১১ সকাল ১১:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



