somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মহাবিশ্বের সৃষ্টি এবং স্রষ্টার অস্তিত্ব (পর্ব ০৩)

০৫ ই জুন, ২০১১ দুপুর ১২:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কার্বন যাকে বলা হয় ‘Element of life ‘ অতিকায় নক্ষত্রগুলোর কেন্দ্রে অলৌকিক নিউক্লিয় বিক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়। যদি এমন বিক্রিয়া না ঘটত তবে এই মহাবিশ্বে কার্বন বা অন্য পদার্থের সৃষ্টি হোতো না। ফলে কোনো জীবনেরও উৎপত্তি হোতো না। এই নিউক্লীয় বিক্রিয়াটিকে অলৌকিক বলা হচ্ছে কারন এই পরিবর্তন বা বিক্রিয়াটি সাধারন অবস্থায় ঘটে না। ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছি।
নক্ষত্রগুলোর কেন্দ্রে কার্বন অণুগুলো সৃষ্টি হয় দুটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায়। প্রথমত ২ টি হিলিয়াম অনু একত্রীত হয়ে ৪ টি প্রোটন ও ৪ টি নিউট্রন বিশিষ্ট অস্থিতিশীল বেরিলিয়াম অনুর সৃষ্টি হয়। তখন এটি ৩য় হিলিয়াম অনুর সাথে যুক্ত হয়ে ৬ টি প্রোটন ও ৬ টি নিউট্রন বিশিষ্ট কার্বন অনুর সৃষ্টি করে।এই পদ্ধতিতে ১ম অবস্থায় উৎপন্ন হওয়া বেরিলিয়াম অনু পৃথিবীতে প্রাপ্ত বেরিলিয়াম অনুর চেয়ে ভিন্ন ধরনের। কারন আমাদের পর্যায় সারণীতে প্রাপ্ত বেরিলিয়াম অনু একটি অতিরিক্ত নিউট্রন ধারন করে। নক্ষত্রগুলোর মধ্যে প্রাপ্ত এই অস্বাভাবিক বেরিলিয়াম অনু বিজ্ঞানীদের ধাঁধায় ফেলে দেয়। কারন এটি অতিমাত্রায় অস্থিতিশীল। এতোটাই যে এটি তৈরি হওয়ার ১/১০^১৫ বা ০.০০০০০০০০০০০০০০১ সেকেন্ডের মধ্যে বিভাজিত হয়ে যায়। তাহলে এই বেরিলিয়াম অনু কিভাবে কার্বন অনু সৃষ্টি করে, যখন তৈরি হওয়ার সাথে সাথেই ভেঙ্গে যায়? তাহলে কি কাঁকতলিয় ভাবে হিলিয়াম অনু বেরিলিয়াম অনুর সাথে যুক্ত হয়ে কার্বন তৈরি করে?কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে তাও তো সম্ভব নয়। কারন ২ টি অনু আলাদা ভাবে যুক্ত হয়ে ০.০০০০০০০০০০০০০০১ সেকেন্ডের মধ্যে যুক্ত হয়ে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারে না।
বিজ্ঞানী পল ডেভিস এই বিক্রিয়াকে এভাবে ব্যাখ্যা করেন, “ নক্ষত্রগুলোর মধ্যে কার্বন অনু তৈরি হওয়ার নিউক্লীয় বিক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করে ফ্রেড হোয়ল আশ্চর্যান্বিত হয়ে যান এটা দেখে যে বিক্রিয়াটি সৌভাগ্যক্রমে ঘটে থাকে। একটি জটিল এবং প্রায় অসম্ভব এক পদ্ধতিতে অর্থাৎ ৩ টি উচ্চশক্তি সম্পন্ন হিলিয়াম অনুর নিউক্লীয় ফিউশন বিক্রিয়া দ্বারা কার্বন গঠিত হয়। এই বিক্রিয়াটি একটি নির্দিষ্ট হারে এবং নির্দিষ্ট শক্তিতে ঘটে থাকে। সৌভাগ্যক্রমে, এই রেজোন্যান্স খুবই অল্প সময়ের মধ্যে ঘটে থাকে। এমন একটি নিউক্লীয় বিক্রিয়া কাঁকতলিয় এর চেয়েও বেশী কিছু, এক কথায় এটি অসম্ভব। কারন ৩ টি নিউক্লিয়াস এর মধ্যে নিউক্লীয় বিক্রিয়া খুবই বিরল।“ যেহেতু পল ডেভিস একজন নিখাদ বস্তুবাদী এবং নাস্তিক, তাই তিনি এটিকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন একটি অর্থহীন শব্দ ‘ সৌভাগ্যক্রমে’ দিয়ে। যেহেতু ‘অলৌকিক’ কথাটা তার বিশ্বাসের সাথে খাপ খায় না তাই তিনি অবৈজ্ঞানিক lucky fluke বা good fortune দ্বারা এটি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন।
নক্ষত্রগুলোর মধ্যে Double Resonance এর মতো একটি অলৌকিক ঘটনা ঘটে থাকে। প্রথমত ২ টি হিলিয়াম অনু যুক্ত হয়ে বেরিলিয়াম অনু গঠিত হয়। এরপর ১/১০^১৫ সেকেন্ডের মধ্যে এটি ৩য় আরেকটি হিলিয়াম অনুর সাথে যুক্ত হয়ে কার্বন অনুর সৃষ্টি করে। জর্জ গ্রিনস্টেইন ব্যাখ্যা করেন কেন এই Double Resonance অতি অসাধারন একটি প্রক্রিয়া। তিনি বলেন “There are three quite separate structures in this story—helium, beryllium, and carbon—and two quite separate resonances. It is hard to see why these nuclei should work together so smoothly… Other nuclear reactions do not proceed by such a remarkable chain of lucky breaks…It is like discovering deep and complex resonances between a car, a bicycle, and a truck.” কেন এবং কিভাবে এই অদ্ভুত এক বিক্রিয়া এত নিপুনভাবে ঘটে থাকে? বিশেষ করে যার উপর আমাদের এবং সব প্রানের অস্তিত্ব নির্ভর করে? এখানে আমরা দেখতে পাই, জর্জ গ্রিনস্টেইন ( আরেকজন নাস্তিক বিজ্ঞানী) এই বিক্রিয়াটিকে ব্যাখ্যা করেন ‘a remarkable chain of lucky breaks’ এর মত অগ্রহণযোগ্য কথা দিয়ে। কারন কাঁকতলিয় ভাবেও এমনটা ঘটা অসম্ভব।
কার্বন ছারাও অন্য কিছু মৌল যেমন অক্সিজেন এমন অনন্য সাধারন পদ্ধতিতে তৈরি হয়। ফ্রেড হোয়েল এই প্রক্রিয়াটি আবিস্কার করেন এবং তার বই ‘ Galaxies, Nuclei and Quasars’ এ তিনি বলেন যে এমন একটি বিক্রিয়া কাঁকতলিয় ভাবে ঘটতে পারে না। একজন বস্তুবাদী হওয়া সত্ত্বেও তিনি স্বীকার করেন এই প্রক্রিয়া কোন পরিকল্পনারই ফল, কাঁকতলিয় কোন ঘটনা নয়।
অন্য একটি আর্টিকেল এ তিনি বলেন “If you wanted to produce carbon and oxygen in roughly equal quantities by stellar nucleosynthesis, these are the two levels you would have to fix, and your fixing would have to be just about where these levels are actually found to be…A commonsense interpretation of the facts suggests that a super intellect has monkeyed with physics, as well as chemistry and biology, and that there are no blind forces worth speaking about in nature. The numbers one calculates from the facts seem to me so overwhelming as to put this conclusion almost beyond question” এই অলৌকিক প্রক্রিয়াটি তাঁকে এতোটাই বিস্মিত করে যে তিনি বলেন বিজ্ঞানীরা এই জ্বলন্ত সত্যটা কখনোই অস্বীকার করতে পারবে না। এটি এই মহাবিশ্ব, পৃথিবী এবং প্রান বা মানুষ সৃষ্টি যে একটি পরিকল্পনার ফসল তার একটি উজ্জ্বল প্রমাণ। তিনি স্বীকার করেন যে এই মহাবিশ্ব কাঁকতলিয় ভাবে সৃষ্টি হয়নি, কোনো উদ্দেশ্যেই এর সৃষ্টি। এটি সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহতায়ালার মহান সৃষ্টি। এ সম্পর্কে কোরআনে বলা আছেঃ

আমি নভোমন্ডল, ভুমন্ডল এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী যা আছে তা তাৎপর্যহীন সৃষ্টি করিনি। কেয়ামত অবশ্যই আসবে। অতএব পরম ঔদাসীন্যের সাথে ওদের ক্রিয়াকর্ম উপক্ষো করুন। (১৫:৮৫)

আমি এ আসমান ও যমীন এবং এর কাছের সমস্ত জিনিস খেলাচ্ছলে তৈরি করিনি।এসবই আমি যথাযথ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছি। কিন্তু অধিকাংশ লোকই জানে না।(৪৪:৩৮-৩৯)
৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×