আটলান্টিয়ানদের পরিচিতিঃ
আটলান্টিস শুধু একমাত্র মহাদেশ নয় যা সাগর গর্ভে নিমজ্জিত হয়েছিল। সেসময় Lemuria নামক বিশাল মহাদেশ ছিল যার সাথে Mu এবং Mar নামক দুটি দেশও ছিল। এর অবস্থান ছিল এখনকার প্রশান্ত মহাসাগরের স্থলে। আরও ছিল লুমানিয়া নামক মহাদেশ যা এখনকার ভারত মহাসাগরের স্থলে ছিল। বর্তমানে এসব মহাদেশের বিশাল পাহাড়ের চূড়াগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপের সৃষ্টি করেছে। যেমন ধারনা করা হয় Easter Island লিমুরিয়া এর একটি অংশ যেখানে এখনও একটি বিশালাকৃতির পাথরের ভাস্কর্য আছে, যদিও ভাস্কর্যটির শুধুমাত্র মাথার অংশটুকু সমুদ্র সমতলের উপরে রয়েছে।
এছাড়াও পৃথিবীর উত্তর অংশে Thule এবং Hyperborea নামক মহাদেশ ছিল যা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধ্বংস হয়ে গিয়ে বর্তমানে উত্তর মেরুর সৃষ্টি হয়েছে। ধারনা করা হয় যে দক্ষিন মেরুতেও অতীতে একটি মহাদেশ ছিল। এই মহাদেশগুলো কিভাবে এত উন্নতির শিখরে পৌঁছেছিল তা আজও রহস্যময় আবার এই সভ্যতার ধ্বংসও রহস্যময়।
আটলান্টিয়ানরা কারা এবং তারা কিভাবে জীবনযাপন করতো?- এসব প্রশ্নের উত্তর খোজার জন্য বিভিন্ন উৎস হতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ধারনা করা হয় প্রকৃত আটলান্টিয়ানরা ভিন্ন গ্রহ থেকে পৃথিবীতে এসেছিল প্রায় ৫০০০০ বছর পূর্বে। তারা দেখতে এখনকার মানুষের মতই ছিল। শুধু পার্থক্য ছিল তাদের দেহের দৈর্ঘ্যে। তারা প্রায় ৮ থেকে ১২ ফুট লম্বা দেহের অধিকারী ছিল। Book of Genesis এ এদের বর্ণনা পাওয়া যায়। আরও জানা যায় যে তাদের জীবনকাল ছিল ৮০০ বছর।
প্রায় সব প্রাচীন সভ্যতায় দৈত্যাকৃতি মানুষ জাতির কথা বলা আছে। এসব ৮ থেকে ১২ ফুট লম্বা মানুষের উপকথাগুলোকে মিথ ভাবা হতো। কিন্তু ১২ ফুট লম্বা মানুষের কিছু কঙ্কাল আবিষ্কৃত হওয়ায় প্রত্নতাত্ত্বিকরা বিস্মিত হন এবং বিজ্ঞানীরাও নড়েচড়ে বসেন। এছাড়াও স্প্যানিশ অভিযাত্রীদের লিপিবদ্ধ ইনকা অভিযানের ঘটনায় ৮-১২ ফুট লম্বা সোনালী চুল এবং নীল চোখের মানুষের বর্ণনা পাওয়া যায়। Genesis চ্যাপ্টার ৬ ভার্স ১৬ তে এসব বিশালাকৃতির মানুষের কথা বলা আছে এবং এর সাথে বলা আছে “"When the sons of the Elohim came unto the daughters of man, and they bore them children".
আটলান্টিয়ানদের প্রযুক্তিঃ
আটলান্টিয়ানদের প্রুযুক্তি, জ্ঞান এবং ধ্যানধারণা অন্যান্য প্রাচীন সভ্যতা থেকে ভিন্ন ধরনের ছিল। তারা চতুর্মাত্রিক এবং আধ্যাত্মিক বিষয়ের উপর পারদর্শী ছিল। সমসাময়িক অন্যান্য সভ্যতার তুলনায় প্রযুক্তিগত ভাবে আটলান্টিয়ানরা অনেক উন্নত ছিল। ধারনা করা হয় কিছু কিছু ব্যাপারে তারা এখনকার পৃথিবীর চেয়েও অগ্রগামী ছিল।
তাদের অর্জিত প্রযুক্তির মধ্যে অন্যতম একটি বিষয় হল ‘আবহাওয়া নিয়ন্ত্রন’, যার দ্বারা তারা প্রচুর খাদ্যশস্য উৎপাদনে সক্ষম ছিল। তারা পুরো বছরই প্রচুর খাদ্যশস্য উতপাদন করত। কোন কিছুরই অভাব ছিলনা তাদের। দুর্ভিক্ষ, দারিদ্র, ক্ষুদা ইত্যাদি তাদের স্পর্শ করতনা। কিন্তু এত প্রাচুর্যের মধ্যে থেকেও তাদের জীবনটাকে একঘেয়ে লাগতে শুরু করল। জীবনে পরিবর্তন আনতেই তারা অভিযান করে নতুন কিছু জানার নেশায়।
ভূতাত্ত্বিক ঘটনা যেমন অগ্নুৎপাত, জলোচ্ছ্বাস এসব কিছু তারা প্রভাবিত করত বলে ধারনা করা হয়। কিন্তু একসময় তারা তাদের চিত্তবিনোদনের জন্য অগ্নুৎপাত, জলোচ্ছ্বাস, লাভার ঝর্না এসব ইচ্ছেমত পরিচালিত বা নিয়ন্ত্রণ করতে থাকল। ধারনা করা হয় যে এভাবে একসময় তারা ভূতাত্ত্বিক এসব বিষয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং ধ্বংসের মুখে পরে।
আটলান্টিয়ানদের মধ্যে ক্রিস্টাল বা স্ফটিকের ব্যবহার বেস ব্যাপক ভাবে ছিল। তারা ক্রিস্টাল এর প্রতিসরণ, বিবর্ধন এবং সংগ্রহণ ক্ষমতার উপর প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেছিল। ক্রিস্টাল এর একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি কোন শক্তিকে বিবর্ধিত করে। এটি এর ভেতর দিয়ে গমনকারী শক্তিকে বিবর্ধিত করে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে নিয়ে আসে এবং এরপর তাকে স্থানান্তরিত বা ট্রান্সমিট করে বা বিক্ষিপ্ত করে। অপর একটি অনুরূপ ক্রিস্টালকে সংগ্রাহক বা রিসিভার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এরপর সেই রিসিভার ক্রিস্টালটি ট্রান্সমিটার হিসেবে কাজ করে যা অপর একটি ক্রিস্টালে শক্তি স্থানান্তর করে। আটলান্টিয়ানরা এমন একধরনের ক্রিস্টালের তৈরি বিশাল পিরামিডগুলোকে শক্তি নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যবহার করত।। বিষয়টা একটু গভিরভাবে ভেবে দেখুন। যখন পৃথিবীর একপ্রান্ত শক্তির উৎসের দিকে মুখ করে থাকে তখন ঐ প্রান্তের পিরামিডটি শক্তিটিকে বিবর্ধিত করে দূরবর্তী এবং সঠিক গননার মাধ্যমে স্থাপিত আরেকটি পিরামিডে শক্তি ট্রান্সমিট করে যা রিসিভার হিশেবে কাজ করে। এভাবে পর্যায়ক্রমে তারা শক্তি স্থানান্তরিত এবং ব্যবহার করত। এ পদ্ধতিতে যখন কোন পিরামিডে শক্তির ঘাটতি হয় তখন অপর পিরামিডগুলো তার প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে। খুবই সহজ সরল এবং কার্যকরী পদ্ধতি। কিন্তু নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে না চলায় পরে এ পদ্ধতি তাদের ধংসের কারন হয়েছিল। ( চলবে )
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ৮:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



