বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এম কে আনোয়ার এমপি বলেছেন, সরকার দেশে নাৎসী বাহিনীর মত অত্যাচার, নির্যাতন চালাচ্ছে। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি : বিপর্যস্ত মানবতা ও গণতন্ত্র' শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহিল মাসুদের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন সুপ্রীমকোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, উইং কমান্ডার এম হামিদুল্লাহ খান বীর প্রতীক, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য শামসুজ্জামান দুদু ও এডভোকেট আহমেদ আজম খান, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, জিয়া পরিষদ নেতা জাকির হোসেন প্রমুখ।
এম কে আনোয়ার আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ৭২ সালে অত্যাচার, নির্যাতনের কাহিনী শুরু করেছিল। এবার তারা অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। দেশে আইনের শাসন নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে হাইকোর্টের আদেশ লংঘন করে রাজনৈতিক নেতাদের আটক করা হচ্ছে। সরকার পিলখানা হত্যাকান্ডের চার্জশীটে বানানো রিপোর্ট দিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, পিলখানা হত্যাকান্ডের সময় দু'জন ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়, ঘটনার আগে-পরে অনেক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে মিটিং হয়, ঘটনার পর এক নেতাকে বিমানে দুবাই পাঠানো হয়, পরে আওয়ামী লীগ নেতারা দুবাই গিয়ে তাকে টাকা দিয়ে আসে। অথচ চার্জশীটে তাদের কোন নাম উল্লেখ করা হয়নি। সরকারের ওপর জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, তারা এ সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না মন্তব্য করে এম কে আনোয়ার বলেন, আওয়ামী লীগ তাদের অবস্থান বুঝতে পেরেছে, এজন্যেই তারা অত্যাচার, নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। তাদের সহায়তায় এ দেশে দূতাবাস, বিমানের নিরাপত্তার কথা বলে ভারতীয় বিভিন্ন বাহিনী আনা হচ্ছে। যাতে পরবর্তী নির্বাচনে তাদের কাজে লাগানো যায়।
তিনি বলেন, সরকার দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করার জন্য তারা গ্যাস, বিদ্যুতের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এখন দরপত্র ছাড়াই আওয়ামী লীগ নেতাদের বিভিন্ন প্লান্টের কাজ দিচ্ছে। কিন্তু এতে গ্যাস, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হবে না। সব টাকা নেতাদের পকেটে যাবে।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সরকার জামায়াত নেতাদের গ্রেফতার করে আদালত অবমাননা করেছে। গ্রেফতার না করতে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে আদালতকে কলংকিত করা হয়েছে। আইনের শাসন ধূলিস্যাৎ করা হয়েছে। তিনি বলেন, মানবতাবিরোধীদের বিচার করতে হলে ৭২-৭৫ সালে রক্ষীবাহিনীর হাতে যে ৩০ হাজার লোক হত্যা হয়েছিল তার বিচার আগে করতে হবে। বর্তমানে যে গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী কাজ হচ্ছে তারও বিচার করতে হবে। যারা পাকিস্তানী ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে ছেড়ে দিয়েছে তাদেরও বিচার করতে হবে।
তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধী বিচারে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। যারা তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের আটক করতে পারবে। কিন্তু বিমান বন্দরে আগেই ৪০ জনের তালিকা পাঠানো, কথায় কথায় যুদ্ধাপরাধী হিসেবে নেতাদের নাম উল্লেখ করা এটা কিসের ন্যায়বিচার ? শফিউল আলম প্রধান বলেন, ১৯৬৮ সালে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতার করেছিল। তখন কিন্তু পাকিস্তানী হানাদার সরকার শেখ হাসিনা বা কামালকে গ্রেফতার করেনি। কিন্তু আজ কামারুজ্জামান, কাদের মোল্লার ছেলেরা পিতার ওষুধ দিতে গেলে তাদের আটক করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এ সরকার পাকিস্তানী হানাদার সরকারের চেয়েও নিচে নেমে গেছে।
তিনি বলেন, দিল্লীর চাপের কারণে শেখ হাসিনা কথিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে হাসিনা শুধু ঘষেটি বেগমের ভূমিকা পালন করছে। সরকারের প্রতি জনগণের সমর্থন না থাকায় তারা এটা করছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

