লাল গাড়ি ও আমাদের লাল বালিকারা
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:১৬
একঃ
উঠানে উঠানে খেলে বেড়ায় চান মিয়ার বাচ্চাটা, দেখে চান মিয়ার বুক ভরে উঠতে চায়। বাচ্চাটার বড়ই সখ একটা লাল জামার, চান মিয়া টাকাও জমিয়েছে- এবার হয়তো একটা জামা কিনে দিতে পারবে বাচ্চাটাকে- লাল টুকটুকে একটা জামা। বাচ্চার, বাচ্চার মার কোন আবদারে সে সাড়া দিতে পারেনা সচারচর, এবারে বাচ্চাটাকে একটা জামা হয়তো দিতে পারবে- মনের ভিতরে একটা পুলক বোধ করে। কিন্তু তার এই ভাব বেশিক্ষণ দীর্ঘস্থায়ি হয় না; তার বদলে বাসা বাঁধে রাজ্যের দুশ্চিন্তা। বছর বছর জমি বেঁচতে বেঁচতে একটুকরা জমি এখন তার সম্বল, সেই জমি আর চুকানির একটা জমিতে ইরিধান লাগিয়েছে। সে দিন আর নেই, আগের তুলনায় ফলন বেড়েছে- তার তুলনায় বেড়েছে খরচ, ফসল হওয়ার পর সেটা বেঁচা আরেক ঝক্কি, দাম ওঠে না খরচের- একটাই ফল- ঋণের বোঝা মাথায় ওঠা আর বছর বছর জমি বেঁচা। একটা দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে আসে। উঠানের খেলায় রত গেদুটাকে দেখে বরং দীর্ঘশ্বাসটা আরো দীর্ঘায়িতই হয়, গেদুটার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে শংকা বোধ করে।
চান মিয়ার মাথায় রাজ্যের দুশ্চিন্তা- ফসলের কি গতি হবে, সময়মত মাটি যদি খাবার না পায়? পুরা সপ্তাহ ঘুরে সারের খোঁজ মেলে না কোথাও, সময় চলে যায়, এখনই যে সার দরকার। অবশেষে মিলেছে সার, কষ্টে-সৃষ্টে জোগাড় করতে পেরেছে টিএনওর কার্ড। তাই নিয়ে ছুটে চলে থানা সদরে, সাথে পাশের বাড়ির আজিজ মোল্লা। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুরে গিয়ে মেলে এক বস্তা করে সার; মাথায় যেন বাজ পড়ে- জমি যে খুব ক্ষুধার্ত, এতটুকুন খাবারে কি তার পেট ভরে? আজিজ তার বয়সে মুরুব্বি চান মিয়াকে বড় ভাইয়ের মতই মান্যি করে ও বিশ্বাসও করে- আর বিশ্বাস করে দিয়ে দেয় নিজের সারের বস্তা চান মিয়াকে- বলে, বাড়িতে পৌঁছে দিতে- কেননা সে যাবে একটু হাটে, কিছু বাজার সদাই করবে। হায়রে চান মিয়া, রাজ্যের দুশ্চিন্তা এসে তাকে বিশ্বাসী থাকতে দেয়না, বাড়িতে পৌঁছে জমির দিকে তাকিয়ে, ঋণের বোঝার কথা ভেবে, বাচ্চাটার ভবিষ্যতের কথা ভেবে, ........ আর পারে না, জমিকে দিয়ে দেয় দুবস্তা সার!
আজিজ এসে যখন সার চায়, চান মিয়ার চোখ তখন উদাস, বলে- জমির ক্ষুধারে ভাই, তারে খাওয়ায় দিছি তোরটা সহ, এই নে টাকা- বলে ট্রাংক থেকে টাকা নিয়ে আসে, নিয়ে আসে বাচ্চার লাল জামা কেনার জন্য রাখা টাকা সহ। আজিজ টাকার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে, সহসা উত্তর দিতে পারে না, তারপর ডুকরে কেঁদে ওঠে বলে, টাকা দিয়ে কি করুম- আমারে সার দাও। আজিজের জমিও যে কম ক্ষুধার্ত না, তার ঘাড়েও যে কম ঋণের বোঝা নেই, সেও যে কম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত না! চান মিয়া জবাব দিতে পারে না, কেননা সে জানে না কোথায় পাওয়া যায় সার। আজিজ সালিশ ডাকে।
চান মিয়া বোঝে সে চুরি করেছে, বাপ-দাদারা ছিল এলাকায় মান্যিগণ্যি, গরীব হয়ে গেলেও চান মিয়ারেও লোকে ভালো লোক বলেই মানতো; সেই চান মিয়া চোর হয়ে সালিশে যেতে চাইলো না। ফসল ও সার নিয়ে একবুক দুশ্চিন্তা, একগাদা ঋণের বোঝা, আর গেদুটার জন্য অশেষ উত্কন্ঠা ও শংকা নিয়ে চান মিয়া কীটনাশক গেলে।
গেদুটার জন্য লাল জামাটা তার আর কেনা হলো না।
দুইঃ
ময়নার মা চোখ ফেরাতে পারেনা যখন ওই লাল গাড়িটার দিকে চোখ যায়। রংটা টকটকে লাল, আলো পড়লে আলো ঠিকরে বেড়িয়ে আসে- এতই চকচকে। ইউনিফর্ম পরা ড্রইভার এক দৃষ্টিতে সামনে তাকিয়ে আছে, পেছনের সিটে বসে আছে এক সাহেব আর এক মেম। তার সাহেবের নাদুস-নুদুস বাবুটা যখন ব্যাটারি ঢুকিয়ে চাবি দিয়ে দেয়, তখন গাড়িটি দারুন একটা আওয়াজ করতে করতে চলা শুরু করে। ময়নার মা তখন অবাক হয়ে গাড়িটির দিকে তাকিয়েই থাকে। মনের গভীরে গাড়িটির জন্য লোভ অনুভব করে, সারাটা দিন একলা কাটে ময়নার সাততলা বস্তিতে। হাড়-জিরজিরে ময়নার মুখে খাবারটাও সবসময় ঠিকভাবে দিতে পারেনা- তারপরও ময়নার হাতে ওই লালগাড়িটা তুলে দেয়ার দুঃসাহসী স্বপ্ন দেখে। অবশেষে, গাড়িটি একদিন তার হাতে আসে, দিতে পারে ময়নাকে- তার আপা মানুষ খুব ভালো, গাড়িটি তাকে দিয়ে দেয়। হোক না, গাড়িটি এখন চলে না, হোকনা তা থেকে শব্দ বের হয়না- তারপরও গাড়িটি পেয়ে ময়নার খুশি আর ধরে না- ময়নার খুশি দেখে ময়নার মার খুশিও আর ধরে না।
একরাতে ঘরে ফিরে বস্তির অনেকের মুখে শুনে যে পরদিন নাকি বস্তি ভেঙ্গে দেয়া হবে। কথাটা অনেকের মত সেও গুজব বলে উড়িয়ে দিতে চায়, আগেও এমন গুজব অনেক শুনেছে তারা, বস্তিতে থাকলে এমন গুজব মাঝে-মধ্যেই শুনতে হয়- গুজবে কান দিতে নাই- কারণ কান দিয়ে করণীয় কি তাও যে তারা জানেনা!
কিন্তু এবার যে গুজব সত্য হয়, সকাল থেকে বস্তি জুরে আহাজারি শুনা যায়, যদিও সে আহাজারি সে কোলাহল উত্পত্তিস্থলেই হারিয়ে যায়, সামান্য পথও সে অতিক্রম করতে পারেনা, নিমেষে গুড়িয়ে যায় লাখো মানুষের মাথা গুজার ঠাঁই। গোছগাছের সময়টুকু পায়না, যতখানি যা পারা যায় শেষসম্বল হিসাবে টিকাতে পারে- তাই নিয়ে দাঁড়ায় খোলা আকাশের নীচে। ময়নার মাও ময়না সহ তার ঘরের যত্সামান্য জিনিসপত্রের মধ্যে আরো সামান্য কিছু নিয়ে খোলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে ঘরটির মাটির সাথে মিশে যাওয়া। ময়নার হঠাত করে লাল গাড়িটির কথা মনে পাড়ায় সে আনতে চায় গাড়িটি, কিন্তু ততক্ষণে তার গাড়ি-বাড়ি সব গুড়াগুড়া হয়ে মিশে গেছে মাটির সাথে। গাড়ি হারানোর বেদনায় ময়না চিত্কার করে কান্না শুরু করে দেয়। আর ঘর হারানোর বেদনায় নির্বাক ময়নার মা মেয়ের গাড়ি নিয়ে বিলাপ সহ্য করতে পারে না; সমস্ত আক্রোশ নিয়ে পাষাণ মা মেয়ের গালে মারে বিরাশি মণ ওজনের এক থাপড়। মা যেন ঘরহারা, অত্যাচারিত, প্রতিবাদী কোন মানুষ আর মেয়ে যেন রাজউকের কর্মকর্তা, র্যাব-পুলিশ-মিলিটারি।
মেয়ে যেন এই সরকার!
তিনঃ
ডকু তৈরির নেশা ও সমাজকে পাল্টে দেয়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে একদল তরুন ফুটেজ সংগ্রহ করছিল বিভিন্ন বস্তিতে গিয়ে, রাস্তায়, ফুটপাতে। এক ছুটির সকালে গিয়ে হাজির হলাম তাদের সাথে। তাদের ক্যামেরায় ও সামনাসামনি দেখলাম বাস্তুহারা, কর্মহারা বস্তিবাসীকে-হকারকে। ঘুরতে ঘুরতেই যাই সংসদ ভবনের সামনে। দেখি একটি টকটকে লাল গাড়ি দাঁড়িয়ে, গাড়ির অদূরে এক সৌম ভদ্রলোক, পাশে এক ভদ্রমহিলা আর কিছুদূরে ফুটফুটে একটি বালিকা- সেও লাল টুকটুকে একটা ফ্রক পরিহিত। এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করছে আর তার গর্বিত ও তৃপ্ত পিতামাতা লাল-বালিকাকে মাঝে-মধ্যে মৃদুমন্দ শাসন করছে। কি মনে করে যেন আমাদের টিমটি ওনার সাক্ষাত্কার নিতে চাইলো। ওনাকে এহেন অসময়ে ডিস্টার্ব করার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে অত্যন্ত পোলাইটলি রিকুয়েস্ট করায় ভদ্রলোক রাজি হলেন ক্যামেরার সামনে কিছু বলতে। বলাই বাহুল্য, ওনাকে বস্তি উচ্ছেদ- হকার উচ্ছেদ নিয়ে বলতে বলা হয়েছিল। ভদ্রলোকও জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেন।
:এই ঢাকাকে দেখেন, এটাকে কি মনে হয় একটা রাজধানী শহর? চারদিকে নোংরা আবর্জনা, টোটালি পোলুটেড আ সিটি দিস ইজ!
:হু উইল কাম টু ইনভেস্ট ইন সাচ এ পলুটেড সিটি?
:রাস্তায় চলাচলের কোন উপায় আছে? কেন রাস্তা দখল করে, ফুটপাথ দখল করে হকাররা ব্যবসা করবে?
:একটা রাজধানী শহরে কখনো বস্তি থাকতে পারে? বস্তিগুলোতে কি না হয়? ঢাকা শহরের সকল অপরাধের মূল ঐ বস্তিগুলো, জানেন বোধ হয়?
:বর্তমান তত্বাবধায়ক সরকার অবশ্যই করেক্ট এবং সাহসী ডিসিশন নিয়েছে এবং সে অনুযায়ি কাজ করছে। উই মাস্ট অ্যাপ্রিসিয়েট দেম।
:কিন্তু মানবিক দিকটাও আমাদের দেখা উচিত, পুনর্বাসনের বিষয়টিও আমাদের মাথায় থাকা উচিত। দ্যা গভরমেন্ট উইল ডু দিস। একবারে হবে না, তাদেরকে সময় দিতে হবে।
আমরা পঞ্চমুখ হয়ে বলি, আপনি তো দেশকে নিয়ে অনেক ভাবেন!
:না আসলে বেশি ভাবতাম না। ব্যবসার কাজেই এত ব্যস্ত থাকতে হয়!
:তবে ঐ মেয়েটি হবার পর থেকে সব পাল্টে গেল। ইনফ্যাক্ট ভাবতে বাধ্য হয়েছি। আপনারাই বলুন, কোথায় আমরা ওদেরকে নিয়ে এসেছি? ওদের ভবিষ্যতটাই বা কি? এখানে শ্বাস নেয়ার মত জায়গাও কি আমরা ওদের দিতে পারছি?
লাল-বালিকার দিকে চোখ যায়। লাল গাড়ির দিকে চোখ যায়।
মিনিট ১৫ আগে কথা হয়েছিল সর্বসান্ত এক মেয়ের সাথে। ফার্মগেটের কাছে ফুটপাথে পান-বিড়ি বেচতো, থাকতো কাওরান বাজার বস্তিতে। মনে পড়ে যায় তার কথা।
:আমরায় কোন দোষডা করছি? আমরা চোরে না ডাকাত যে আমাগো প্যাডে এমন লাত্থিডা মারলো?
:আমরায় থাকুম কোনহানে? কাম করবার না দিলে আমরায় খামু কি?
:আওমিলিগ দ্যাকছি। বিএনপি দ্যাকছি। অহন দ্যকতাছি ফকিরুদ্দিনের সরকার। গরীবের কথা কোন হালায় ভাবেনা, হগ্গোলি বড়লোকগো লাইগ্যা।
:পুনরবাসন দিব হুনছিলাম। কোই আমাগো কেডাও তো পায় নাই? ওগুলান বুজি না, আমাগো থাকার লাইগ্যা জায়গা দ্যান আর খাওনের লাইগ্যা কাম দ্যান।
এই মেয়েটিও বোধ হয় লাল কামিজ পরাছিল, টুকটুকে লাল।
আমাদের লাল-বালিকারা আজ কোথায় কেমন আছে জানিনা।
িনরুেদ্দশ নীহািরকা বলেছেন:
ফাটাফাটি
দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
৫
তাজুল ইসলাম মুন্না বলেছেন:
অনেক সুন্দর লিখেছেন।লেখাটি হৃদয় ছুয়ে গেল। প্রিয় পোস্টে রাখলাম ও ৫ দিলাম।
পজিটিভ বলেছেন:
সুন্দর পোস্ট। ৫
পজিটিভ বলেছেন:
নীল বাটন।
নগর বাউল বলেছেন:
খুব ভালো৫
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন:
৫,প্রিয় পোস্ট।
সিক্স স্ট্রিং বলেছেন:
৫
নিধিরামের থেকে অনুপ্রেরনা নিয়া চেষ্টা করতাছ বইলা খুশী হইলাম।
দিনমজুর বলেছেন:
@মাদারিএক নং এর ঘটনাটা পত্রিকায় পড়ার সময় কেঁদেছিলাম, আজ আবার কাঁদলাম।
আপনাকে ধন্যবাদ।
জুবুথুবু বলেছেন:
অদ্ভুত! লেখা ভাল হইছে। @মাদারিএইটাকি সাহিত্য না চাবুক? আর সস্তা সেন্টিমেন্ট!!!!!?????@মাথামোটা
মিরাজ বলেছেন:
অসাধারণ লেখা। ঠিক লেখা বলবোনা আমার দেশে নিত্যদিন ঘটে চলা ঘটনার মন খারাপ করা বর্ণনা। একদিন নিশ্চয়ই পরিবর্তন হবে, করতেই হবে।
একজন চান মিয়া আর একজন ময়নার মা যেন আমাদের খেটে খাওয়া কিন্তু সত মানুষগুলোর সত্যিকারের প্রতিনিধি।
এই পোষ্টটিকে প্রিয় পোষ্টে যোগ করলাম, সেটি এই পোষ্টের গুণে নয়, বাস্তবতাটাকে মনে রাখার জন্য।
মাদারি বলেছেন:
@মাতামুডাধন্যবাদ।
তয় কতা হোইল গিয়া, সাহিত্য কোরবার কুনু শখ বা ইসসা আমরার নাইক্যা। ঐ গুলান সাহিত্য কোরবার লগে ল্যাখি নাইও। একডা পড়ছি, আর বাকি দুইডা প্রত্যক্ষ করসি। আপ্নেরা যারা সুখে থাকেন- আম্রিকায় থাইক্যা মিনি ভ্যানে যাতায়াত করেন- ১৭ বছর বয়স থাইক্যা বিএমডব্লু, ভলবো.....ইত্যাদি গাড়ির সপনো দ্যাখেন, মিনি ভ্যান থাকোনের পরো বাহারি গাড়ির সপনো দ্যাখেন, আর হেই সপনো পুরোন না হওনের বেদনা পিতৃপেরেম দিয়া ভুলেন- তাগো কাসে উপ্রের ঘটনাগুলান সস্তা সেন্টিমেন্ট মনে হোইবো-এইডাই সাভাবিক! আপ্নেরা যান গিয়া সাহিত্য কোরেন, আমরার আপত্তি নাই।
আমরার নিজেরেই মনে হোইতাসে, আবালচোদা- গাধার বাচ্চা। নাহোইলে, এইডা বুঝোন তো খুবি সোজা যে- এইহানে এই বলোগে যারা আহে- তাগো অর্থনৈতিক কনডিসান ডাই এমন যে- সাধ্রান গরীবগো অভাব-অনটন বাচোন-মরোন তাগো কাসে সস্তা সেন্টিমেন্ট মনে হোইবো- আর এক বিত্তশালি লোকের গাড়ি না কেনবার বেদনা- আর পিতৃ পেরেম এ সমানে বাহোবা দিয়া যাইবো।
মাফ করবেন, মাতামুডা। আপ্নের পুশটে ঢুইক্যা কমেন্ট করসিলাম- কেননা আপ্নের পোরোফাইলের কতাডা ভাল লাগসিল। জানিনা- ঘুনে ধরা মানে আপ্নে কি বুজাইসেন। আমরার কাসে- এই বৈষম্যের সমাজডারেই বুজসি- আপ্নেরে তাই মনে হোইসিল- আপ্নেও এই বৈষম্যের অবসান চান!
আর আপ্নেরে গালি দিসিলাম- কারণ আপ্নে গালির পক্কে ল্যাকসিলেন- যাহোক- আপ্নের সম্পর্কে ধারণা হইয়া গ্যাসে- এই ধারণাডাটা আগে পাইলে হয়তো গালাগালিও কোরতাম না!!!
মদনবাবু বলেছেন:
এই পোষ্টটিকে প্রিয় পোষ্টে যোগ করলাম, সেটি এই পোষ্টের গুণে নয়, বাস্তবতাটাকে মনে রাখার জন্য।
নিধিরাম সর্দার বলেছেন:
নীল বাটনে টিপি দিলাম কিন্তু আমি স্বপ্ন দেখা বাদ দিলে কি যার যা পাবার পাবে
জেনারেল বলেছেন:
লেখাটা সুন্দর।শিরোনামটা ধারকরার জন্য লেখার মানটায় তার ছাপ পরেছে আর সেটা আরও স্পষ্ট হয়েছে আপনার মন্তব্যে, নিধিরামের উপর ক্ষোভ প্রকাশে
অেমাঘ অনল বলেছেন:
@মাথামোটাআপনাকে বড় সাহিত্য অনুরাগি মনে হইতেছে। সাহিত্য আপনাদের মানুষ দ্বারাই হইবে বলিয়া মন হইতেছে।
আপনাদের মতো মানুষদের নজরুলের ভাষায় বলিতে ইচ্ছা করে-
বন্ধু গো আর বলিতে পারি না, বড় বিষ-জ্বালা এই বুকে!
দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে।
রক্ত ঝরাতে পারি না ত একা,
তাই লিখে যাই এ রক্ত-লেখা,
বড় কথা বড় ভাব আসে না ক' মাথায়, বন্ধু বড় দুখে!
অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে!
অেমাঘ অনল বলেছেন:
"সাহিত্য আপনাদের মানুষ দ্বারাই হইবে বলিয়া মন হইতেছে" -ইহার স্থলে হইবে "সাহিত্য আপনাদের মতো মানুষ দ্বারাই হইবে বলিয়া মন হইতেছে"।আর গরীব লুকের কতা কইলেই মানব দরদী হইয়া যায় না।
এই দেশের বেশীরভাগ লুকেরই নুন আনতে পান্তা ফুরায়। হ্যগো এই দারিদ্রতা পুজি কইরা নিদিরামের সাথে পাল্লা দিয়া ছাগুর মত লেকা কি মানবতার লক্কন?
নিজের পুষ্টের সাতে না মিললেই কারাপ মনে করা ছাগলামির প্রথম পর্যায়।
আবালের মত নিজের ঢুল নিজে ভিন্ন ভিন্ন নিকে না পিটায়া মাইষেরে দিলে ভাল কইরা পিটাইব।
মাদারি বলেছেন:
.
মাদারি বলেছেন:
@নিধ্রামআপ্নে সপনো দেখন বাদ দিলে- যার যা পাওনের কতা তা পাইবো না, আর এই কতা কোইয়া আপ্নেও সপনো দেখন বাদ দিবেননা- আপ্নের সুখ-সামগ্রি পাওনও বন্দ কোরবেন না- এইডাও জানি।
তয়, ১০০ র উপ্রে যারা ৫ দিসে- হেগো মানসিকতায় একডা দাক্কা দেওন দোরকার বলে মনে কোরসি- হেরা আপ্নের এই জিনিসডারে লোইয়া লাফালফি না কোইরা জামাইল্যা বা মজুর ভাইজানের পুশট লোইয়া লাফালাফি কোরলে বেশি ভালা- এইডা মনে কোরি।
দ্যাহেন, আপ্নের মাইয়ার লাইগা আপ্নের টানরে আমরায় রেসপ্যাক্ট করি। তয়, সেই ল্যাখাডা যহন শুরু হোয় বিএমডব্লু, ভলবো এগুলানের সপনো দিয়া- তহন মনে হোইসে- এইডা আমাগো মাইনষগুলানের গপ্পো না- এইডা উপরতোলার গপ্পো। আর, মাতামুতা গরম হোয় যহন দ্যাহি- হাসিবের মত একসময়ের বামকর্মীও সমানে এইডারে ৫ দিবার জন্য হাকাইতেসে, মাতামুডারা হের লাইগ্যা পুশটাইতেসে। কোই জামাইল্যা বা মজুর ভাইজানগো লাইগ্যা হেরা এইডা কোরে না? আপ্নের এই ল্যাখায় একডা আবেগ আছে, তয়- ল্যাখার মানডা কি এমনই- যেইডার লাইগ্যা হাসিবগো অমন লাফালাফি করোন লাগবো??
মাদারি বলেছেন:
@মাথামোটাপ্রথমেই সরি করছি, আপনার পোস্টে ঢুকে আপনাকে গালাগালি করার জন্য, আপনাকে ভুল বুঝেছিলাম- মনে করেছিলাম, আপনারা অনেকটা অন্ধভাবে নিধিরামকে সাপোর্ট করে যান- ভুলটা ভেঙ্গেছে নিধিরামের কালকের এক পোস্টে আপনার কমেন্ট দেখে।
আপনার উপরের মন্তব্যের ব্যপারে বলছি-
প্রথমত, সাহিত্য করবার চেস্টা আমার ছিল না। তবে হুম- নিধিরামের ঐ পোস্টকে সামনে রেখেই আমার এই পোস্ট সাজিয়েছি। উপরের সত্য ঘটনাগুলোর একটা প্রভাব আমার মনে অবশ্যই ছিল, তবে এখানে দেয়ার ইচ্ছা আগে কখনই ছিল না। তবে- যখন- নিধিরামের ঐ পোস্টে সমানে ১১৮ জনে মিলে ৪.৯ রেটিং করা দেখি - তখন আমার বারবার মনে হয়, আমাদের দেশের মানুষগুলোর কি অবস্থা। তারা কি অবস্থায় আছে- তাদের পিতৃত্ব- মাতৃত্ব কেমন। হুম, এটার আরেকটি কারণও আছে- সেটা হলো- নিধিরামের কয়েকটি পোস্ট ও কয়েক জায়গায় দেয়া কমেন্ট। সেখানে দেখি- সে সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে কথা বলছে, বিদেশি বিনিয়োগের পক্ষে কথা বলছে, আন্দোলনের বিরুদ্ধে কথা বলছে- তখন তার সম্বন্ধে একটা ধারণা হয়ে যায়। আর এটা আমি এখনও মনে করি, সবকিছুর একটা উদ্দেশ্য থাকা উচিত, থাকেও হয়তো- আর কোন কিছুকে সে উচিত্যবোধ/উদ্দেশ্য দিয়েই বিচার করতে হয়। সে যখন ধর্ম নিয়ে কথা বলে- সেখানে তার উদ্দেশ্যটি আমার মনে হয়েছে- মানুষকে মুক্ত বুদ্ধি চর্চার দিকে নিয়ে যাওয়া না- ধর্মের কুমন্ডুকতা থেকে মানুষকে রক্ষা করা না- বরং মানুষের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দিয়ে এক ধরণের আনন্দ পাওয়া(আমরাও স্কুল লাইফে প্রথম প্রথম নাস্তিক্য অর্জনের পর এমনে মানুষরে খেপায় মজা পাইতাম)। এতে ঐ মানুষটিকে কি সে প্রকৃত মুক্তবুদ্ধির পথে আনতে পারবে???
আর, আমার এখানে সার না পাওয়া চাষির কথা বলা বা বাস্তু হারানো মানুষের কথা বলে নিজেরে মানবদরদী প্রমানের উদ্দেশ্য সামান্যতম ছিল না। আমি শুধু এটুকু চেয়েছিলাম- আপনারা শুধু এটুকু দেখুন- আমাদের মানুষদের সন্তানের প্রতি প্রেম টা কেমন? আপনারা দেখুন- আমাদের মানুষ কিভাবে সার না পেয়ে- ঘর না পেয়ে মরছে। আর, তাদের দারিদ্রকে পুঁজি করে সাহিত্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়ার কথা আমি কল্পনাও করতে পারছিনা- সাহিত্যিক হবার আকাঙ্খা আমার কোনো কালে ছিল না- এখনও নাই, এবং আমি যেহেতু আপনার ঘুনে ধরা সমাজটাকে পাল্টানোর স্বপ্ন এখনও দেখি- সেহেতু, মানুষ কেন্দ্রিক- মাটি ঘেষা লেখা বেশি পছন্দ করি।
আর, কোন লেখা মতের সাথে না মিললে তার বিরুদ্ধে কথা বলার মধ্যে কোন সমস্যা পেলাম না। এটাই তো স্বাভাবিক। এবং আমার মতের সাথে তথা আদর্শের সাথে সিরিয়াসলি কন্ট্রাডিক্ট করলে তো- তার বিরুদ্ধে তো অলআউট ফাইট করবোই। রাজাকারদের পোস্টে যখন ওরা 'মুক্তিযুদ্ধকে গৃহযুদ্ধ' বলে বা 'দেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই' বলে- তখন সেই পোস্টকে মন্দ বলবো না????
আর আমি কিন্তু নিধিরামের লাল গাড়ি ও লাল বালিকার গল্প পোস্টকে খারাপ একবারো বলিনি।
তার সাথে আমার চিন্তাগত কনফ্লিক্টের জায়গাটা হয়তো ইতিমধ্যেই পরিস্কার করতে পেরেছি।
পরিশেষে, আমার অন্য নিক নেই- সেটা দিয়ে মন্তব্য করারো প্রশ্ন নেই। তবে- কিছু ব্লগারের(হাতেগোনা- ২জন) সাথে আমার ব্যক্তিগত পরিচয়, নিয়মিত যোগাযোগ ও মতাদর্শগত মিল আছে।
মাদারি বলেছেন:
@জেনারেললেখার মান নিয়ে আমি মোটেও চিন্তিত ছিলাম না, সাহিত্য করা আমার উদ্দেশ্যও নয়।
এই লেখাটাই তৈরি করেছিই- নিধিরামের ঐ পোস্টকে কেন্দ্র করে- উদ্দেশ্য উপরের মন্তব্যে পাবেন।
নিধিরামের উপর ক্ষোভ প্রকাশ আমার কোন উদ্দেশ্য নয়- নিধিরামরা যে চিন্তা জেনারেট করছে ও অন্যরা তাতে যেভাবে বায়াসড হচ্ছে- তার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ ও সকলকে একটা ধাক্কা দেয়াটা আমার উদ্দেশ্য।
মিরাজ বলেছেন:
লেখাটি আবার পড়লাম। এইটার টপরেটে যাওয়ার দরকার ছিল ।
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
একমত@মিরাজ
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
নিধিরাম সর্দারের গল্পটা আগে পড়া ছিল না। শুধু এই পোস্টটা পড়েই ভালো লেগেছিল এবং মাথামোটার কমেন্টের আগামাথা কিছুই বুঝিনি তখন। পরে, মাদারির কমেন্টগুলো আর নিধিরামের লাল গাড়ি ও লাল বালিকার গল্প পড়ে- অনেক কিছু ক্লিয়ার হলো।আরো মুগ্ধ হলাম, মাদারির ক্ষমতা দেখে।
এই পোস্টের পরতে পরতে একটা তেজ আছে, সেটা আমাকে এট্রাক্ট করেছে- বেদনাই সব কথা না এখানে। তাই এই পোস্ট আমার খুব প্রিয়, প্রিয়তে রেখেছি।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
প্রিয়তে যোগ করা হইলো । অসাধারণ এই পোষ্টটি অনেক দেরিতে দেখলাম ।
তারার হাসি বলেছেন:
@ নেমেসিস , ধন্যবাদ আপনাকে। আমার শহরকে ভুয়া বলার অপরাধ ক্ষমা করে দিলাম। কারণ এই সুন্দর পোস্টটা আপনার প্রিয় লিস্ট এ ছিল।+ দিয়ে কি রেটিং হয় , জানি না।
অতি বাস্তব একটি পোস্ট ।
লিখে যান ।
নিহন বলেছেন:
+
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
লেখাটি সেই যুগে পড়ে ছিলাম,যে যুগে আমার নিক ছিলোনা,পোষ্টে ৫ দেওয়া যেতো।যাইহোক,আবারো পড়লামএবং একটি যোগ চিহ্ন দিয়ে গেলাম।যদিও এতে কিছু হবেনা,হয়না।


















গুড পোস্ট। ৫