somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিচিত্র পেশা-কেঁচো ধরা

২৬ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



জীবন জীবিকার জন্য মানুষ কত বিচিত্র পেশাই না বেছে নেয়। হঠাৎ করে সেদিন এমনই একটা পেশা চোখে পড়ল - “কেঁচো ধরা” যা আমার আগে জানাই ছিলনা। আমরা অনেকেই জানি যারা মৎস্যজীবি তারা কেঁচো খোঁড়েন মাছ ধরার জন্য। রাস্তার আশেপাশে লোহার আংটা দিয়ে কেঁচো খুঁড়তে দেখা যায় তাদের। কিন্তু মাটি না খুঁড়ে বিশেষ কায়দায় কেঁচো ধরার পদ্ধতিটি দেখলাম কিছুদিন আগে সুনামগঞ্জের এক প্রত্যন্ত গ্রামে।

দেখলাম একজন বৃদ্ধ তার নাতিকে নিয়ে কেঁচো ধরছেন। দুজনকে কেঁচো ধরতে দেখে থামলাম। দেখি মাটির ভেতর থেকে কেঁচো বের হয়ে আসছে আর দু’জনে সেগুলো ধরে সিমেন্টের খালি বস্তায় রাখছে। জিজ্ঞেস করলাম চাচা কিভাবে কেঁচো বের করলেন। চাচার জবাব, দাঁড়ান সিস্টেম দেখাচ্ছি। সবগুলো কেঁচো ধরার পর একটু পাশে সরে গিয়ে কেঁচোর নির্গত মাটি দেখে ঠিক করলেন নূতন একটি জায়গা। সেখানে পাশের একটা খাল থেকে এক টিন পানি আনলেন। পানির মধ্যে শুকনা কয়েকটি ফল ভিজিয়ে তা হাত দিয়ে কচলিয়ে কচলিয়ে ফলের কষ বের করতে থাকলেন। টিনের পানিকে তখন মনে হতে লাগল যেন হুইল পাউডার গোলানো হয়েছে কাপড় ধোয়ার জন্য। কি ফেনা! অবাক হলাম দেখে। চাচা বললেন এটা দিয়ে কাপড় ও ধোয়া যায়। জানতে চাইলাম ফলের নাম কি? বললেন রিটা ফল। কোথায় পাওয়া যায় জানতে চাইলে জানালেন দোকানেই পাওয়া যায়, ১০ টাকা শ (১০০ গ্রাম)।

এরপর সেই পানি ঐ জায়গায় ঢেলে দিলেন। আর যায় কোথায়, মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে মাটি ফুড়ে বের হয়ে আসলে লাগল গাদা গাদা কেঁচো আর দ’জনে ধরে ভরতে থাকল বস্তায়। দেখলাম অল্প একটু জায়গা থেকে বের হলো প্রায় আধা কেজির মতো কেঁচো। জিজ্ঞেস করলাম কত গুলো বড়শী আপনার? বললেন নিজের নৌকা, বড়শী কিছুই নাই, আমরা এগুলো বিক্রি করি। বুড়ো মানুষ, কামলা দিতে পারিনা, জাল নৌকা ও নাই, এই কাজ করতে তো ভাল লাগেনা কিন্তু কি করবো?

এই পেশাটি নাকি সুনামগঞ্জ অঞ্চলে নুতন নয়। কিন্তু আমার চোখে পড়ল নুতন। তবে এই পদ্ধতিতে অনেক মৎস্যজীবি নিজেরা মাছ ধরার জন্যও কেঁেচা ধরে থাকে, সবাই বিক্রি করে না। চাচার সিস্টেম দেখে আবারও রওনা দিলাম, ভাবতে লাগলাম, পেশা, কত বিচিত্র!

(কেঁচো ধরার ছবি দেখে লোকে কি কইবে তাই চাচা কোথাও ছবি ছাপাতে নিষেধ করেছিল, তার কথা রক্ষার্থে পূর্ণাঙ্গ ছবি দেওয়া হল না)
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৮:৫৯
১১টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×