আমার প্রিয় পোস্ট

চয়নিকা বইয়ের স্মৃতিময় অনুকাব্য

১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:২১

শেয়ারঃ
0 0

ছোট বেলায় যখন বড় ওয়ানে পড়তাম (গ্রামের স্কুলে শিশু শ্রেণী ও ১ম শ্রেণীকে যথাক্রমে ছোট ওয়ান, বড় ওয়ান বলা হত) তখন আমাদের স্কুলে একটা কবিতা ও গল্পের বই পড়ানো হত। এর নাম ছিল চয়নিকা। এই একই নামে ক্লাস টু তে ও একটি বই ছিল। যাহোক, ঐ চয়নিকা বইয়ের ছড়া গুলো আমার ছিল খুব প্রিয়। যখন সবে বানান না করে লাইনগুলো পড়তে শিখেছি (তবে একটু কঠিন ধরনের শব্দ হলে সেটা বানান করে নেওয়া লাগত) তখন থেকেই চয়নিকা বইয়ের ঐ কবিতাগুলো মুখস্ত করে ফেলেছিলাম। আজো ভাসা ভাসা মনে পড়ে আমার সেই প্রিয় কবিতা/ছড়া গুলোর দুই একটি। আর এগুলো মনে করতে করতে ফিরে যাই আবার সেই ছোট্ট বেলায়।
(কবিতার নাম কিংবা লাইনগুলো ১০০% হুবহু লিখতে পারলাম কিনা বলতে পারছিনা)

"পারিস কি তুই"
পারিস কি তুই শীতের ভোরে
দিঘীর জলে নামতে?
ডুবটি দিয়ে চুপটি করে
আপন মনে থাকতে?
পারবি নে তুই করতে এসব কিচ্ছু
কান্না জুড়িস হঠাৎ করে কামড়ে দিলে বিচ্চু।

"বেকার"
মামুদ মিয়া বেকার
তাই বলে কি সাধ নেই তার
বিশ্ব ঘুরে দেখার?
আসল যখন চেকার
মামুদ মিয়া বললে হেসে
ট্রেন কি তোমার একার?

"গান শেখা"
ওস্তদী গান শিখতে হলে ওস্তাদ কে মানো
তা না হলে হয়না শেখা কেউ কি তোমরা জান?
তাইতো হাবু শিখতে গেল খম্বাজ খাঁ র কাছে
খম্বাজ খাঁ র একটা ভাঙ্গা হারমোনিয়াম আছে।
সেইটি টিপে হাবু চেঁচায় সা....রে....গা.....মা
মা এর পরে পা রয়েছে শিখতে সারেগামা
খম্বাজ খাঁ বলেন এবার পা ধরে সাধ ব্যাটা
অমনি হাবু জড়িয়ে ধরে খম্বাজ খাঁ র পাটা
আমার পা নয় আমার পা নয়, সারেগামার পা রে
খম্বাজ খাঁ যতই চেঁচান হাবু কি আর ছাড়ে।

"রাম গড়ুড়ের ছানা"
রাম গড়ুরের ছানা
হাসতে তাদের মানা
হাসির কথা বললে বলে
হাসব না না না না।

 

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:২২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৪
বিডিআর বলেছেন: লিখতে পেরেছেন। দয়া করে আরো লিখুন। দিন গুলোর কথা মনে পড়লে কান্না আসে কেন যেন
১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৫

লেখক বলেছেন: সত্যিই দিন গুলোর কথা মনে পড়লে আনমনা হয়ে যাই যেন।

২. ১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৪
রিপঅন বলেছেন: মালয় দ্বীপের এক যে বোকা শেয়ালে,
মুরগি একে দেয়ালে,
আপন মনে চাটতে থাকে খেয়ালে।
১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৭

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, মনে পড়েছে

মালয় দ্বীপে এক যে বোকা শেয়ালে
লাগলে ক্ষিদে মুরগী এঁকে দেয়ালে
আপন মনে চাটতে থাকে খেয়ালে।

৩. ১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:৫১
মহলদার বলেছেন: এইসব ছড়ার স্কেঁচগুলো এখনো আমার মনে ভাসে পরিস্কার।
আরো ছিল- ঝালের পিঠা, ক্রিং ক্রিং টেলিফোন, গল্পের মধ্যে ছিল কুমির ও শিয়ালের গল্প, নুনের মত ভালবাসা ইত্যাদি।
৪. ১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৯
তারার হাসি বলেছেন:
ক্রিং ক্রিং টেলিফোন
হ্যালো হ্যালো হ্যালো
কে তুমি কাকে চাও
বল বল বল

আমি ম্যাও হুলো কাট
ইঁদুরকে চাই
ইঁদুর সাহেব বাড়ি আছে ?

আমি গেছি মার্কেটে
বাড়িতে নেই

ক্রিং ক্রিং টেলিফোন
হ্যালো হ্যালো হ্যালো
কে তুমি কাকে চাও
বল বল বল
------------------------------------------------------------------
যতটুকু পেরেছি লিখেছি, ভুল হতে পারে কিছু।

চয়নিকা আমার পাঠ্যবই ছিল না, আমার শৈশব কেটেছে বাংলার বাইরে। যখন কিছু বাংলা ছড়ার বই হাতে পেতাম যক্ষের ধনের মত আগলে রাখতাম।
তেমন একটা বই ছিল, ঠাকুরমার ঝুলি।
অনেক অনেক পরে, সাহেব বিবি গোলাম।

ধন্যবাদ আপনাকে।
১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:০৪

লেখক বলেছেন: প্রথম ছয় লাইন মুখস্ত ছিল এজন্য আর দিই নি। ভালোই তো মনে আছে আপনার ও। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

৫. ১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:০০
তারার হাসি বলেছেন:
চয়নিকা বইয়ের আরেকটা বিষয় আমাকে খুব আকর্ষণ করত তা হলে এর স্কেচগুলি।
১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:০৫

লেখক বলেছেন: একদম ঠিক বলেছেন। মনে এখন ও জ্বল জ্বল করে যেন।

৬. ১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:০৬
কাক ভুষুন্ডি বলেছেন: তারার হাসি ভুইলা গেসেন:(

ক্রিং ক্রিং টেলিফোন
হ্যালো হ্যালো হ্যালো
কে তুমি কাকে চাই
বলো বলো বলো?

আমি ম্যাও হুলো ক্যাট
ইঁদুরকে চাই
জরুরী আলাপ আছে
তুমি কে হে ভাই?

আমিই ইঁদুর তবে
কথা হলো এই
আমি গেছি মার্কেটে
বাড়িতেই নেই।

ক্রিং ক্রিং টেলিফোন
শোনো হে ইঁদুর
শুনবোনা শুনবোনা
দুর দুর দুর।

১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:০৯

লেখক বলেছেন: আপনি কি সেই সময়ের স্মৃতি থেকে তুলে দিলেন? ইস, আমি সেই স্কেঁচটি যেন দেখতে পাচ্ছি আপনার ছড়াটির পাশে। কি মধুর স্মৃতি!

৭. ১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:১৪
কুয়াশা ভোর বলেছেন: ইস !!!!!!! কি ছিল সেইসব দিন !!
১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:১৭

লেখক বলেছেন: আহ্ !!!!!!! কি ছিল সেইসব দিন !!

৮. ১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:১৭
তারার হাসি বলেছেন:
@কাক ভুষুন্ডি -- আপনার জন্য, আমরা চয়নিকা প্রেমীদের জন্য।
আমার মন খুব ভাল হয়ে গেল হঠাৎ করে।



এটাও দেখতে পারেন।
Click This Link
৯. ১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:১৮
আসিফুজ্জমান তমাল বলেছেন: ধন্যবাদ।বন্দে আলী মিঞার কোন কবিতা মনে থাকলে লিখুন প্লিজ।
১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৯

লেখক বলেছেন: ইস, মনে নেই যে এখন! এটা তো একটু বড় ক্লাসের;)

১০. ১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:২২
কাক ভুষুন্ডি বলেছেন: আহা কি দিন ছিলো। প্রথমে ভাবছিলাম আপ্নেরে মাইনাস দেই। ছোটো বেলায় ফেরত নেওনের্লিগা।
১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৮

লেখক বলেছেন: স্মৃতি হাতড়াতে কার না ভাল লাগে? কিন্তু আমরা কি সময় পাই সব সময় সেটা করার?

১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

১২. ১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫২
বড় বিলাই বলেছেন: কাঠফাটা সেই দুপুরে
কাকটা গেল পুকুরে
পানি খাওয়ার আমেজে
পুকুরপাড়ে নামে সে



এরপরের লাইনগুলো মনে নেই, এটুকু মনে আছে কাকটা নিজের ছায়া দেখে রাগ করে পানি না খেয়েই চলে গেছিল, সে মনে করেছিল অন্য একটা কাক পুকুরটা দখল করে রেখেছে।
১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৯

লেখক বলেছেন: এই যে, দিলেন তো আবার মনে করে আরো একটা......
কিন্তু আমার ও যে এর পর আর মনে নেই:(

১৩. ২০ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:১৫
তারার হাসি বলেছেন:
রাম গরুড়ের ছানা হাসতে তাদের মানা
হাসির কথা শুনলে বলে,
হাসব না, না না ।
সদাই মরে ত্রাসে - ঐ বুঝি কেউ হাসে
এক চোখে তাই মিটমিটিয়ে
তাকায় আশেপাশে।
রাম গরুড়ের বাসা ধমক দিয়ে ঠাসা,
হাসির হাওয়া বন্ধ সেথায়
নিষেধ সেথায় হাসা।
২৩ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১১:১৬

লেখক বলেছেন: বাহ্ বাহ্।:)

০৫ ই জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১:৪৬

লেখক বলেছেন: ঠিক, কি সব দিন ছিল!! (স্মৃতি কাতুরে ইমো)

 

মোট সময় লেগেছে ২.৮৬৫৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
এ মাটি ছিনিয়ে নিতে
কত বার ঝড় উঠেছে
এ মাটি ভাসিয়ে দিতে
কত বার বান ডেকেছে
কত যে বুকের পাজর
আড়াল করে...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই