দেখতে কি সুন্দর মাছটা। যেন হলদে ডোরা শাড়ি পরা বৌ। এ জন্যই বোধ হয় এর আরেক নাম বৌ মাছ। তবে বেশীরভাগ অঞ্চলেই মাছটি রাণী নামে পরিচিত। অন্য নাম ও আছে এর; যেমন-পুতুল, বেতি, বতিয়া, বেতাঙ্গী, ব্যাতরঙ্গী, ব্যাতাঙ্গা, বেটি, বুকতিয়া, নানিন। হাওর অঞ্চলে একে অনেকে নানিন নামেই ডাকে।
COBITIDAE পরিবারের অন্তর্গত মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Botia dario। তবে খানিকটা রাণী মাছের মত দেখতে এর আরো কিছু প্রজাতি আছে। হাওরে পাওয়া যায় এদের আরো ২-১টা প্রজাতি যাদের গায়ের ডোরাটা একটু আলাদা। সাইজে সর্বোচ্চ ১৫ সে.মি পাওয়ার রেকর্ড থাকলেও আমাদের দেশে সচারচর ৬-৭সে.মি. পর্যন্ত দেখা যায়। এদের দেহ লম্বা, পার্শ্বীয়ভাবে চাপা। মুখ ছোট, চার জোড়া স্পর্শী বিদ্যমান। গায়ে ৭-৮টি খাড়া গাঢ় বাদামী ডোরা থাকে। প্রতিটি বাদামী ডোরার পাশে একটি হলদে ডোরা থাকে। পুচ্ছ পাখনায় ২-৩টি বা অধিক ডোরা দেখা যায়। এদের খাল, বিল, হাওর, বাঁওড় ও নদীতে পাওয়া যায়। এরা কর্দমাক্ত তলদেশ পছন্দ করে। মাছটি বর্তমানে বেশ কম পাওয়া যায়। IUCN-এর বিপন্ন মাছের তালিকায় ইতোমধ্যে নাম লিখিয়েছে মাছটি।
এর স্বাদ যে কি চমৎকার তা যারা না খেয়েছে তারা বুঝবে না। তবে বর্তমান সময়ে এর স্বাদ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া বড়ই কঠিন। বলতে গেলে পাওয়াই যায় না বাজারে। বর্ষাকালে হাওর অঞ্চলের বাজার গুলোতে কিছু কিছু চোখে পড়ে, তবে দাম আকাশ ছোঁয়া।
ছবিঃ লেখক

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



