প্রবাসী ব্যাচেলরদের জন্য দর্শনধারী রেসিপি
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৯:২৯
![]()
আগের পর্ব - প্রবাসী ব্যাচেলরদের জন্য অতি সরল রেসিপি।
এইবার মাছের একটা দর্শনধারী রেসিপি
প্রবাসী এবং ব্যাচেলর হওয়ার পরেও কাউরে দাওয়াত খাওয়ানোর সখ মাথায় চাপলে এই রান্না করতে পারেন। এরপরে যদি দাওয়াত খাওয়াইতে খাওয়াইতে আপনার জান যায়, আমি দায়ী না ![]()
প্রথমেই শর্টকাট দেই। দোকানে ব্রেডেড ফিস ফিলে পাওয়া যায় ঐটা কিনা আনবেন। বিদেশে পাইবেন শিওর, দেশে আগোরা-নন্দনে পাইতে পারেন। এই শর্টকাটের জন্যই এই রান্না বিদেশে করতে সুবিধা
তবে এইটা না পাইলেও রেসিপি পড়া থামায়েন না, ঘুরা রাস্তা আছে। যারা ব্রেডেড ফিস ফিলে পাইছেন, তারা একটা প্যারা বাদ দিয়া চইলা যান
মাছের টুকরা একটা বাটিতে নেন। এবার আদা, হলুদ, লবন দিয়া মাইখা রাইখা দেন কিছুক্ষন। এরপর কর্ণ ফ্লাওয়ার একটু ঘন কইরা গুলাইয়া তার মধ্য মাছের টুকরা ডুবায় নেন। এইবার টোস্ট বিস্কুটের গুড়া বা ব্রেড ক্রাম্বে গড়ায় নেন। ব্যাস হইয়া গেল আপনার ব্রেডেড ফিলে।
এখন মাছ ভাজতে হইব। ফ্রাই প্যানে তেল ঢালেন। তেল গরম হইলে মাছ তেলে ছাইড়া দেন। কয়েকমিনিট পড়ে উল্টায় দেন। দুই পিঠ উল্টায় পাল্টায় ভাজেন, খুব কড়া কইরা ভাইজেন না কিন্তু আবার। মাছের রং হাল্কা বাদামি হইলে উঠায় ফেলেন। বাটিতে পেপার ন্যাপকিন বিছাইয়া তার উপর রাখেন ভাজা মাছ। বাড়তি তেল একটু কমব। বিয়ার আগেই হার্টের অসুখ বাধায় বসা ভালো কাজ হইবো না ![]()
এইবার ক্যাপসিক্যাম নেন কয়েক রঙের। লাল, সবুজ, হলুদ, কমলা যত রকম পারেন। ক্যাপসিক্যাম গুলারে টুকরা করেন ছবির মত কইরা। মোটামুটি দুইটা ক্যাপসিক্যাম পরিমান হইলেই হবে। এরপরে কড়াইতে তেল ঢালেন আবার। পেয়াজ কুচি দেন দেশী হইলে ৪-৫ টা, বিদেশী বড় হইলে একটাতেই চলব। পেয়াজ ভাজা হইলে (সাদাই থাকবে, বাদামি যেন না হয়) মসলা দেন। ব্যাচেলরের রেসিপির মসলা হইল ইচ্ছামত দেওয়ার জিনিস। হলুদ, মরিচ, ধনিয়া, জিরা যা আছে সব একটু একটু কইরা দেন। না থাকলে একটুও চিন্তার কিছু নাই, যা নাই বাদ। এরপর কাটা ক্যাপসিক্যাম দেন। দুই টেবিল চামচ টমেটো পেস্ট পানির সাথে মিশাইয়া ঢাইলা দেন। লবন দেন আন্দাজমত, আন্দাজের উপর ভরসা না থাকলে একটু কম কইরাই দেন। এইবার এর মধ্যে দিয়া দেন ভাজা মাছ। ঢাকনা দিয়া রাইখা দেন দশ মিনিট। মাঝখানে ঢাকনা তুইলা লবন টেস্ট করেন। খুব অল্প ঝোল মত থাকবো। দশ মিনিট পরে চুলা বন্ধ, রান্না শেষ।
গেস্ট থাকলে পাতিল থেইকা বাটিতে ঢাইলা সার্ভ করতে পারেন। যদি রান্না ভালো না হয়, তাহইলে রইয়া যাইতে পারে। সেইটা বাটিতে ভইরা রাইখা দেন, কি আর করবেন পরে কষ্ট কইরা নিজেই খাইবেন
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:৫৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: ট্রাই কইরা দেখেন। ভালো লাগার কথা ![]()
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
বেশি ঝামেলা মনে হইতাছে । এত ঝামেলা করবো কে ?ফিস ফিংগার বা কাটলেটই তো রেডিমেড পাওয়া যায় .. আইনা তেলে ভাইজা খালি খাও .. ব্যাস
লেখক বলেছেন: ফিস ফিংগার বা কাটলেট হইলেও সোজা ভাজায় চইলা যাইতে পারেন। ভাজার পরে ইচ্ছা করলে একটু কষ্ট করতে পারেন। ভাত দিয়া খাওয়ার জন্য জোস হয়।
লেখক বলেছেন: ভাইরে বাঙ্গালি তো- সারাদিনে একবারও ভাত না খাইলে কেমন জানি লাগে
দিনে একবেলা তো খাওয়া হয়ই।
তনুজা বলেছেন:
এতো ডিটেইলস রেসিপি......"ব্যাচেলরের রেসিপির মসলা হইল ইচ্ছামত দেওয়ার জিনিস। হলুদ, মরিচ, ধনিয়া, জিরা যা আছে সব একটু একটু কইরা দেন। না থাকলে একটুও চিন্তার কিছু নাই, যা নাই বাদ............লবন দেন আন্দাজমত, আন্দাজের উপর ভরসা না থাকলে একটু কম কইরাই দেন..............গেস্ট থাকলে পাতিল থেইকা বাটিতে ঢাইলা সার্ভ করতে পারেন.........."
হাসতে হাসতে শেষ.............+++
লেখক বলেছেন: এইটা কিন্তু ফান পুষ্ট না। কিন্তু হাসতে মানা নাই। খুশী মনে রান্না করার জন্যই এই রেসিপি ![]()
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
@তনুজা - হাসার কিছু নাই । আমি তো সকল রান্নাতেই সকল মসলা দেই। খাইতে একই রকম লাগে সব।
লেখক বলেছেন: হক কথা!! আমিও তাই করি ![]()
লেখক বলেছেন: উহু এটাতে মাছের গন্ধ একদম পাবেন না। ক্যাপসিক্যাম আর টমেটো পেস্ট তো এজন্যই। গন্ধের জন্য মাছ খেতে না পারলে এটা কাজে দেবে।
লেখক বলেছেন: রান্না করেন আর খাইতে বইসা যান ![]()
লেখক বলেছেন: কৃতজ্ঞ, আনন্দিত, আহলাদিত...
তনুজা বলেছেন:
@বিষাক্ত মানুষ হাসি পেয়ে গেলে কি করব? লেখক কি শুরুতে বলেছিলেন .'এইটা কিন্তু ফান পুষ্ট না' তাহলে আমি সিরিয়াস থাকতাম
পরিশেষে আবার হাসি পাচ্ছে
লেখক বলেছেন: হাসুন প্রাণখুলে... ![]()
লেখক বলেছেন: জ্বী জনাব। আপনার তো সুবিধা। প্রজা জ্বিনরাই সব কইরা দেয়, আমাদের তো রাইন্ধা খাইতেই হয় ![]()
মে ঘ দূ ত বলেছেন:
আমিও হাসছিলাম। শেষের প্যারাটা পরতে পরতে সারা মুখজুড়ে হাসি। নিজের রন্ধনকাহিনীর কথা মনে পরে গেল। "যদি রান্না ভালো না হয়, তাহইলে রইয়া যাইতে পারে। সেইটা বাটিতে ভইরা রাইখা দেন, কি আর করবেন পরে কষ্ট কইরা নিজেই খাইবেন
আমারটা অবশ্য আমার নিজের খেতেই ভয় লাগছিল। ফ্রিজে ঢুকিয়ে রেখে দিয়েছিলাম।
লেখক বলেছেন: এখন নিশ্চয়ই খুব ভালো রান্না করেন। খাইতে হবে একদিন। রান্না নিয়া ভোগান্তির হিস্টরি পোস্টান না কেন?
লেখক বলেছেন: আপনে পয়লা এই রেসিপি ট্রাই করলেন। কনগ্র্যাটস!!
বিডি আইডল বলেছেন:
রেসিপি পইড়া তো মনে হইলো মাইয়ার হাতের ছোয়া আছে!!আমি ওইদিন ২.৫ কেজির ট্রাউট আইনা সাইজ কইরা ফেলছি..সো কাটা-কাটিতে নো প্রবলেম....রান্নাটা জুইতের হয় না এখনও....এই রেসিপিটা বেশ ভালো মনে হইতাছে
লেখক বলেছেন: রেসিপিরও জেন্ডারায়ন!! রান্নাটা জাতে তুলনের ব্যবস্হা করেন, কয়দিন পরে তো নিজে একলাই রানতে হইব
আর দাওয়াতও নিশ্চয়ই দিবেন। খাইয়া যাতে লোকে বেশি দোয়া করতে পারে ![]()
আমি কাটা-কাটির চেষ্টাই করি নাই এখনো। কি দরকার বেহুদা যন্ত্রনার। একবার ভুলে আইশ ওয়ালা স্যামন কিনসিলাম, এছাড়া সবসময় কাটা-ধোয়া মাছই কিনি।
দূরন্ত বলেছেন:
দারুন রেসিপি দিছেন। কালকেই ট্রাই করমু....
লেখক বলেছেন: খাইয়া ফিডব্যাক দিয়েন কিন্তু ![]()
নীল-দর্পণ বলেছেন:
ভয়ানক মজা হইব মনে হইতাছে, কিন্তু কপালে নাই। থাকি বাপের হোটেলে, খাই মায়ের রেষ্টুরেন্টে। ভক্কর-চক্কর মার্কা এই রেসিপির কথা কইলে দউড়ানি দিবো।
লেখক বলেছেন: যতদিন পারেন এই আরাম কইরা নেন। এমন দিন আমাগোরও আছিলো
সুখ কপালে সইলো না
![]()
দূরন্ত বলেছেন:
আমি একটু বেশী কড়া করে রানছিলাম। মাছের সব টুকরা গুড়া গুড়া করে ফেলছি। স্বাদও অবশ্য হইছে জটিল...শুভেচ্ছা।
লেখক বলেছেন: যাক গুড়া কইরাই তো পেটে পাঠাইতেন
আগেই হইয়া গেছে আরকি ![]()
লেখক বলেছেন: এইটা কি কঠিন রেসিপি??
আপনি প্রথম তিন প্যারা বাদ দিয়া মাছ ভাজার প্যারা থেইকা পড়েন। এরপরে বলেন এইটা কঠিন কই। রাইন্ধা খাইয়া দেখেন, কষ্ট পোষায় যাইবো ![]()
দেবার্নব রায় বলেছেন:
টেরাই মারুম নে...।
লেখক বলেছেন: ওকে। কেমন হলো জানাবেন কিন্তু।
ক্যানন কার্ণেগী বলেছেন:
ভাইরে, বৈদেশে একা ছয়মাস থাকাকালীন এমন রান্নাই শিখছি (নিঝের ঢুল নিঝেই পিটাই....ডিংডিঙাডিং) এখন বউ আইস্যা খালি আমার রান্না খাইতে চায়। তাই আপনারটা আর নিজে ট্রাই নেবো না তবে বউরে দিতাছি.....স্যামন দিয়া ট্রাই দিবো খারান....
থ্যাংকু
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















