somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুরো ১১ঘন্টা দাঁড়িয়ে কাজ করি, বেতন দৈনিক দুই'শ টাকা

০৯ ই এপ্রিল, ২০১৩ বিকাল ৫:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'আমি কোমর বন্ধনী দিয়ে প্যান্টের ভেতর শার্ট গুজে ফিটফাট বাবু সেজে 'বসুন্ধারা সিটি'র এয়ার কন্ডিশন শোরুমে বসি। স্যরি বসার কথাটা মিথ্যা। একটানা ১১ ঘন্টায় দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করি। আর দিন শেষে বেতন পাই দৈনিক ২০০ টাকা। এ জন্য আমাকে টানা ৩০ মিনিটও বসতেও দেয়া হয় না। আমি অনার্স পাশ করে ঢাকা শহরে একটা চাকুরির সন্ধানে যখন ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম ঠিক তখুনি এই চাকুরিটা পাই।'

কথাগুলো একজনের মুখ দিয়ে বের হলেও এই কথাগুলোই হাজার তরুণের/তরুণীর বুকের ভেতরে্র আর্তনাদ এর শব্দ। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে বসুন্ধরা সিটি সহ অসংখ্য ছোট ছোট শপিংমল গুলোর সেলসম্যানদের বেতন কাঠামো খুবই নিম্ন মানের। এইসব শপিং মলের শোরুম প্রতিদিন ২০০টাকা ভিত্তিক অথবা মাস শেষে ৫ হাজার কিংবা বায়ান্ন'শ টাকা বেতন দেয়া হয়। যে যোগ্যতা চাওয়া হয় তাতেই এই বেতনের অর্ধেক টাকা চলে যায়। মলগুলোতে চাকরী যারা করে তাদের স্মার্ট হতে হয়, শার্ট কুচকানো থাকলে সমস্যা, শরীরে ফ্র্যাগ্রান্ট থাকা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আবশ্যিক।

এবার আসি কাজের সময়ের কথায়, রাজধানীর শপিং মলগুলোর মোবাইল এক্সেসরিস, প্রসাধন সামগ্রী, কাপড়, লেদার এক্সেসরিস, প্যান্ট শার্টের শোরুম এ যারা কাজ করে তাদের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শো রুমে দাড়িয়েই কাজ করতে হয়। এই ব্যাপারটা বেশি লক্ষ্য করা যায় ফ্যাশন ডিজাইনের শোরুম গুলোতে। ঢাকা্র অনেক নামীদামী ফ্যাশন ডিজা্নের প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের আলোঝলমলে শোরুম গুলো্তে নিয়োগ দেয় অসংখ্য স্মার্ট ছেলেমেয়েদের। আর এদের বেতন সেই নামের বেতন। অথচ এইসব ছেলেমেয়েদের খাটিয়ে নেয়া হয় ১১ ঘণ্টার উপরে। যে ছেলেমেয়েরা মে দিবসের মহান শিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে আসছে কিংবা উচ্চতর পড়াশোনা চালাচ্ছে তারা বাধ্য হয়েই সেই শিক্ষা বিসর্জন দেয়। যেখানে প্রয়োজন কজের-সেখানে একটা কাজ পেলেই যথেষ্ঠ ভেবে নিরবে কাজ করে যায় এই সকল ছেলেমেয়েরা। আর সেই সরল সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে কোটিপতি হয় প্রতিষ্ঠান গুলো। কখনো কোন গণমাধ্যমের চোখে পড়ে না এই ভদ্রোচিত নির্যাতনের ছবি।

আমাদের সমাজের উচ্চঘরের মানুষদের শপিংয়ের ব্যাগের ভেতর চলে যায় তথাকথিত চাকুরের আর্তনাদ। চোখে পড়ে না না পড়ারই কথা। সামনে আসছে মে দিবস। মে দিবস কে নিয়ে সোচ্চার হবে সংগঠন গুলো। তাদেরও চোখ এড়িয়ে চলে যাবে ঢাকার বিপনীবিতান গুলোর এইসব হাজার হাজার চাকুরেদের।




৩১টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ব্লাইন্ড স্পট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৭



ঘন কুয়াশার চাদর আর আঁকাবাঁকা সড়কের আড়ালে ‘পদ্মাডাঙা’ গ্রামটা দেখতে আর দশটা নীরব, নিরুপদ্রব পল্লীর মতোই। কিন্তু সাইবার অপরাধের মানচিত্রে এই জায়গার পরিচয় ভিন্ন। ফিশিং, ব্যাংক... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালিয়ানা ভোজ ও রুপালি ইলিশের স্বাদ

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

বন্ধু মারফত খবর পেলাম দেশের বাজার নাকি ভারতীয় ইলিশে সয়লাব। পদ্মার ইলিশের দাম কম, তাই নিম্নচাপ উপেক্ষা করে চলে গেলাম ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে। ঘাটে এসে দেখলাম পুরা বাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯


ভূমিকা
সকল নবি ও রাসুল প্রতি সালাম ও দুরুদ পর
দাউদের সুরে, মূসার পথে, ঈসার প্রেমের বাণী
মুহাম্মদের মরু পেরিয়ে শুনেছি যুগের ধ্বনি
কৃষ্ণের বাঁশি, বুদ্ধের ধ্যান, সুফির অন্তর সন্ধান
যোগীর তপে, মরমীর গানে খুঁজেছি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওমীলীগকে সম্পর্কে কি আপনার মনে এখন কোনো পজিটিভ চিন্তা উঁকি দেয়?

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×