পারিবারিক বন্ধন আমাদের চিরায়িত বাঙ্গালি সমাজে এক অনন্য দৃষ্টাণত রচিত হয়ে আসছে । যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই বন্ধনকে কোন বাহিরের শক্তি আলাদা করতে পারত না। মা, বাবা, ভাই বোন মিলে আর আশে পাশের আত্তিয় সজন মিলে একটা শক্ত বন্ধন গড়ে তোলা যায়। এতে করে ছেলে বা মেয়েটা অনেক কিছু শিখতে পারে । ভবিষ্যতে তা সে কাজ এ লাগেতে পারে । মানুষ এর মত মানুষ হয়ে উঠতে পারে ।
কোন সমস্যা হলে সে সহজে তা ঠিক করতে পারে। কারণ সে ছোটবেলা থেকেই শিখে এসেছে । তাই বাবা , মা এর প্রতি শ্রদধা অনেক জরুরি। আগে দেখা যেত যেমন বাবা বাহিরে বের হলেও মা থাকতেন ঘরে। ছেলে মেয়ের দেখাশুনা করতেন। তাদের সব আবদার, চাহিদা মা পুরণ করতেন। এতে করে শিশুদের মধ্যে মানসিক বিকাশ ভাল ভাবে গড়ে উঠত। বয়স যত বাড়ত ততই ছেলে বা মেয়েটা তার করনীয় সম্পরকে বুজতে পারত। ভাল কাজ করতে শিখত আর খারাপ কাজ কে ঘৃনা করত। একটা কথা এখানে বলাই যায় তা হল ছেলে বা মেয়ে রা তাদের বাবা আর মা কে দেখেই সব কিছু শিখে।
দেখা গেল তাদের বাবা, মায়ের সাথে খারাপ আচরণ করছে । এটা দেখে দেখে একদিন ছেলে বা মেয়ে টাও তাই করবে । এখনকার সমাজে পারিবারিক বন্ধনটা বলতে গেলে নেই। আর থাকেলও তা না থাকার মতই । যেহেতু এখন পারিবারিক বন্ধন টা কমে জাচ্ছে তাই চোট পরিবার বেড়ে যাচ্ছে । বাবা বাসায় সময় দেন না । মা বাসায় থাকেন না। দেখা যাচ্ছে ছেলে বা মেয়েটা থাকছে বাসায় একা অথবা থাকছে কাজের বুওয়া। এতে তাদের মধ্যে একাকিত্ত ভাবটা চলে আসছে ।
ইদানিং পরকীয়া বিষয়টা সমাজে প্রবল আকার ধারন করছে। কিছুদিন আগেই ৫ বছর এর এক শিশুকে হত্যা হয়েছে। মায়ের পরকীয়ার বলি হয়েছে সে। শিশুটির এখানে কি দোষ ছিল। মায়ের পরকিয়া দেখে ফেলাতে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কি আজব !!! মানুষ মধ্যে থেকে মনুষ্য বোধ কি কমে যাচ্ছে !!????
এরকম আরও অনেক ঘটনা হচ্ছে যা খবরের কাগজে আসে না সবসময়। আমাদের অগচরেই থেকে যায় তা। পরকীয়া দিন কে দিন বেড়ে যাচ্ছে । যা আমাদের সমাজকে কলুষিত করছে । পাপী করে তুলছে আমাদের । সমাজে এটা এখন এতটাই মাথাচারা দিয়ে উঠেছে যে থামানো যাচ্ছে না। আগে পরকীয়া কে গোপনে রাখা হত আর এখন সবার সামনে তুলে ধরা হচ্ছে । যেন খুব মাহাত্য আছে এতে !!!
পারিবারিক বন্ধন শক্ত না হওয়াতে এরকম বার বার হচ্ছে । বার বার আমরা আমাদের জীবনটা কে নস্ট করে দিচ্ছি । সামি এর প্রতি স্ত্রী এর ভালবাসা অথবা স্ত্রীর প্রতি সামি এর ভালবাসা এখন কমে যাচ্ছে বলেই হয়ত পরকিয়া বেশি হচ্ছে । এ থেকে কি মুক্তি এর কোন উপায় নাই??? কারণ এটা থামানো না গেলে আরও কঠিন কিছু হয়ত আমাদের দেখতে হবে!!! এ নিয়া পরে আরও কিছু লিখব আশা রাখি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

