somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মাহবু১৫৪
জীবনে সহজেই কোন কিছু পাবার আশা করাটা বোকামী। অনেক ঘাত প্রতিঘাত পার হয়েই আসতে হয় কাংক্ষিত লক্ষে। এই পথ এত সোজা নয়। অনেক ভুল ভ্রান্তি আছে সেই পথ চলায়। হয়তো আরো অনেক কোথিন হবে সামনের পথ টুকু। তারপর ও হার মেনে নেয়ার পক্ষে আমি নই। জয়ী যে আমাকে হতেই হবে।

শেষ হাসি

১২ ই অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৪:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রতিদিনকার মত আজকেও বাসা থেকে দেরি করে বের হতে হল রাজ এর । ঘুম থেকে উঠতেই তার যত আপত্তি । রাতেও ঘুমায় সে দেরিতে । তাই সকালে ঠিক মত ঊঠতে পারে না । আর ক্লাস মিস করে ফেলে সে প্রতিদিন । সে নিয়মিত ক্লাস এ স্যার দের বকা খায় । কিছুতেই এটা সে ঠিক করতে পারছে না ।

আজকেও সে দেরিতে বাস কাউন্টার এ এসে দাঁড়ায় । বাস আসতে দেরি করছে । তাই তার মেজাজ আজকে খুবই খারেপ । হঠাৎ কাউন্টার এ দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে রাজ দেখল একটি দৃশ্য । যা তাকে অবাক করল সাথে বিস্বয়েরও। পলকহিন চোখ এ সে তাকিয়ে রইল সে দিকেই ।

সে দেখল প্রায় ১০ বছর আগের স্কুলের এক বন্ধুকে । যে কি না কাউকে কিছু না জানিয়ে পরিবার সহ কোথায় জানি হাড়িয়ে গিয়েছিল । এরপর অনেক খুজেছে রাজ তাকে । কিন্তু কোথাও পায়নি দেখা তার ।

আজ অনেক বছর পর সে বন্ধুটি কে দেখতে পেয়ে খুব খুশি হল । এগিয়ে গেল তার দিকে । কাছে যেয়ে পরিচয় দিল রাজ । কিন্তু মেয়েটি তাকে চিনলো না । রাক একটু অবাকই হল যেন । ১০ বছর আগে রাজ এর সাথে বলতে গেলে রাজদের বন্ধু মহল এর সাথে ভালই খাতির ছিল মেয়েটার ।

খুব অবাক হল যেন রাজ !! পরে মেয়েটার সাথে থাকা এক ভদ্রমহিলা রাজকে ইশারায় একটু দূরে আসতে বলল । রাজ ইতস্তত করছিল কিন্তু তারপরও মহিলার কাছে গেল । মেয়েটাকে কোনায় এক পাশে রেখে মহিলা আর রাজ পাশাপাশি দাড়াল । রাজ প্রথমে খেয়াল করে নাই যে মেয়েটার সাথে তার কোন অবিভাবক আছে কি না ।

ভদ্রমহিলা রাজকে জানাল যে মেয়েটা গত ৫ বছর আগে একটা সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় প্রচন্ড আঘাত পায় । এতে তার আগের সব কথা, সে কি করত বা তার নিজের কথা সব সে ভুলে যায় । এখন সে তার নানি এর কাছে থাকে । কারণ তার বাবা আর মা সেই দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন । শুধু মেয়েটাই বেচে যায় সেই সময় ।

আরো অবাক হল রাজ যখন শুনল তার বিয়ের কথা চলছিল সেই সময় । ছেলে ঠিক ও করা ছিল । সেই দুর্ঘটনার আর ২ সপ্তাহ পরেই ছিল তার বিয়ে । কিন্তু সব পন্ড হয়ে যায় তাদের এই আকস্বিক ঘটনায় । এই কথা শোনার পর রাজ এর অনেক কষ্ট লাগে । সে আর কোন কথা বলতে পারে না ।

নিজের অজান্তেই চোখ থেকে তার পানি চলে আসে । আর সে ভাবতে থাকে পুরানো দিনের স্মৃতি । কতই না মধুর সেই সময়গুলো ছিল । কত উচ্ছল এক জীবন ছিল তার !! তার আগমনে সবাই খুব খুশি হত । কিন্তু আজ মেয়েটার এই অবস্থা দেখে রাজ এর খুব খারাপ লাগছিল । সে কি করবে বুজতে পারছিল না ।

আসতে আসতে সে মেয়েটার কাছে যেয়ে নিজের পরিচয় দিল । সে কি করত, বন্ধু দের কথা বলল, তাদের মধুর সেই সময় গুলোর কথা বলল, ক্লাস এর কথা বলে তাকে সব মনে করাতে চেষ্টা করল রাজ । কিন্তু কিছুতেই সে মনে করতে পারে না । পরে ভদ্র মহিলা এক সময় পাশে এসে রাজ কে বলে যে এভাবে করে আর লাভ নাই । কিছুই হবে না ।

রাজ এর আর কোন কিছু বলার থাকে না । শধু আফসস করতে থাকে সে । রাজ কে বিদায় দিয়ে ভদ্র মহিলা মেয়েটাকে নিয়ে চলে যেতে থাকে রিকশা করে। রাজ তাদের চলে যাওয়া দেখতে থাকে । আর কিছুই যেন করার থাকে না রাজ এর। কিন্তু হঠাৎ যেতে যেতেই মেয়েটা একবার পিছন ফিরে রাজ কে দেখে । আর একটা সুন্দর করে হাসি দেয় । রাজ ও ব্যাপারটা দেখে । সে একটু অবাকই হয় ।

কারণ যতক্ষন মেয়েটার সাথে কথা বলেছে সে ততক্ষন তেমন একটা কথা বলে নাই । হাসি হাসি মুখ করেও মেয়েটা ছিল না । একটা গম্ভির ভাব ছিল । তাই রাজ একটু অবাক হলো যেন । ততক্ষনে তারা অনেক দূর চলে গিয়েছে । রাজ তাই ডাকতে যেয়েও পারে নাই ।

রাজ ভুলে যায় তাদের বাসার ফোন নম্বর নিতে বা বাসা কোথায় তা জিজ্ঞেশ করতে । তাই যে ভাবে করে একসময় মেয়েটা হারিয়ে গিয়েছিল সে ভাবে করেই আবার তার চোখের সামনেই হারিয়ে গেল ।

আজ আর তার ইউনিভার্সিটি যাওয়া হচ্ছে না । কখন যে দুপুরে গড়িয়েছে তা সে টের পায় নাই । তাই সে বাসার পথ ধরল । আর একটা চাপা রহস্য রাজ এর মনের মধ্যে খেলতে লাগলো ।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×