গত ২৪ শে ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ফ্লপ এই অনুষ্ঠান। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম এ যেয়ে এই কনসার্ট দেখতে খরচ করেছেন অনেকে ২ লাখ টাকার মত। ডেস্টিনি গ্রুপ এর প্রধান পৃষ্টপোষোক ছিল। ফ্লপ অনুষ্ঠান হলেও ডেস্টিনি গ্রুপ দাবী করছে ধামাকা এক শো হয়েছে!!! বৈশাখী টি ভি তে দেখানোর কথা থাকলেও তারা তা দেখায় নাই। ATN Events এর দ্বায়িত্ব ছিল কনসার্ট পরিচালনা করা। আর তাই পুরো কনসার্ট সরাসরি দেখানো হয়েছিল ATN Bangla তে।
প্রথমেই আসি কনসার্ট উপস্থাপিকার কথায়। বাংলাদেশের কোন বড় শো তে ভাল উপস্থাপনা করার মত কাউকে পাওয়া যায় না। তারপর ও যাকে রাখা হয়েছিল তাকে রেটিং হিসেবে দেয়া যায় ১০ এ ৬। এত বড় একটা ইভেন্ট অথচ সেখানে তেমন ততপর সেচ্ছাসেবক, নিরাপত্তা রক্ষী ছিল না বলেই মনে হয়। কারণ বার বার উপস্তাপিকা মাইকে এ দর্শকদের উদ্দেশে বলে যাচ্ছিলেন টি ভি ক্যামারা, সাউণ্ড সিস্টেম আর সামনে থেকে সরে যাওয়ার জন্য। কিন্তু কে শোনে কার কথা। অক্ষয় যখন স্টেজ এ তখন সে নিজেও বলছিলেন সামনের জায়গাটা ছেড়ে দিতে।
বাংলাদেশের শিল্পীদের দিয়ে প্রথমেই গান পরিবেশনা করানো হয়েছে। জনপ্রিয় শিল্পী শুভ্রদেব গান পরিবেশনা করেছেন। কিন্তু চরম দৃষ্টিকটু লেগেছে তার গানের সাথে সাথে নাচানাচি করছিল কিছু অতিরিক্ত শিল্পী। সামনের ২ জন যেভাবে নাচছিলেন সেভাবে পিছনের শিপীরা নাচতে পারেন নি। তাল রাখতে পারছিলেন না। সামনের যেই মেয়েটি সাদা পোষাকে নাচানাচি করছিল তার চুল সামলাতেই বেস্থ ছিল সে। এরকম একটা বড় অনুষ্ঠানে এদের কে দিয়ে যেহেতু নাচাতেই হবে সেহেতু ভাল মত অনুশীলন করে আসাটা জরুরি।
লোকগানে ছিলেন ফরিদা পারভিন, কিরন রায়, চন্দনা মজুমদার তাদের গান পরিবেশনা করেছেন। তাদের নিয়ে বলার কোন অবকাশ নেই। তারপর ও কিছু বলতে গেলে প্রথমেই বলা যায় চন্দনা মজুমদার এর গান এর পরিবেশনা। তার গানের সাথে অনেক দর্শককেই দেখেছি গলা মিলাতে। বিশেষ করে সোনার ও পালংকে গানটির সাথে। এরপর ছিল নৃত্য পরিবেশনা। কিন্তু একটা ব্যাপার বেশ অবাক করেছে সেটা হল নৃত্য শেষ না হতেই ফ্যাশন শো এর মাঝে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। যা ফলে বোঝাই যাচ্ছিল এখানে বেশ পরিকল্পনার অভাব ছিল। দেশীয় হিট গানে পাশ্চাত্যের পোষাকে ফাশন শো। যা বেশ জগাখিচুরি একটা ব্যাপার ছিল।
সাকিব খানের পারফর্মমেন্স চরম বিরক্তিকর ছিল। বার বার নাচের তাল গড়মিল হচ্ছিল তার। তার সাথে যৌথ ভাবে যারা যারা নেচেছিলেন তাদের মধ্যে তিন্নিও ছিল। এক কথায় তিন্নির উচ্চ লিপিস্টিক মেখে মনে হচ্ছিল কোন তৃতীয় শ্রেনীর শিল্পী হবে। আর এটা যে তিন্নি সেটা বুঝতে বেশ সময় লেগেছিল। সাকিব খান তিন্নির সাথে বেশ ক্লোজ় হয়ে নাচছিলেন। পারলে চুমা দিয়ে দেন এমন।
ইভা আপুর পরিবেশনা নিয়ে আগেই একটা পোস্ট দিয়েছিলাম। পড়ে দেখবেন সবাই আশা করছি। বাংলাদেশের ভাল ভাল শিল্পীদের বাদ দিয়ে ৩ জন শিল্পী যাদের মধ্যে প্রতীক হাসান আর তার সাথে ২ জন নাম না জানা গায়ক গায়িকা কে দিয়ে গান পরিবেশনা করানো হয়েছিল। এই অনুষ্ঠান শুরুর আগে তাদের দিয়ে হয়ত কোন গান গাওয়ানোর কথা ছিল না। কিন্তু সেটাই করার হয়েছে। শ্রী লংকান ব্যান্ড শিল্পিদের পরিবেশনা খুব একটা পছন্দসই ছিল না।
ভারতের শিল্পীদের পরিবেশনা শুরুতেই দেখলাম আনুশকা কে। তার নাচের পরিবেশনা শেষ হওয়ার পর প্রীতম আসেন তার ব্যান্ড দলকে নিয়ে। বেশ মাতিয়ে রেখেছিলেন তিনি দর্শকদের। শীলা কি জাওয়ানী যারা দেখার জন্য বসে ছিলেন সেই ক্যাটরিনা আসার পর তার ফ্লপ ছবি কিন্তু হিট গান দিয়ে দর্শকদের মাত করেছেন। অক্ষয় কুমার তার চিরপরিচিত ঢঙ্গে এসেছিলেন উপর থেকে ক্রেনে চড়ে। উনি তার নাচ পরিবেশনা করার পর তিনি যে বাংলাদেশের হোটেলে ২৭ বছর আগে কাজ করতেন সেটা জানাতেও ভুলেন নি। তবে এটা সস্তির কথা যে অক্ষয় কুমার শাহরুখ খানের মত কোন আতলামী করেন নি।
সবাই অধীর আগ্রহে বসে ছিলেন সালমান খানের জন্য। কিন্তু তিনি এসেছেন অনেক দেরিতে। তবে তার আগে অনুষ্ঠান চালিয়ে নেয়ার জন্যই মঞ্চে আবার আসতে হয়েছিল প্রীতম এর ব্যান্ড দলকে। তাদের গানের তালে তালে দর্শকসারি থেকেও নাচানাচির ধুম উঠেছিল। টি ভি ক্যামারাতে দেখা গিয়েছে দর্শক সারিতে বসা ভদ্র মহিলা বসতে পারছেন না ২ টা অভদ্র মেয়ের কারণে। মনে হচ্ছিল ভদ্র মহিলার গায়ের উপর লুটিয়ে পড়বে তারা।
এরপর সেই কাক্ষিত সময় চলে আসে যখন সালমান খান আসে মঞ্চে। উপস্থাপিকার অযথাই চিল্লাচিল্লি কানে তালা লেগে যাওয়ার মত লেগেছে। জোরে জোরে না ডাকলে নাকি সালমান আসবেন না। এ জন্য এমন চিৎকার করতে বলা হচ্ছিল। সালমান খান মঞ্চে এসেই গানের তালে তালে তার নাচ দেখিয়েছেন। কিন্তু সবাইকে হতাশ করে তিনি বেশিক্ষণ ছিলেন না। কারণ মাইকে তিনি যে অনেক ব্যস্ততার ভিতরে ব্যাংকক থেকে এসেছেন সেটা জানিয়েছেন। শেষে বাংলাদেশের প্রশংসা করে এই দেশে আবারও আসবেন বলে বিদায় নিয়েছেন।
অনুষ্ঠান শেষের আগে জমজমাট আতশবাজীতে রাতের আকাশ প্রকম্পিত হচ্ছিল।
পরিশেষে এ টুকুই বলা যেতে পারে কারি কারি টাকা ঢেলেই যে কোন অনুষ্ঠান সফল করানো যায় না। কারণ কোন অনুষ্ঠান সফল করতে হলে সঠিক পরিকল্পনা, সুষ্ঠু বাস্তবায়ন অবশ্যই জরুরি।
বিঃদ্রঃ ছবি ভাল না আসাতে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১২:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



