somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মাহবু১৫৪
জীবনে সহজেই কোন কিছু পাবার আশা করাটা বোকামী। অনেক ঘাত প্রতিঘাত পার হয়েই আসতে হয় কাংক্ষিত লক্ষে। এই পথ এত সোজা নয়। অনেক ভুল ভ্রান্তি আছে সেই পথ চলায়। হয়তো আরো অনেক কোথিন হবে সামনের পথ টুকু। তারপর ও হার মেনে নেয়ার পক্ষে আমি নই। জয়ী যে আমাকে হতেই হবে।

গল্পঃ যে গল্পের কোন শেষ নেই :-*

১১ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১।
প্রতিদিনকার মত আজও ইকরামের বাবা এসে ছেলের গায়ে পানি ঢেলে দিয়ে চলে গেলেন। এটা ইকরামের কাছে নিত্যদিনকার ব্যপার। যখন খুব বেলা হয়ে যায়, সকাল গড়িয়ে দুপুর হতে থাকে, অফিস আদালতে লাঞ্চ এর সময় ঘনিয়ে আসতে থাকে তখন ইকরামের ঘুম ভাঙ্গে। এই অবস্থা সমসময় চলে আসছে। ছেলের এই করুণ অবস্থা দেখে বাবা নিজেও এখন বিরক্ত। আর ইকরামের মা ছেলের ধারে কাছে খুব একটা ঘেষেন না। কারণ উনি খুব ভাল মতই জানেন যে উনার ছেলে কারো কথা শোনে না।

বিছানায় পানি থাকা সত্ত্বেও ইকরামের কোন সমস্যা হচ্ছে না। দিব্বি ঘুমাচ্ছে পরে পরে। বাবা কিছুক্ষণ চিল্লাপাল্লা করে তারপর বের হলেন বাসা থেকে। ঠিক যখন দুপুর সাড়ে ১২ টা তখন হুড়মুড় করে কি মনে করে জানি বিছানা ছেড়ে উঠলো সে। ঝড়ের গতিতে বাথরুমে গেল সে। ফ্রেশ হয়ে যখন রুমে এলো ততক্ষণে তার মা টেবিলে খাবার খাওয়ার জন্য ডাকছেন। বাহিরে যাওয়ার প্রস্তুতি সেরে নিয়ে টেবিলে খাবার খেতে গেল সে।

মাঃ কি ব্যপার? এত মাঞ্জা মেরে কই যাও?
ইকরামঃ টিউশনী আছে।
মাঃ ভাল। কিন্তু এত সাজগোজ এর কি হল!
ইকরামঃ (মুচকি হেসে) ছাত্রীকে প্রেম নিবেদন করতে হবে আজকে!
মাঃ (ঠান্ডা মাথায়) ভাল তো। দেখো, আবার যেন গালে থাপ্পড় না খাও!
ইকরামঃ নো মাম্মি, সেরকম কিছু হবে না। বিলিভ মি।

ইকরামের মা ভাল মতই জানেন ছেলের এসব কাহিনি। তাই তেমন কিছু বললেন না।

২।
ইকরাম ৩ টা টিউশনী করায়। এর মধ্যে ২ জন ছাত্রী আর একজন ছাত্র। ইকরাম ২ জন ছাত্রীকেই পছন্দ করে। সে খুব ভাল মতই বুঝতে পারে যে তার ছাত্রীদ্বয়ও তাকে পছন্দ করে। ইকরাম আবার একজনের উপর ডিপেন্ড করতে পারে না। আধুনিক চিন্তা ভাবনা নিয়ে তার বসবাস। যত বেশি রিলেশন হবে ততই চয়েস করার একটা প্রবণতা থাকবে। সবসময় কুল টাইপ মনোভাব ধরে রাখতে ইকরামের জুরি নেই।

ইউনিভার্সিটিতে পড়াকালীন ইকরামের জুনিয়র ব্যাচের কয়েকজন মেয়ের সাথে রিলেশন ছিল। যেটা ইকরামের পরিবার খুব ভাল মতই জানতো। কারণ ইকরাম ওপেন মাইন্ডের এক ছেলে। খুব সহজেই সবার সাথে সবকিছু শেয়ার করতে পারে। বিশেষ করে বাবা কিংবা মা এর সাথে। অবশ্য তার এই কাজ কারবার জুনিয়র মেয়েদের অজানা ছিল। সে যাই হোক, আসল কথায় আসি।

বাসায় কলিং বেল টিপতেই ছাত্রী দরজা খুলে দিলো। আজকে তাকে বেশ অন্যরকম লাগছে। ইকরাম ভাল মত লক্ষ্য করলো এই ব্যপারটা।

ছাত্রীঃ স্যার, আ......পনি?
ইকরামঃ হ্যা, আমি।
ছাত্রীঃ আজকে তো আসার ডেট ছিল না।
ইকরামঃ তারপর ও আসলাম। কেন, কোন সমস্যা?
ছাত্রীঃ হু ...।। না। কোন সমস্যা না। আপনি বসেন। আমি আসছি।

প্রায় মিনিট দশেক পর ছাত্রী পড়তে এলো। তাও আবার শাড়ি পরে। এটা দেখে ইকরাম বেশ অবাক হল। তারপরও সামলে নিল সে।

ছাত্রীঃ স্যার, আমাকে কেমন লাগছে?
ইকরামঃ (ভাল মত তাকিয়ে) খুব সুন্দর লাগছে তোমাকে।
ছাত্রীঃ তাহলে আগে কেন বললেন না (অভিমানী চেহারায়)।
ইকরামঃ তোমাকে বেশি উড়তে দিতে মন চাইছিল না।
ছাত্রীঃ মানে?
ইকরামঃ hey stop! Come on baby! Wanna my better half?
ছাত্রীঃ (স্টাইলিশ ভঙ্গিমায়) What the hell !
ইকরামঃ OH! Come on !
ছাত্রীঃ আপনি একটা ইতর, প্রতারক। আপনার সম্পর্ক এ সব কিছু জানা আছে। আজকের পর থেকে আমাকে আর পড়াতে আসতে হবে না। Now go .

ইকরাককে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বাসা থেকে ইকরামকে বের করে দিল ছাত্রী।

যাহ! শালা! এইটাও গেল ! তাই আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলো -

ওরে মামু, এভাবেই কি কাটবে তবে সারাজীবন?

আপনারাই বলুন দেখি...............

এই গল্প শেষ হবার নয়। চলতেই থাকবে............ চলতেই থাকবে...............।

বিঃদ্রঃ একটি এক্সপেরিমেন্টাল গল্প।
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×