somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মাহবু১৫৪
জীবনে সহজেই কোন কিছু পাবার আশা করাটা বোকামী। অনেক ঘাত প্রতিঘাত পার হয়েই আসতে হয় কাংক্ষিত লক্ষে। এই পথ এত সোজা নয়। অনেক ভুল ভ্রান্তি আছে সেই পথ চলায়। হয়তো আরো অনেক কোথিন হবে সামনের পথ টুকু। তারপর ও হার মেনে নেয়ার পক্ষে আমি নই। জয়ী যে আমাকে হতেই হবে।

কোন এক রহস্যময়ী :-*:-*

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ১১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১।
ব্যাচেলার মানেই যত ঝক্কি ঝামেলা। যত দোষ আছে সব ব্যাচেলারদেরই। কোন দোষ না করেও আমরা তাই দোষী। বিশেষ করে যখন বাড়ি ভাড়ার জন্য আমাদের রীতিমত যুদ্ধ করতে হয় তখন বোঝা যায় কি পরিমাণ অসহায় আমরা। এইবার আসি আসল প্রসঙ্গে।
ঘটনার শুরু ঈদের ২ দিন আগে। আমি, রাজু, ইরাম এই ৩ জন মিলে সেদিন একটু রাত করে বাড়ি ফিরেছিলাম। তাও আবার রাত ১ টার পর। রাত যখন ১১ টা তখন বাড়িওয়ালা দরজা বন্ধ করে দেন। কেউ বাহিরে থাকুক আর না থাকুক এটা তার প্রতিদিনের রুটিন। ডুপ্লিকেট কোন চাবিও দেয়া হয় নি আমাদের। আর তাই ১১ টার মধ্যে বাসায় না ঢুকতে পারলে আমাদের সেদিন অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।

এমনিতেই ঈদের আগের দিন। এতদিন অফিস আর ইউনিভার্সিটি থেকে ছুটি পাওয়া যায় নি কাজের চাপে। তাই ছুটি পেয়েই আমরা গিয়েছিলাম শপিং করতে। আর তাই এই বিপত্তি। এদিকে দরজা বন্ধ পেয়েই আমার মেজাজ সেদিন চরমে উঠলো। ইচ্ছে করেই জোরে জোরে মেইন দরজা ধাক্কাতে লাগলাম। আমার সঙ্গে থাকা রাজু আর ইরাম তো ভয়ে জান যায় যায় অবস্থা। এই অবস্থায় তাদেরকে অভয় দেয়ার কোন ইচ্ছেই আমার ছিল না।

অবিরাম ধাক্কাধাক্কির শব্দে বাড়িওয়ালার মেয়ে উপর থেকে উকি দিল। কিন্তু কোন সাড়াশব্দ সে করলো না। রাস্তার আলো এবং তার রুমের আলো দেখে বুঝে গেলাম সে বেশ চিন্তিত আমাদেরকে নিয়ে। তার এত চিন্তা করার কোন কারণ আমি বুঝতে পারলাম না। এত সহানুভুতি আমি অন্তত তার কাছ থেকে আশা করি নি। যাই হোক, খানিক বাদে বাড়িওয়ালা পুরো বাসা মাথায় তুলে আমাদের ১৪ গুষ্ঠি উদ্ধার করতে করতে দরজা খুললেন।

বাড়িওয়ালাঃ কি ব্যপার? এভাবে ধাকাচ্ছো কেন? আদব কায়দা কি সব ঝেড়ে ফেলে দিয়েছো?
আমিঃ দরজা খুলছিলেন না তো, তাই একটু জোরে জোরে ধাক্কাচ্ছিলাম।
বাড়িওয়ালাঃ বলি, এটা কি তোমার মগের মুল্লুক নাকি? যখন খুশি আসবে আর যখন খুশি যাবে!

আমি কিছু বলতে যাচ্ছিলাম সে সময় ইরাম আমাকে কোন মতে থামিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে তবেই বাসায় ঢুকতে পারলো।

২।
২ দিন পর সকাল ১০ টা,
আমি ঘুমে ছিলাম। হঠাৎ মোবাইলের বিরক্তিকর শব্দে ঘুম ভাঙ্গলো। এই সময়ে সাধারণত আমি ঘুম থেকে ঊঠি না। তারপরও উঠতে হল এই কলের জন্য। মোবাইলে স্ক্রীণে দেখলাম কে ফোন করেছে। কিন্তু নম্বরটা পরিচিত মনে হল না। ফোন ধরতেই

ওপাশ থেকেঃ হ্যালো, ভাল আছেন? (মেয়েলী কন্ঠ)
আমিঃ ভালো। কিন্তু আপনি কে?
ওপাশ থেকেঃ আপনি আমাকে চিনলেও চিনতে পারেন।
আমিঃ (মেজাজ তখন সপ্তমে) এখন আমি কি করতে পারি?
ওপাশ থেকেঃ কিছুই করতে হবে না আপাতত।
আমিঃ ধুর! যত্তসব।
ওপাশ থেকেঃ (নিরবতা)
আমিঃ রাখলাম আমি। এভাবে ফোন দিবেন না আর।

ফোন রেখেই মোবাইল বন্ধ করে রাখলাম।

৩।
সেদিন রাত ১১ টা ৩০ মিনিট,
ক্লাসে আগামীদিন বিশাল একটা প্রোজেক্ট জমা দিতে হবে। আর সেটার কাজ করছিলাম বসে বসে। সেই সময় আবার শব্দ করে মোবাইলের চিৎকার। নম্বর অপরিচিত হওয়ায় ফোনটা ধরতে ইচ্ছে করলো না। তাই সাইলেন্ট রেখে আবার নিজের কাজে মননিবেশ করলাম। কিন্তু অনবরত ফোন আসা শুরু করলো। আর তাই না ধরে পারলাম না।

ওপাশ থেকেঃ কি ব্যপার? ফোন ধরতে কি খুব কষ্ট হয় আপনার?
আমিঃ আপনি! আবারো ফোন দিয়েছেন?
ওপাশ থেকেঃ কি করছেন? আপনার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলতে পারি?
আমিঃ (বিরক্ত হয়ে) আপনি কি চান? আর আমার নম্বর কোথায় পেলেন?
ওপাশ থেকেঃ আপনার সাথে ফেন্ডশিপ করতে চাই।
আমিঃ ভাল কথা। কিন্তু এখন আমার সময় নেই। আমি কাজ করছি।
ওপাশ থেকেঃ জানি, আপনি কাজ করছেন। আর যেই কাজটা করছেন সেটা আগামীদিন জমা দিতে হবে না। স্যার ২ দিন পিছিয়েছেন।
আমিঃ (অবাক হয়ে) কি! আপনি জানলেন কি করে?
ওপাশ থেকেঃ (অট্টহাসি)
কিছু না বলেই ফোনটা রেখে দেয়ার শব্দ হল।

৪।
সকাল ৯ টা,
তড়িঘড়ি করে স্যার এর রুমে প্রোজেক্ট নিয়ে প্রবেশ করলাম। স্যার আমাকে এই সময়ে আসতে দেখে বেশ অবাক হল। আমি যখন প্রোজেক্ট জমা দিবো তখন স্যার আমাকে বললেন ২ দিন পর জমা দিতে। আমি হতচকিয়ে গেলাম স্যার এর কথা শুনে। উনি জানালেন স্টুডেন্টদের সুবিধার কথা ভেবেই ডেট পিছানো হয়েছে। স্যার এর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমি কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। সেই অপরিচিত নম্বর থেকে যিনি ফোন করেছেন উনি কি করে জানলেন এই কথা? আমি কিছুতেই এর রহস্য উদঘাটন করতে পারছিলাম না। মোবাইল বের করে সেই নম্বরে বেশ কয়েকবার ফোন দিলাম। কিন্তু সিমটা বন্ধ পেলাম।
এর কিছুক্ষণ পরেই সেই নম্বর থেকে ফোন এলো।

আমিঃ হ্যালো, আপনি কি করে জানলেন খবরটা?
ওপাশ থেকেঃ আমি তো আগেই বলেছিলাম। বিশ্বাস হল এবার?
আমিঃ (মুচকি হেসে) হ ম ম, হল। তা আপনি কে এইবার আমাকে বলেন।
ওপাশ থেকেঃ আমি আপনার শুভাকাঙ্খী। এতটূকুই বলতে পারি।
আমিঃ এত রহস্যের কি আছে?
ওপাশ থেকেঃ সেটা বুঝবেন না।
আমিঃ আপনাকে সামনা সামনি দেখতে চাই।
ওপাশ থেকেঃ তাহলে পিছনে ঘুরুন।
আমিঃ (পিছনে ঘুরে) কৈ, কেউ তো নাই।
এই সময়ে ফোন কেটে গেল। আমি চেষ্টা করেও আর লাইন পেলাম না।

৫।
ভোর ৬ টা,
ফোন বেজে উঠলো। ধরতেই
ওপাশ থেকেঃ জানি ঘুমুচ্ছেন আপনি। তারপরও ফোন দিলাম।
আমিঃ (ঘুম ঘুম চোখে) ও আপনি? তা, কি মনে করে?
ওপাশ থেকেঃ আজকে আপনাদের বাড়িওয়ালা আসবেন বাসা ছেড়ে দেয়ার কথা বলতে। তাই আগে থেকে প্রস্তুতি নিন।
আমিঃ (তড়াক করে উঠে) বলেন কি? তা আপনি জানলেন কি করে?
ওপাশ থেকেঃ আমি জানি।
আমিঃ কিন্তু কেন?
কোন কথা না বলেই ফোন রেখে দেয়ার শব্দ পেলাম।

সকাল ১০ টা ৭ মিনিট,
কলিং বেলের আওয়াজ শুনে দরজা খুললাম। খুলে অবাক হওয়ার আর বাকি থাকলো না। বাড়িওয়ালা আর তার বউ আমার সামনে দাঁড়ানো।
বাড়িওয়ালাঃ দেখো বাবা, তোমাদের তো বাসাটা ছেড়ে দিতে হবে।
আমিঃ কিন্তু আংকেল, কেন?
বাড়িওয়ালাঃ আসলে আমার বড় ছেলে বিদেশ থেকে ফিরছে। তার ইচ্ছে এখন থেকে দেশেই থাকবে আমাদের সাথে। তাই আমাদের এই সিদ্ধান্ত।
আমিঃ আংকেল, আপনি বলেছেন। এখন তো আর না করা যায় না। ঠিক আছে। আমাদের এই সপ্তাহটা সময় দিন।
বাড়িওয়ালাঃ ঠিক আছে। দিলাম।

তাঁরা চলে যাওয়ার পর আমি যতটা না অবাক হয়েছি বাড়ি ছাড়ার কথা শুনে ততটাই বেশি অবাক হয়েছি সেই অপরিচিত ফোন কলের মালিকের কাজকারবার দেখে।

৬।
শতবার চেষ্টা করেও তাকে যখন পাচ্ছিলাম না তখন হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দিলাম। কিন্তু নতুন বাসা নেয়ার পর আবার সেই নম্বর থেকে ফোন এল একদিন।
ওপাশ থেকেঃ নতুন বাসা নিয়েছেন?
আমিঃ আচ্ছা, আপনি কি করে বুঝে যান সব?
ওপাশ থেকেঃ আমি তো আগেই বলেছি যে আমি আপনার শুভাকাঙ্খী।
আমিঃ আমাদের কি কখনও পরিচয় বা দেখা হবে না?
ওপাশ থেকেঃ হয়তো বা না! এভাবেই চলুক।
ফোন রেখে দেয়ার শব্দ পেলাম ওপাশ থেকে

এরপর থেকে সেই ফোন আমার জীবনের একটা বড় অংশ হয়ে ধরা দিল। আমি যেকোন কাজ করার আগে সেই ফোন কল পাই। আমাকে কি করতে হবে বা কি করলে ভাল হয় কিংবা কোনটায় মন্দ হবে সবকিছু এখন সেই রহস্যময়ীই বলে। আমি বাধ্য ছেওলের মত শুনে যাই তার বাণী।

এভাবেই চলছে আমার জীবন। হয়ত এভাবেই চলবে বাকিটা জীবন।



বিঃদ্রঃ এটি ১টি কাল্পনিক গল্প। বাস্তবের সাথে এর কোন মিল নেই।
২৯টি মন্তব্য ২৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×