আমাদের ছোট ৫ বছুরে কন্যাটি কথাবার্তায় খুবই হুশিয়ার (মাশাল্লাহ)। বর্তমানে সে মোটামুটি ভাষাবিদ ও দার্শনিক হিসেবে আমাদের কাছে পরিচিত। তার প্রতিভার ষ্ফুরণ প্রতিনিয়ত সে দেখাচ্ছে এবং তার মেজাজে আমাদের সবার বাক্য স্তম্ভিত।
কয়েকটা উদাহরণ দেই-
গত মার্চ মাসের শেষে আমরা সবাই মিলে গেলাম প্রিন্স বাজারে। মাসের বাজার শেষে আমরা দুই রিক্সা নিয়ে রওয়ানা হয়েছি। ভাগ্যক্রমে (!) সে আমার রিকসায় । কিছুদুর আসার পর সে আমাকে বললো বাবা আজকে তোমার অনেক টাকা খরচ হয়ে গেল না! আমি সায় দিলাম অনায়াসে ভাবলাম আমার মেয়ে বাপকে বুঝতে শিখছে। কিসের কি, কিছুক্ষণ পরেই সে বেশ বড় নিশ্বাস ফেলে বললো ’অবশ্য তাতে আমার কিছু আসে যায় না, কিন্তু তোমার তো বাবা যায় আসে তাইনা! আমার তো প্রায় রিক্সা থেকে পড়ার দশা।
কয়েকদিন আগে আমার শ্বশুর এসে বললেন, শোনো বাবা, তোমার তো গাদা গাদা টাকা। ওখান থেকে আমাকে কিছু দাও। আমি অবাক হঠাৎ কি হলো। জিজ্ঞাসা করলাম কেন কি হয়েছে? উনি বললেন, ‘শোনো, তোমার ছোট মেয়ে স্কুল থেকে আসার পথে চকলেট চেয়েছিল, আমি বললাম টাকা নাই। সে আমাকে বললো, নানাভাই আমার বাবার কাছে গাদা গাদা টাকা আছে, সেখান থেকে নিয়ে তোমাকে দিলে তুমি আমাকে বেশী করে চকলেট কিনে দিও।’
২/১ দিন আগে সে বিছানায় শুয়ে শুয়ে হঠাৎ আমাকে বললো বাবা টাইম কতো? আমি ঠাট্টা করে বললাম টাইম কিরে? সাথে সাথে উঠে বসলো - কেন তুমি টাইম জানো না! ঘন্টা, মিনিট এসব। আগে তো তুমি ঘড়ি চিনতে এখন চিনোনা? আমি সোজা টেলিভিশনের সামনে।
গতকাল সে তার মহান আবিস্কারটি সকালেই আমাদের সাথে শেয়ার করেছে। শুক্রবার দিন, আমি আলস্যে বিছানায় সেবা প্রকাশনীর একটি বই হাতে । আমার ক্ষুদে বহুভাষাবিজ্ঞানী মেয়ে আমাকে বললো, বাবা শোনো, ইংরেজিতে ওয়াই মানে বাংলায় উ-কার হয় তাইনা? আমিতো অবাক, মেয়ে বলেকি! জিজ্ঞাসা করলাম কিভাবে হলো এটা? সে বললো আমি কম্পিউটারে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি ওয়াই তে চাপ দিলে উ-কার হয়।
পাঠক সত্যাসত্য বিচার করার ভার আপনাদের উপর কিন্তু আমাদের দুটো মেয়ের জন্য দোয়া করবেন ওরা যেন ভাল মানুষ হয়ে উঠতে পারে।
সবাইকে বৈশাখের শুভেচ্ছা। নতুন বছর আমাদের সবার জন্য আনুক সুস্বাস্থ্য ও সফলতা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


