ভস্ম হই। মৃত্যুর চুমু আমার কপোল ছুঁয়ে যায়। বেঁচে উঠি আবার। নতুন দিনের আশায়। বেঁচে উঠি বারবার।

ঢাকায় এই কয় সপ্তাহ
২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:২৩
অনেক লম্বা রুট ঘুরিয়া ক্লান্ত হইয়া যখন ঢাকায় পৌছাইলাম কাচের দেয়ালের ওপাশ হইতে পরিচিত মুখদের দেখিয়া জানে পানি আসিল। তাহার পর ঘন্টা দেড়েক উদ্্বিগ্ন হইয়া মালপত্রের প্রত্যাশায় দাঁড়াইয়া থাকিয়া, তাহা সংগ্রহ করিয়া, কাস্টমস পার হইয়া, লাখো জনতার ভিড় ঠেলিয়া যখন গাড়িতে চড়িলাম তখন বিষম অসুস্থ বোধ করিতেছিলাম। রাস্তাগুলির সংকীর্নতা দেখিয়া আমার বিষম ভয়ই বোধ হইতেছিল। মানুষ বড় সহজেই ভাল জিনিসে অভ্যস্থ হইয়া যায়!
10 ই ডিসেম্বর আমাদের বিবাহ বার্ষিকী ছিল। তখন সেমিস্টার শেষ হইতেছে, উপরন্তু ঢাকায় আসিবার প্রস্তুতি চলিতেছিল। তাই উহা তেমন আড়ম্বরপূর্ণভাবে পালন করা হয় নাই। কেবল রাত্র 2টায় ওয়ালমার্ট গিয়া একটি চকোলেট কেকের ধ্বংস সাধনের মাধ্যমে পালন করিয়াছিলাম। 14 ই ডিসেম্বর ঢাকায় পৌছাইয়াই আমাদের সারপ্রাইজ স্বরূপ আমাদের চিত্র সম্বলিত ম্যারেজ ডের কেক দেখিয়া আনন্দিত হইলাম। টুকটাক গল্প গুজব আর সবার জন্য নিয়া আসা উপঢৌকন আদান প্রদান করিয়া দিনটি পার করিলাম।
পরের কয়েকটা দিন চলিয়া গেল জেট ল্যাগ, এমআইটি এপ্লিকেশন এই সমস্ত নিয়া। নেট লাইনের অনেক উন্নতি হইয়াছে শুনিয়াছিলাম, হতাশ হইলাম ব্যবহার করিতে গিয়া। সকাল 8/9 নাগাদ সাইবার ক্যাফেতে গিয়া এপ্লিকেশন ফরম পুরন করিতে করিতে দেখিলাম জনৈক যুবক ভাই এই সাত সকালেই পনের্া দেখিতে দেখিতে, কিছুক্ষন বাদে বাথরুম গিয়ে ঠান্ডা হইয়া ফিরিলেন। দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়া ভাবিলাম, আহারে! যুবা ভাইয়েদের এখনো সাইবার ক্যাফেতে বসিয়া জ্বালা মিটাইতে হয়!
তারপর আরও কিছুদিন চলিয়া গেল খালাতো ভাইয়ের বিবাহ, নিজের শ্বশুর বাড়িতে থাকা উপলক্ষ্যে সময় কাটানো। নেটের অভাবটা লাগিয়াই ছিল। দেখা হইলো রাগইমন, কৌশিক এবং অপ্রত্যাশিত ভাবে ব্রাত্য রাইসু, মাহবুব মোর্শেদ এদের সাথে। তারপরের দিন সামহোয়ারইনে গিয়া দেখা হাসিন, তানভীর, শাহানাদের সাথে।
এরমধ্যে ঈদ চলিয়া আসিল এবং চলিয়াও গেল। দেখা হইলো আরও কয়েকজন ব্লগারের সাথে। মাঝখানে কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত হইয়া পড়িলাম। সাহায্য করিতেছিল আমার ছোট ভাই মঞ্জুর মুর্শেদ। তাহার আবার মার্কেট ঘুরিবার ভীষন বাতিক। আমাকে সঙ্গে নিয়া মার্কেট ঘুরিয়া ঘুরিয়া ছ্যারাব্যারা করিয়া ফেলিল। জুতার দাম পানির মতো লাগিল আমার কাছে - এইখানে মোটামুটি ভাল জুতার দাম 60-100 ডলার। মনের আনন্দে পাঁচ জোড়া জুতা কিনিয়া ফেলিলাম। সেই সাথে অজস্র প্যান্ট। জয় বঙ্গবাজার, নিউমার্কেট জিন্দাবাদ।
পুরোনো কাগজ পত্র ঘাটিয়া নিজের কিছু পুরোনো লেখা বাহির করিলাম। আর বাহির করিলাম আমার কাছে আসা অজস্র চিঠি। জানিতে পারিলাম আমি চলিয়া আসার পর আমেরিকার আরও দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়ার UNSW, সিংহপুরের NUS, AIT হইতে আমার জন্য স্কলারশীপের অফার আসিয়াছিল। বড়ই আফসোস হইল - সময়মত চিঠিগুলি পাইলে কতকিছুই ব্যবস্থা নিতে পারিতাম!
বিবাহের প্রথম মাসেই আমেরিকা আসিয়া পড়িয়াছিলাম বিধায় বিবাহত্তোর দাওয়াতপর্ব স্থগিত রহিয়া গিয়াছিল। এরই মাঝে সেটা চলিতেছিল পুরোদমে। আমি পুরোপুরি হাফাইয়া উঠিতেছিলাম।
বন্ধুদের অনেকেই দেশে নাই, অনেকেই ঢাকায় নাই, আবার অনেকেই চাকুরী বাকুরী নিয়া ভীষন ব্যস্ত। তাই তাহাদের কারো সাথে ঢাকার বাইরে ঘুরিতে যাওয়া হইল না। মাঝে এক পুরোনো বন্ধুর সাথে লাগিয়া গেল ভীষন যুদ্ধ।
শেষটায় দেশের অচলাবস্থা কাটাইয়া উঠলে ছোট ভাইয়ের মেয়ের প্রথম জন্ম বার্ষিকী পালন করিয়া যাইবার প্রস্তুতি শুরু করিলাম। ইতোমধ্যে মশার কামড় খাইয়া, ঠান্ডায় রাতের পর রাত কাটাইয়া, ধুরো বালিতে ঘুরিয়া ভীষন বিরক্ত হইয়া উঠিয়াছিলাম। উপরন্তু বাবা-মায়ের অতিরিক্ত উদ্্বিগ্ন চেহারা দেখিয়া নিজেকে ভীষন খাঁচা বন্দী লাগিতেছিল। ব্লগারদের জলসার বহু আকাঙ্খা ছিলা। সেই পিপাসা না মিটিয়াইয়াই বিদায় নিলাম শেষ পর্যন্ত।
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি, বাংলাদেশ বিভাগে ।
420-2 বলেছেন:
ভাই সেমিষ্টারের কথা কন। আপনি কি ছাএ। এখন আপনি াববাহ করেেলন কেমনে ।আপনারে মাইয়া দিল কেমনে ছাত্রাবসহায়।
কনফুসিয়াস বলেছেন:
ফিরে গেছেন নাকি অলরেডি?আপনার সাথে দেখা হলো ঠিকই কিন্তু কথা বলতে পারলাম না তেমন! :-(((
অতিথি বলেছেন:
এতো কমে ঢাকা ভ্রমন!!!
হারাধন বলেছেন:
এইজা পারসোনাল কালেশন এন্ড ইউজের জন্য। নতুন বিয়া আবার জিগায়
অতিথি বলেছেন:
UNSW?আরেকটু অপেক্ষা করলে আমার ইউনিতেই আসতে পারতেন। তারপরে আমরা ব্লগারদের আড্ডা দিতে পারতাম সিডনীতে। সারা অস্ট্রেলিয়ায় নানা স্টেইটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ব্লগাররা আছে বলে আড্ডার ভেন্যু ঠিক করা যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে সিডনীর পাল্লা ভারি হওয়ায় কাজটা সহজ হয়ে যেত!
অতিথি বলেছেন:
নতুন বিয়া হইলে ছবি টবি লাগেনা :-)
মাহবুব সুমন বলেছেন:
আস্ত, ফেড ক্যাপপটাল হিসেবে ক্যানবেরা। সিডনি কেনো ?
হারাধন বলেছেন:
কয়টা বিয়া কইরা জান যে ছবি লাগেনা
হারাধন বলেছেন:
তাই নাকি
অতিথি বলেছেন:
আরো ডিটেইল চাই, আগামী পোস্টগুলোয়...
অতিথি বলেছেন:
বিবাহোত্তর দাওয়াতপর্ব.. দু:সহ সময়ের কথা মনে করাইয়া দিলেন। কয়েক পাউন্ড বেড়ে গিয়েছিলাম.. বোনাস হিসাবে হজমের ব্যামো।
অতিথি বলেছেন:
সাধু ভাষায় সাধু প্রচেষ্টা। দাওয়াত মিস করায় হালকা মাইন্ড খাইলাম।দেশে ভালো জুতার দাম এখানকার তুলনায় মোটামুটি অর্ধেক। এটা মেনে নিয়েই দেশ থেকে জুতা কিনি না। তবে পোশাকের দাম দেশে অনেক কম। তাই প্রায় সব পোশাকই মেড ইন বাংলাদেশ। আরেকটা ব্যাপার অভিজ্ঞদের কাছে শোনা, দেশ থেকে কনডম কিনলে অনেক বেশি সাশ্রয় হয়। প্রায় 20 গুণ!
অতিথি বলেছেন:
বলতে ভুলে গেছি, পোস্টের ছবিটা জটিল।
অতিথি বলেছেন:
চোর কি মনে করায় দিলেন। আসল জিনিসই তো আনতে ভুলে গেছি!!!! :-(
অতিথি বলেছেন:
আস্তমেয়ে ভিসার সুবিধার কথা চিন্তা করে UNSW যাব ভাবছিলাম। কিন্তু ডিসেম্বর 2004 পর্যন্ত কোন স্কলারশীপ পাইনি। চিঠিতে দেখলাম অফারটা এসেছিল আমি এখানে চলে আসবার পর। নইলে ঠিকই হয়ত চলে যেতাম সেখানে। আফসোস!!
অতিথি বলেছেন:
দিতে আর পারলাম কই?
অতিথি বলেছেন:
হা হা হা; বছর-2বছর লাগতেও পারে; পারলে চলে আসবেন
অতিথি বলেছেন:
কার লগে যুদ্ধ করছছ কইলি না তো! কি মাত্রার যুদ্ধ, পানি পথ নাকি মুষ্ঠি?
অতিথি বলেছেন:
তুই চিনবি ঠিকই। কলেজ জীবনের এক বন্ধু। ছেলেটাকে অনেকেই ভুল বুঝে, স্বার্থপর, হিংসুটে ভাবে বলে ভাবতাম। আবিষ্কার করলাম সে আসলেও তাই।তবে আমাকে অনেক উলটো পালটা বলার পরও মুখ ফুটে কিছু বলতে পারলাম না। কেবল দুরে সরে আসলাম।
তিমুর বলেছেন:
আচ্ছা মাহবুব ভাই, কী-ম্যান সফটওয়ার দিয়ে আস্কি কীবোর্ড বানানো যায়?
অতিথি বলেছেন:
আস্কি বানানো তো যাবেই। আমার ধারনা বাংলাদেশের কয়েকটি আস্কি ভিত্তিক কিবোর্ড ম্যানেজার কিম্যান দিয়েই বানানো। এই ধারনা একেবারে অমূলকও নয়।কিম্যান দিয়ে ইউনিকোড বিজয় বানাতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু একটা লেটেস্ট ভার্সন কোথাও পেলাম। পুরোনো ভার্সন আছে একটা ব্যবহার করে দেখিনি।
তিমুর বলেছেন:
মানে কোন ভাবে যদি অভ্র লেআউটের আস্কি কী বোরড বানানো যেত, খুব উপকার হত । কনভার্টারটা যদিও খুব কাজের (কিছু মনে করছেন না আশা করি), কিছূ যুক্তাক্ষর তবু আসে না এতে ।
তিমুর বলেছেন:
কীম্যানের কয়টা কম্পোনেন্ট লাগবে কী বোর্ড বানাতে এবং সেগুলো ফ্রী পাওয়া যায় কি না তাহলে বড় উপকৃত হই ।
অতিথি বলেছেন:
যুক্তাক্ষর কিছু না আসাটা অস্বাভাবিক না। আমি যতরকম সম্ভব যুক্তাক্ষরের কম্বিনেশন ব্যবহার করিনি ইচ্ছে করেই - ইন্টারনেট ভিত্তিক এপ্লিকেশনের সাইজ কমবে এবং স্পিড বাড়বে বলে। তাই টুকটাক একটা দুটো ভুলভাল থাকতেই পারে। আপনারা যারা ব্যবহার করছেন তারা যদি সেগুলো রিপোর্ট করতেন তাহলে কিন্তু আমি সেগুলো ঠিক করতে পারতাম।একটা ছোট্ট হিসাব দেই। বাংলা 50টা ক্যারেক্টারের প্রতি তিনটা, প্রতি দুইটা নিয়ে কম্বিনেশন করা সম্ভব। 50C3 + 50C2 সংখ্যাটা কত বড় হবে চিন্তা করুন!
অতিথি বলেছেন:
কীম্যান ফ্রি না। পি2পি বা ওয়ারেজ সাইট থেকে চেষ্টা করে দেখতে পারেন। আমি পাইনি কোথাও।
তিমুর বলেছেন:
বেশি যুক্তাক্ষর না দিলে ইন্টারনেটে প্রবলেম না করতে পারে । কিন্তু এডিটররা তো ঝাড়ি দেয়!!!

















