somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গন্তব্য আমেরিকা

২৪ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনা ১
------
আমার পাকি প্রফেসর নিতান্তই পাজি। প্রথম প্রথম যখন আমি তার রিসার্চ এসিসটেন্টশীপ নেইনি, তখন আমাকে ভুলানোর জন্য কি ভাল ব্যবহার! এখন ভুরু কুঁচকে ছাড়া কথা বলে না। দু বছরের মাস্টার্স করতে আড়াই বছর কাটিয়ে দিলাম প্রায় কিন্তু এখন ডিফেন্সের নাম মুখেই আনছে না শালা।

আজকে দুপুরে আমি ও গৌরভ ল্যাবে কাজ করছি তো সে এসে খুব মিষ্টি কথা শুরু করল। তারপর একফাঁকে টুক করে জানাল যে তার ছাত্র দরকার আমরা যেন আমাদের পরিচিত কেউ থাকলে জানাই। তার যে ছাত্র দরকার তা আমরা জানি। কেননা সব ছাত্র এসে পালিয়ে যায় তার কান্ড কারখানা শুনে। গত আড়াই বছরে আমিই এক মাত্র বলদ জুটেছে তার কপালে।

তবু মুখ ফুটে যখন আমাদের কাছে জানিয়েছে তাই আমি তার এই ফ্যাক্টগুলো লিখে সঙ্গে দুইটা ভালো (!) গুনও - ১। বেশ কিছু পেপার পাবলিশ হবে হয়ত ২। ফান্ডিং নিয়ে সমস্যা হবে না - জানালাম আমার বন্ধুদের গ্রুপে।

আমি ভেবেছিলাম কেউ হয়ত রাজি হবে না। বা হলেও সে আমাদের বন্ধুর বন্ধু জাতীয় দূরের কেউ হবে। অথচ আমাকে অবাক করে দিয়ে আমার বেশ পরিচিত দুজন এক্সক্লাসমেট আধা ঘন্টার মধ্যে সিভি সহ মেইল করেছে! আমি এতটাই অবাক হয়েছি যে কি বলব!

আমার ল্যাবমেট ইন্ডিয়ান ছেলে গৌরভকে বললাম। গৌরভ হেসে বলে, 'মানুষ সবসময় নিজের বর্তমান অবস্থাকে সবচেয়ে খারাপ মনে করে। তার মনে হয় আমি খুব কষ্ট করে হলেও সব কাজ করে ফেলব, সবার চেয়ে সেরা হয়ে দেখাব - তাহলে আর আমাকে আটকে রাখবে না।'

আমি ঘরে ফিরতে ফিরতে ভাবছিলাম, তাহলে সবার শেষ গন্তব্য কি আমেরিকা?


ঘটনা ২
------
আরো কয়েক মাস আগে ফিরে যাই। এক ছেলে ইমেইল করেছে ইন্ডিয়া থেকে। সে আইবিএম ইন্ডিয়াতে চাকুরী করছে। এখন আমাদের ইউনিভার্সিটিতে আসতে চায় মাস্টার্স করতে। আমার কি যে মেজাজ খারাপ হল! ছাগল নাকি!

সবার শেষ গন্তব্য কি তাহলে আমেরিকা?


ঘটনা ৩
-------
বছর খানেক পিছে ফিরে যাই। আমার আম্মার স্কুল বান্ধবী সোনালী ব্যাঙ্কে কর্মকর্তা পদে চাকুরী করেন। স্বামীও কিসে যেন ভালো চাকুরী করেন। বড় মেয়ে ডাক্তারী পড়ছে। ছোট মেয়েও ভালো রেজাল্ট করছে। সবকিছু ছিমছাম।

তারপর কি মনে করে তারা ডিভি ফরম পূরণ করলেন। এবং ভাগ্যবশত (!) লটারী জুটে গেল তাদের। ৩০/৪০ বছরের শেকড় ছিঁড়ে চলে এলেন আমেরিকা। মেয়েটার ডাক্তারী পড়া শেষ হয়েছে কিনা জানি না। এতটুকু হলফ করে বলতে সামাজিক মর্যাদা আগের মত পাচ্ছেন না।

তাহলে সবার শেষ গন্তব্য কি আমেরিকা?

ঘটনা ৪
-------
আরেকটু পিছনে থাকালাম। আড়াই বছর আগের কথা। আমি পাশ করে ফেলেছি। ভাবছিলাম বুয়েটেই ঝাড়ু দেয়ার চাকরী পেয়ে যাবো। ভাগ্যের ফেরে আটকে গেলাম।

শুরু করলাম চাকুরী খোঁজা। যেখানে কম্পিউটার সায়েন্স থেকে ডিগ্রী নিয়ে বিশ হাজারে চাকুরী শুরু করে সেখানে আজিজ টেক্সটাইল অফার করল আট হাজার। আজিজ সাহেব দ্বিতীয় ইন্টারভিউয়ে বলল, 'ফুলাটারে দেখে তো বদ্রই মনে অয়। তো দিয়ে দাও যা চায়। কাম কিন্তু বাল করে করবা।' দশ হাজারের সে অফার নিয়ে মানিকগঞ্জে যাইনি আর।

শেষে ঢাকায় প্রোগ্রামার হিসেবে চাকরী করতে করতে কোন রকম জিআরই। ফলশ্রুতিতে এডমিশন হল কিন্তু ফান্ডিং হল না। ডেসপারেট আমি হাতের কাছে যে প্রফেসর পেলাম তাকে আঁকড়ে ধরে একবুক স্বপ্ন পাঁজা করে স্কাই হারবার এয়ারপোর্টে নামলাম।


সেই স্বপ্নের ধর্ষন দেখি প্রতিদিন। তবু চুপ করে থাকি। পার করতে থাকি দিনগুলি। কেননা আমি জানি, সবারই শেষ গন্তব্য এই আমেরিকা।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:১৬
১৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×