পড়ুয়া একটা পোস্ট দিয়েছেন ফেসবুকের সূত্রে। পোস্টটা পড়ে খুব আনন্দ হয়েছে। কনটেন্টের কারণে আনন্দিত হই নাই। আনন্দিত হয়েছি পড়ুয়ার অ্যাপ্রোচের কারণে। খুব টেকনিকালি, খুব স্পোর্টলি তিনি প্রসঙ্গটা টেনেছেন। যা বলার বলেছেন, আর যা বোঝার পাঠক বুঝে নিয়েছেন। ফলে তার পোস্ট ভীষণ সাফল্য লাভ করেছে। ব্যাপারটা আমার ভাল লেগেছে। আরও ভাল লেগেছে যে উনি আইটি বিশেষজ্ঞ, বনেদী ব্লগার ও ভাল কবির সঙ্গে আমার নামটাও নিয়েছেন। রাজাকারের ছেলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করায় এই ফল মিলিলো। রাজাকারের সঙ্গে বন্ধুত্ব করিলে না জানি কি মিলিত? আর নিজে যদি একাত্তরে রাজাকার হইতে পারিতাম তবে তো সমকাল পরকাল সবই ঠিক থাকিত। নিদেন পক্ষে মন্ত্রী হইতে পারিতাম। রাজাকারদের অনেক কিছু আছে এই দেশে, ব্যাংক, বীমা, বিশ্ববিদ্যালয়, পত্রিকা, টিভি, চাটুকার, টাকা, ভিসি,ক্ষমতা, প্রতিপত্তি, রাজনীতি, ষড়যন্ত্র, অস্ত্র, জঙ্গী কতকিছু। আর মুক্তিযোদ্ধাদের আছে শুধু সার্টিফিকেট আর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের আছে সেই সার্টিফিকেট নিয়ে দৌড়াদৌড়ি। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা সত্যিই খুব গরীব।
মুক্তিযোদ্ধারা খারাপ থাকলেও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি কিন্তু খারাপ নাই। তাদেরও মন্ত্রী, ব্যাংক, বীমা, মাস্তান, অস্ত্র, ক্ষমতা সব কিছু আছে। তারাও রাজাকারদের মতো ক্ষমতায় যায়। কখনো বিরোধী দলে থেকে রাজাকারদের সঙ্গে মৈত্রী করে। কখনো সরকার গঠন করে রাজাকারদের দোয়া নিয়ে। যখন রাজাকারের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকে তখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি তাদের বিচার করে, বিচার দাবি করে। আবার যখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি যখন ক্ষমতায় থাকে তখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ভুলে যায় রাজাকারদের বিচার করা দরকার। তারও তখন রাজাকারদের মতো লুটপাটে অংশ নিয়ে জগত মাতাতে থাকে।
ফলে রাজাকারদের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিদেরও আমি বিশেষ সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখি। আবারও বলছি, মুক্তিযোদ্ধাদের নয়, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে আমি সন্দেহ করি। এরা মুক্তিযুদ্ধের নামে রাজনীতি করে, সমাজসেবা করে করে। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে, কাজের সময় এদের ছিটেফোটাও পাওয়া যায় না। লুটপাটে এরা রাজাকারদের সঙ্গেই তুলনীয়। এই ক্ষমতার রাজনীতির বাইরে রাজাকারও নাই, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিও নাই।
ইদানিং দেখছি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি রাজাকারদের মতো ব্লগিংও করে। তড়পায়। যাকে ইচ্ছা রাজাকার বলে, যাকে ইচ্ছা মুক্তিযোদ্ধা। রাজাকাররাও ধর্ম রক্ষার জন্য রীতিমতো জেহাদ করে। তবে রাজাকাররা ভাল। ওনারা এখনও আমার বিরুদ্ধে লাগেন নাই। লাগার যথেষ্ট কারণ ফেসবুকেই ছিল। যে ফেসবুকের দোহাই দিয়ে পড়ুয়া তার টেকনিকাল পোস্ট দিয়েছেন। রাজাকাররা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিদের মতো বালকসুলভভাবে তড়পায় না। এইটা এদের ভাল গুন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি যেভাবে তড়পায়, যেভাবে মানুষকে গালি দেয় তাতে তাদের নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ করার অবকাশ আছে। তারা সত্যিই মুক্তিযুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল কি না। কারণ, আমার ছোট জ্ঞানে যতটুকু বুঝি তাতে মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটা যুদ্ধ না। এটা একটা চিন্তা পদ্ধতি ও চৈতন্য। ব্লগে যারা মুক্তিযুদ্ধের নামে তড়পায় তাদের মধ্যে এই ধরনের কোনো চৈতন্য আছে বলে আমার মনে হয় নাই।
এই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ভণ্ড বইলাই কি আমি রাজাকারের সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব করবো? এটাই কি আমার যুক্তি? না। এইটা আমার যুক্তি না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি যদি তাদের কাজ ও কথার এই ধারা বজায় রাখে তাহলে রাজাকারদের সন্তানদের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব করার কোনো উপায় আমার থাকে না। কেমন?
পড়ুয়া একজন ব্লগার। কিন্তু পড়ুয়াটা কে? তার নাম কী? পরিচয় কী? তার সঙ্গে আমার দেখা করার বন্ধুত্ব করার বা কথা বলার কোনো উপায় আছে? না। কারণ তার মানুষ হিসেবে পরিচয়টাই আমি জানি না। সে রাজাকার না মুক্তিযোদ্ধা সে যাচাই তো অনেক দূরের কথা। কারণ তিনি আছেন ছদ্মনামের আড়ালে। এই ছদ্মনামের আড়ালে থেকে যারা বড় বড় কথা বলেন। বড় বড় আওয়াজ তোলেন তাদের কথার দাম আমার কাছে এক সিকিরও কম। আমি যদি বলি পড়ুয়া রাজাকার। তাহলে কী হবে? রজাকার হিসেবে দল ভারী করার জন্য সে আমাকে সহ অন্য কয়েকজনের বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে আমাদেরকে পাবলিক ফোরামে নাজেহাল করছে। যাতে মুক্তিযোদ্ধাদের দাবড়ানি খেয়ে আমরা মোটামোটি রাজাকারদের পক্ষভুক্ত হয়ে যাই। রাজাকারদের প্রতিনিধি হিসেবে পড়ুয়া আমাদেরকে রাজাকারির দিকে টানতেছে? পড়ুয়ার বাবা রাজাকার না মুক্তিযোদ্ধা সেইটা কি কোনোদিন জানা সম্ভব? তার মানে কী দাঁড়ায়?
জানা শত্রুর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে আমার অসুবিধা নাই। কিন্তু না জানা গোপন লোক বন্ধু না আততায়ী এইটা না জেনে আমি তার সঙ্গে কোনো সম্পর্কে যেতে রাজী না। এই কথা অন্য ছদ্মনামধারী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির প্রতিও।
পড়ুয়ার পরিচয় অনুসন্ধানের চেষ্টা করি। তিনি ফেসবুকে যখন ঢুকেছেন তখন সেখানে তনি রেজিস্টার করেছেন। হয়তো তার আসল নামেই তা করেছেন। এবং তিনি আমাদের বন্ধুদের বন্ধু অথবা বন্ধুদের বন্ধুদের বন্ধুদের বন্ধু। তাছাড়া আমাদের প্রোফাইলের খোঁজ পাওয়ার কথা না। তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের জানাতেন পারতেন বা জেনে নিতে পারতেন যে আমরা আসলে কী মনে করে রাজাকারের সন্তানের বন্ধুত্ব মেনে নিয়েছি? কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি ও তার সমর্থকরা এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছেন এবং এমন পদ্ধতিতে করেছেন যে, এই বন্ধুত্বকে অস্বীকার করার বা রিভিউ করার আর কোনো উপায় তিনি/তারা রাখেন নাই। ফলে পড়ুয়াকে নিয়ে সঙ্গতভাবেই আমার সন্দেহ হচ্ছে।
যারা রাজাকার প্রসঙ্গ নিয়ে ভীষণ উত্তেজিত বোধ করেন। নদী না দেখতেই কাপড় খুলে ফেলেন তাদের উদ্দেশে বলি, মতিউর রহমান নিজামী যখন বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন তখন যদি আপনাদের কোনো ছিটেফোটাও রাস্তায় দেখা যেত তাহলে কতটাই গর্বের বিষয় হতো ব্যাপারটা। ভবিষ্যতে আবারও যদি ওনারা ক্ষমতায় আসেন আবার তখন আপনাদের টিকিটিও পাওয়া যাবে না। আপনাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি রাতারাতি রাজাকারের পক্ষের শক্তি হয়ে যাবে। এমনিতেই এখন বেনামে মুক্তিযুদ্ধ করতেছেন তখন অদৃশ্য হয়ে মুক্তিযুদ্ধ করতে থাকবেন।
কিন্তু আমি জামাত-শিবিরের বিরুদ্ধে রাস্তার আন্দোলনের একজন কর্মী। আওয়ামী লীগের গুণ্ডাদের পক্ষ থেকে সেটা করি নাই। তাদের দখল তুলে দিয়ে নিজেরা দখল লুটপাটের আখড়া খুলি নাই। কিন্তু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা শেষ দিন পর্যন্ত শিবিরকে ঠেকিয়েছি। মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন আমাদের প্রতিরোধের মুখেই। নিজামীর গাড়ি বহরের সামনে মাত্র ২৫/৩০ জন সেদিন যেভাবে শুয়ে পড়েছিলাম সেটা ভাবলে এখন হাসি পাচ্ছে। কারণ মুখোশধারী মুক্তিযুদ্ধের তথাকথিত পক্ষের শক্তির ফাঁকা আওয়াজ।
(ধারাবাহিক)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

