জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কুড়ি বছর
জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা হলো বহু নিঃসন্তান ব্যক্তির মধ্যে এক ব্যক্তির সন্তান। বাবার বন্ধুদের আদরে আপ্যায়নে বড় হওয়া একমাত্র পুত্র। পুরাকালে হলে বলা হইতো সাত রাজার ধন। সফল বটে, সার্থকও বটে। কিন্তু পুরো একটি প্রজন্মের গর্বের বিষয়। সেনসেটিভ ইস্যু।
আমি ১৯৯৭ সালে একবার, ২০০৭ সালে একবার সাকুল্যে এ দুই দফা নভেলাটি পড়েছি। এরশাদ শাসন বিরোধী আন্দোলনের বাস্তবতায় আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে বোঝাপড়ার ফলে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার এক অসহায় ভিক্টিমের মধ্যে নতুন করে যে ভীতি তৈয়ার হয় এবং যার পরিণতিতে সে পুরাতন বসতবাটি ত্যাগ করে নতুন একটি বাসস্থান বেছে নেবার তাড়না বোধ করে। যে নতুন স্থানটিতে সে অতীত পরিচয় গোপন রেখে বেঁচে থাকতে পারবে। ১৯৮৬ সালে যখন উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় তখন লেখকের কাছে এটা ভীষণ প্রাসঙ্গিক ও তাড়িত করার মতো একটা বিষয়। কেন এক কুখ্যাত রাজাকারের পুত্র হরতাল শেষে সবাইকে ধন্যবাদ দেয় এ নিয়েই উপন্যাসের মুখ্য চরিত্রটি তীব্র তাড়না বোধ করে। এবং ফাশব্যাকে তার এই তাড়নার কারণ লেখক আমাদের কাছে পরিষ্কার করেন। ১৯৯৭ সালে আমি যখন উপন্যাসটি পড়ছিলাম তখন আওয়ামী লীগ-জামাত সম্মিলিত আন্দোলনের ফসল হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকার ঐক্যমত্যের সরকার গঠন করেছে। তাদের সমর্থন দিয়েছে ১৯৮৬ সালে যার বিরুদ্ধে হরতাল পালন করে রাজাকারের সন্তান সবাইকে ধন্যবাদ দিচ্ছিল সেই সামরিক শাসকের দল। আর ২০০৭ সালে যখন উপন্যাসটি আবার পড়লাম তখন বিএনপি-জামাত সরকার ক্ষমতা থেকে সদ্য চলে গেছে। যে রাজাকারের সন্তানের ধন্যবাদ আবদুল মজিদ সহ্য করতে না পেরে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজাকারের বোঝাপড়ার রাজনৈতিক ধারাক্রম নিয়ে শংকিত হয়ে স্থানচ্যুতির সিদ্ধান্তকে বেছে নিয়েছিল, সেই রাজাকারদের সন্তান নয়, সেই রাজাকারদের নেতারা বিএনপির সঙ্গে মিলে দেশ শাসন করে আপাত শীতনিদ্রায় আচ্ছন্ন। দুর্নীতি দমন চলিতেছে।
স্বাভাবিক কারণেই ১৯৮৭ সালের পরের ঘটনা উপন্যাসে নাই। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের ভিক্টিম আবদুল মজিদদের ভীতি ও শঙ্কা কত বিস্তৃত হয়েছে তার বিবরণও এইখানে নাই। জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা ব্যক্তির জীবনে জাতীয় রাজনৈতিক সংকটের প্রভাব ও তার পরবর্তী অভিঘাত নিয়ে আলোচনার সূচনামাত্র করেছিল। করেছিল বলেই সময়ে খুঁটি গেড়ে গেড়ে সহজেই সময়ের একটা তুল্যমূল্য বিচার আমরা দেখাতে পারছি। কিন্তু পুরো চিত্রটা আমরা পাচ্ছি না, কারণ উপন্যাসটি ওই পর্যন্ত এসেই থেমে আছে। আমাদের বহুমাত্রিক, বহুস্তর সংকটকে স্পর্শ করার মতো আর কোনো ঔপন্যাসিক উদ্যোগ আসে নাই। ফলে, আমাদের ক্ষুদ্র জাতীয় রাজনৈতিক জীবনের আর কোনো অভিঘাত আমাদের উপন্যাসে এসে পড়লো না। এবং আমাদের জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতার পুরো চিত্রটা অপরিচ্ছন্নই থেকে গেল। এই রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারাক্রম যদি মাথায় রাখি তাহলে জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা হলো কুড়ি বছর আগের কাহিনী। একটা ডকুমেন্ট। হ্যাঁ, এর মধ্যে ওইটুকুই পর্যালোচনার বিষয় যে ঔপন্যাসিক ২০ বছর আগেই রাজাকারদের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার সম্ভবনার কথা পুরোপুরি ভাবতে না পারলেও তাদের ক্রমবৃদ্ধির সম্ভাবনাকে স্পষ্ট দেখতে পেয়েছিলেন।
বাকী থাকে ভাষা ও বর্ণনার সক্ষমতা। শহীদুল জহিরের ভাষা যাদুকরী। অনেকে জাদুবাস্তবও বলে থাকেন একে। গাঁথুনি/বয়ন আকর্ষণীয়। নিজের একটি ভাষাভঙ্গি তিনি তৈয়ার করেছেন। এবং এই বিশেষ ভাষাভঙ্গির মধ্যেই তার আবর্তন। জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এই ভাষাভঙ্গির শুভ সূচনা হয়েছিল। পরে তা আরও শক্তিশালী হয়েছে। এই ভাষার প্রাথমিক নজির জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা। ভাষা নিয়ে দক্ষ বাজিকরের মতো যে ডিলিং শহীদুল জহিরের তা এইখানে অনেকটাই অনুপস্থিত। এ কথা ঠিক পরবর্তী কালে তিনি মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে গল্প লিখেছেন। সেগুলো প্রাসঙ্গিক ও আলোচ্য, কিন্তু এইখানে সেগুলোর উল্লেখ খুব জরুরি নয় বলেই মনে হচ্ছে। যেহেতু আমার প্রথম বিবেচনা ওই উপন্যাসটিই।
সাধারণ বিচারে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ উপন্যাসের জন্য খুব কার্যকর বিষয় নয়। কারণ একজন এনলাইটেন্ড লেখক এ নিয়ে কী ভাবেন, এর সংকটকে তিনি কিভাবে দেখেন, এ নিয়ে তার অনুভূতির স্পর্শকাতরতা খুব অচেনা বিষয় নয়। বরং সাধারণত জানাশোনার মধ্যেই লেখকরা আবর্তিত হন। কোনো বিষয় যখন উপন্যাসিত হয় অর্থাৎ একে যখন তার জানাশোনা বিন্যাসের থেকে পৃথক আরেকটি বিন্যাসে এনে হাজির করা হয় তখন তাকে বহু দিক ও তল থেকে দেখারই নিয়ম। এজন্য মুখ্য প্রকল্পটিও অনেক সময় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এরকম সক্ষমতা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে বিষয় করে কেউ লিখতে এসেছেন বলে মনে হয় না। আর লেখেননি বলেই, ঔপন্যাসিকভাবে মুক্তিযুদ্ধকে দেখার উদ্যোগ আমাদের এখানে আসেনি। এখানে গদ্যে যা হয়েছে তা হলো স্রেফ একতলীয় বর্ণনা। উপন্যাসিত হয়নি বিষয়টি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো লেখকের ভিন্ন কোনো রিডিং আছে কি না তার আভাসও মেলেনি। ইনক্লুডিং শহীদুল জহির, ব্যাপারগুলো ওই পর্যন্তই থেকে গেছে।
উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছিল শিল্পতরু প্রকাশনী থেকে। দাম মাত্র চল্লিশ টাকা। যতদূর জানি তাতে শাহবাগের বইয়ের দোকানে উপন্যাসটি এভেইলএবল থাকার কথা।
আজকাল

আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প
আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন
একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
আসলে কেউ ফেরে না।
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।