কাল রাতে এক বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ী ফোন করেছিলেন। উনি ব্লগের পাঠক, আমার ধারণা একজন ব্লগারও সামহয়ারের। অন্য একটি বাংলা ব্লগেরও সদস্য উনি। ফোন করেছেন, আমার ভূমিকা যেন ধর্মব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধ শক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে সে বিষয়ে সতর্ক করে দিতে। আমি বললাম, আমার দ্বারা সেটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আপনি নিশ্চিত থাকুন। ব্লগাররা যদি কোনো গালাগালির আশ্রয় না নিয়ে স্রেফ যুক্তি দিয়ে ধর্ম ব্যবসায়ী ও মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও স্বাধীনতার বিরোধি শক্তিকে প্রতিরোধ করে তবে সেখানে আমার মতো সবাই অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে যাবেন। পাশাপাশি, প্রাইভেসি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সিকিউরিটির প্রশ্নগুলোকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই। নানা তর্ক-বিতর্কের পর তিনি আমাকে সামান্য সমর্থন জানালেন। বললেন, দেখা হলে এ বিষয়ে তোমার সঙ্গে সিরিয়াস ডিবেট হবে। আমি বললাম তথাস্তু।
দীর্ঘ আলাপে আমি তাকে বললাম, আপনি কি একটি ব্যাপার খেয়াল করেছেন? সামহয়ার ত্যাগ করে যারা বেশ আগে চলে গিয়েছিলেন তাদের অনেকেই ফিরে এসেছেন। এমনকি দীর্ঘ অনভ্যস্ততায় যাদের পার্সওয়ার্ড হারিয়ে যাওয়ার কথা তারাও লগইন করে আমাকে গালি দিয়ে চলে গেছেন।
তিনি বললেন, ভাল জিনিশ ধরেছো। কিন্তু তুমি রহস্যটা ধরতে পারছো না। তুমি কি অন্য কোনো বাংলা ব্লগ সাইট পড়ো? আমি বললাম, পড়ি কারণ ওখানে আমার বেশ কয়েকজন বন্ধু ও প্রিয় ব্লগার লেখেন।
তাহলে তো তোমার খেয়াল করার কথা? তুমি কি ওই ব্লগ সাইটটি প্রথম দিকের তৎপর কোনো কোনো সদস্যের অনুপস্থিতি খেয়াল করেছো? আমি বললাম, না। তখন উনিই বিষয়টা পরিষ্কার করলেন। বললেন, অন্য একটি ব্লগ সাইট তৈরির প্রথম দিক থেকে যারা উৎসাহ দিয়েছেন। নানাভাবে সদস্য সংগ্রহের কাজ করেছেন তাদের সঠিক মূল্যায়ন সাইটটি করেনি। এবং গত এক দুই মাস আগে তিন-চার জন প্রখ্যাত ব্লগারকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরা শুধু ব্লগারই নন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ লেখকও। একজন সিনিয়র লেখককে সেখানে প্রায় কণ্ঠরুদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে ব্লগে আলোচনা তো দূরের কথা, সামান্য প্রতিবাদও সম্ভব হয়নি। কারণ, এটি সম্ভব করার আগেই তাদের সেন্সরশিপের আওতায় নেয়া হয়েছিল। ফলে, নিজেদের গড়ে তোলা প্রত্যাশিত সাইটটি থেকে তাদের নিরবে সরে আসতে হয়। এরপর তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে তৃতীয় একটি ব্লগ সাইট করার চিন্তাভাবনা করতে থাকেন। কিন্তু টেকনোলজি সমস্যা ও রিডারশিপ সমস্যার কারণে তারা এ বিষয়ে একমত হন যে, নতুন ব্লগ সাইট নয় সামহয়ারকেই নিজেদের মতো করে গড়ে নেবেন। নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে ব্লগটিকে সাজিয়ে নেবেন। এ কাজে তারা সক্রিয়ভাবে এগোতে থাকেন। এক্ষেত্রে ওই ব্লগের বন্ধুরাও তাদের সহায়তা করতে থাকেন। এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের বহিষ্কার সম্পন্ন হলে তারা পাকাপোক্তভাবে এটিকে গঠনমূলকভাবে তৈরি করবেন বলে প্লান করেন।
আমি বললাম, এটা তো খারাপ কিছু নয়। কেউ যদি ভুল বুঝতে পেরে চলে আসেন তাতে তো তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ করা যায় না। উনি বললেন, কিন্তু এ ক্ষেত্রে বাগড়াটা তুমি দিয়েছ। অবশ্য তোমার প্রতিবাদী অবস্থান আমি সমর্থন করি। কারণ, তুমিও অন্যায়ভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছে। কিন্তু তুমি কি মনে করো না, পজেটিভ থিংকার্স গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ও জনপ্রিয়তাও তোমাকে তাদের বিরাগভাজন করেছে?
আমি বললাম, আমাকে নিয়ে সাধারণত তারা মিথ্যা প্রোপাগান্ডা তৈরি করে না। হয়তো পজেটিভ থিংকার্সের কারণেই এবার তারা আমার পেছনে লেগেছে।
তিনি বললেন, এটাই তাদের ভুল। শুধু তুমি নও। সামহয়ারকে শত্রুমুক্ত করার জন্য তারা আরও বহু ভাল ব্লগারকে আক্রমণ করতে শুরু করে। এ কাজে তারা একজন গুন্ডা সর্দারের সঙ্গে মিটিং করে তার সহায়তা কামনা করে। সেই গুন্ডা সর্দার পজেটিভ থিংকার্সের কারণে তোমার ওপর ভীষণ ক্ষিপ্ত ছিল।
মূলত মাস্তানির কারণে এবং সেই শুভবোধ সম্পন্ন ব্লগাররা মাস্তানীর সমর্থনে দাঁড়াবার কারণে আজ তারা বিতর্কিত হয়েছে। তারা নিজেদের কমরেডদের কাছে নিজেদের দুরবস্থার কথা লুকিয়ে স্বার্থসিদ্ধি করতে চেয়েছেন। কিন্তু তারা যদি অন্য ব্লগটির কথা এখানে বলতেন। তবে সবাই তাদের রাজার হালে বরণ করতো।
আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে যদি একটি ধারা সামহয়ারের নীতিমালায় যুক্ত হয় তাহলে কি তারা ফিরবেন বলে আপনি মনে করেন? তিনি বললেন, মাস্তানদের ছেড়ে তাদের ফেরা উচিত। কিন্তু তাদের লেটেস্ট অবস্থান বিষয়ে আসলেই আমি কিছু জানি না।
তিনি ফোন রাখার পর আমি ভাবলাম, তৃতীয় একটি ব্লগ সাইটের আবির্ভাব কি তাহলে সময়ের ব্যাপার? হয়তো, হয়তো নয়। দ্বিতীয় উদ্যোগটি আসার আগে প্রায় একই রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল। পঞ্চাশ-ষাটজনের একটা গ্রুপ বেরিয়ে গিয়েছিল। এবারও সদস্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে হয়তো সেই একই প্রক্রিয়ায়। বাংলাভাষা এবার হয়তো আবারও নতুন একটি ব্লগ সাইটের মুখ দেখতে যাচ্ছে। গতবার, এখানকার ব্লগাররা চলে যাওয়ার পর, ওখানে খুব গঠনমূলক কাজ করতেন। কেউ লিখতেন, কেউ মডারেট করতেন। কিন্তু সামহয়ারের আইডিটাকে এই ভাল ব্লগারদের কেউ কেউ স্রেফ গালাগালি আর অন্যের পিছনে লেগে তাকার কাজে ব্যয় করেছেন। কেউ কেউ নিজের নামের মান বাঁচাবার জন্য নতুন নাম বেছে নিয়েছেন। ফলে, লিটারারি কেউই চলে যাননি। বরং সামহয়ারের হিট বেড়েছে। সদস্য বেড়েছে। লেখকরা এখানে আগের থেকে বেশি সক্রিয়। নতুন ব্লগাররাও আসছেন।
ফলে, চলে যাওয়া মনেই প্রস্থান নয়। চলে যাওয়া মানে পরাজয়। স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের যথেষ্ট যুক্তি আছে। ধর্ম ব্যবসায়ীদের মতলব ফাঁস করার যথেষ্ট শক্তি আমাদের আছে। তার জন্য গুন্ডাদের দরকার হয় না। আমরা সেই ভাল ব্লগারদের আহবান জানাই তৃতীয় আরেকটি ব্লগ না বানিয়ে আসুন এখানেই সুস্থ প্রতিবাদের চর্চা করি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





