somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যেতে পারি কিন্ত কেন যাবো? (একটি বানানো গল্প)

১০ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাল রাতে এক বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ী ফোন করেছিলেন। উনি ব্লগের পাঠক, আমার ধারণা একজন ব্লগারও সামহয়ারের। অন্য একটি বাংলা ব্লগেরও সদস্য উনি। ফোন করেছেন, আমার ভূমিকা যেন ধর্মব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধ শক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে সে বিষয়ে সতর্ক করে দিতে। আমি বললাম, আমার দ্বারা সেটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আপনি নিশ্চিত থাকুন। ব্লগাররা যদি কোনো গালাগালির আশ্রয় না নিয়ে স্রেফ যুক্তি দিয়ে ধর্ম ব্যবসায়ী ও মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও স্বাধীনতার বিরোধি শক্তিকে প্রতিরোধ করে তবে সেখানে আমার মতো সবাই অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে যাবেন। পাশাপাশি, প্রাইভেসি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সিকিউরিটির প্রশ্নগুলোকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই। নানা তর্ক-বিতর্কের পর তিনি আমাকে সামান্য সমর্থন জানালেন। বললেন, দেখা হলে এ বিষয়ে তোমার সঙ্গে সিরিয়াস ডিবেট হবে। আমি বললাম তথাস্তু।
দীর্ঘ আলাপে আমি তাকে বললাম, আপনি কি একটি ব্যাপার খেয়াল করেছেন? সামহয়ার ত্যাগ করে যারা বেশ আগে চলে গিয়েছিলেন তাদের অনেকেই ফিরে এসেছেন। এমনকি দীর্ঘ অনভ্যস্ততায় যাদের পার্সওয়ার্ড হারিয়ে যাওয়ার কথা তারাও লগইন করে আমাকে গালি দিয়ে চলে গেছেন।
তিনি বললেন, ভাল জিনিশ ধরেছো। কিন্তু তুমি রহস্যটা ধরতে পারছো না। তুমি কি অন্য কোনো বাংলা ব্লগ সাইট পড়ো? আমি বললাম, পড়ি কারণ ওখানে আমার বেশ কয়েকজন বন্ধু ও প্রিয় ব্লগার লেখেন।
তাহলে তো তোমার খেয়াল করার কথা? তুমি কি ওই ব্লগ সাইটটি প্রথম দিকের তৎপর কোনো কোনো সদস্যের অনুপস্থিতি খেয়াল করেছো? আমি বললাম, না। তখন উনিই বিষয়টা পরিষ্কার করলেন। বললেন, অন্য একটি ব্লগ সাইট তৈরির প্রথম দিক থেকে যারা উৎসাহ দিয়েছেন। নানাভাবে সদস্য সংগ্রহের কাজ করেছেন তাদের সঠিক মূল্যায়ন সাইটটি করেনি। এবং গত এক দুই মাস আগে তিন-চার জন প্রখ্যাত ব্লগারকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরা শুধু ব্লগারই নন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ লেখকও। একজন সিনিয়র লেখককে সেখানে প্রায় কণ্ঠরুদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে ব্লগে আলোচনা তো দূরের কথা, সামান্য প্রতিবাদও সম্ভব হয়নি। কারণ, এটি সম্ভব করার আগেই তাদের সেন্সরশিপের আওতায় নেয়া হয়েছিল। ফলে, নিজেদের গড়ে তোলা প্রত্যাশিত সাইটটি থেকে তাদের নিরবে সরে আসতে হয়। এরপর তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে তৃতীয় একটি ব্লগ সাইট করার চিন্তাভাবনা করতে থাকেন। কিন্তু টেকনোলজি সমস্যা ও রিডারশিপ সমস্যার কারণে তারা এ বিষয়ে একমত হন যে, নতুন ব্লগ সাইট নয় সামহয়ারকেই নিজেদের মতো করে গড়ে নেবেন। নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে ব্লগটিকে সাজিয়ে নেবেন। এ কাজে তারা সক্রিয়ভাবে এগোতে থাকেন। এক্ষেত্রে ওই ব্লগের বন্ধুরাও তাদের সহায়তা করতে থাকেন। এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের বহিষ্কার সম্পন্ন হলে তারা পাকাপোক্তভাবে এটিকে গঠনমূলকভাবে তৈরি করবেন বলে প্লান করেন।
আমি বললাম, এটা তো খারাপ কিছু নয়। কেউ যদি ভুল বুঝতে পেরে চলে আসেন তাতে তো তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ করা যায় না। উনি বললেন, কিন্তু এ ক্ষেত্রে বাগড়াটা তুমি দিয়েছ। অবশ্য তোমার প্রতিবাদী অবস্থান আমি সমর্থন করি। কারণ, তুমিও অন্যায়ভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছে। কিন্তু তুমি কি মনে করো না, পজেটিভ থিংকার্স গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ও জনপ্রিয়তাও তোমাকে তাদের বিরাগভাজন করেছে?
আমি বললাম, আমাকে নিয়ে সাধারণত তারা মিথ্যা প্রোপাগান্ডা তৈরি করে না। হয়তো পজেটিভ থিংকার্সের কারণেই এবার তারা আমার পেছনে লেগেছে।
তিনি বললেন, এটাই তাদের ভুল। শুধু তুমি নও। সামহয়ারকে শত্রুমুক্ত করার জন্য তারা আরও বহু ভাল ব্লগারকে আক্রমণ করতে শুরু করে। এ কাজে তারা একজন গুন্ডা সর্দারের সঙ্গে মিটিং করে তার সহায়তা কামনা করে। সেই গুন্ডা সর্দার পজেটিভ থিংকার্সের কারণে তোমার ওপর ভীষণ ক্ষিপ্ত ছিল।
মূলত মাস্তানির কারণে এবং সেই শুভবোধ সম্পন্ন ব্লগাররা মাস্তানীর সমর্থনে দাঁড়াবার কারণে আজ তারা বিতর্কিত হয়েছে। তারা নিজেদের কমরেডদের কাছে নিজেদের দুরবস্থার কথা লুকিয়ে স্বার্থসিদ্ধি করতে চেয়েছেন। কিন্তু তারা যদি অন্য ব্লগটির কথা এখানে বলতেন। তবে সবাই তাদের রাজার হালে বরণ করতো।
আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে যদি একটি ধারা সামহয়ারের নীতিমালায় যুক্ত হয় তাহলে কি তারা ফিরবেন বলে আপনি মনে করেন? তিনি বললেন, মাস্তানদের ছেড়ে তাদের ফেরা উচিত। কিন্তু তাদের লেটেস্ট অবস্থান বিষয়ে আসলেই আমি কিছু জানি না।
তিনি ফোন রাখার পর আমি ভাবলাম, তৃতীয় একটি ব্লগ সাইটের আবির্ভাব কি তাহলে সময়ের ব্যাপার? হয়তো, হয়তো নয়। দ্বিতীয় উদ্যোগটি আসার আগে প্রায় একই রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল। পঞ্চাশ-ষাটজনের একটা গ্রুপ বেরিয়ে গিয়েছিল। এবারও সদস্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে হয়তো সেই একই প্রক্রিয়ায়। বাংলাভাষা এবার হয়তো আবারও নতুন একটি ব্লগ সাইটের মুখ দেখতে যাচ্ছে। গতবার, এখানকার ব্লগাররা চলে যাওয়ার পর, ওখানে খুব গঠনমূলক কাজ করতেন। কেউ লিখতেন, কেউ মডারেট করতেন। কিন্তু সামহয়ারের আইডিটাকে এই ভাল ব্লগারদের কেউ কেউ স্রেফ গালাগালি আর অন্যের পিছনে লেগে তাকার কাজে ব্যয় করেছেন। কেউ কেউ নিজের নামের মান বাঁচাবার জন্য নতুন নাম বেছে নিয়েছেন। ফলে, লিটারারি কেউই চলে যাননি। বরং সামহয়ারের হিট বেড়েছে। সদস্য বেড়েছে। লেখকরা এখানে আগের থেকে বেশি সক্রিয়। নতুন ব্লগাররাও আসছেন।
ফলে, চলে যাওয়া মনেই প্রস্থান নয়। চলে যাওয়া মানে পরাজয়। স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের যথেষ্ট যুক্তি আছে। ধর্ম ব্যবসায়ীদের মতলব ফাঁস করার যথেষ্ট শক্তি আমাদের আছে। তার জন্য গুন্ডাদের দরকার হয় না। আমরা সেই ভাল ব্লগারদের আহবান জানাই তৃতীয় আরেকটি ব্লগ না বানিয়ে আসুন এখানেই সুস্থ প্রতিবাদের চর্চা করি।
৪৫টি মন্তব্য ৩৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×