somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১. এ পোর্ট্রেইট অফ এ ইয়াং আর্টিস্ট অ্যাজ এ মিডিওকার

২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দিনের বেলা ঘরে নিজের কাজ করার খুব একটা সময় পাই না। তাই শুক্রবার রাতটাকেই বেছে নেই প্রয়োজনীয় কাজগুলো সারার জন্য। এমনকি শুক্রবার দিনটাও নয়। পুরো সপ্তাহের বাজার করে, দিনের প্রায় সবকটা পত্রিকা পড়ে তারপর গোসল ও খাওয়া সারতে সারতে বিকাল হয়ে যায়। তাই রাতই কাজের জন্য ভালো। নয়টা থেকে বারোটা পর্যন্ত টানা লেখার টেবিল, বইয়ের তাক গোছালাম। ইদানিং কাগজে লেখাই হয় না। তারপরও কাগজ-কলম পর্যাপ্ত থাকে টেবিলে। নিউ মার্কেট থেকে নিয়মিত ভাল কাগজের প্যাড আর কলম কিনে এনে সাজিয়ে রাখি। একদিন লেখা আসবে। সেদিন হয়তো দেখাবো কোনো কারণে কম্পিউটারটা কাজ করছে না। অথবা সেদিন হয়তো কম্পিউটার অন করার ইচ্ছাই হলো না। হতাশ হয়ে যাতে টেবিলে ধপ করে বসে পড়তে না হয়, তাই প্রস্তুতি হিসেবে সব সাজানো থাকে। টেবিলে রবীন্দ্রনাথের ছোট একটা প্রোট্রেইট। পাশে লাল শেডের ছোট টেবিল ল্যাম্প। লেখার জন্য লাল শেডটা ক্ষতিকর কি না জানি না। তারপরও রেখেছি। বইয়ের তাক গোছাতে গোছাতে হঠাৎ ডায়রিগুলোর দিকে চোখ চলে গেল। ১৯৯৮ সাল থেকে নিয়ম করে প্রতিদিন ডায়রি লিখি। পর পর সাল অনুসারে সাজানো, নয়টা ডায়রি। ২০০৮-এর ডায়রিটা টেবিলের ওপর রাখা। সন্ধ্যা সন্ধ্যাতেই বাসায় ফিরে আসি। বউয়ের সঙ্গে গল্প করে, খেয়ে প্রতিদিনের অভ্যাস মতো টেবিলে বসি। ডায়রিতে একটা লাইন হলেও নিয়ম করে লেখার অভ্যাসটা হয়েছে। খুব আহামরি কোনো সাহিত্য নয়। শুধু ডায়রিই লিখি প্রতিরাতে। তারপরও বউয়ের এদিকে খুব খেয়াল। এক গ্লাস পানি ঢেকে রেখে, টিভিতে অল্প সাউন্ড দিয়ে আমার ফেরার অপেক্ষা করে। ফোন এলে, বলে উনি একটু ব্যস্ত। একটু পরে ফোন করলে হয়? বউয়ের এই সহযোগিতার কথাটা প্রথম থেকেই আমার খুব পছন্দ। লেখকদের ভাগ্যে এরকম বউ খুব মেলে না। আমার মিলেছে। কিন্তু সেই এক ডায়রিই তো লিখি প্রতিদিন। আর কিছু লিখতে পারি না। বউটা চায় আমি যেন মহৎ কোনো কিছু লিখে ফেলি কোনো এক রাতে। কোনো একটা মিরাকল একদিন ঘটবেই, এটা বিশ্বাস করে মনে প্রাণে। সবচেয়ে বড় কথা, আমিও লেখক হবো বলেই ওকে বিয়ে করেছিলাম। কারণ আমার বই পড়েই ও আমাকে পছন্দ করেছিল। আর আমিও ওকে পছন্দ করেছিলাম, ও লেখক ও লেখা পছন্দ করে বলে। আমি তাক গোছাতে গোছাতে তৃপ্তিকে ডাক দেই। এ শোনো। আসলে আমার মাথায় নতুন একটা আইডিয়া এসেছে। তৃপ্তির সঙ্গে এক্ষুনি শেয়ার করা দরকার। আমি ভুলে গেলেও তৃপ্তি ভুলবে না। কাল বা পরশু রাতে খাওয়ার সময় ঠিক বলে উঠবে, কালকের আইডিয়াটা কিন্তু ভালই ছিল। এক কাজ করো, আজকেই লিখতে বসো। শোনো প্রতিদিন এক পৃষ্টা করে লিখলেও ফেব্রুয়ারি আসতে আসতে ২০০ পৃষ্ঠার বই হয়ে যাবে। কোথায় লিখবে? টেবিল খালি করে দেবো?
আমার ডাক শুনে তৃপ্তি প্রায় ছুটে আসে। ডাকো কেন? তুমি আজকে লেখো না?
না লেখি না। নতুন একটা আইডিয়া আসলো। ভাবলাম তোমার সঙ্গে শেয়ার করি। আমার ডায়রিগুলা দেখছো?
হ্যাঁ। ওই তো। তোমারে পড়েতে দিছিলাম বিয়ের পর, পড়ছিলাম।
পড়বো না। সব একবারে মুখস্ত।
আমি ভাবছি কি জানো, ডায়রিতে লেখা অভিজ্ঞতাগুলো নিয়ে একটা উপন্যাস লিখলে কেমন হয়?
তৃপ্তি কখনো আমার আইডিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে না। এখনও তুললো না। একটু চুপ করে থেমে বললো, ভালই।
মনে হলো তৃপ্তি আইডিয়টা ছিক নিতে পারছে না। আমি বললাম সমস্যা কী?
কী আর সমস্যা তো কিছুই না। কিন্তু তুমি তো লিখবা না আসলে। তোমার মতো লেখক এইরকম করে এতদিন বই বের না করে আছে। প্রতিদিনই তো লিখতে চাও। লেখ কই?
আমি ডায়রিগুলো একে একে সাজিয়ে রাখলাম। কাল থেকে ডায়রিগুলো পড়বো। এখান থেকেই গল্পের সূত্র পাওয়া যাবে। আমি নিশ্চিত। আত্মজৈবনিক উপন্যাস। লেখকের প্রতিটি লেখাই তো আত্মজৈবনিক। সে অর্থে আলাদা করে কোনো কিছুকে আত্মজৈবনিক বলার কোনো যুক্তি নেই। সমালোচকরা অবশ্য একটু নাক কোচকাবে। তাদের জন্য দাঁতভাঙা জবাবও রেডি আছে অবশ্য।
তৃপ্তির সঙ্গে আমার অনেক মিল। মিলগুলোর একটা লিস্ট করেছিলাম একদিন। তৃপ্তি লিস্ট দেখে হাসতে হাসতে অজ্ঞান। বলে, আসলটাই তো বাদ দিচো?
কি? কোনটা বাদ গেছে?
তমাল, তুমি না খুব সাধারণ ব্যাপারগুলো খুব মিস করো। তোমরা লেখকরা এত ভারি ভারি বিষয় নিয়ে ভাবো বলেই হয়তো।
বলো না। বলো,
তোমার আর আমার নামের প্রথম অক্ষর ত।
আমি বোকার মতো বললাম, স্যরি। ভুলে গেছলাম। স্যরি।
ডায়রি থেকে উপন্যাস লেখার আইডিয়া শুনে তৃপ্তি চেয়ারে বসে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। তারপর উঠে গিয়ে টিভিতে খবর শোনায় মন দিয়েছিল। আমি রিডিং রুম থেকে বাতি নিবিয়ে লিভিং রুমে যেতেই সে টিভিটাকে মিউট করে দিল।
তমাল, আমাদের কাহিনীগুলো নিয়ে...
আরে না। আমাদের কাহিনী সেটা কেউ বুঝবে? বলো, বুঝবে? আর হুবহু কিছু থাকবে না। তুমি নিশ্চিত থাকতে পারো।
আচ্ছা আগে লেখা শুরু করো তো। তুমি তো খালি বলো। কিছু তো লেখো না ওই ডায়রি ছাড়া। এবার ডায়রি লেখাও বন্ধ হয় কি না ভাবছি।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:৫৭
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×