somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নীতি গল্পের মানে # এসপের শেষ গল্প

১০ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গল্পটা উইলিয়াম মার্চ লিখেছিলেন। কোনো একটা সংকলন থেকে অনুবাদ করেছিলাম। এখন অনুবাদটা খুঁজে পাই না। কিন্তু গল্প থোড়া থোড়া মনে আছে।
শুনেন :
বিখ্যাত নীতি গল্পকার এসপ জীবনের শেষ দিকে লিডিয়া বেড়াতে গেছেন। পাহাড়ের ওপরের এক সুন্দর সরাইখানায় তার থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। তার লিডিয়া আগমন উপলক্ষে এলাকার গণ্যমান্যরা হোটেলে মানে সরাইখানায় ভিড় করতেছে। বলাবাহুল্য, সবাই মনে করতেছে এসপের খ্যাতি পুরা ফালতু ব্যাপার। অতএব হাতের কাছে যখন পাওয়াই গেছে তখন এক হাত দেখে নেয়া যাক। ইলাকার জ্ঞানী ব্যক্তিরা এসে এসপের সঙ্গে মোলাকাত করলেন। আলাপ শুরু করার ভূমিকা হিসেবে নানা কথা বইলা প্রসঙ্গে আসতে চাইলেন। 'তো হজরত এসপ এইখানের আবহাওয়া কেমন বোধ করতেছেন?' এসপ কইলেন ডিপেন্ডস। একবার বৃষ্টির পর এক হাঁসের লগে এক বিড়ালের দেখা হইলো। হাঁস মাত্র সাঁতার দিয়া ডাঙ্গায় উঠছে। বিড়ালকে দেখে সে অতি উৎসাহে আগাইয়া গেল। বললো, ভায়া, দেকেছো কেমন মধু বৃষ্টি হলো। অনেকদিন পর একটু ডানা ভেজাতে পারলাম। বিড়াল বললো, তা তো বলবাই। আমার অবস্থা দেখো। ভিজে একেবারে কাত হয়ে গেলাম। বাইরে বেরুনোর জো নাই। বুঝলে, এর চেয়ে খারাপ আবহওয়ার মুখোমুখি এ বছর আর হইনি।
গল্প ঝেড়ে এসপ বললেন, দিস স্টোরি টিচেস আস, অর্থাৎ এই গল্পের মরতবা হইলো : আবোহাওয়া একেকজনের কাছে পরিস্থিতি অনুসারে একেক রকম হইতে পারে। ফলে, সাধারণভাবে কিছুই বলা যায় না।
গল্প শুইনা গণ্যমান্যরা ব্যথা পাইলেন। সেদিনের মতো আলাপ জমলো না বইলা তারা কেটে পড়লেন।
পরের দিন আবার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত। আজকে তারা অর্থনীতি নিয়া বেশ একটা প্রস্তুতি নিয়া আসছেন। এসপ একদিকের এক টেবিলে বইসা একা একা চা খাইতেছিলেন। গুনীব্যক্তিরা তাকে দেইখা বললো, মিস্টার এসপ অনেক তো ঘুইরা ঘাইরা দেকলেন। তো এইখানকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিষয়ে আপনার অভিমত কী?
এসপ চায়ের কাপ হাতে কইরা জ্ঞানীদের টেবিলের কাছে আইসা বইলেন। বললেন, একবার বনের মধ্যে একটা জরুরী ত্রাণের জন্য ফান্ড খোলার দরকার হইলো। সিংহ মশাই সভা ডাকলেন। সবাইরে বলা হইলো নিজের নিজের দামী সংগ্রহ সিংহ মশায়ের ফান্ডে জমা দিতে। বাঘ কইলো, সে কিছু মাংস দিবে। এই শুইনা হরিয়াল পাখি কয়, ত্রাণের সময় মাংস তো তার কোনো কামে আসবে না। গরু কইলো, তার সংগৃহীত ঘাসের অর্ধেকটাই সে দিয়ে দিবে। বিড়াল কয়, ত্রাণ হিসাবে ঘাস পাইলে সে কোন কামে লাগাইবে? শৃগালের কাছে যা উপাদেয়, মুরগীর কাছে তা অপ্রয়োজনীয়। দেখা গেল বনের মধ্যে, একজনের কাছে যা মূল্যবান অন্য জনের কাছে তা-ই মূল্যহীন।
দিস স্টোরি টিচেস আস, অর্থনৈতিক অবস্থা একজনের কাছে ভাল মনে হইলে অপরজনের কাছে মন্দও মনে হইতে পারে।
জ্ঞানীগুণীরা এসপের গল্প শুইনা দমে গেলেন। এসপকে শায়েস্তা করার জন্য তারা ইলাকার ছোট ভাইদের ওপর দায়িত্ব দিলেন। রাত একটু গভীর হইতেছে। সরাইখানা ফাঁকা ফাঁকা হইতেছে। এমন সুমায় তারা এপকে কইলেন, লন ছাতে যাই। বাতাস খাইগা। এসপ বলেন, হ লন। সবাই মিলে সরাইখানার ছাতে গেলেন। আগেই বলা হইছে, সরাইখানাটি একটি পর্বতের ওপর ছিল। ছাতে যাওয়ার পর চেংড়া পোলাপান এসপকে চ্যাংদোলা করে ধরলো। এইভাবে ধরে তারা তাদের পাহাড়ের খাড়ির দিকে নিয়া গেল। সেইখান থেকে তারে সোজা নিচের দিকে ফেইলা দিল। এসপের শেষকৃত্য সম্পাদনের পর তারা হাত ঝাড়া দিয়া এসপকে নকল কইরা কইলো : দিস স্টোরি টিচেস আস...। কী? কিছুই না। তারা পরস্পরের দিকে তাকায়া হো হো কইরা হংস কইরা উঠলো।



এই হইলো গিয়া নীতি গল্পের মানে বিষয়ক গল্প।
১৮টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×