somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সমুদ্র গুপ্তকে নিয়ে অনেক পোস্টের কাতারে আরেকটি পোস্ট

০১ লা জুন, ২০০৮ বিকাল ৩:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

না। সমুদ্র গুপ্তর সঙ্গে আমার পরিচয় নাই। ঢাকা শহরের শিল্প-সংস্কৃতির বাজারে ঘাটে অনেক দিন পিঠে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। আমার পরিচিত মানুষ আর কবি সমুদ্র গুপ্তের পরিচিত মানুষ একাকার হয়ে গিয়েছে। তারপরও তার সঙ্গে পরিচিত হতে পারি নাই। পরিচিত হওয়ার ইচ্ছা কাজ করে নাই। সমুদ্র গুপ্ত যে ধরনের কবি, সেই ধরনের কবিরা আমার পছন্দের মানুষ না।
আমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, সমুদ্র গুপ্তের একটা কবিতার নাম বলতে : আমি পারবো না। আমার যে কোনো বন্ধুকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় তিনি/তারাও হয়তো বলতে পারবে না। চুল উড়িয়ে সারাদিন শিল্প-সাহিত্য মাতিয়ে রাখা এই কবি শাদা চুল গোঁফ দিয়ে আমাকে কোনোদিনই আকৃষ্ট করতে পারেন নাই। তার আড্ডা, মাতামাতি করার গুন আছে। দেখেছি, শুনেছি। ঢাকা শহরের নানা কবিতা সমিতি, লেখক ক্লাবে তিনি নিয়মিত ছিলেন, সেটাও শুনেছি। আগ্রহ হয় নাই। সাহিত্যিক-কবিদের সংঘ হয় না। সংঘ-ঘেষা কবি-সাহিত্যিকদের আমার ভাল লাগে না।
তার মতো লোকেরা আমাকে আকৃষ্ট করে না, তবু হঠাৎ কোনো একদিন আমার উপলদ্ধি হয়, সমুদ্র গুপ্ত আমাদের সমাজে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একজন মানুষ। ঢাকা শহরে কোনো প্রতিবাদ অনুষ্ঠানে, কোনো সংহতি অনুষ্ঠানে কোনো শোক সভায় যে কোনো প্রয়োজনের কাজে কোনো জমায়েতে আর কাউকে না দেখলেও সবার আগে যাকে দেখেছি তার নাম সমুদ্র গুপ্ত। সেলিম আল দীন মারা গেলেন, অনেক মানুষের ভিড়ে যাকে অস্থির হয়ে কিছু একটা করতে স্বান্তনা দিতে দেখলাম, তিনি সমুদ্র গুপ্ত। শহীদুল জহির মারা গেলেন। গুটিকয় লোকের ভিড়ে একজন আবশ্যিকভাবে উপস্থিত, তিনিও সমুদ্র গুপ্ত। সকলের বন্ধু। বিপদের ত্রাণ।
আর ভাগ্যের কী অবাক প্রতিশোধ! সেই সমুদ্র গুপ্ত আজ সকলের শরণাগত। তিনি অসুস্থ, বিপন্ন। তার জন্য আজ সাহায্য দরকার। নির্মলেন্দু গুন থেকে শুরু করে ব্লগের সর্বকনিষ্ট কবিও তার জন্য লিখছেন। আমি চুপ করে আছি। বরাবরের মতোই। সমাজের জন্য সমুদ্র গুপ্ত কতটা প্রয়োজনীয় সেটা কি আমি বুঝতে পারছি না? আমি কি তাদের জন্যই শুধু এগিয়ে আসবো যারা সফল কবি। যাদের পংক্তি মনে রাখা যায়? তা তো হতে পারে না। আমি কি তাদের জন্যই কাঁদবো যাদের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে?
না।
মানুষের জীবনে এমন অসহায় মুহূর্ত খুব কম আসে যখন তিনি নিজের জীবনের জন্য পরিচিত-অপরিচিত মানুষ নির্বিশেষে সবার সহায় যাচনা করেন। বা তার স্বজনরা নিজেদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ন্যুনতার জন্য অন্যের দারস্থ হন। আমাদের কিছুই করা থাকে না। আমি চাইলে পকেট থেকে একটা মোটা অংকের টাকা তার স্বজনদের হাতে তুলে দিয়ে দায়মুক্ত হতে পারি। কিন্তু যদি আমার সামর্থ হয় সামান্য, যদি আমার অংশগ্রহণে তার জীবনীর লেশমাত্র না ফেরে? তবে তো হাহাকার করতে হয়। পত্রিকায়, টিভিতে, ব্লগে কত আহবান। সাহায্য করুন। এই দুস্থ মানবতার জন্য কে এগিয়ে আসবে? কে কার ডাকে সাড়া দেবে? আমি এদের মধ্যে কার স্বজন? কার জন্য আমার প্রাণ কাঁদে? কার জন্য কাঁদে না?
এইসব প্রশ্নের মুখে আমি স্থবির হয়ে যাই। চুপ করে থাকি। বুঝতে পারি মৃত্যু একজন অসুস্থ মানুষের দিকে এগিয়ে আসছে। আমার নীরবতার জন্যই হয়তো।
পোস্টের পর পোস্ট বাড়ছে। সবাই বলছেন, সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসুন। সভ্য দেশে এমনটি হয়তো করতে হতো না। সরকার সেখানে একজন কবির পাশে দাঁড়িয়ে তার শুশ্রুষা করতো। শুধু কবি কেন, সাধারণ একজন মানুষকেও ফেলতো না। আমরা দুর্ভাগা। কবিদের জন্য আলাদা করে আমাদের সাহায্য চাইতে হয়। সাধারণের জন্য আলাদা করে সাহায্য চাইতে হয়। আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাই, দাবি জানাই, অনুরোধ জানাই সমুদ্র গুপ্তকে বাঁচানোর জন্য চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আপনারা এগিয়ে আসুন।
যে পর্যন্ত সরকার এগিয়ে না আসে সে পর্যন্ত আমরাই এগিয়ে আসি। আমাদের পরিচিত কিংবা অপরিচিত, প্রিয় কিংবা অপ্রিয় এই কবির শুশ্রুষার জন্য। সামহয়ারের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা অনেক। আমাদের এই কবিকে বাঁচাবার জন্য, সবার দৃষ্টি তার অসহায়তার দিকে টানার জন্য অন্তত একটা পোস্টকে স্টিকি করুন। জীবন দৃষ্টিনন্দন ব্লগের চেয়ে মূল্যবান।
পারভেজ চৌধুরীর পোস্টটা এখানে কপি করে দিলাম। শুধু এই পোস্টটাই দিতাম। কিন্তু অভ্যাসবশত কিছু বাক্যবাজী করলাম। আশাকরি আপনারা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

কবি সমুদ্র গুপ্ত গুরতর অসুস্থ ।
বেশ কিছুদিন ধরে তিনি পিত্তনালীর ক্যানাসার, জন্ডিস ও ডায়াবেটিক নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন । তাঁর চিকিৎসার জন্যে প্রয়োজন মোটা অংকের টাকা। কবি পরিবারের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা সম্ভব নয় ।চারুকলায় এবং আজিজ সুপার মার্কেটে তার জন্য একটি তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা চলছে, প্রয়োজনে ওখানে বা তার স্ত্রীর নিমোক্ত একাউন্টে অর্থ সাহায্য দিতে পারেন।
সোহানা হ্যাপী,
সঞ্চয়ী একাউন্ট নং-৩৯৫৩,
উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড,
কলাবাগান শাখা, ঢাকা।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৭
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×