এক জীবনের অবশিষ্ট
মাহমুদ দারবিশ
যদি আমাকে বলা হয় :
সন্ধ্যা নাগাদ মরে যাবে নিশ্চিত,
তো, এখন কী করবে তুমি?
তাকাবো হাতঘড়ির দিকে,
খাবো এক গ্লাস জুস
আপেলে কামড় দেবো
দূর থেকে
খাবার খুঁজে পাওয়া
একটি পিপড়াকে দেখবো নিবিষ্ট মনে,
তারপর তাকাবো হাতঘড়ির দিকে।
দাড়ি কামাবার সময় পাওয়া যাবে
থাকবে বাথটাবে ঝাঁপিয়ে পড়বার অবকাশও।
শান্তি।
পরবো লেখার পোশাক
ধরা যাক, নীল আলোয়ান।
দুপুর পর্যন্ত বসে থাকবো টেবিলে
কিন্তু দেখবো না শব্দের কোনো রঙ
শুধু শাদা, শাদা, শাদা....
বানাবো নিজের শেষ খাবার,
দুটি গ্লাসে ঢালবো ওয়াইন :
একটা আমার আর একটা তার জন্য
যে আসবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া,
তারপর দুটি স্বপ্নের মাঝখানে দেব ভাতঘুম।
নিজের নাক ডাকার শব্দে ঘুম ভেঙে যাবে...
তাকাবো হাতঘড়ির দিকে :
পড়ার জন্যও কিছু সময় পাওয়া যাবে।
পড়বো দান্তের কোনো পর্ব আর মুয়াল্লাকার অর্ধেকটা
দেখবো কীভাবে আমার কাছ থেকে জীবন
যাচ্ছে অন্যের কাছে। প্রশ্ন করবো না,
কে পূরণ করবে এর ফাঁকগুলো?
তবে, এটাই সেই বস্তু?
এটাই সেই বস্তু। এটাই।
তা
তারপর?
তারপর চুল আঁচড়াবো এবং ছুড়ে দেব কবিতাটা...
কাগজের ঝুড়ির মধ্যে, এই কবিতাটা,
পরবো নতুন ফ্যাশনের ইতালীয় শার্ট,
নিজেকে কুচকাওয়াজ করাবো স্প্যানিশ ভায়োলিনের সাহচর্যে
এবং হেঁটে যাবো কবরের দিকে!
(Click This Link)
উইকিপিডিয়া (http://en.wikipedia.org/wiki/Mahmoud_Darwish)
রয়টর্স(Click This Link)
আগের কবিতাটা একটু এডিট করলাম। আর ফিলিস্তিনের জাতীয় কবি, ফিলিস্তিন মুক্তি সংগ্রামের সক্রিয় কর্মী মাহমুদ দারবিশের আরেকটা কবিতা পোয়েম হান্টার থেকে অনুবাদ করে দিলাম।
ওইখানে আমার জন্ম
মাহমুদ দারবিশ
আমার জন্ম ওইখানে। আর আমার স্মৃতি আছে।
মরণশীল মানুষের মতো জন্ম আমার। মা আছে একজন।
অনেক জানালাঅ'লা একটা ঘর আছে,
ভাই, বন্ধু-পরিজন আছে।
আর আছে ঠাণ্ডা জানালাঅ'লা এক কারাকুঠুরি
সিন্ধুসারসের কাছে ছিনতাই হওয়া এক ঢেউ আছে।
আমার নিজের দৃষ্টিভঙ্গি আছে। বাড়তি একটা ঘাসপাতা আছে ।
শব্দের সুদূর সীমানায় আমার একটা চাঁদ আছে।
অকৃপণ পাখিরা আছে।
আছে অমর জলপাই গাছ।
তরবারির আঘাতে ভারাক্রান্ত টেবিলে পরিণত হওয়ার আগে
আমি এই মাটির জীবন্ত শরীরে হেঁটেছি অনেক।
ওইখান থেকে আমি এসেছি। আকাশ মায়ের জন্য কাঁদলে আমি তাকে
ফিরিয়ে দেই তার মায়ের কাছে।
আর আমি কাঁদতে থাকি ফিরতি পথের এক মেঘের কাছে
নিজের পরিচয় জানাবার জন্য।
আমি জেনেছি, রক্তের আদালতে সকল শব্দেরই নির্দিষ্ট মানে আছে।
কেননা, আমি নিয়ম ভাঙতে চাই।
আমি সকল শব্দই শিখেছি, আর ভেঙে ফেলেছি তাদের
একটা শব্দ তৈরির জন্য : 'মাতৃভূমি'।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

