somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আরও অনেক মোশাররফ আছে

১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অবশেষে জেনারেল মোশাররফ চলে গেলেন। পাকিস্তানের মানুষ উৎসব করেতেছে। বিশেষ করে আইনজীবীরা উল্লসিত। প্রধান বিচারপতি ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী সহ হাইকোর্টের বিচারপতিদের অকার্যকর ও বরখাস্ত করার পর মোশাররফ-বিরোধী বিক্ষোভ বড় আকার ধারণ করে। পাকিস্তান বিক্ষোভ ও গণঅভ্যুত্থানের দেশ নয়। ফলে সেইখানে কোনো বিক্ষোভ ও গণঅভ্যৃত্থানে সরকার পতনের নজির নাই। এবারও তা হলো না। মোশাররফ যে প্রক্রিয়ায় সরে গেলেন তার পশ্চাৎপটে একটা নির্বাচন ছাড়া জনগণের প্রত্যক্ষ কোনো চাপ তার ওপর আছিল না। ক্ষমতার জটিল হিসাব-নিকাশের মধ্য দিয়ে তাকে সরে যেতে হলো।
এর মধ্যে কত ঘটনা ঘটলো।
ইফতেফার আহমেদ চৌধুরী বরখাস্তও গৃহবন্দী হলেন।
বেনজির ভুট্টো ফিরলেন। ফেরার পথেই তার গাড়ি বহরে হামলা হলো।
নওয়াজ শরিফ ফিরলেন।
বেনজির গুপ্ত ঘাতকের হাতে নিহত হলেন।
মোশাররফ সেনাবাহিনী প্রধানের পদ ত্যাগ করলেন।
আশফাক কায়ানী সেনাপ্রধান হলেন।
নির্বাচন হলো। বেনজিরের দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি জয় পেল।
ঐতিহাসিক কোয়ালিশন সরকারের ঘোষণা এলো মুসলিম লীগ ও পিপিপির সমন্বয়ে।
মুসলীম লীগ মোশাররফকে সরানো ও বিচারপতিদের পুনর্বহালের ইস্যুতে কোয়ালিশন থেকে সরে এলো।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফর করে এলেন। অভিশংসনের প্রস্তুতি নেয়া হলো।
এবং মোশাররফ পদত্যাগ করলেন।
ঘটনাপ্রবাহ তো বলে মোশাররফকে সরে যেতেই হতো। পৃথিবীর বহু দেশে দুই টার্মের বেশি কেউ রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন না সাংবিধানিকভাবে। জেনারেল মোশাররফ ক্ষমতা নেন ১৯৯৯ সালে। ২০০৮ সালে তো তার ক্ষমতার ৯ বছর পূর্ণ হয়েছে। এত দীর্ঘ সময়ে তার সরে যাওয়াকে কোনো ভাবে পরাজয় তো বলা যায় না। কিন্তু মোশাররফের জন্য এটা পরাজয়ই বটে। কারণ পাকিস্তানের মসনদে তার প্রয়োজন ফুরায়নি।
হয়তো আন্তর্জাতিক স্বার্থের কারণে তার আরও কিছুদিন থাকা পড়তো। কিন্তু নওয়াজ শরিফের উত্থান তা কষ্টকর করে তুলেছে। পিপিপি তো শেষ পর্যন্ত সমঝোতাই চেয়েছিল। কিন্তু নওয়াজ খুব কড়া ভূমিকা পালন করেছেন। মোশাররফ পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের লোক। যুক্তরাষ্ট্র-ভারত-ইসরাইলের স্বার্থের প্রতিভূ। তিনি গত নয় বছর ধরে এই স্বার্থ রক্ষা করেছেন। যত ভাবে পেরেছেন, অবদান রেখেছেন। কিন্তু তারপরও চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জিত হয় নাই।
মোশাররফ এসেছিলেন সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের প্রস্তুতির চূড়ান্ত সময়ে। তার সক্রিয় সমর্থনে ও সহযোগিতায় আফগানিস্তানে ন্যাটোর অভিযান পরিচালিত হয়। আফগানিস্তান বেদখল হয় যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। সেখানে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে ন্যাটো বাহিনীর জয়ে এখন ক্ষয় ধরেছে। নতুন করে তালেবানরা সংঘটিত হচ্ছে। পাকিস্তানের সীমান্ত প্রদেশ তো বটেই, মেইন ল্যান্ডে পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের আগাগোনা বেড়েছে। আফগানিস্তানের যুদ্ধ এখন শুধু আফগানিস্তানের ব্যাপার না। পাকিস্তানেরও ব্যাপার। ফলে, পরিস্থিতি বেশ প্যাঁচ খাইছে।
মোশররফ আর বুশ এই যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করা ছাড়া কোনো সমাধান দিতে পারেন নাই।
যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের পাকিস্তান রাষ্ট্রের কমান্ডার ইন চীফ এখন পরাস্ত। নিশ্চয়ই নতুন কমান্ডার খুঁজবে তারা। কারণ সিভিল সরকারের ভেতর থেকে তেমন আস্থাভাজন কমান্ডার তারা কখনোই পাবে না। চিন্তা নাই। পাকিস্তানে গণতন্ত্র তাদের মাথাব্যথার বিষয় না। তাদের মাথাব্যথা আফগানিস্তান আর ইরাকের গণতন্ত্র নিয়ে। সো, পাকিস্তানে সাধারণ মানুষ, কোর্ট-কাচারির কী হইলো সেটা ইস্যু না। ইস্যু হইলো দে নিড এ নিউ কমান্ডার ইন পাকিস্তান সেক্টর। কে তিনি?
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রচুর রাষ্ট্রপ্রধান তৈয়ার করছে অতীতে। সেখান থেকে কাউকে না কাউকে তো পাওয়াই যাবে।
এক মোশাররফ গেছে তো কী হইছে। আরও অনেক মোশাররফ আছে।



পাকিস্তান নিয়া আমার লেখা ব্লগ :
Click This Link
Click This Link
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১:৪৩
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×