somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সরকারের অবস্থা দেইখা আমার এক বন্ধুর কথা মনে পইড়া গেল

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পিএসসি বা সরকারি কর্মকমিশনে ঘুষ দেওয়ার নিয়ম-কানুন যারা জানেন তারা এই গল্পটা ভাল কইরা বুঝতে পারবেন। আমার দুঃসম্পর্কের বন্ধু বিসিএস-এ রিটেনে টিকছে। ভাইভা মেডিকেল বাকী। এর মধ্যে তাার টেনশন শুরু হয়া গেল। যদি না টিকে। আশপাশের লোক ধইরা সে পিএসসিতে খোঁজ লাগাইলো। ছাত্রদলের এক নেতা তারে হেল্প করলো। ঠিক করা হইলো, দুই লাখ টাকার বিনিময়ে তার চান্স হবে। নিশ্চিত। নানা দোনামোনা করে সে দুইলাখ টাকা জোগাড় করলো। ঢাকায় গিয়া পিএসসির সেই লোকরে দিয়া আসলো।
যথারীতি তার ভাইভা হইলো। ছাত্র ভালো ছিল। রিটেনেও ভাল হইছিল। মাশাল্লা ভাইভাতে সে ভালোভাবেই টিকলো। মেডিকেলেও কোনো সমস্যা হইলো না। তো ফাইনাল রেজাল্ট বের হওয়ার পর বন্ধুর মনে খচখচানি শুরু হইলো। তার মনে হইতে লাগলো যে, টেকাটা না দিলেও সে পারতো। এমনেই হইতো। আসলে সে বুঝতে পারছিল, তার এমনেই হইছে। খচখচানিটা বাড়তে বাড়তে এমন অবস্থা হইলো যে সে পিএসসির ওই লোকের বাসায় গিয়া হাজির হইলো। কইলো, আমার তো এমনেই হইছে আপনের তো কিছু করা লাগে নাই।
উনি কন, কিছু করা লাগে নাই মানে কী? তোমার টেকা হালাল না কইরা আমি খাইছি নিকি।
এইসব আবোল তাবোল।
বন্ধু তার কথায় দুর্বলতা টের পাইলো। সিদ্ধান্ত নিলো ওই ছাত্রদল নেতারে দিয়াই টেকা উদ্ধার করবে। দরকার হইলে তারেও কিছু দিবে।
তারপর কী হইছে আমি জানি না। খোঁজ নিলে জানা যাবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের অবস্থা হইছে আমার সেই বন্ধুর মতো।
যুক্তরাষ্ট্র ভারতসহ দেশি বিদেশী শক্তিগুলা আওয়ামী লীগরে সাপোর্ট দিছিলো নির্বাচনের আগ দিয়া। তাদের নানা কথা দিছিলো আওয়ামী লীগ। নানা চুক্তিমুক্তি করতে চাইছিল। আর পাবলিকও তাদের ছাপ্পড় ফাইড়া ভোট দিছিলো।
এখন আওয়ামী লীগের মনে হইতেছে, তারা তো এমনেই জিতছে। পাবলিকই জিতাইছে। আর ইয়েদের তাই তারা বলতেছে, আপনেদের তো কিছু করা লাগে নাই। ইয়েরা বলতেছে, কী বলেন, আমরা ইয়ে না করলে কি পাবলিক আপনেদের ভোট দিতো?
......
আগে যখন আওয়ামী লীগের প্রেস ব্রিফিং হইতো তখন দেখতাম একজন নারী ব্রিফিংরত নেতার পাশে দাঁড়াইয়া হাসতেছেন। সবসময়ই একই রকম তার হাসি। দেইখা ভাল লাগতো। নাম জানতাম না। নির্বাচনের পর জানলাম ইনি ডা. দিপু মণি। কাইলকা যখন আনন্দবাজারের দিল্লি সাংবাদিক অ্যাগ্রেসিভ প্রশ্ন কইরা বসলো তখনও তিনি ওইরকম একটা হাসি দিছিলেন। জয়ন্ত ঘোষাল নামক ওই সাংবাদিক সহজ কথায় সাংবাদিকতার রীতিনীতি জানেন না। কেউ যদি বাংলাদেশকে বাফার স্টেট কইতো তাইলে সেইটার রেফারেন্স দিয়া তিনি মন্তব্য চাইতে পারতেন। কিন্তু সাংবাদিকটি নিজে বানায়ে একটা ভাষ্য দিয়া মতামত চাইছেন। একটা খবর বানাইতে চাইছেন। এইটা কোনো রীতিতে করা যায় না। সোজা কথায়, এই প্রশ্ন না। এইটা আনন্দবাজারের স্টেটমেন্ট।
এইটার কঠোর উত্তর দেয়া উচিত আছিল।
কিন্তু নতজানু অবস্থা যদি আমার মজ্জায় থাকে তাইলে মগজ তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকটিভ হবে না, এইটাই তো স্বাভাবিক।
.......
সরকার যে এমনেই পাশ করলো। জনগণ যে তাদের পাশ করাইলো। তারপর তদবীর পার্টিগুলার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কই যায়া ঠেকে এইটাই এখন দেখার বিষয়।
ছবি: প্রথম আলোর সংবাদের কাটিং
১২টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×