somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ওবামা এবং মোস্ট ডিপ্লোম্যাটিক নোবেল প্রাইজ

১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কালকে সিএনএন দেখতেছিলাম রাইতে। লন্ডনে একজনকে রিপোর্টার জিগাইলো, ওবামা নোবেল শান্তি পুরস্কার পাইছে। আপনের প্রতিক্রিয়া কী? লোকটা দাঁড়াইলো না। কইলো, আই ডোন্ট বিলিভ। আমিও বিশ্বাস করতে পারি নাই। একজন খবর দেওয়ার সাথে সাথে নিউ ইয়র্ক টাইমস খুলে দেখি তারা লিখছে স্টানিং সারপ্রাইজ। দুনিয়ার অধিকাংশ লোক বিস্মিত হইছে। ওবামা নিজেও বিস্মিত। সকাল বেলা উইঠা উনি প্রেসে যা কইলেন কয়টা চ্যানেলে ঘুরে ঘুরে দেখলাম বারবার। মনে হইতেছিল, পুরস্কারটা ওনারে না দিলেই উনি খুশি হইতেন। উচ্ছ্বসিত হাসি, স্বভাবসুলভ উল্লাস তার মধ্যে দেখা গেল না। কিছুটা হতচকিত তিনি।
দেখলাম পুরস্কার ঘোষণার দৃশ্য। যিনি ঘোষণা করতেছিলেন তিনি নির্লিপ্ত। পুরস্কার ঘোষণার জন্য এই ধরনের নির্লিপ্ত ভঙ্গি ভাল। উনি বিশেষভাবে ওবামার কায়রো ভাষণের কথা কইতেছিলেন। ওবামার চেষ্টার কথা কইতেছিলেন। আশার কথা কইতেছিলেন।
সিএনএন-এ ডেমোক্রেটিক মান অনুষ্ঠানটা পুরাটাই ছিল ওবামারে নিয়া। এক ওয়েবসাইটের সম্পাদক আইলেন। ফানি কমেন্ট তার। উনি কইলেন, হোয়াইট হাউসে বইসা ওবামা কইছিলেন,
১. গুয়ান্তমো বে কারাগার বন্ধ করবেন। করছেন? না।
২. ইরাক থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করবেন। করছেন? না।
৩. আফগানিস্তান পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাবেন। করছেন? না। পরিস্থিতি আরও খারাপ।
৪. হেলথ কেয়ার সিস্টেম রিফর্ম করবেন। করছেন? না। গুবলেট পাকিয়ে গেছে।
এইসব প্রশ্ন করার পর উনি একে একে ব্যাখ্যা দিলেন।
কইলেন, ওবামা গুয়ান্তামো বে বন্ধ করেন নাই। কিন্তু বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করছেন। প্রতিশ্রুতি এখনও ভঙ্গ করেন নাই। বরং প্রতিশ্রুতি রাখতেছেন।
ইরাক থেকে সৈন্য প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু করছেন। এই কয়েক বছরের প্লান। ফলে, এইখানে তিনি প্রতিশ্রুতি রাখছেন।
হেলথ কেয়ারেও প্রতিশ্রুতি রাখছেন। এইখানে কতটা কী করতে পারবেন দেখার বিষয়।
আফগানিস্তানে নতুন সৈন্য পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন। এইভাবে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব কি না প্রশ্ন।
............
ওই অনুষ্ঠানেই নানা জনকে প্রশ্ন করা হইতেছিল। বেশ কয়েকজন কইলেন, হোয়াই হি হ্যাড অ্যাকমপেলিশড? অফিসে বসতেছেন নয় মাস ধইরা। এইটা ঠিক উনি অনেক কাজের উদ্যোগ নিতেছেন। তার অ্যাপ্রোচ ভাল। উনি কাজ করার ব্যাপারে আন্তরিক। কিন্তু কোন কাজটা তিনি শেষ করছেন যে তার জন্য তিনি নোবেল পাইতে পারেন?
.........................
আজকে আবার নিউ ইয়র্ক টাইমস খুলে বসলাম।
নোবেল পুরস্কার নিয়া মেলা কথা আছে। তার মধ্যে একটা হইলো এইটা নানা বিষয়ে ইউরোপের মতামত প্রতিফলিত করে। জোসেফ জোফে ইউরোপের সেই মতামতের কথা কইছেন। উনি কইছেন, ওবামার জন্য শান্তি পুরস্কার হইলো জর্জ বুশের জন্য চপেটাঘাত। ইউরোপীয়রা জর্জ বুশের বেয়াদপী, যুদ্ধংদেহী মনোভাব পছন্দ করতে পারতেছিল না। ফলে তারা প্রথম সুযোগে বিনয়ী, মার্জিত ও ভদ্র এই কালো প্রেসিডেন্টকে সম্মানিত করলো। ওনার ভাষায় অ্যাপ্রোচের দিক থেকে ওবামা আন-আমেরিকান।
.................
ওবামা কোন কাজটা শেষ করছেন, এ প্রশ্ন কমন। ওয়াল্টার আইজ্যাকসন বলতেছেন, হেনরি কিসিঞ্জার যখন পুরস্কার পাইছেন তখন তিনি নাকি কইছিলেন শান্তি এখনও স্থাপিত হয় নাই। চিন্তা করেন, কিং অফ কন্সপিরেসি, লর্ড অফ ওয়ার, হিরো অফ মিলিটারি রুলার্স কিসিঞ্জারও পুরস্কার পাইছেন। নোবেল পুরস্কারের তালিকায় এমন অনেকে আছে যুদ্ধ বিস্তারে যাদের কম বেশি ভূমিকা ছিল। অনেকে প্রশ্ন করতেছেন, শান্তি পুরস্কার বিজয়ী প্রেসিডেন্ট এখন কেমনে আফগানিস্তানে নতুন সৈন্য পাঠাইবেন। বিরাট প্রশ্ন।
অনেকে পদে থাকার সময় যুদ্ধ করে পরে শান্তি চেষ্টা করে নোবেল নিছেন। এইবার একেবারে সব কিছুর আগেই পুরস্কার আইলো।
অনেক কিছু পইড়া আমি একটা জিনিশ বুঝতে পারলাম, অধিকাংশ মানুষই বুঝতে পারতেছে না, আমেরিকান প্রেসিডেন্ট আর বারাক ওবামার মধ্যে একটা প্রতিষ্ঠান ও একটা ব্যক্তি। আমেরিকান সিস্টেম যুদ্ধ করে, সৈন্য পাঠায়। পেন্টাগন আছে, সিআইএ আছে। সিকিউরিটি অ্যাডভাইজ আছে। এইসব মিলায়ে প্রেসিডেন্ট। একটা প্রতিষ্ঠান। যে প্রতিষ্ঠান অন্য প্রতিষ্ঠানগুলার বিরুদ্ধে যাইতে পারে না।
আর একজন আছে যিনি বারাক ওবামা। ইনি কালো, ইনি মুসলিম-ক্রিশ্চিয়ান। ইনার দুইটা মেয়ে আছে।
এই লোক যখন কায়রোর বিশ্ববিদ্যালয়ে দাঁড়ায়ে বক্তৃতা দেন তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কথা বইলা সেই বক্তৃতারে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। কারণ বুশের গুণ্ডামীর স্মৃতি তো আমাদের স্মৃতি থেকে মুছে যায় নাই। এই লোক যখন আশার কথা বলে, যুদ্ধ বন্ধের কথা বলে তখন সেইটারে বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয়। যদিও আমরা সবাই জানি, যুদ্ধ যদি সত্যি বন্ধ করতে চান এই লোক তাইলে আমেরিকার সঙ্গে তার নিজের যুদ্ধের ফয়সালা হইতে হবে আগে।
আমেরিকার জনগণ এক আমেরিকা। আমেরিকার সামরিক প্রতিষ্ঠান কর্পোরেট আরেক আমেরিকা। মানুষরে সাথে নিয়া যদি ওবামা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ শেষ করতে পারেন তাইলে গুয়ান্তামো, আফগানিস্তান ইরাক কোনো সমস্যা না। উনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার মধ্য দিয়া একটা বিষয় সুরাহা হইছে যে, জনগণকে ভুলানোর ক্ষমতা তার আছে। শান্তির কথা বইলা আমেরিকান জনগণের ভোট উনি নিছেন। ফলে, একটা কাজ শেষ তো হইছে।
এইটুকু শান্তির কথা না বইলাও অনেকে শান্তি পুরস্কার পাইছে।
আর ওবামা তো এখনও কাজ করতেছেন।
আমার মতে, এই পুরস্কারের মধ্য দিয়া যে সংশয় লোকে মনে জাগছে, সেইটা ওবামারে নিয়া না, আমেরিকারে নিয়া। ভাগ্য ভাল আমেরিকা পুরস্কার পায় নাই। পাইছে ওবামা।
এখন নোবেল কমিটি এই পুরস্কার ওবামারে দিলেও এই আমেরিকান প্রেসিডেন্টকে চাপে ফেলছে। আমি মনে করি, নোবেল ডিপ্লোম্যাসির সেরা কার্ডটা খেললো তারা।
১.ডাকাত দলের ভাল সর্দাররে ডাকাতি-বিরোধী কার্যক্রমের জন্য পুরস্কার দিল।
২. পুরা আমেরিকান সিস্টেমকে যুদ্ধ নিয়া নতুন চিন্তায় ফেলে দিল।
৩. ওবামাকে বিশ্বজনমত আবার জানায়ে দেওয়া হলো।
৪. একটা বিষয় অন্তত নিশ্চিত করা গেল যে, পুরানা যুদ্ধ শেষ হউক না হউক ওবামার আমলে নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হবে না।
আর এইটা যদি নোবেল কমিটির পুরস্কার দিয়া নিশ্চত হয় তাইলে ওবামার টার্মের শেষে মোস্ট ডিপ্লোম্যাটিক নোবেল প্রাইজ দেওয়ার সার্থকতার জন্য নোবেল কমিটিকে আরেকটা নোবেল দিতে হবে।
১৫টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×