somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তিব্বত, চীন, অরুণাচল, দালাইলামা, দৃক ও অদৃশ্য তিব্বতী ছাত্রবৃন্দ

০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুইদিন আগ থেকে এক বন্ধু ফেসবুকে মেসেজ দিচ্ছিলেন যে, চীনা দূতাবাস থেকে দৃকের একটা প্রদর্শনী বন্ধ কইরা দেওনের চাপ আসতেছে। অতএব আমরা যেন যাই প্রদর্শনীতে। আমি তারে পাল্টা জিগাইলাম, তিব্বত নিয়া আপনেরা প্রদর্শনী করতেছেন কী মনে কইরা? বিস্তারিত জানতে চাই। উনি দাওয়াত দিয়া খালাস। বিস্তারিত জানানোর আর দরকার মনে করেন নাই। তিব্বত নিয়া একটা প্রদর্শনী হবে, ঢাকার একটা ‌'আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন' প্রদর্শনী কেন্দ্রে এতে বাধা দিতেছে চীনা দূতাবাস। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠবে, চীনারা পুলিশের কাছে না গিয়া শহীদুলের কাছে গেল কেন। বলাবাহুল্য শহীদুল আলম দৃকের কর্ণধার। প্রথমে আমি এইটারে একটা স্টান্ট হিসাবেই গণ্য করছি। ভাবছি, গিমিক তৈরি কইরা প্রচারে আসার কৌশল। ফলে রস কইরা ফেসবুকে একটা স্টেটাসও ঝুলাইছি। স্টেটাসটি নিম্নরূপ:
'আমি তিব্বতে (নাবিস্কো মোড়ের কাছে)। দালাইলামা ভারতে (অরুণাচল যাবেন)। দৃকে প্রদর্শনী হবে। সবাই যাচ্ছে, আমি যাবো না। কারণ তিব্বতের মোড় থিকা ধানমণ্ডী মেলা দূর।'

ঘটনাটা ইন্টারেস্টিং বিধায়, খবর নিতেছিলাম দৃকে কী হইতেছে। সন্ধ্যা নাগাদ ঘটনা ক্লিয়ার হইলো। পুলিশি রাষ্ট্রে যে কোনো কাজে বাধা দেওনের কামে পুলিশের জুড়ি নাই। ছলেরও অভাব নাই। পুলিশ আসছে। বাধা দিছে। প্রদর্শনী উদ্বোধন ভালমতো হইতে পারে নাই। কিন্তু খবর তৈরি হইছে। এইখানে পুলিশের তীব্র নিন্দা করা দরকার। বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ। এইখানে নাগরিকদের অধিকার শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমবেত হওয়ার প্রদর্শনী করার নাটক করার, নৃত্য করার। এইখানে পুলিশের কিছু করার নাই। পুলিশের অনুমতি নিয়া আমরা নৃত্য নাট্য গীত প্রদর্শনী করতে পারবো না। যদি পুলিশ ভাইবা থাকে এইসব আমরা তাদের অনুমতি নিয়া করতে বাধ্য তাইলে পুলিশের এক্তিয়ার নিয়া ভাবতে হবে। এই নিয়া কথা তুলতে হবে। বলতে হবে।
চীনা দূতাবাসকে এই প্রসঙ্গে নিন্দা জানানো দরকার।
প্রথম প্রশ্ন, বাংলাদেশ এক চীন নীতি সমর্থন করে। তিব্বতের স্বাধীনতার পক্ষে বাংলাদেশ নাই। চীনারা সরকারের কাছে আর্জি না নিয়া গিয়া শহীদুলের কাছে গেল কেন?
দ্বিতীয় প্রশ্ন, শহীদুলের সঙ্গে সুরাহা করতে না পাইরা তারা সরকারের কাছে গেল কেন? বাংলাদেশে আমাদের অধিকার আছে, তিব্বত, বার্মা, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, সিকিম, অরুণাচল নিয়ে কথা বলার। এইটা ঠেকাইতে তারা সরকারের সাহায্যে পুলিশ নামাইলো কেন?
স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপের আলামত পাওয়া গেছে। বিদেশী বহু রাষ্ট্রই হস্তক্ষেপ করে, কথা বলে। এ বিষয়ে চীন ভদ্রস্থ কূটনীতিতে অভ্যস্ত ছিল। কিন্তু এই ঘটনায় দেখা যাইতেছে চীন অন্যদের মতো সামনে চইলা আসতেছে। বিষয়টি ভাল নহে।
এখন দৃকের কাছে প্রশ্ন :
প্রথম প্রশ্ন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর মোতাবেক, এই প্রদর্শনীর আয়োজক তিব্বতি ছাত্ররা। তিব্বতিরা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য যে কোনো কর্মসূচি পালন করলে আমরা তাদের প্রতি সমর্থন দিবো। তারা এখানকার নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে করে প্রদর্শনী আয়োজন করতে পারে। কিন্তু ফেইসবুকে, সংবাদপত্রে এ পর্যন্ত প্রদর্শনী কেন্দ্রিক যত ছবি দেখলাম তাতে কোনো তিব্বতী ছাত্র-ছাত্রী তো দেখলাম না। কোনো তিব্বতীও দেখলাম না। আমার প্রথম প্রশ্ন, ওই অনুষ্ঠান কি আসলে তিব্বতীদের নাকি দৃকের? তিব্বতীদের হইলে তিব্বতী কাউরে দেখলাম না কেন? একি আমার চোখের ভুল?
দ্বিতীয় প্রশ্ন, ধর্মশালায় দালাইলামার আগমনের পর্ব উপলক্ষে আয়োজন। ভাল কথা। দালাইলামাকে নিয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্র-ভারত টানাপোড়েন এবং তার অরুণাচল সফর নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা ইত্যাদির মধ্যে দৃকের তো জানা থাকার কথা, আমাদের দুই প্রতিবেশী পরাশক্তি মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেছে। এরকম একটি অবস্থায়, তিব্বতী ছাত্রদের প্রদর্শনী শুধু তিব্বতী ছাত্রদের প্রদর্শনী নয়। একটি পক্ষাবলম্বন। দৃক কেন এই সময়ে একটি পক্ষালম্বন করে একটি মিডিয়া পরিস্থিতির জন্ম দিল?
আমার তো জোর ধারণা, স্বাধীনতাহীনতা, পরাধীনতা তিব্বতের চেয়ে মণিপুরে কম নয়। মানবাধিকারের লংঘন বাংলাদেশের ক্রসফায়ার গার্মেন্টের চাইতে তিব্বতে বেশি নয়।
আমরা গণতান্ত্রিক সমাজ। কেউ বাইছা নেই ক্রসফায়ার, গার্মেন্ট, মণিপুর, সিকিম, আসাম।
কেউ বাইছা নেই তিব্বত উইঘু তিয়েনআনমেন।
কেউ বাইছা নেই ইরাক, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন।
বুঝতে হবে। এর মধ্যে রাজনীতি আছে।
ফলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস দৃক যে এই সময়ে তিব্বত নিয়া এই আয়োজনটা করছে তার মধ্যে ঘোরতর রাজনীতি আছে। একটা পক্ষাবলম্বন আছে।
আর এর মধ্য দিয়া যে মিডিয়া পরিস্থিতি সৃষ্টি হইলো তাতে আন্তর্জাতিক খ্যাতির একটা ব্যাপার আছে।
প্রদর্শনী বন্ধে দৃকের লাভ হয়েছে বটে।
কিন্তু আমরা যারা আম জনতা তাদের কোনো ভাল নাই। শুধু ক্ষতি।
সবচেয়ে বড় ক্ষতি এই যে, পুলিশ আপাত অর্থে নিরপরাধ একটা চিত্র প্রদর্শনী পর্যন্ত বন্ধ কইরা দিল এই দেশে। হায়!

ছবি : বিডিনিউজ থেকে মাইরা দিছি। ছবিতে দৃকের কর্ণধার শহীদুল আলমকে পুলিশ পরিবেষ্টিত অবস্থায় দেখা যাইতেছে
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১০
২০টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×