somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর : এইবার ঘোড়ার ডিম ফুটিয়া বাচ্চা বের হইবে

১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে আজমীর শরিফে খাজা মইনুদ্দীন চিশতির দরবারে হয়তো দেশবাসীর জন্য দোয়া চাইতেছেন। আপাতত ভারত সফর শেষ। আজমীর থেকে উনি জয়পুর হয়া দেশে আসবেন। বহুল আলোচিত সফর শেষ। সর্বত্র শান্তি নেমে আসছে। আশা করি উনি আজমীর শরিফে ভাগ্যাহত ও বঞ্চিত বাংলাদেশবাসীর জন্য দিল থেকে দোয়া করবেন। আল্লাহর আর্শীবাদ চাইবেন। কেননা, যে জাতির নেতারা ভাল হন না, সে জাতির মতো ভাগ্যাহত জাতি আর দুনিয়ায় নাই।
শেখ হাসিনার ভারত সফরের মধ্যে আওয়ামী লীগ বলছে, সফর সফল। অতএব প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে বিমানবন্দরে সংবর্ধনা দিবে। আজকে বিকালে বিমানবন্দর এলাকার লোকদের কপালে দুর্ভোগ আছে, তারমানে। আর বিএনপি বলছে সফর ব্যর্থ। সফর ব্যর্থ হইলে ওনাদের নেত্রী কইছিলেন রাস্তায় কাঁটা বিছাইবেন। কিন্তু যথেষ্ট কাঁটা তারা সংগ্রহ কইরা হয়তো উঠতে পারে নাই। ফলে, আওয়ামী লীগ কর্মীদের ফুল বিছানো পথেই প্রধানমন্ত্রী ফিরবেন আশা করা যাইতেছে।
শেখ হাসিনার এই সফরের সময় জুড়ে আমার খালি তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে বাংলাদেশের সেনাপতি মইনুদ্দীনের ভারত সফরের কথা মনে হইতেছিল। উনি কোন প্রটোকলে ভারত গেছিলেন আল্লাহ মালুম। ভারত গিয়া কর্তাদের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ করছিলেন। আসার সময় ছয়টা ঘোড়া নিয়া আসছিলেন। সেই ঘোড়া নিয়া অনেক কানাঘুষা হইছে দেশে। মইনুদ্দীন ফখরুদ্দীনের যুগ শেষ হওয়ার পর ঘোড়াগুলা কই আছে কে জানে। কিন্তু ঘোড়াগুলা যথেষ্ট ডিম পাড়তেছে বোঝা যায়। এইবার শেখ হাসিনা ভারত গিয়া সেই ঘোড়াগুলোর ডিম নিয়া আসছেন। কেউ হয়তো বলবেন, ঘোড়া এইখানে ডিম ওইখানে কেন? বুঝতে হবে এইগুলা ভারতীয় ঘোড়া। দেশপ্রেম প্রখর। এইখানে থাকলেও ডিম ওইখানে পাড়ে। ফলে, মইনুদ্দীনের ঘোড়ার ডিম আনতে ভারতে যাইতে হইছে প্রধানমন্ত্রীকে। মোট পাঁচখানা অশ্বডিম্ব এবং অসংখ্য অশ্বডিম্বের প্রতিশ্রুতি নিয়া প্রধানমন্ত্রী ফিরতেছেন।
এই অশ্বডিম্বগুলা জরুরি অবস্থার শাসনের ফল। ঘোড়া আনলে সে ঘোড়ার ডিমও আনতে হবে। ডিম আনার প্রতিশ্রুতি দিয়া আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসছিল বইলা অনেকে ধারণা করেন। ফলে, সরকারের একবছর যাইতে না যাইতে শেখ হাসিনা ডিম আনতে বাধ্য হইছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশ কী পাইলো, কেউ যদি জিগান তাইলে উত্তর মিলবে সহজে। বাংলাদেশ পাইলো, লালগালিচা সংবর্ধনা এবং ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কার। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পাইলো মানে বাংলাদেশই পাইলো।
আর কী পাইলো? কেউ বলবেন বিদ্যুত কেউ বলবেন একশ কোটি ডলার ঋণ। ভাব দেখে মনে হয়, ভারত বিদ্যুত বিনামূল্যে দিবে। যার নিজের ঘাটতি প্রচুর সে কেমনে বিদ্যুত দিবে? যেখানে আওয়ামী লীগ কইছিল দেশে বিদ্যুর উৎপাদনের জন্য বিনিয়োগের ব্যবস্থা করবে সেখানে ইন্ডিয়া থেকে আমদানী করার বুদ্ধি কোত্থেকে আইলো? এই বিদ্যুত দিয়া বাংলাদেশের কী হবে কে জানে কিন্তু একটু প্রচার হইলো। আর ১০০ কোটি ডলার ঋণ মানে তো ভারতের স্বার্থে রেল উন্নয়ন। কেন আমরা নিজেরা রেলখাতে বিনিয়োগ করতে পারি না? ভারতের লোন নিতে হবে কেন? আমাদের অলস টাকা পইড়া রইছে সেইগুলা দিয়া আমরা আমাদের অবকাঠামো তৈরি করতে পারি না?
আর যে তিনটা চুক্তি হইছে, সেই তিনটা চুক্তির গুরুত্ব কী সেইটা দেশবাসীকে বুঝাতে হইলে অনেকদিন লাগবে। সহজভাবে বুঝলে, অনুপ চেটিয়াদের ভারতে পাঠানোর ব্যবস্থা করার জন্য এই ব্যবস্থা। আর নানা নামের সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনার ব্যবস্থা।
ভারতকে বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হইলো , ট্রানজিট দেওয়া হইলো ভাল কথা। এগুলা বড় দান। কিন্তু প্রতিদান হিসাবে বাংলাদেশ পাইলো প্রতিশ্রুতি। নেপাল-ভুটানে ট্রানজিট পর্যন্ত পাইলো না।
যৌথ ঘোষণা ৫০ দফা পইড়া দেখলাম। বাংলাদেশ যা পাইলো, তাকে অশ্বডিম্ব ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। পন্যে শুল্কছাড় অমুক তমুক এইগুলা ইনডিয়া কইতেই আছে। তিস্তানদীর পানি বণ্টনও স্রেফ আওয়াজ।
এত কিছুর পরও বাংলাদেশ সেজে গিয়ে যে চুক্তি করে আইলো তার কারণ কী হইতে পারে? ভারতের কাছে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালন?
আর এই বিষয়ে বিএনপি দায়সারা মন্তব্য করে সরে যাইতে চাইতেছে কেন, সেটাও এক প্রশ্ন। আমাদের নেতাদের নিয়া বিশেষ দোয়াখায়ের করার দরকার আছে বুঝা যাইতেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে ভারত-প্রেমিকদের সাজসজ্জা আলাপ আলোচনা আশাবাদের এই ফল হইলো। এখন দেখা যাকা অশ্বডিম্ব ফুটাইয়া বাচ্চা বের করে সেই বাচ্চা বড় করার আলোচনা কদ্দুর আগায়?
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৩৩
৩০টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×